জনমিতিক পরিবেশ বলতে জনসংখ্যার আয়তন, বয়স, ঘনত্ব, লিঙ্গ, বর্ণ, জাতি, অবস্থান প্রভৃতিকে বোঝায়।
প্রমিতকরণ বা মানদণ্ড নির্ধারণ বলতে বিভিন্ন দ্রব্যের মৌলিক মানের সীমা নির্ধারণকে বোঝায়। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠিত মান অনুযায়ী পণ্যদ্রব্য পৃথকীকরণ বা শ্রেণিদ্ধকরণই হলো পর্যায়িতকরণ।
প্রমিতকরণের মাধ্যমে পণ্যের যে গুণগত মান নির্দিষ্ট করা হয় তার আলোকেই পরবর্তীতে পণ্যের পর্যায়িতকরণ করা হয়। এক্ষেত্রে পণ্যের মান যদি পূর্বনির্ধারিত না থাকে তাহলে কোনো অবস্থাতেই পণ্যের শ্রেণিবিভাগ করা সম্ভব হবে না। কারণ মানই হলো শ্রেণিবিভাগের ভিত্তি। তাই বলা যায়, প্রমিতকরণ ছাড়া পর্যায়িতকরণ সম্ভব নয়।
দুগ্ধ খামারিরা হলো বিপণনের ব্যষ্টিক পরিবেশের অন্তর্গত 'সরবরাহকারী'।
পরিবেশের যেসব পক্ষ বা শক্তি বিপণন কার্যাবলিকে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত করে তাদের সমষ্টিকে ব্যষ্টিক পরিবেশ বলে। ব্যষ্টিক পরিবেশের অন্যতম উপাদান হলো সরবরাহকারী। সরবরাহকারী হচ্ছে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, যারা ব্যবসায়ে উৎপাদনের উপকরণ সরবরাহ করে। কুমিল্লা উদ্দীপকে 'মাতৃভাণ্ডার' প্রসিদ্ধ রসমালাই উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি রসমালাই ছাড়াও অন্যান্য মিষ্টিজাতীয় খাদ্য উৎপাদন করে। মিষ্টি উৎপাদনের প্রধান উপকরণ হচ্ছে দুধ। • প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় দুগ্ধ খামারিদের নিকট হতে এ দুধ সংগ্রহ করে। এখানে দুগ্ধ খামারিরা হচ্ছে সরবরাহকারী। কেননা মিষ্টি তৈরির মূল উপকরণ এরাই সরবরাহ করে। এই সরবরাহকারীরা হচ্ছে পরিবেশের নিয়ন্ত্রণযোগ্য উপাদান। কেননা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সরবরাহকারীদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, যা ব্যষ্টিক পরিবেশের বৈশিষ্ট্য বহন করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে দুগ্ধ খামারিরা হচ্ছে সরবরাহকারী, যা ব্যষ্টিক পরিবেশের উপাদান।
দুশ্চিন্তা লাঘবে কুমিল্লা মাতৃভান্ডারের মালিকের উচিত আইনের দ্বারস্থ হওয়া এবং বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে ক্রেতাদের সচেতনতা সৃষ্টি করা।
রাজনৈতিক পরিবেশ বলতে সরকারি নিয়ম-নীতি, আইন-কানুন, সরকারি সংস্থা ও সামাজিক স্বার্থ সংরক্ষণকারী এবং বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তারকারী জনগোষ্ঠীর সমষ্টিকে বোঝায়। ব্যবসায়ী প্রতারণতার শিকার হলো রাজনৈতিক পরিবেশের অন্তর্গত আইনের সহায়তায় এবং ব্যবসায় তথ্য প্রচারের মাধ্যমে প্রতারণা থেকে রক্ষা পেতে পারে।
