জ্ঞানীর কাছে ঈশ্বর 'ব্রহ্ম' নামে অভিহিত।
সৃষ্টি, স্থিতি ও লয়কারী বলে ব্রহ্মকে 'ওঙ্কার' বলা হয়। ব্রহ্ম নিরাকার ও নির্গুণ এবং তিনি নিশ্চল অবস্থায় অবস্থান করেন। ব্রহ্ম বা পরমাত্মার জন্ম নেই, মৃত্যু নেই। তিনি অজ, অনাদি, অনন্ত এবং শাশ্বত। তিনি সৃষ্টি, স্থিতি ও লয়কারী ব্রহ্ম। তাই ব্রহ্মকে 'ওঙ্কার' বলা হয়। 'ওঙ্কার' হলো সংক্ষেপে 'ওঁ'। এর পূর্ণরূপ অ- উ-ম।
উদ্দীপকে ইসকনের ধর্মগুরুর মতকে আমি সমর্থন করি। যিনি পরম পিতা, নিজেই নিজের স্রষ্টা, সর্বশক্তির উৎস যিনি, যাঁর ওপরে কেউ নেই, তিনি পরম স্রষ্টা-বিশ্বব্রহ্মান্ডের সৃষ্টিকর্তা, বিশ্বনিয়ন্তা। সনাতন ধর্মে স্রষ্টাকে ব্রহ্ম, ঈশ্বর, ভগবান ও অবতার নামে অভিহিত করা হয়। তাঁর স্বরূপ বৈশিষ্ট্যের প্রতি লক্ষ রেখে তাঁর এসব নাম নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্দীপকে এক ধর্মসম্মেলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে যেখানে ইসকনের এক ধর্মগুরু স্রষ্টাকে ভগবান হিসেবে সম্বোধন করেছেন এবং তাঁর দয়াময়, আনন্দময় ও রসময় রূপের কথা বর্ণনা করেছেন। হিন্দুধর্ম দর্শন অনুসারে ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্যকে ভগ বলে। ভগ যাঁর মধ্যে পূর্ণরূপে আছে তিনিই ভগবান। বিষ্ণুপুরাণে বলা হয়েছে- যিনি ভূতগণের উৎপত্তি, বিনাশ, পরলোকে গতি, ইহলোকে আগমন এবং বিদ্যা-অবিদ্যা সম্পর্কে জানেন, তিনিই ভগবান। ঈশ্বরকে যখন এ ছয়টি গুণের অধীশ্বররূপে কল্পনা ও আরাধনা করা হয় তখন ঈশ্বরকে ভগবান বলা হয়। যিনি যেকোনো রূপ ধারণ করে ভক্তকে দেখা দেন, লীলা করেন। তিনি আমাদের স্রষ্টা। ঈশ্বর যখন জীবকে দয়া করেন তখনই তিনি ভগবান হয়ে উঠেন। তাই আমি ইসকনের ধর্মগুরুর মতকে সমর্থন করি।
উদ্দীপকের শেষ বাক্যটিতে স্রষ্টা হিসেবে ব্রহ্মার স্বরূপকে তুলে ধরা হয়েছে। সনাতন ধর্ম বা হিন্দুধর্ম অনুসারে স্রষ্টাকে ব্রহ্ম, ঈশ্বর, ভগবান ও অবতার নামে অভিহিত করা হয়। তাঁর স্বরূপ বৈশিষ্ট্যের প্রতি লক্ষ রেখে তাঁর এসব নাম নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্দীপকে ধর্মসম্মেলনে ইসকনের একজন ধর্মগুরু এবং সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের একজন বক্তা স্রষ্টার স্বরূপ সম্পর্কে নিজ নিজ ধারণা উপস্থাপন করেছেন। এখানে শেষ বাক্যটিতে সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের বক্তাটি ব্রহ্মের স্বরূপ সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন। ব্রহ্ম শব্দের অর্থ সর্ববৃহৎ, 'বৃহত্বাৎ ব্রহ্ম'। যাঁর থেকে বড় কেউ নেই, যিনি সকল কিছুর স্রষ্টা এবং যাঁর মধ্যে সকল কিছুর অবস্থান ও লয় তিনিই ব্রহ্ম। ব্রহ্ম শুধু প্রকৃতি ও মহাবিশ্বকেই সৃষ্টি করেননি, বরং তিনি প্রকৃতি ও মহাবিশ্বকে তাঁর ঐশ্বরিক শক্তির মাধ্যমে রক্ষাও করে থাকেন। বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে ব্রহ্ম নিত্য, শুদ্ধ, মুক্ত, সর্বজ্ঞ, জ্যোতির্ময়, নিরাকার, সর্বব্যাপী ও