মেসোপটেমিয়া' শব্দের অর্থ দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি।
কিউনিফর্ম হলো সুমেরীয়দের আবিষ্কৃত লিখন পদ্ধতি।
সভ্যতার প্রথম দিকে সুমেরীয় লিপি ছিল মিসরীয়দের মতো চিত্রলিপিভিত্তিক। পরবর্তীকালে নিজেদের লেখাকে গতিশীল করতে তারা নতুন লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন করে, যা 'কিউনিফর্ম' (Cuneiform script) বা কীলকাকর নামে পরিচিত। সুমেরীয়রা কাদামাটির প্লেটে খাগের কলম (Reed Pen) দিয়ে কৌণিক কিছু রেখা ফুটিয়ে তুলত। খাঁজকাটা চিহ্নগুলো দেখতে অনেকটা ছিল তীরের মতো। কিউনিফর্মকে বলা হয় অক্ষরভিত্তিক চিত্রলিপি। এ লিপি বামদিক থেকে ডানদিকে লেখা হতো।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার সাদৃশ্য রয়েছে।
নীলনদকে কেন্দ্র করে প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতা গড়ে ওঠে। মিসরীয়দের জীবনযাত্রা প্রণালি, অর্থনৈতিক উন্নতি সবকিছুতেই ছিল নীলনদের ব্যাপক প্রভাব। নীলনদের, পানি ব্যবহার করেই প্রাচীন মিসরীয়রা কৃষি কাজে উন্নতি লাভ করে। আর অর্থনীতিতে নদীর এমন ভূমিকাই উদ্দীপকে লক্ষণীয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, কুষ্টিয়া জেলার পাশ দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা নদী বন্যার সময় আশে-পাশের অঞ্চলসমূহ প্লাবিত করত। এতে মানুষের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হত। এ জন্য সরকার শহর রক্ষা বাঁধ দিয়ে নদী শাসনের ব্যবস্থা করে এবং বিভিন্ন জায়গায় খাল খনন করে। যা ওই অঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সাধন করে। অনুরূপভাবে মিসরীয় সভ্যতায় আজ থেকে ৭০০০ বছর পূর্বে যখন পৃথিবীর আবহাওয়া ও জলবায়ুতে নানা পরিবর্তনের ফলে দিনের পর দিন বৃষ্টি পড়ত, নীলনদের পানি উপচে দু'কূল ছাপিয়ে উপকুলীয় মানুষের কৃষি উৎপাদনসহ সহায়-সম্বল ভাসিয়ে নিয়ে নিঃস্ব করে দিত, তখন প্রাচীন মিসরীয়রা প্রতি বছরের এ বন্যাকে রোধ করার জন্য বাঁধ দেওয়ার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছিল। এভাবে সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে প্রাচীন মিসরে বন্যা নিয়ন্ত্রণে বাঁধ, কৃষি উপকরণ, সেচব্যবস্থা প্রভৃতির বিকাশের সাথে সাথে নগরের বিকাশ ঘটতে থাকে। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের পদ্মা নদীটিতে বাঁধ দিয়ে যেমন কুষ্টিয়া জেলায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন করা হয়, ঠিক একইভাবে নীলনদে বাঁধ দেওয়ার মাধ্যমে মিসরের নানাবিধ উন্নতি সাধিত হয়।
উন্নয়ন ও অবদানগত দিক দিয়ে কুষ্টিয়া জেলার তুলনায় আমার পঠিত সভ্যতাটি অর্থাৎ মিসরীয় সভ্যতা অধিক সমৃদ্ধ।
প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতা মানব সভ্যতার উন্নয়নে বিভিন্নমুখী অবদান রাখে। এরা ধর্মের ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করে। ধর্মীয় বিশ্বাস ও ধর্ম বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ইখনাটন 'এটন' দেবতাকে প্রতিষ্ঠিত করে ইতিহাসে একেশ্বরবাদী ধারণার জন্ম দেন। এছাড়া বিজ্ঞানের প্রায় সকল শাখায়ই প্রাচীন মিসরীয়দের বিশেষ অবদান লক্ষ করা যায়। আবার দর্শনের দিক দিয়েও তারা অত্যন্ত মননশীলতার পরিচয় বহন করছে। এ সভ্যতার মানুষ আরও বিভিন্ন বিষয়ে অবদান রেখে নিজেদের সভ্যতাকে সমৃদ্ধ করেছে। কিন্তু উদ্দীপকের নদীতে বাঁধ নির্মাণ ও খাল খননের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নতি ছাড়া অন্য কোনো অবদান