কুমিল্লার 'মাতৃভাণ্ডার' প্রসিদ মিষ্টি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির মিষ্টি খুবই ভালো বিধায় এর স্থানীয় চাহিদা অনেক বেশি। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব শো রুম বাদে অন্য কোনো শাখা নেই। এ সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে অনেক অসাধু ব্যবসায়ীরা কুমিল্লা বিভিন্ন স্থানে এ প্রতিষ্ঠানের নামে শাখা খুলে মিষ্টি বিক্রয় করছে। এতে করে ভোন্তারা প্রতারিত হচ্ছে এবং কমে যাচ্ছে আসল মাতৃভান্ডারের বিক্রয়। এ প্রতারণা রোধে প্রতিষ্ঠানটি আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে। তাছাড়া বিজ্ঞাপন প্রদানের মাধ্যমে ভোন্তাদেরকেও সচেতন করতে পারে।
এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি ট্রেডমার্ক অ্যাক্ট অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে। ফলে অসাধু ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে এবং ভবিষ্যতে কেউ প্রতারণা করার সাহস পারে না। এ ট্রেডমার্ক অ্যাক্ট হলো ব্যবসায় সংক্রান্ত একটি আইন, যা রাজনৈতিক পরিবেশের উপাদান। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানটি ক্রেতাদের সচেতন করার জন্য বিজ্ঞাপন প্রদান করতে পারে। ফলে ভোক্তারা প্রকৃত মাতৃভান্ডার সম্পর্কে জানতে পারবে এবং সেখান থেকেই মিষ্টি ক্রয় করবে।
সুতরাং মাতৃভান্ডারের মালিক রাজনৈতিক পরিবেশের সুবিধা গ্রহণ ও বিজ্ঞাপন প্রদানের মাধ্যমে উক্ত সমস্যা দূর করতে পারবেন।
Related Question
View Allযে সকল পক্ষ, শক্তি বা পারিপার্শ্বিক অবস্থা প্রতিষ্ঠানের বিপণন কর্মকাণ্ডকে পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করে তাকে সামষ্টিক পরিবেশ বলে।
যে সকল পক্ষ, শক্তি অথবা উপাদান বিপণন কার্যক্রমকে সরাসরি প্রভাবিত করে তাকে ব্যষ্টিক পরিবেশ বলে।
বিপণনের ব্যষ্টিক পরিবেশের উপাদানগুলো হলো- কোম্পানি, সরবরাহকারী, বিপণন মধ্যস্থব্যবসায়ী, ক্রেতা, প্রতিযোগী ও জনগোষ্ঠী। ব্যষ্টিক পরিবেশের এ উপাদানগুলো বিপণন কার্যক্রমে সরাসরি প্রভাববিস্তার করে। এসকল উপাদান সাধারণত নিয়ন্ত্রণযোগ্য। যেমন- একটি কোম্পানির প্রতিটি বিভাগ ও উপবিভাগের ওপর কোম্পানির সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা থাকে।
এমনিভাবে অন্যান্য উপাদানগুলোও নিয়ন্ত্রণযোগ্য। তাই বলা যায়, বিপণনের ব্যষ্টিক পরিবেশ নিয়ন্ত্রণযোগ্য।
সামষ্টিক পরিবেশের অর্থনৈতিক উপাদানের কারণে উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে।
পরিবেশের যে সকল শক্তি, পক্ষ বা উপাদানসমূহ ভোক্তার ক্রয় ক্ষমতা ও বায়ের ধরনকে প্রভাবিত করে তাকে অর্থনৈতিক পরিবেশ বলে।
সাধারণত ভোক্তার আয়ের পরিবর্তনসমূহ, ব্যয়ধাঁচের পরিবর্তনশীলতা এবং সঞ্চয়ের হার ও ঋণের পরিমাণ অর্থনৈতিক পরিবেশের উপাদান হিসেবে গণ্য হয়।
