হাজী শরীয়তউল্লাহ সমাজে প্রচলিত পীরপূজা ও অন্যান্য কুসংস্কার ত্যাগ করে ফরজ পালনভিত্তিক যে আন্দোলন গড়ে তোলেন তা-ই ফরায়েজি আন্দোলন হিসেবে পরিচিত।
হোসেন শহীদ সোহরাওয়াদী ছিলেন গণতন্ত্রমনা। রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক ধারা চালু করার মানসে তিনি পাকিস্তানে প্রথম শক্তিশালী বিরোধী দলের জন্মদান করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, সাধারণ নির্বাচনই গণতন্ত্রের সূতিকাগার। তিনি জনগণের স্বাধিকারকে গণতন্ত্রের অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। সব সময় ভাবতেন শাসনতন্ত্রের প্রশ্নে জনগণের রায়ই চূড়ান্ত। গণতন্ত্রের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করতে তিনি পিছপা হতেন না। তিনি বিশ্বাস করতেন, নির্ভুল নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্র কখনই ব্যর্থ হতে পারে না। গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপসহীন নেতা ছিলেন বলেই তাকে গণতন্ত্রের মানসপুত্র বলা হয়।
উদ্দীপকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। তিনি ভাষা আন্দোলনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায় যে, কিউবার মহান নেতা ফিদেল কাস্ত্রো একজনকে দেখে বলেছিলেন, "আমি আপনাকে দেখেছি আমার আর হিমালয় পর্বত দেখার দরকার নেই।" এখানে মূলত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর কথা বলা হয়েছে। কারণ ফিদেল কাস্ত্রো বঙ্গবন্ধু সম্পর্কেই এ মন্তব্যটি করেছিলেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি নিয়ে প্রতিষ্ঠিত আন্দোলনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমেই বৃহত্তর পরিসরে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ঘটে। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রতিবাদে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছিল তার নেতৃত্বে। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজপথে মিছিল বের করার অপরাধে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি খাজা নাজিমউদ্দিন আবার ঘোষণা করেন, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। এ সময় জেলে বন্দি অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতিবাদ জানান এবং কারাগারে বন্দি অবস্থায় 'রাজবন্দীদের মুক্তি চাই' এবং 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' দাবিতে তিনি এবং মহিউদ্দিন আহমদ অনশন ধর্মঘট পালন করেন। এর ফলে ভাষা আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। সুতরাং বলা যায় যে, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় উল্লিখিত নেতা অর্থাৎ বক্তাবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অন্যন্য ভূমিকা পালন করেন। মূলত তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল।
স্বাধীন বাংলাদেশ বঙ্গবন্দু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর প্রধান শত্রুতে পরিণত হন এবং জেলে আটক থাকেন। তিনি বাঙালিকে ভালোবাসতেন বলে সকল বাধা, জুলুম, নির্যাতন সহ্য করে ও লক্ষ্যে অবিচল থেকে বাংলার স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে পেরেছিলেন।
স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশ রাষ্ট্র বিনির্মাণের পেছনে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁর উত্থাপিত ছয় দফা দাবিতে বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে এবং বাঙালি নিজেদের অধিকার সচেতন হয়ে ওঠে। যার ফলাফল দেখা যায় ১৯৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এর নিরঙ্কুশ বিজয়ের মধ্যে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয় লাভ করলেও বজাবন্ধু ক্ষমতায় যেতে পারেননি। এর পর পাক-সরকারের অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার হয়ে ওঠেন এবং অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। এরই প্রেক্ষিতে তিনি ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন এবং সেখানে পরোক্ষভাবে স্বাধীনতার ডাক দেন। তিনি ভাষণে বলেছিলেন, 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।' তাঁর এ ভাষণ বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে তোলে।
পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাতের প্রথম প্রখরে পাক-হানাদারদের নিকট বন্দি হওয়ার পূর্বেই তিনি স্বাধীনতার চূড়ান্ত ঘোষণা প্রদান করেন। তাঁর এ ঘোষণায় সাড়া দিয়ে বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে দেশকে স্বাধীন করে।
উপরের আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে আমাদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র উপহার
