কুরুক্ষেত্রের মাঠে এসে অর্জুন যুদ্ধ করতে না চাইলে শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে কর্ম সম্পর্কে উপদেশ দিলেন। অর্জুন বুঝলেন কর্মেই তাঁর অধিকার। আর কর্মফল ঈশ্বরে সমর্পণযোগ্য। তাছাড়া কার কখন মৃত্যু হবে কেউ জানে না। আর মৃত্যু হলেও আত্মার ধ্বংস হয় না, কারণ ঈশ্বর আত্মারূপে সকলের মধ্যে বিরাজ করেন। শ্রীকৃষ্ণের উপদেশ অর্জুনকে মুগ্ধ করল।

Updated: 1 year ago
হিন্দুধর্ম শিক্ষা ধর্মগ্রন্থ ষষ্ঠ শ্রেণি
উত্তরঃ

অর্জুনকে উদ্দেশ্য করে শ্রীকৃষ্ণের উপদেশ বাণী যে গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে সেটি হচ্ছে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা।

উত্তরঃ

শ্রীকৃষ্ণ রথের সারথী থাকা অবস্থায় অর্জুন যুদ্ধের ময়দানে গিয়ে দেখলেন সপক্ষে ও বিপক্ষে অনেক নিকট আত্মীয়স্বজন। যুদ্ধ করতে হলে আত্মীয়স্বজনদের মারতে হবে একথা ভেবে অর্জুন যুদ্ধ করতে চাইলেন না।

উত্তরঃ

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনের রথের সারথী হয়ে যেসব উপদেশ দিয়েছিলেন তা-ই শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা সংক্ষেপে গীতা। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা হিন্দুধর্মের একটি অন্যতম প্রধান গ্রন্থ। এ গ্রন্থে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ উপদেশমূলক বাণীতে বলেছেন, দুর্বলতা পরিহার করে ঈশ্বরের কাছে নিজেকে সমর্পণ করা ও ফলের আশা না করে নিজের কাজ করা। কাজটাই বড় ফল যাই হোক।

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এ বাণীগুলোকে যদি আমি ব্যক্তিজীবনে কাজে লাগাতে চাই তাহলে প্রথমেই আমাকে নিষ্কাম কর্মে উদ্বুদ্ধ হয়ে কর্ম করতে হবে।
আর নিষ্কাম কর্মটাকে এরূপ মনে করতে হবে, এ বিরাট কর্মক্ষেত্রে আমি একজন কর্মচারী।' ভগবান আমাকে দিয়ে কর্ম করাচ্ছেন মাত্র। আর ফলাকাঙ্ক্ষা বর্জন, কর্তৃত্বাভিমান ত্যাগ ও কর্মফল ঈশ্বরে সমর্পণ করব তাহলে কর্মফল ভোগ করতে আবার আমাকে জন্মগ্রহণ করতে হবে না আমি একেবারেই মুক্তি লাভ করতে পারব।

উত্তরঃ

ধর্মরাজ্য সংস্থাপনে শ্রীকৃষ্ণের গৌরবময় ভূমিকা স্মর্ততব্য। তবে শ্রীকৃষ্ণের শ্রেষ্ঠ অবদান হচ্ছে তাঁর মুখনিঃসৃত বাণী যা পুস্তকাকারে গীতা।
কুরুক্ষেত্রের, যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক পূর্বক্ষণে পাণ্ডবদের সেনাপতি অর্জুন হঠাৎ তাঁর রথের সারথী শ্রীকৃষ্ণকে বললেন, আমি যুদ্ধ করব না, যুদ্ধ করলে আত্মীয়স্বজন, পিতামহ ভীষ্ম, গুরুদেব দ্রোণাচার্য প্রমুখ পূজনীয় ব্যক্তিদের হত্যা করতে হবে। এছাড়া উভয় পক্ষের রাজন্যবর্গ, সৈন্যসামন্ত নিহত হলে দেশ ও সমাজের প্রভূত অকল্যাণ হবে। এটি অধর্মাচরণ; সুতরাং আমি যুদ্ধ করতে পারব না। তখন শ্রীকৃষ্ণ তাঁর বাণীর মূলকথা বললেন, দেখ অর্জুন তুমি জ্ঞানবান, শ্রেষ্ঠবীর, তুমি জীবনে শ্রেয় লাভ করতে যাচ্ছ, জীবনের পরম উদ্দেশ্য হচ্ছে ঈশ্বর প্রাপ্তি। যুদ্ধ করেও তুমি ভগবানের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।

177

যে গ্রন্থে অতি প্রাকৃতিক সত্তা (ভগবান, ঈশ্বর ইত্যাদি) ও কল্যাণকর জীবন যাপন সম্পর্কে আলোচনা, উপদেশ ও উপাখ্যান লেখা থাকে, তাকে ধর্মগ্রন্থ বলে। বেদ, উপনিষদ, পুরাণ, রামায়ণ, মহাভারত, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, শ্রীচন্ডী, প্রভৃতি ধর্মগ্রন্থ। আমরা জানি, বেদ হিন্দুদের আদি ধর্মগ্রন্থ। এ অধ্যায়ে সংক্ষেপে বেদ ও শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-

