বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বনভূমিতে গাছ লাগানো, পরিচর্যা ও সংরক্ষণকে বনায়ন বলে।
সমুদ্র উপকূলবর্তী যেসব বনের মাটি প্রত্যহ জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে কর্দমাক্ত ও লবণাক্ত হয়ে থাকে সেগুলোকে ম্যানগ্রোভ বন বলে।
ম্যানগ্রোভ বনের অধিকাংশ উদ্ভিদের উর্ধ্বমুখী বায়বীয় মূল রয়েছে যার সাহায্যে এরা অক্সিজেন গ্রহণ করে। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার দক্ষিণের সমুদ্র উপকূলবর্তী বিস্তৃত এলাকা নিয়ে সুন্দরবন। এ অঞ্চলের মাটিও প্রত্যহ জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে কর্দমাক্ত ও লবণাক্ত হয়ে থাকে। সুন্দরবনের বেশিরভাগ উদ্ভিদের উর্ধ্বমুখী বায়বীয় মূল রয়েছে। ম্যানগ্রোভ বনের সকল বৈশিষ্ট্য সুন্দরবনে বিদ্যমান বলে সুন্দরবনকে ম্যানগ্রোভ বন বলা হয়।
উদ্দীপকের কবিরের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বনটি হলো সামাজিক বনায়ন।
সামাজিক বন ব্যবস্থাপনায় জনগণ সরাসরি সম্পৃক্ত থাকে। এ বন হতে প্রাপ্ত কাঠ জনগণের গৃহনির্মাণ, আসবাবপত্র তৈরি ও জ্বালানি সরবরাহ করে। পতিত জমি, বসতভিটা, সড়ক, রেলপথ, বাঁধ, খাল-বিল ও নদীর পাড়ে গাছ লাগানোর ফলে পরিবেশ সংরক্ষণ হয়। গাছ হতে প্রাপ্ত পাতা পশুখাদ্য হিসাবে এবং শাকসবজি, ফলমূল জনগণ খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। দরিদ্র জনগোষ্ঠী বনায়ন রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত হওয়ায় তা দারিদ্র্যতা বিমোচনে সাহায্য করে। বনে উৎপাদিত কাঁচামাল গ্রামীণ কুটির শিল্পে সরবরাহ করা হয় এবং জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। আমাদের দেশে প্রয়োজনের তুলনায় বনভূমির পরিমাণ খুবই কম বিধায় প্রতি বছর নানা ধরনের দুর্যোগ এদেশে আঘাত হানে। সামাজিক বনায়ন এ সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ করে আমাদের রক্ষা করে। তাই বলা যায়, উল্লিখিতভাবে সামাজিক বনায়ন দ্বারা এলাকার জনগণ উপকৃত হচ্ছে।
উদ্দীপকের কবিরের গৃহীত উদ্যোগটি হলো সামাজিক বনায়ন সৃষ্টি।
দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সামাজিক বনায়নের অবদান অপরিসীম। সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে জনসাধারণের মৌলিক চাহিদা পূরণ হয়। পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ, মরুবিস্তার ও ভূমিক্ষয় রোধের মাধ্যমে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা হয়।
সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় বাগান তৈরি, পাহারা দেওয়া, রক্ষণাবেক্ষণ, আসবাবপত্র তৈরি, বিক্রয়, নার্সারি স্থাপন ইত্যাদির মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। কৃষিকাজের অনুপযোগী পতিত ও অব্যবহৃত ভূমিতে সামাজিক বনায়ন
করা হয় বলে ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হয়। তাছাড়া ভূমির উর্বরতা ও উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং ভূমিক্ষয় রোধ হয় বা নিয়ন্ত্রণে থাকে। সামাজিক বন এলাকার পরিবেশকে ঠাণ্ডা, নির্মল ও দূষণমুক্ত রাখে। এমনকি আশেপাশের অঞ্চলকে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন- খরা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা করে। এছাড়া বৃক্ষ মরুময়তা রোধ করে, বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ কমায় ও অক্সিজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ, অণুজীব পারস্পরিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ার মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য গতিময় রাখে। ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় থাকে।
উল্লিখিত আলোচনা থেকে বলা যায়, এলাকার পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় সামাজিক বনায়নের উদ্যোগটি যথার্থ।
Related Question
View Allযে স্থানে গাছের চারা উৎপন্ন করে রোপণের পূর্ব পর্যন্ত পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় তাকে নার্সারি বলে।
সুস্থসবল ও সুন্দর চারা পাওয়ার আদর্শ স্থান হলো নার্সারি।
বিরল প্রজাতির চারা উৎপাদনে ও বিলুপ্তি রোধে নার্সারি একান্ত অপরিহার্য। এমন অনেক বীজ রয়েছে যেগুলো গাছ থেকে ঝরে পড়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রোপণ করতে হয়। তা না হলে অঙ্কুরোদগমের হার কমতে থাকে। যেমন-গর্জন, শাল, রাবার, তেলসুর প্রভৃতি। এসকল গাছের সুস্থ-সবল চারা নার্সারি থেকে আমরা সহজে পেতে পারি।
উদ্দীপকে উল্লিখিত জামান সাহেবের চারা উৎপাদনের জায়গার পরিমাণ ৪ শতক এবং ব্যবহৃত পলিব্যাগের আকার ১৫ সেমি × ১০ সেমি।
আমরা জানি,
১ একর = ৪০৪৬.২৪ বর্গমিটার
আবার, ১০০ শতক = ১ একর
সুতরাং, ১০০ শতক = ৪০৪৬.২৪ বর্গমিটার
∴ ১ "
∴ ১ "
= ১৬১.৮৫ বর্গমিটার
= ১৬২ বর্গমিটার (প্রায়)
১৫ সেমি × ১০ সেমি আকারের পলিব্যাগের জন্য-
১ বর্গমিটারে প্রয়োজনীয় চারার সংখ্যা = ৬৫টি
∴ ১৬২ বর্গমিটারে প্রয়োজনীয় চারার সংখ্যা = (৬৫×১৬২) টি
= ১০,৫৩০টি
অতএব, জামান সাহেবের নার্সারির চারার সংখ্যা ১০,৫৩০টি।
জামান সাহেব তার বাড়ির দক্ষিণ দিকে পুকুর পাড়ে উঁচু ৪ শতক জমিতে মেনজিয়াম বীজ রোপণ করেন।
কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শমতো তিনি নার্সারি তৈরির সকল কৌশল অবলম্বন, সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন ও এর বাস্তবায়ন করতে পেরেছিলেন।
নার্সারি সাধারণত আলো-বাতাসযুক্ত উঁচু স্থানে করতে হয়। স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনি বাড়ির দক্ষিণ দিকে পুকুর পাড়ের উঁচু জমি নির্বাচন করেছিলেন যাতে বর্ষার পানি না উঠে বা জলাবদ্ধতা না হয়। চারা উৎপাদনের জন্য পলিব্যাগ ব্যবহার করেন। পলিব্যাগে চারা উৎপাদন সহজ, ব্যয় কম, রোগবালাই কম হয়, স্থানান্তর ও পরিবহন সহজ হয়। এছাড়াও তিনি সঠিকভাবে বেড তৈরি, মাটি প্রস্তুত, সার প্রয়োগ, সেচ প্রদান, আগাছা পরিষ্কার, পোকামাকড় ও রোগ দমন করেন।
অর্থাৎ, যথাযথ পরিকল্পনা, উপযুক্ত পরামর্শ গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন জামান সাহেবের সফলতার কারণ।
কাঠের স্থায়ীত্ব দীর্ঘায়িত করার জন্য নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে কাঠ থেকে পানি বের করে নেওয়ার পদ্ধতিকে বলে কাঠ সিজনিং।
বৃক্ষের চারা রোপণ থেকে শুরু করে বৃক্ষের সর্বাধিক বৃদ্ধি ও পরিপক্বতা লাভ করে ব্যবহার উপযোগী হওয়ার সময়কালকে আবর্তনকাল বলে।
গামার ও শিশু মাঝারি আবর্তনকালের উদ্ভিদ। কারণ, এদের কাঠ আংশিক শক্ত। খুঁটি ও কাঠ উৎপাদনের জন্য এদের ২০-৩০ বছর আবর্তনকালে কাটা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!