Related Question
View Allবেজাল প্যাক্ট' স্বাক্ষরিত হয় ১৯২৩ সালে
বেজাল প্যাক্ট হলো বাংলার হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক বিভেদ সমাধানের লক্ষ্যে সম্পাদিত চুক্তি।
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ অনুভব করেছিলেন যে, বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের দাবি অগ্রাহ্য করে স্বাধীনতা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এ দিক বিবেচনা করে চিত্তরঞ্জন দাশ মুসলমানদের সমর্থন ও হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। বাংলার মুসলিম নেতারাও তাঁর সাথে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন এ.কে. ফজলুল হক, মৌলবি আবদুল করিম এবং হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী। তাদের উদ্যোগে ১৯২৩ সালে 'বেঙ্গল প্যাক্ট' স্বাক্ষরিত হয়।
উদ্দীপকের শামসুল হুদার সাথে আমার পঠিত মহান নেতা শহিদ তিতুমীরের সাদৃশ্য রয়েছে।
ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অগ্রসৈনিক শহিদ তিতুমীরের আসল নাম সৈয়দ মীর নিসার আলী। তিনি দেশের মানুষকে ইংরেজ, জমিদার এবং নীলকরদের অত্যাচার ও শোষণের হাত থেকে রক্ষার প্রচেষ্টা চালান। তিনি কৃষকদেরকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলেন এবং তাদেরকে সংঘবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। শোষকদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তিনি কৃষকদেরকে সামরিক প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেন। এ লক্ষ্যে তিনি কলকাতার নিকটবর্তী নারিকেলবাড়িয়া নামক স্থানে একটি বাঁশের কেল্লা বা দুর্গ নির্মাণ করেন।
উদ্দীপকের শামসুল হুদার ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়, তিনি একজন সৎ ও সাহসী ব্যক্তি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি সব সময় সোচ্চার। অত্যাচারী জমিদার ও সুদখোর মহাজনদের হাত থেকে জনগণকে রক্ষায় তিনি একটি বাহিনী গড়ে তোলেন এবং তাদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি দুর্গ প্রতিষ্ঠা করেন। তার এ লক্ষ্য ও কার্যক্রমের সাথে আমার পঠিত শহিদ তিতুমীরের সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ব্যক্তিত্বের অর্থাৎ তিতুমীরের আন্দোলনের কারণে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন গতি লাভ করেছিল।
তিতুমীরের কৃষক আন্দোলন ও বারাসাত বিদ্রোহ ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে শক্তিশালী বিদ্রোহ। এর মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেন যে, রক্তদান ব্যতীত স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব নয়। তাঁর পরিচালিত এ বিদ্রোহ ছিল জমিদার ও নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে। তিনি নারিকেলবাড়িয়ার আশপাশের জমিদারদের পরাজিত করে চব্বিশ পরগনা, নদীয়া এবং ফরিদপুর জেলার কিছু অংশ নিয়ে একটি স্বাধীন রাজ্য গঠন করেন এবং কোম্পানি সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তিনি ইংরেজ সরকারের আক্রমণ মোকাবিলার জন্য নারিকেলবাড়িয়ায় একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন। ১৮৩১ সালে ইংরেজ বাহিনীর সাথে যুদ্ধে তিতুমীরও শহিদ হন।
ইংরেজদের গোলাবারুদ এবং নীলকর ও জমিদারদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা ছিল সাহস আর দেশপ্রেমের প্রতীক। যা যুগে যুগে বাঙালিকে অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হতে সাহস যুগিয়েছে। প্রেরণা যুগিয়েছে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যেতে। উপরের আলোচনা থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে তিতুমীরের আন্দোলনের কারণেই পরবর্তী সময়ের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনগুলো গতি লাভ করেছে।
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর উত্থাপিত ছয় দফা কর্মসূচিকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয়।
ফরায়েজি আন্দোলন বলতে হাজী শরীয়তউল্লাহ কর্তৃক পরিচালিত ফরজভিত্তিক আন্দোলনকে বোঝায়।
১৮১৮ সালে হাজী শরীয়তউল্লাহ মক্কা থেকে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে তিনি দেখলেন মুসলমানরা নানা প্রকার কুসংস্কারে লিপ্ত। তারা কবরপূজা, পীরপূজা, ওরস ও মানত করে পরিত্রাণ পাবে বলে মনে করত। এ অবস্থা দেখে হাজী শরীয়তউল্লাহ ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের ডাক দেন। এতে ইসলাম ধর্মের পাঁচটি ফরজ পালনের ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করা হয়। এই আন্দোলনই ইতিহাসে ফরায়েজি আন্দোলন নামে পরিচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!