"কিন্তু তাতে তাঁর মজ্জাগত দোষগুলোর কোনো সংস্কার হয়নি।"- কথাটির মাধ্যমে মৃগাঙ্কবাবু বাঙালি হিসেবে নিজের স্বার্থপর মনোভাবের দিকটিকে বুঝিয়েছেন। তিনি মনে করেন বাঙালি বড় স্বার্থপর। তারা সব সময় নিজ স্বার্থটাই গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। তারা নিজেদের ক্ষতি করে কখনোই অন্যের উপকার করবে না। এ ব্যাপারটি অবশ্য মৃগাঙ্কবাবু নিজের সঙ্গেই ঘটতে দেখেন। দুর্গাপুরে একটি ক্লাবের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয় মানপত্র দেওয়া হবে বলে। তিনি ট্রেনে রিজার্ভেশন না পেয়ে মোটরে যাত্রা করেন সেই অনুষ্ঠানে যোগদান করার জন্য। সেখান থেকে ফেরার পথে তাঁর গাড়ির পেট্রোল ফুরিয়ে যায় পানাগড়ের কাছাকাছি এসে। তাঁর গাড়িটি যেখানে থেমে যায় সেখান থেকে পানাগড় মাইল তিনেক দূরে অর্থাৎ দু-আড়াই ঘণ্টা তাঁকে সেখানে বসে থাকতে হয়।
তাঁর সঙ্গে থাকা ড্রাইভার সুধীর তাকে সেখানে একা রেখে পানাগড়ে চলে যায় তেল আনার জন্য। মৃগাঙ্কবাবু সেখানে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন বিষয় ভাবতে লাগলেন। সেই মুহূর্তে দুটি অ্যাম্বাসাডর আর একটা লরি তাঁর পাশ দিয়ে চলে যায়। কিন্তু কেউ তাঁর অবস্থা জিজ্ঞেস করার জন্য থামেনি। তিনি মনে মনে বললেন বাঙালিরা এ ব্যাপারে বড় স্বার্থপর হয়ে থাকে। নিজের অসুবিধা করে পরের উপকার করাটা তাদের কুষ্ঠিতে তারা কখনোই লেখে না। পরে তিনি বাঙালি হিসেবে নিজেকেও একই স্বভাব-বৈশিষ্ট্যের মানুষ হিসেবে বিবেচনা করলেন। অন্য কেউ বিপদে পড়লে হয়তো তিনিও একইভাবে পাশ কাটিয়ে চলে যেতেন। তাই ভাবলেন, লেখক হিসেবে তাঁর খ্যাতি থাকলেও, তাতে তাঁর মজ্জাগত দোষগুলোর কোনো সংস্কার হয়নি।
Related Question
View All"কুসংস্কারের প্রতি বিশ্বাস কখনো ভালো ফল বয়ে আনতে পারে না।"- মন্তব্যটি পুরোপুরি সত্য। কুসংস্কার মূলত মানুষের অবৈজ্ঞানিক ও ভিত্তিহীন চিন্তা-ভাবনা ও বিশ্বাসের ফসল। এটি মানুষের চিন্তাভাবনাকে সীমাবদ্ধ করে, অযৌক্তিক ভয়-ভীতি সঞ্চার করে এবং সমাজে অশান্তি ছড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি কুসংস্কারের নেতিবাচক প্রভাবের ফলে অনেক সময় নির্দোষ মানুষকে অন্যায় অপবাদ দিয়ে তাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলা হয়। কুসংস্কারে বিশ্বাস যে মানুষের জীবনে কখনো ভালো ফল বয়ে আনে না এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে 'কাকতাড়ুয়া' গল্পে। এ গল্পে অভিরামের জীবনে কুসংস্কারের প্রভাবটি সবচেয়ে করুণভাবে প্রতিফলিত হতে দেখা যায়।
'কাকতাড়ুয়া' গল্পে তিন বছর আগের একটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। অভিরাম ছিল মৃগাঙ্কবাবুদের বিশ বছরের পুরোনো গৃহকর্মী। সবাই মনে করে শেষে একদিন অভিরামের ভীমরতি ধরে। সে মৃগাঙ্কবাবুর বিয়েতে পাওয়া সোনার ঘড়িটা নাকি চুরি করে বসে। তবে অভিরাম তার বিরুদ্ধে অমন অভিযোগ অস্বীকার করে। কিন্তু মৃগাঙ্কবাবুর বাবা ওঝা ডাকিয়ে কুলোতে চাল ছুড়ে মেরে প্রমাণ করিয়ে দেন যে অভিরামই চোর। ফলে অভিরামকে তারা চাকরি থেকে বিদায় করে দেন। মৃগাঙ্কবাবুও তার বাবার বশবর্তী হয়ে অভিরামকে দোষী হিসেবে গণ্য করার বিষয়টি কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। কুসংস্কারে অমন বিশ্বাসের ফলে তারা উভয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অভিরাম ছিল মৃগাঙ্কবাবুদের বিশ বছরের গৃহকর্মী। ফলে এখানে সহজেই অনুমেয় সে বাবুদের পরিবারটাকে কতটা আপন মনে করত। মৃগাঙ্কবাবুদের বোঝা উচিত ছিল অভিরাম তাদের এত বছরের পুরোনো একজন গৃহকর্মী, শুধু একজন ওঝার কথার ওপর ভিত্তি করে অমন বিশ্বস্ত একজন গৃহকর্মীকে এভাবে দোষী সাব্যস্ত করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। এর ফলে তারা একজন বিশ্বস্ত ও দায়িত্বশীল গৃহকর্মীকে হারিয়েছে। কেননা পরে তারা যে গৃহকর্মীকে বাড়িতে কাজ দেয় সে ঠিকঠাক কাজ করেনি। মৃগাঙ্কবাবুদের এমন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মূল কারণ ছিল কুসংস্কারে বিশ্বাস করা। অন্যদিকে এর ফলে অভিরামের জীবনেও নেমে আসে অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্ট ও হাহাকার।
মৃগাঙ্কবাবুদের বাড়ি থেকে অভিরামকে তাড়িয়ে দেওয়ার পর সে আর কোথাও চাকরি করেনি। কারণ তার কঠিন উদুরি ব্যারাম হয়। চাকরি না থাকায় সে টাকা-পয়সার অভাবে ওষুধ, পথ্যি কিছুই কিনতে পারেনি। সেই ব্যারামেই সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। যে ঘড়িটা চুরির অপবাদে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয় সেই ঘড়িটা আলমারির নিচে পেছন দিকটায় পড়ে ছিল, যা মৃগাঙ্কবাবু পরে খুঁজে পান। অথচ কুসংস্কারে বিশ্বাস করে কুসংস্কারাচ্ছন্ন ওঝার কথায় তাকে অযথা শাস্তি দেওয়া হয়। এর জন্যই অভিরামের জীবনে নেমে আসে দুর্বিষহ যন্ত্রণা। তাই বলা যায়, "কুসংস্কারের প্রতি বিশ্বাস কখনো ভালো ফল বয়ে আনতে পারে না।" মন্তব্যটি পুরোপুরি সত্য।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!