  • ধর্মগ্রন্থের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব
  • ধর্মগ্রন্থ হিসেবে বেদ ও শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার সাধারণ পরিচয় ব্যাখ্যা করতে পারব
  • জীবনাচরণে বেদের শিক্ষা বর্ণনা করতে পারব
  • শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় বর্ণিত শ্রীকৃষ্ণের কয়েকটি বাণী ব্যাখ্যা করতে পারব
  • শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব
  • বেদ ও শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারব।

Related Question

View All
হিন্দুধর্ম শিক্ষা ধর্মগ্রন্থ ষষ্ঠ শ্রেণি
উত্তরঃ

গভীর চিন্তায় ডুবে যাওয়া বা নিমগ্ন হওয়াকে ধ্যান বলে। ধ্যানে সত্যকে উপলব্ধি করা যায়।

241
হিন্দুধর্ম শিক্ষা ধর্মগ্রন্থ ষষ্ঠ শ্রেণি
উত্তরঃ

প্রাচীনকালে যারা সত্য বা জ্ঞান এবং স্রষ্টার মাহাত্ম্য দর্শন বা উপলব্ধি করতে পারতেন, তাঁদের বলা হতো ঋষি। বেদ হচ্ছে এ ঋষিদের ধ্যানলব্ধ পবিত্র জ্ঞান। ধ্যানের মাধ্যমে ঋষিগণ সেই সত্য দর্শন করে তাকে ভাবের আবেগে প্রকাশ করেছেন। এজন্যই বলা হয়, বেদ সৃষ্ট, নয়, দৃষ্ট। অর্থাৎ বেদ কেউ সৃষ্টি করেন নি, উপলব্ধি করেছেন মাত্র।

266
হিন্দুধর্ম শিক্ষা ধর্মগ্রন্থ ষষ্ঠ শ্রেণি
উত্তরঃ

উদ্দীপকের রমেশ বাবু বেদ শাস্ত্র অধ্যয়ন করে জনসাধারণের চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন। সে বেদের যে অংশ থেকে জ্ঞান নিয়ে এ কাজটি করেন সেই অংশটি হচ্ছে অথর্ববেদ। এ অথর্ববেদে প্রাচীনকালের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আছে। এ আলোচনা অধ্যয়ন করলে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে জনসাধারণের সেবা প্রদান করা যায়।

348
হিন্দুধর্ম শিক্ষা ধর্মগ্রন্থ ষষ্ঠ শ্রেণি
উত্তরঃ

রমেশ বাবু যে গ্রন্থ অধ্যয়ন করে সে গ্রন্থখানা হচ্ছে বেদ। বেদ পাঠ করলে স্রষ্টা, বিশ্ব প্রকৃতি ও জীবন সম্পর্কে জ্ঞানলাভ হয়।

প্রত্যেকটি বেদের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। আমরা ঋগ্বেদের মধ্য দিয়ে দেব-দেবীর স্তুতি বা প্রশংসা করতে শিখি। যজুর্বেদের যজ্ঞের মন্ত্রের সংগ্রহ। এ থেকে জানতে পারি সেকালের উপাসনা পদ্ধতি কেমন ছিল। যজুর্বেদ অনুসরণে বিভিন্ন সময়ে যজ্ঞানুষ্ঠানের মাধ্যমে বর্ষপঞ্জি বা ঋতু সম্পর্কে ধারণা জন্মে। বিভিন্নভাবে এবং বিভিন্ন সময়ব্যাপী যজ্ঞানুষ্ঠান করা হতো। যজ্ঞের বেদী নির্মাণের কৌশল থেকেই জ্যামিতি বা ভূমি পরিমাপ বিদ্যার উদ্ভব ঘটেছে। সামবেদ থেকে সেকালের গান ও রীতি সম্পর্কে জানতে পারি। অথর্ববেদ হচ্ছে চিকিৎসা বিজ্ঞানের মূল। এ বেদ থেকে আমরা নানা রকমের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করে থাকি। সুতরাং বেদের সমস্ত অংশ অধ্যয়নের মাধ্যমে পরমাত্মা, বৈদিক দেব-দেবী, যজ্ঞ, সংগীত, চিকিৎসাসহ নানা বিষয়ের জ্ঞানলাভ করে জীবনকে সুন্দর, সুস্থ ও পরিপাটি করে তোলা সম্ভব। এ বিষয়টির সাথে আমি একমত।

287
হিন্দুধর্ম শিক্ষা ধর্মগ্রন্থ ষষ্ঠ শ্রেণি
উত্তরঃ

বেদ হচ্ছে প্রাচীনকালের ঋষিদের ধ্যানে পাওয়া পবিত্র জ্ঞান।

339
হিন্দুধর্ম শিক্ষা ধর্মগ্রন্থ ষষ্ঠ শ্রেণি
উত্তরঃ

ঋষিদের গভীর ধ্যানের বাণী বা কবিতাগুলো ঈশ্বরের কাছ থেকে পাওয়া। তাই ঋষিরা বলেছেন তাঁরা বেদ দর্শন করেছেন কোনো পুরুষ তা সৃষ্টি করে নি। সেজন্য বেদকে বলা হয় অপৌরুষেয়।

197
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews