সন্তান হওয়ার বদলে ছোট রানির কাঁকড়া ও ইঁদুর হয়েছে- এ কথা শুনে ছোট রানি অজ্ঞান হয়ে গেল।
রাজার কোনো সন্তান নেই বলে সবসময় তার মনে দুঃখ ছিল। অনেক দিন পর হঠাৎ ছোট রানির সন্তান হওয়ার কথা শুনে পুরো রাজ্যে আনন্দের ঢল নামে। কিন্তু রাজার বড় রানিরা এই সংবাদে মোটেই খুশি ছিল না। সন্তান হওয়ার দিন ছোট রানি কী সন্তান হয়েছে তা জানতে চাইলে বড় রানিরা জানায় তার পেট থেকে কাঁকড়া ও ইঁদুরের ছানা হয়েছে। এমন সংবাদ শুনে ছোট রানি অজ্ঞান হয়ে পড়ে রইল।
Related Question
View Allউদ্দীপকের পারুল 'সাত ভাই চম্পা' গল্পের ছোট রানি চরিত্রের প্রতিনিধি।
অন্যায় করলে মানুষকে শাস্তি পেতে হয়। কিন্তু অনেক সময় এমনও হয়, কোনো অন্যায় না করেও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে শাস্তি পেতে হয়। শুধু প্রমাণের অভাবে দিনের পর দিন শাস্তির এই বোঝা মাথায় নিয়ে ঘুরতে হয়। আর যখন প্রমাণিত হয়, তখন অনেক দেরি হয়ে যায়।
উদ্দীপকে রাজার হুকুমে পারুলের বনবাস হয়। কেউ রাজার হুকুমের অবাধ্য হতে পারে না বলে পারুলকে বনবাসে যেতে হয়। জন-প্রাণীহীন গভীর অরণ্যে পারুল একাকী দিন কাটায়। 'সাত ভাই চম্পা' গল্পে বড় রানিদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয় ছোট রানি। আর রাজা তাকে ভুল বুঝে রাজপুরীর বাইরে বের করে দেন। রাজপুরীর বাইরে 'অত্যন্ত দুঃখে ছোট রানির দিন কাটে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের পারুল 'সাত ভাই চম্পা' গল্পের ছোট রানি চরিত্রের প্রতিনিধি।
"উদ্দীপকটি কেবল 'সাত ভাই চম্পা' গল্পের একটি দিকের ধারক, পুরোটির নয়।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষের জীবনে নানান সময় নানা রকমের ঘটনা ঘটে। কোনো কোনো ঘটনার ওপর তাদের নিজেদের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এরপরও সেই ঘটনার জন্য দিনের পর দিন ভুগতে হয় সেই ব্যক্তিকে। তখন তাকে নিয়তি বলে মেনে নেওয়া ছাড়া অন্য কিছুই করার থাকে না।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রাজার হুকুমে পারুলের বনবাস হয়। বনে গিয়ে পারুলের একাকী দিন কাটে। কেবল পরীরা তার সঙ্গী হয়। 'সাত ভাই চম্পা' গল্পে বড় রানিরা হিংসা করে ছোট রানিকে রাজার সামনে অপরাধী করে। ছোট রানির সাত ছেলে এক মেয়ে হলেও বড় রানিরা রাজাকে মিথ্যা কথা বলে। তারা রাজাকে জানায়, ছোট রানির ব্যাঙের ছানা ও ইঁদুরের ছানা হয়েছে। একথা জানতে পেরে রাজা ছোট রানিকে রাজপুরীর বাইরে বের করে দেন। অনেক দিন পরে ছোট রানি নির্দোষ প্রমাণিত হয়।
উদ্দীপকে শুধু পারুলের বনবাসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে পারুলের অপরাধ বা তার নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার কোনো ঘটনা ফুটে ওঠেনি। কিন্তু 'সাত ভাই চম্পা' গল্পে ছোট রানির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, তার শাস্তি হওয়া এবং শেষপর্যন্ত তার নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার দিকটিও প্রকাশ হয়েছে। এসব বিষয় উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
ছোট রানিকে রাজপুরীর বাইরে বের করে দেওয়া হলো।
ছোট রানির বাচ্চা হওয়ার কথা শুনে বড় রানিরা হিংসায় জ্বলে গেল।
রাজার মনে দুঃখ ছিল ভীষণ। কারণ তার কোনো ছেলেমেয়ে ছিল না। অনেক দিন অতিবাহিত হওয়ার পর ছোট রানির বাচ্চা হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ল। রাজা এই খবর শুনে অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং রাজভাণ্ডার খুলে দিলেন সাধারণ মানুষের জন্য। ছোট রানির এমন সুসংবাদ শুনে এবং রাজার খুশি দেখে বড় রানিরা হিংসায় জ্বলে গেল।
উদ্দীপকের উদ্যাপনের মধ্য দিয়ে 'সাত ভাই চম্পা' গল্পের রাজার 'সন্তান দেখার সময়কার আনন্দ আয়োজনের দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে।
আমাদের দেশে যেকোনো উপলক্ষ বরণ করা বা উদ্যাপন করার প্রচলন রয়েছে। আবহমানকাল থেকেই দেখা যায়, আনন্দঘন যেকোনো মুহূর্তকেই আরও বেশি বর্ণিল করতে বিভিন্ন আয়োজন করা হয়। আর এ আয়োজন এবং তা পালন করাই মূলত উদ্যাপন।
উদ্দীপকে একধরনের উদ্যাপনের দৃশ্য ফুটে উঠেছে। সবাই মিলে একসঙ্গে বাদ্য বাজিয়ে, মন্ত্র পাঠ করে জয়ধ্বনি করছে। আনন্দঘন মুহূর্তের আমেজ প্রকাশ পেয়েছে উদ্দীপকে। 'সাত ভাই চম্পা' গল্পে রাজা যখন প্রথমবার তার ছেলে হওয়ার খবর শুনেছিলেন, তখন এভাবেই দলবল নিয়ে বাদ্য বাজিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিল মণি-মানিক হাতে রাজ্যের ঠাকুর-পুরুত। ছোট রানির সন্তান হওয়ার মতো মুহূর্তকে আরও সুন্দর করে তুলতেই রাজার এই আয়োজন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের উদ্যাপনের মধ্য দিয়ে 'সাত ভাই চম্পা' গল্পের রাজার সন্তান দেখার সময়কার আনন্দ আয়োজনের দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
