২০১৮ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৮ লাখ।
বাংলাদেশের জনসংখ্যা নীতির মূল লক্ষ্য হলো জনসংখ্যার পরিকল্পিত উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
জাতীয় জনসংখ্যা নীতিতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ৭২% এ উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। এ' লক্ষ্যে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তাছাড়া মাতৃমৃত্যুও শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস এবং নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিতকরণে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আর জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে বিস্তারিত পরিকল্পনাও গৃহীত হয়েছে।
উদ্দীপকের ঘটনাটি জাতীয় জনসংখ্যা নীতির প্রধান উদ্দেশ্যের দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করেছে।
বাংলাদেশ বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। জনসংখ্যাধিক্য এ দেশের জন্য একটি প্রধান সমস্যা। এ কারণে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের জনসংখ্যা নীতি-২০১২-এ সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের এ বিষয়টিই উদ্দীপকের ঘটনায় প্রতিফলিত হয়েছে।উদ্দীপকে জনসংখ্যার বাড়তি চাপের ফলে সৃষ্ট একটি সমস্যার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। কৃষক কিবরিয়া তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষিজমি ভরাট করে বাসস্থান নির্মাণ করতে চাচ্ছেন। এ প্রেক্ষিতে এলাকার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কিবরিয়াকে পরিবারের সদস্য সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেন। বাংলাদেশের জনসংখ্যা নীতির মূল লক্ষ্যও এটি। জনসংখ্যা নীতিতে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির ব্যবহার ৭২% এ উন্নীত করে মোট প্রজনন হার ২.১ এ হ্রাস করা এবং ২০১৫ সালের মধ্যে নিট প্রজনন হার ১(NRR=1) অর্জনের কথা বলা হয়েছে। এজন্য পরিবার পরিকল্পনাসহ প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করে সক্ষম দম্পতিদের কাছে পদ্ধতির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা, প্রজনন স্বাস্থ্য প্রভৃতি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কথাও বলা হয়েছে। আর এ সকল লক্ষ্যমাত্রা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের সাথেই সংশ্লিষ্ট। তাই বলা যায়, এই লক্ষ্যমাত্রারই ইঙ্গিত রয়েছে উদ্দীপকে।
উদ্দীপকে প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যটি বাংলাদেশের জনসংখ্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় যথার্থ।
জনসংখ্যাধিক্য বাংলাদেশের প্রধান সামাজিক সমস্যা। আয়তনে ছোট এই দেশটির জনসংখ্যার বর্তমান ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১০৯০ জন। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর কারণে নানাবিধ সামাজিক সমস্যার উদ্ভব হচ্ছে এবং উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে এই সমস্যার সমাধানই বর্তমানে আমাদের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ। উদ্দীপকে প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। তিনি এ সত্য অনুধাবন করতে পেরেছেন যে, পরিবারের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে কিবরিয়ার মতো কৃষকেরা আরও বহুমুখী সমস্যার সম্মুখীন হবে। প্রকৃতপক্ষে ইতোমধ্যেই অনেক কৃষক পরিবারের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষিজমির পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে কৃষকেরা নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। তাদের জীবনযাত্রার মান দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। শুধু কৃষকেরা নয় ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিনিয়ত এর কুফল ভোগ করছে। এ কারণেই বাংলাদেশের জনসংখ্যা নীতিতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট বিধান ও সুপারিশ সন্নিবেশিত করা হয়েছে এবং তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনাও প্রদান করা হয়েছে। আর বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ বিষয়টিই বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ওপরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ায় তা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত।
Related Question
View AllMDG-র পূর্ণরূপ Millennium Development Goals |
জনসংখ্যা সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত সরকারি নীতিই জনসংখ্যা নীতি।