সর্বশক্তিমান। ব্রহ্ম সর্বব্যাপী বলে তাঁকে কেউ দেখতে পায় না। আমরা জানি, ব্রহ্মকে পরমাত্মাও বলা হয়। তিনি যখন জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন, তখন তাঁকে জীবাত্মা বলে। আত্মা যখন নিজের মধ্যে অবস্থান করে তখন তাকে পরমাত্মা বলা হয়। ব্রহ্ম নিরাকার ও নির্গুণ এবং তিনি নিশ্চল অবস্থায় অবস্থান করেন। ব্রহ্ম বা পরমাত্মা অজ, অনাদি, অনন্ত এবং শাশ্বত। ব্রহ্মকে 'ওঙ্কার' বলা হয়। এর অর্থ হচ্ছে ব্রহ্ম সৃষ্টি, স্থিতি ও লয়কারী। ব্রহ্মার স্বরূপের এ মাহাত্ম্যকেই উদ্দীপকের শেষ বাক্যটির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
Related Question
View Allব্রহ্ম থেকে প্রকৃতি এবং মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছে।
সৃষ্টির আদিতে এ মহাবিশ্ব ছিল না। তখন সব ছিল অন্ধকার। তারপর এলো আলো, জল এবং জলের পরে পৃথিবী। পৃথিবীর পরে এলো গাছপালা, কীটপতঙ্গ, জীবজন্তু, মানুষ প্রভৃতি। ঈশ্বরই সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। তাই ঈশ্বরকে আদি শক্তি বলা হয়।
হিন্দুধর্মগ্রন্থ হলো বেদ, উপনিষদ, পুরাণ, গীতা, রামায়ণ, মহাভারত প্রভৃতি। মৌমিতার মা গীতা ধর্মগ্রন্থের বক্তব্য তুলে ধরেন। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ জীবাত্মা সম্পর্কে বলেছেন-
"জীবাত্মা জন্মেন না মরেন না। ইনি নিত্য বিদ্যমান? ইনি জন্মরহিত, নিত্য, শাশ্বত এবং পুরাণ। শরীরের বিনাশ ঘটলেও ইনি বিনষ্ট হন না।” উদ্দীপকের মৌমিতার মা প্রিয় ঠাকুরদার কষ্ট দূর করার জন্য মৌমিতাকে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার আলোচ্য অংশটুকুর মাধ্যমেই ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
মৌমিতা উপলব্ধি করল নিজের প্রকৃত স্বরূপকে। চৈতন্যস্বরূপ আত্মারূপে উপলব্ধি না করা পর্যন্ত প্রত্যেক জীবাত্মা জন্ম-মৃত্যু চকে আবর্তিত হতে থাকে। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় বলা হয়েছে-
'বাসাংসি জীর্ণানি যথা বিহায় নবানি গৃহাতি নরোৎপরাণি।
তথা শরীরাণি বিহায় জীর্ণা ন্যন্যানি সংযাতি নবানি দেহী।' (২/২২)
সরলার্থ : মানুষ যেমন পুরাতন কাপড় পরিত্যাগ করে নতুন কাপড় পরিধান করে, আত্মাও তেমনি পুরাতন দেহ পরিত্যাগ করে নতুন দেহে প্রবেশ করে। আত্মার দেহ পরিবর্তনকে জন্ম ও মৃত্যু বলে। দেহকে আশ্রয় করে আত্মার অভিযাত্রা। আবার আত্মাকে লাভ করে দেহ সজীব। আত্মার জন্ম ও মৃত্যু নেই। মৌমিতা তা উপলব্ধি করতে পেরে, শ্রদ্ধায় ঈশ্বরের প্রতি মাথা নত করে।
পরমাত্মা আত্মারূপে জীবের মধ্যে অবস্থান করেন।
আত্মা নিত্যবস্তু ও নিরাকার। আত্মার সৃষ্টি বা বিনাশ নেই। একই পরমাত্মা বহু আত্মারূপে জীবদেহের মধ্যে অবস্থান করে। জীবদেহের বিনাশ আছে। কিন্তু আত্মার বিনাশ নেই। কারণ জীবাত্মা পরমাত্মারই অংশবিশেষ। পরমাত্মার সব গুণই জীবাত্মায় বিদ্যমান। তাই পরমাত্মার ন্যায় জীবাত্মার সৃষ্টি বা বিনাশ নেই।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!