পরিলক্ষিত হয় না। উদ্দীপকে বর্ণিত কুষ্টিয়া জেলায় পদ্মা নদীতে বাঁধ দিয়ে এবং বিভিন্ন স্থানে খাল খনন করে সরকার এখানকার অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। কিন্তু মিসরীয় সভ্যতায় শুধুমাত্র কৃষির উন্নতি নয় বরং ব্যবসা-বাণিজ্যে ও তারা অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জন করে। মিসরীয় শিল্প ও স্থাপত্য অনন্য ঐশ্বর্যের দাবিদার। ইতিহাসে তারা শ্রেষ্ঠতম নির্মাতা হিসেবে পরিচিত। পিরামিড ছাড়াও বিভিন্ন সমাধিসৌধ, ধর্ম মন্দির ও প্রাসাদের প্রবেশ পথে ভাষ্কর্য নির্মাণ করে সভ্যতাকে উন্নত করেছে। তারা সমাধিসৌধ ও মন্দিরসমূহের দেয়াল অলংকৃত করে চিত্রশিল্পের বিকাশ ঘটায়। তবে সভ্যতার ইতিহাসে মিসরীয়দের গুরুত্বপূর্ণ অবদান হচ্ছে বর্ণভিত্তিক চিত্রলিপির উদ্ভাবন। এছাড়া তারা বিভিন্ন ধরনের হাতিয়ার, অস্ত্রশস্ত্রের ব্যবহার, মৃৎপাত্র নির্মাণ, মিনা করার পদ্ধতি, জলাশয়কে কৃষিক্ষেত্রে রূপান্তর করার কৌশল জানতো এবং উন্নতমানের লিলেন কাপড় তৈরি করতে পারত। এ সভ্যতার উপাদানসমূহ অধিকহারে পরবর্তীকালের সভ্যতাগুলোতে পরিলক্ষিত হয় এবং আধুনিক বিশ্বেও এ সভ্যতার প্রভাব পড়ে।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, মিসরীয় সভ্যতা সুনিশ্চিতভাবেই উদ্দীপকে উল্লিখিত কুষ্টিয়া জেলার তুলনায় সমৃদ্ধ ছিল।
Related Question
View Allপেপিরাস হলো নীল নদের তীরে জন্ম নেওয়া নলখাগড়া জাতীয় এক ধরনের ঘাস বা উদ্ভিদ, যা দিয়ে মিসরীয়রা কাগজ আবিষ্কার করে।
মিসরীয়রা চিত্রলিপিভিত্তিক লিখন পদ্ধতি আবিষ্কার করে সভ্যতার বিকাশে বিশেষ অবদান রেখেছে।
মিসরীয়দের লিখন পদ্ধতি 'হায়ারোগ্লিফিক' (Hieroglyphic) নামে পরিচিত। হায়ারোগ্লিফিক অর্থ পবিত্র লিপি। এটি ছিল একটি লিখিত ভাষা। এ ভাষায় নানাপ্রকার দ্রব্য, প্রাকৃতিক বিষয় প্রভৃতির ছবি আঁকা থাকত, যার মাধ্যমে জিনিসগুলোর পরিচয় ও নাম জানা সম্ভব হতো। হায়ারোগ্লিফিক শিলালিপি প্রথমে তৈজসপত্র, ফলক এবং কবরের গায়ে খোদাই করা হতো। পরে মিসরে কাগজ আবিষ্কৃত হলে এতে এ লিপি উৎকীর্ণ করা হয়। এ লিখন পদ্ধতি তিনটি রূপে বিকাশ লাভ করেছে।
যথা: চিত্রভিত্তিক, অক্ষরভিত্তিক এবং বর্ণভিত্তিক। প্রায় ৭৫০টি চিত্রলিপির চিহ্ন দিয়ে প্রাচীন মিসরীয় লিপি পদ্ধতি তৈরি হয়েছিল।
হ্যাঁ, উদ্দীপকের হোয়াংহো নদীর মতোই নীল নদ মিসরীয় সভ্যতার কৃষির অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছিল।
প্রাচীন সভ্যতাসমূহের মধ্যে মিসরীয় সভ্যতা অন্যতম। মিসরকে নীল নদের দান হিসেবে অভিহিত করা হয়। কেননা মিসরীয় সভ্যতার বিকাশে নীল নদই সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছিল। মিসরের ক্ষেত্রে নীল নদের এ অবদানই চীনের হোয়াংহো নদীর ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়।
হোয়াংহোকে চীনের দুঃখ বলা হলেও চীনা সভ্যতার বিকাশে এ নদী বিশাল ভূমিকা পালন করেছে। নদীর অববাহিকায় কৃষিকাজ ও প্রয়োজনীয় সেচের ব্যবস্থা, ফসল উৎপাদন থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও হোয়াংহো নদী অবদান রেখেছে। মিসরীয় সভ্যতার ক্ষেত্রেও এমনটি লক্ষ করা যায়। এ সভ্যতার বিকাশে নীল নদের ভূমিকা অতুলনীয়। মিসরীয় সভ্যতার সূচনাকারী জনগণ পানির প্রাপ্যতা, কৃষি উৎপাদন, মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ, পশু পালনের জন্য তৃণভূমির সহজলভ্যতা ইত্যাদি বিষয় চিন্তা করে নীল নদের তীরবর্তী অঞ্চলসমূহে বসতি স্থাপন করেছিল। আর এ ক্ষেত্রে তারা বেশ উপকৃতও হয়েছিল। ঘর-গৃহস্থালির কাজ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য এমনকি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই নীল নদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মরুভূমিতে পরিণত হওয়া মিসর নীল নদের দানের ফলেই শস্য-শ্যামল ও সমৃদ্ধিশালী দেশে পরিণত হয়েছে। সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকে উল্লিখিত চীনা সভ্যতায় হোয়াংহো নদীর ভূমিকা মিসরীয় সভ্যতার ক্ষেত্রে নীল নদের অবদানেরই ইঙ্গিত বহন করে।
