লাস্কির মতে সাম্য মৌলিক বৈষম্য নিরসনের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া।
রাজনৈতিক স্বাধীনতার ব্যাখ্যা হলো রাষ্ট্রের শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করার স্বাধীনতাকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলা হয়। অধ্যাপক লাস্কি বলেন, "রাষ্ট্রের শাসনকার্যে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার অধিকারকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলে।" যেমন- ভোটদানের অধিকার, মতামত প্রকাশের অধিকার, সরকারি চাকরিতে যোগ্যতা
অনুযায়ী নিয়োগ লাভের অধিকার ইত্যাদি।
উদ্দীপকে স্বাধীনতা রক্ষার যে রক্ষাকবচগুলোর বর্ণনা রয়েছে সেগুলো হলো আইন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন। তার প্রমাণ কৃষক মোখলেছকে দেওয়া শিক্ষকের তথ্যে এ বিষয়ে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
নিচে আইনের এ রক্ষা কবচগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করা হলো-
১. আইন: সমাজের শান্তিশৃঙ্খলা ও ব্যক্তির স্বাধীনতাকে রক্ষা করে। আইন স্বাধীনতার ক্ষেত্রকে প্রসারিত করে।
২.গণতন্ত্র : স্বাধীনতা রক্ষার প্রধান ও প্রথম রক্ষাকবচ হচ্ছে গণতন্ত্র। কারণ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনগণ সকল ক্ষমতার অধিকারী হন।
৩. আইনের শাসন: স্বাধীনতার আর একটি রক্ষাকবচ হচ্ছে আইনের শাসন। আইনের শাসন অর্থ আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান।
৪. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: আইন ও শাসন বিভাগের হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত হয়ে বিচার বিভাগ যদি স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে বিচার করতে পারে। তবে সরকারের স্বেচ্ছাচার হতে ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা পাবে।
৫. ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ: ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে স্বাধীনতা রক্ষা করা যায়। ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করা হলে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা হ্রাস পায়।
৬.অর্থনৈতিক সাম্য: জনগণের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা রক্ষার জন্য অর্থনৈতিক সাম্য প্রয়োজন। প্রত্যেক ব্যক্তির যোগ্যতা অনুযায়ী পেশা গ্রহণের স্বাধীনতা থাকবে।
উদ্দীপকের আলোকে বলা যায়, শিক্ষকের দেওয়া তথ্য ছাড়াও অনেকগুলো বিষয়ের ওপর স্বাধীনতা নির্ভর করে। উদ্দীপকে দেওয়া স্বাধীনতার রক্ষাকবচ হিসেবে আইন, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ছাড়া অন্য যেসব রক্ষাকবচ রয়েছে সেগুলো বিশ্লেষণ করা হলো-
প্রথমত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আইন ও শাসন বিভাগের হস্তক্ষেপ
থেকে মুক্ত হয়ে বিচার বিভাগ যদি স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে বিচার করতে পারে, তবে সরকারের স্বেচ্ছাচার হতে ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা পাবে।
দ্বিতীয়ত মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্তি: সংবিধানে জনগণের মৌলিক
অধিকারসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হলে জনগণ তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয় এবং অধিকার খর্ব হলে আদালতের আশ্রয় নিতে পারে।
তৃতীয়ত সংবাদপত্রের স্বাধীনতা: স্বাধীনতার রক্ষাকবচ হিসেবে
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা প্রয়োজন। সংবাদপত্র যদি স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে প্রকাশিত হয়। তাহলে নাগরিকগণ তাদের নিজস্ব মতামত প্রকাশ করতে পারবে।
Related Question
View Allআইন হলো- সার্বভৌম শাসকের আদেশ"- কথাটি বলেছেন জন অস্টিন।
সুশাসনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো আইনের শাসন।
আইনের শাসন বলতে মূলত বোঝানো হয় রাষ্ট্রীয় জীবনে নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মানবাধিকারের সংরক্ষণকে। সংখ্যালঘু ও রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এর শর্ত। স্বাধীন নিরপেক্ষ এবং দুর্নীতিমুক্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচার বিভাগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। এটি জনগণের অধিকার রক্ষার রক্ষাকবচ।
আইনের শাসন গণতন্ত্রের ভিত্তি। মমতাজ সাহেব গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় লেখনী ধারণ করেন।
তিনি আইনের শাসনকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় মূল্যবোধের বিকাশের মূল হিসেবে দেখেছেন। যথাযথ আইনের শাসনের মাধ্যমে সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়। জনগণের জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তির নিশ্চয়তা লাভ করে। আইনের শাসনের মাধ্যমে 'সকল নাগরিক সমান' এ নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়। নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগে সমান সুযোগের ভিত্তিতে সবাই বিচার লাভ করবে। দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে সবাই নিরাপত্তা লাভ করবে। আইনের শাসনের এ বিষয়গুলো মূলত গণতন্ত্রের সাথে খুব ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রধানত সংখ্যাগুরুর মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত শাসনব্যবস্থা। এতে সংখ্যালঘুরাও সমান সুযোগ পাবে, মত প্রকাশের সমান অধিকার থাকবে। আইনের শাসন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে, গণতন্ত্র চর্চাকে পরিশীলিত করে এবং সুশাসন নিশ্চিত করে।
প্রচলিত সাধারণ অর্থানুসারে আইন হলো কতকগুলো বিবিবিধান যা মানুষ সামাজিক প্রাণী হিসেবে মানতে বাধ্য থাকে। অন্যদিকে, স্বাধীনতা বলতে যা খুশি তাই করার ক্ষমতাকে বোঝায়। আপাতদৃষ্টিতে আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী দুটি বিষয়। কিন্তু মমতাজ সাহেবের উত্থাপিত বিষয়টি আমাদেরকে বলতে চাচ্ছে যে, আইন স্বাধীনতার সহায়ক।
বস্তুত আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত। আইন স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক। আইন না থাকলে স্বাধীনতা থাকতে পারে না। আইন আছে বলেই স্বাধীনতার স্বাদ উপভোগ করা যায়। আইন স্বাধীনতাকে সম্প্রসারিত করে। উইলোবি এজন্যই বলেছেন যে, "আইন আছে বলেই স্বাধীনতা রক্ষা পায়।" অন্যদিকে, স্বাধীনতা না থাকলে আইন অর্থহীন হয়ে যায়। কেননা পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকলে আইনের প্রয়োগ সম্ভব হয় না। আইন আছে বলেই কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আইনের বলেই স্বাধীন বাংলার মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার ফিরে পেয়েছে। আইন না থাকলে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার অর্থহীন হয়ে যায়। আইনের মাধ্যমে প্রাপ্ত অধিকার দ্বারাই জনগণ সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে স্বাধীনতা লাভ করে। আইন না থাকলে দুর্বলের স্বাধীনতা রক্ষা করা কতটা সম্ভব হতো তা প্রশ্ন সাপেক্ষ ব্যাপার। এজন্যই বলা যায়, সাংবাদিক মমতাজ সাহেবের উত্থাপিত বিষয়টি যথার্থ।
আব্রাহাম লিংকন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট।
মূল্যবোধ বলতে তুলনামূলক অর্থমূল্য বা অন্তর্নিহিত গুণাবলিকে বোঝানো হয়। আর সমাজে প্রচলিত মূল্যবোধ বলতে বোঝানো হয় এমন রীতিনীতি, আদর্শ ও লক্ষ্য যা সামাজিকভাবে অনুমোদিত এবং সমর্থিত। সমাজের বৃহত্তর অংশ দ্বারা মূল্যবোধ সমর্থিত হতে হবে। এটি কোনো স্থির বিষয় নয়। সমাজ-স্থান-কাল-পাত্রভেদে মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!