উদ্দীপকের 'লিলি কেমিক্যালস লিমিটেড' একটি রং ফর্সাকারী ক্রিমের বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান। তাদের পণ্যের মান ভালো হওয়ায় এবং দাম কম হওয়ায় বেশ সুনাম অর্জন করেছে। কিন্তু সম্প্রতি দেশের জনগণের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের ভোগের ধরনে পরিবর্তন এসেছে। অর্থাৎ ভোক্তারা আরও মানসম্মত ও বেশি মূলোর পণ্য ভোগ করতে চাচ্ছে। কেননা মানুষের আয় যখন বেড়ে যায় তখন স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি ব্যয়ের মাধ্যমে নিজের ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদাকে ফুটিয়ে তুলতে চায়। সুতরাং একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, সামষ্টিক পরিবেশের অর্থনৈতিক উপাদানের অন্তর্গত ভোক্তাদের আয় ও ব্যয়ধাঁচের পরিবর্তনের কারণেই উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে।
উদ্দীপকে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গৃহীত স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি ব্যবহার করে
পণ্যমান উন্নত করার চিন্তা-ভাবনা যৌক্তিক বলে আমি মনে করি।
পণ্যমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ অবদান
রাখে। বর্তমানে আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে পণ্যের মান
উন্নয়ন ও উৎকৃষ্ট সাধনে অবিরাম চেষ্টা চালাচ্ছে। কারণ এর মাধ্যমে
প্রতিযোগিতা মোকাবিলা ও ক্রেতাসন্তুষ্টি অর্জন অনেকটাই সহজ হয়।
উদ্দীপকের 'লিলি ক্যামিক্যালস লিমিটেড' একটি রং ফর্সাকারী প্রতিষ্ঠান। তাদের পণ্যের মান ভালো এবং দাম কম হওয়ার কারণে প্রথম দিকে বেশ মুনাফা ও সুনাম অর্জন করে। কিন্তু দেশের জনগণের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষিতে তাদের ক্রয় ধাঁচের মধ্যে পরিবর্তন দেখা দেয়। তারা আলাদা রং, ডিজাইন, বৈশিষ্ট্য ও ভ্যালুকে গুরুত্ব দিতে থাকে। এক্ষেত্রে পণ্যের মূল্য বেশি হলেও তাদের কোনো আপত্তি নেই। এমতাবস্থায় 'লিলি কেমিক্যালস লিমিটেড' তাদের বর্তমান পণ্যের আরও মানোন্নয়ন এবং নতুন নতুন বৈশিষ্টা যুক্ত করে পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন পদ্ধতি ব্যবহারের চিন্তা-ভাবনা করে।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গৃহীত সমস্যা সমাধানের পদ্ধতিটি অত্যন্ত যৌক্তিক ও সময়োপযোগী।
কোনো পণ্য বা সেবা বিপণনে যে সকল পক্ষ, শক্তি বা পারিপার্শ্বিক উপাদানসমূহ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাববিস্তার করে তাকে বিপণন পরিবেশ বলে।
বিপণন পরিবেশের সামষ্টিক উপাদানগুলো অনিয়ন্ত্রণযোগ্য।
যে সকল অনিয়ন্ত্রণযোগ্য শক্তি বিপণন কার্যক্রমে পরোক্ষভাবে প্রভাববিস্তার করে সেগুলোর সম্মিলিত প্রভাবকে সামাষ্টিক পরিবেশ বলে। সামষ্টিক পরিবেশের প্রধান উপাদানগুলো হলো- জনসংখ্যাগত পরিবেশ, অর্থনৈতিক পরিবেশ, প্রাকৃতিক পরিবেশ, প্রযুক্তিগত পরিবেশ, রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশ। এই বাহ্যিক উপাদানগুলো বৃহত্তর সামাজিক শক্তিসমূহের সমন্বয়ে গঠিত হওয়ায় কোম্পানির কার্যক্রমে প্রভাববিস্তার করে; যা কোম্পানির পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। তাই সামষ্টিক পরিবেশের উপাদানগুলোকে অনিয়ন্ত্রণযোগ্য হিসেবে গণ্য করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!