উদ্দীপকে বর্ণিত সম্রাটের কফিন যেমন পাথরের দেয়াল দ্বারা সুরক্ষিত করা হয়েছে, তেমনি মিসরীয় সভ্যতায় ফারাও সম্রাটদের মৃতদেহ মমি করে সংরক্ষণ করা হতো।
মিসরীয়রা মৃত্যুর পরের জীবনে বিশ্বাস করত। আর তাদের এ ধর্ম বিশ্বাসের ছাপ পড়েছিল স্থাপত্যিক নিদর্শনে। তারা ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্মাতা ছিল। পিরামিড ছিল তাদের স্থাপত্য শিল্পের অসাধারণ সৃষ্টি। ধর্মীয় বিশ্বাস থেকেই তারা নির্মাণ করেছিল প্রকাণ্ড সৌধের এ পিরামিডগুলো। আর এ ধরনের বিশ্বাস থেকে নির্মিত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের কথাই উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে।
উদ্দীপকে সম্রাটের কফিন সুরক্ষিত রাখতে পাথরের নির্মিত সশস্ত্র সৈন্যের পাহারা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একইভাবে মিসরীয়রা তাদের ফারাও সম্রাটদের মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য পিরামিড নির্মাণ করেছিল। তারা বিশ্বাস করত ফারাওদের মৃত্যুর পর তাদের আত্মা স্বর্গে চলে যায় এবং সেখানে দেবতা হিসেবে আবির্ভূত হয়। কিন্তু মৃত ফারাওদের শরীর পচে গেলে এক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। এজন্য তারা মৃতদেহ প্রক্রিয়াজাত করে তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা করত। এ মৃতদেহগুলোকে যেখানে কবর দেওয়া হতো, সেসব স্থান আগে থেকেই তৈরি করে রাখা হতো। এসব কবরে দেওয়া হতো সিন্দুকভর্তি অমূল্য গহনা, ধাতব তৈজসপত্র, মুদ্রা, দামি কাপড় প্রভৃতি। মৃত ফারাওদের দেহ ও মূল্যবান সামগ্রীর নিরাপত্তার জন্য মিসরীয়রা বড় বড় পাথরখণ্ড কেটে পিরামিড নির্মাণ করত। এগুলো ছিল জ্যামিতিক ত্রিভুজের আকৃতিতে তৈরি অতি উঁচু এক একটি সমাধিসৌধ।
পরিশেষে বলা যায়, ধর্মীয় বিশ্বাস থেকেই উদ্দীপকে বর্ণিত সম্রাটদের কফিন এবং মিসরীয় ফারাও সম্রাটদের মৃতদেহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হতো। তাদের উভয়ের ক্ষেত্রেই পাথরের দেয়াল দ্বারা মৃতদেহ সংরক্ষণের পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়।
মালা হলো প্রাক-ইসলামি আরবের একটি রাজনৈতিক সংগঠন বা মন্ত্রণাসভা
আরবের উকাজ মেলায় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাতটি কবিতাকে সাবায়ে মুয়াল্লাকাত বা 'সপ্ত ঝুলন্ত' কবিতা বলা হতো।
মক্কার নিকটবর্তী উকাজের বার্ষিক মেলায় আরবের প্রখ্যাত কবিগণ কবিতা প্রতিযোগিতার আয়োজন করতেন। উকাজের বাৎসরিক সাহিত্য সম্মেলনে সাতটি কবিতাকে পুরস্কৃত করা হতো। সোনালি হরফে লিপিবদ্ধ করে এ কবিতাগুলো মক্কায় কাবার দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হতো। এ কবিতাগুলোর বিষয়বস্তু ছিল প্রেম, যুদ্ধবিগ্রহ, বীরত্বপূর্ণ কাহিনি, বংশ গৌরব, আরব . সমাজের আতিথেয়তা, স্বাধীনচেতা মনোভাব ইত্যাদি। এ কবিতাগুলোই সপ্ত ঝুলন্ত কবিতা বা সাবায়ে মুয়াল্লাকাত নামে পরিচিত ছিল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!