"কিন্তু আজ পাঁজিতে যাত্রা নিষিদ্ধ বললে তিনি অবাক হবেন না।"- এ কথাটির মাধ্যমে রাস্তায় দুর্যোগে পড়ে কুসংস্কারেও অবাক না হওয়ার দিকটি বোঝানো হয়েছে। এখানে পাঁজি হলো পঞ্জিকা, যেখানে সন, তারিখ, তিথি, নক্ষত্র ইত্যাদি লেখা থাকে। অনেকেই পঞ্জিকা দেখে যাত্রা শুভ-অশুভ নির্ধারণ করে থাকেন। আর এটি মূলত কুসংস্কার হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু খ্যাতনামা জনপ্রিয় সাহিত্যিক মৃগাঙ্কশেখর মুখোপাধ্যায় তাঁর যাত্রাপথে গাড়ি নিয়ে আটকে যাওয়ায় তাঁর বিশ্বাসে কিছুটা প্রভাব ফেলে। কারণ দুর্গাপুরে একটি ক্লাবের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তাঁকে মানপত্র দেওয়া হবে বলে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ট্রেনে রিজার্ভেশন পাওয়া যায়নি বলে মোটরেই তাঁকে সেখানে যাত্রা করতে হয়। সকালে চা খেয়ে বেরিয়েছিলেন, আর ফেরার পথে ঘটে এক দুর্যোগ। পানাগড়ের কাছাকাছি এসে তাঁর গাড়ির পেট্রোল ফুরিয়ে যায়। তাঁর সঙ্গে থাকা ড্রাইভার সুধীরকে আগেই এ ব্যাপারে সতর্ক করেছিলেন, কিন্তু সুধীর তাতে গুরুত্ব দেয়নি। সুধীর তেল আনার জন্য মাইল তিনেক দূরের পানাগড়ে চলে যায়। জনমানবহীন সেই জায়গায় একটি কাকতাড়ুয়া ছাড়া আর কেউই ছিল না। সেই অবস্থায় মৃগাঙ্কবাবুকে দু-আড়াই ঘণ্টা একা কাটাতে হবে। তাই তিনি ভাবলেন পঞ্জিকায় যদি কেউ আজ যাত্রা নিষিদ্ধ বলে তাহলে তিনি অবাক হবেন না।
Related Question
View All"বিশেষ পরিস্থিতিতে মানবমনে বিচিত্রসব অনুভূতির প্রকাশ ঘটতে পারে।"- উক্তিটি যথার্থ। বিশেষ কোনো মুহূর্তে মানুষ যখন পতিত হয় তখন তার মানসিকতায় নানা ধরনের চিন্তা-দুশ্চিন্তার আনাগোনা দেখা যায়। সেই সময়ে মানুষের মধ্য যেসব অনুভূতি প্রকাশ পায় সেগুলো স্বাভাবিক কোনো পরিস্থিতি থেকে পুরোপুরি আলাদা হয়ে থাকে। কেননা বিশেষ সেই মুহূর্তটি মানুষের চিন্তা- চেতনার জগৎকে প্রবলভাবে প্রভাবিত করে। কেননা মানুষের মন অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া দেখায়। মানবমনের বিচিত্র দিকটি 'কাকতাড়ুয়া' গল্পে মৃগাঙ্কশেখর মুখোপাধ্যায়ের চরিত্রে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হতে দেখা যায়।
'কাকতাড়ুয়া' গল্পের প্রথম দিকেই আমরা মৃগাঙ্কবাবুর মেজাজে পরিবর্তন লক্ষ করি। পানাগড়ের কাছাকাছি এসে তার গাড়ির পেট্রোল ফুরিয়ে গেলে সুধীর তেল আনার জন্য পানাগড়ে যাওয়ার কথা বলে। মৃগাঙ্কবাবু যখন শুনলেন পানাগড় তাদের অবস্থান থেকে মাইল তিনেক দূরত্বের পথ আর তাকে দু-আড়াই ঘণ্টা সেখানে একা কাটাতে হবে তখন সুধীরের ওপর তিনি রাগান্বিত হন। কেননা সুধীরের খামখেয়ালির জন্যই তাকে এমন বিপদের মুখোমুখি হতে হয়। এখানে সেই বিশেষ মুহূর্তে মৃগাঙ্কবাবু তাঁর মেজাজ হারিয়ে ফেললেন। অথচ তিনি ছিলেন একজন ঠান্ডা মেজাজের মানুষ। আবার মৃগাঙ্কবাবু কুসংস্কারে বিশ্বাস করতেন না। অথচ তিনি যখন যাত্রাপথে বিপদে পড়লেন তখন তাঁর বিশ্বাসে কিছুটা ভাটা পড়ে। সেই অবস্থায় যদি কেউ তাঁকে বলত তাঁর পঞ্জিকায় যাত্রা নিষিদ্ধ ছিল তাতেও তিনি অবাক হতেন না। ফলে এখানেও বিশেষ মুহূর্তে মানবমনের বিচিত্র অনুভূতি প্রকাশের বিষয়টি লক্ষণীয়।
সুধীর যখন মৃগাঙ্কবাবুকে একা ফেলে চলে গেল তখন থেকেই তার অনুভূতির পরিবর্তন হতে লাগল। একটা মাঠের মধ্যে যে কাকতাড়ুয়াটা দাঁড়িয়ে ছিল সেটি তাঁর চিন্তার জগতে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে লাগল। কেন যেন মৃগাঙ্কবাবু অনুভব করছিলেন প্রতি মুহূর্তেই সেই কাকতাড়ুয়াটা তাঁকে বেশি করে আকর্ষণ করছিল। তিনি ছিলেন কুসংস্কারে অবিশ্বাস করা একজন মানুষ। অথচ সেই জনমানবহীন বিশেষ পরিস্থিতিতে কাকতাড়ুয়াকে নিয়ে তাঁর মনে যেসব জল্পনা-কল্পনার উদ্রেক হয়েছিল সেগুলো রীতিমতো পাঠককে আশ্চর্যান্বিত করে। কাকতাড়ুয়াটিকে তিনি একটি নকল মানুষ হিসেবে বিবেচনা করতে লাগলেন। সেটির দিকে তিনি একদৃষ্টে তাকিয়ে কতকগুলো জিনিস লক্ষ করে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। তাঁর কাছে যেন মনে হতে থাকে কাকতাড়ুয়াটির চেহারায় সামান্য পরিবর্তন হয়েছে, হাত দুটো খানিকটা নিচের দিকে নেমে এসেছে। তাঁর কাছে মনে হতে থাকে এটার দাঁড়ানোর ভঙ্গিটা যেন আরেকটু জ্যান্ত মানুষের মতো। খাড়া বাঁশটার পাশে যেন তিনি আরেকটা বাঁশ দেখতে পেলেন, আর কাকতাড়ুয়ার দুটো বাঁশ যেন তখন তাঁর কাছে ঠ্যাং মনে হলো। এসব চিন্তা করতে করতে তিনি কাকতাড়ুয়াটিকে একটি জ্যান্ত মানুষ হিসেবে আবিষ্কার করলেন, যেটি একসময় ঘুরে দাঁড়িয়ে তাঁর দিকে এগিয়ে আসে। সেই বিশেষ পরিস্থিতিতে মৃগাঙ্কবাবুর মনে এভাবেই বিচিত্রসব অনুভূতির প্রকাশ ঘটতে দেখা যায়। এসব দিক বিবেচনায় বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!