যে কোনো দেশের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো সে দেশের জনসংখ্যা। অর্থাৎ দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সম্পদের সাথে জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষা, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা আবশ্যক। সঠিকভাবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে শিক্ষিত ও দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে গৃহীত নীতিকেই জনসংখ্যা নতি বলা হয়।
শীলার কর্মকান্ডের সাথে বিখ্যাত সমাজ সংস্কারক বেগম রোকেয়ার মিল রয়েছে।
বেগম রোকেয়া ছিলেন বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত। তিনি মুসলিম নারীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলার জন্য তাদের সংগঠিত করতে চেষ্টা করেন। তিনি মুসলিম নারীদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, শিক্ষার প্রসার নেতৃত্বের গুণাবলির বিকাশ এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯১৬ সালে 'আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম' বা মুসলিম মহিলা সমিতি' নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। এ সংগঠনের মাধ্যমে তিনি দরিদ্র বালিকাদের শিক্ষাদান, বিধবা ও আশ্রয়হীন মহিলাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করতেন। উদ্দীপকের শীলার কর্মকাণ্ডেও এ বিষয়গুলো পরিলক্ষিত হয়।
শীলা উচ্চ শিক্ষা শেষ করে গ্রামে ফিরে যান। তিনি তার এলাকার অধিকার বঞ্চিত নারীদের সংগঠিত, শিক্ষাদান করে তাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং অধিকার নিশ্চিত করতে একটি মহিলা সমিতি ও নারী শিক্ষাকেন্দ্র চালু করেছেন। তার এই কর্মকাণ্ড উপরে বর্ণিত বেগম রোকেয়ার কর্মকাণ্ডের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শীলার কাজের সাথে বেগম রোকেয়ার কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে।
রূপপুর গ্রামের চেয়ারম্যান নারীদের উন্নয়নে সরকারের জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিয়েছেন যার কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য রয়েছে।
নারীর সার্বিক উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ সরকার জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ প্রণয়ন করেছে। জাতীয় জীবনের সব ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা, নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, তাদের শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা, দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে রক্ষা, সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করা প্রভৃতি জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ এর প্রধান উদ্দেশ্য। এর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও পারিবারিক জীবন সব ক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে তাদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অন্যান্য কারণে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের পুনর্বাসন, অভিভাবকহীন, বিধবা, অসহায় নারীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা প্রভৃতির উদ্দেশ্যও এ নীতির লক্ষ হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।
উদ্দীপকের রূপপুর গ্রামের নারীরা পুরুষের সমান পরিশ্রম করেও তাদের সমান মজুরি পায় না। শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো অধিকার থেকেও তারা বঞ্চিত। নারী-পুরুষের এই বৈষম্য দূরীকরণ ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সরকার জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ প্রণয়ন করেছে। আর রূপপুর গ্রামের চেয়ারম্যান তার গ্রামের নারীদের উন্নয়নের জন্য এ নীতি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, রূপপুর গ্রামের চেয়ারম্যান তার গ্রামের নারীদের উন্নয়নে সরকার প্রণীত জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ বাস্তবায়নে কাজ করছেন। আর এ নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো নারীর সার্বিক উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা
নয়টি দেশের সমাজকর্ম বিশেষজ্ঞদের নিয়ে 'Study Group' গঠন করা হয়।
সমাজের অবহেলিত ও পশ্চাৎপদ শ্রেণির স্বার্থ সংরক্ষণে সমাজকর্মীর গুরুত্ব অপরিসীম।
সমাজকর্ম পেশায় নিয়োজিত সমাজকর্মীরা সমাজের অবহেলিত ও পশ্চাৎপদ শ্রেণির স্বার্থ সংরক্ষণ এবং তাদের সেবায় বিশেষভাবে নিয়োজিত থাকে। অবহেলিত বঞ্চিত ও শোষিত শ্রেণির অধিকার রক্ষা এবং সর্বোপরি সমাজে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণে পেশাদার সমাজকর্মীর ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ববহ। বিশেষ করে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও পুনরুদ্ধারে সমাজকর্মীরা বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!