কৃষিকাজে বিজ্ঞান

(প্রবন্ধ রচনা লিখুন)

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

কৃষিকাজে বিজ্ঞান

সূচনা: মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের মতো কৃষিক্ষেত্রেও বিজ্ঞানের ছোঁয়া লেগেছে। মানুষ বিজ্ঞানকে ব্যবহার করে প্রকৃতির ওপর তার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। চাষাবাদ, ফসল উৎপাদন, ফসল সংরক্ষণ ও সরবরাহসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিজ্ঞান নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে। বিজ্ঞানের এমন চরম উৎকর্ষের ফলে কৃষিকাজে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।

সনাতন পদ্ধতিতে কৃষিকাজ: আদিম সমাজ থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত কৃষির চাহিদা টিকে রয়েছে বেঁচে থাকার প্রয়োজনে। তখন বেঁচে থাকার জন্য মানুষ কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরি করেছে। শুরুতে তারা গোরু, মহিষ, ঘোড়া, লাঙল ইত্যাদির মাধ্যমে জমি চাষ করত। বিজ্ঞান সনাতন এসব পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন এনেছে।

কৃষিকাজে বিজ্ঞানের উদ্ভাবন: উনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে শিল্পবিপ্লবের মাধ্যমে কৃষিতে আধুনিকতার সূচনা ঘটে। তখন থেকে কৃষকরা লাঙল-জোয়াল, গোরু-মহিষের পরিবর্তে ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার দিয়ে কৃষিকাজ আরম্ভ করে। সেচ ব্যবস্থায় প্রাকৃতিক বৃষ্টিনির্ভরতার বিপরীতে গভীর ও অগভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচ দেওয়া ও কৃত্রিমভাবে বৃষ্টিপাত ঘটানোর যন্ত্রের মাধ্যমে এ কাজ সম্পন্ন হতে থাকে। উন্নত বীজ উৎপাদন ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এর মান নিয়ন্ত্রণ বিজ্ঞানেরই সাফল্য। এছাড়া বিভিন্ন রাসায়নিক সার আবিষ্কারের ফলে ফসলের ক্ষতিসাধন রোধ বিজ্ঞানের কল্যাণেই সম্ভব হয়েছে।

কৃষিকাজে বিজ্ঞানের প্রভাব: বিজ্ঞানের আবিষ্কারের ফলে কৃষিক্ষেত্রে এ বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। কৃষিকাজ সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় শ্রমশক্তি যেমন কম লাগছে তেমনি সময় অপচয় রোধ হয়েছে। প্রযুক্তির কল্যাণে শীতপ্রধান দেশে তাপ নিয়ন্ত্রণ করে শাক-সবজি ও ফলমূল ঘরেই উৎপাদন করা যাচ্ছে। মরুভূমির দেশে বালি সরিয়ে সেখানে মাটি ফেলে সেচের মাধ্যমে ফসল চাষ করা হচ্ছে। কোনো কোনো দেশে জমির উর্বরতা কম থাকা সত্ত্বেও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ফলে অনেক বেশি ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।

আধুনিক যন্ত্রপাতি: কৃষিতে বিজ্ঞানের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির আবিষ্কার মানুষের সময় ও শ্রম বাঁচিয়েছে বহুগুণে। সহজতর হয়েছে কৃষিব্যবস্থা। কৃষিকাজে বিজ্ঞান যেসব যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন করেছে সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: শস্য ছেদনকারী যন্ত্র- মোয়ার, ফসল কাটার যন্ত্র-রূপার, ফসল বাঁধার যন্ত্র- বাইন্ডার, মাড়াইয়ের যন্ত্র- প্রেশিং মেশিন, সার বিস্তারণ যন্ত্র- ম্যানিউর স্প্রেডার, চাষাবাদ করার যন্ত্র- ট্রাক্টরসহ আরও অসংখ্য যন্ত্রপাতি। আধুনিক বিজ্ঞানের বিস্ময়কর আবিষ্কার কম্পিউটারের ব্যবহারও কৃষিকাজে শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশের কৃষিকাজে বিজ্ঞান: বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। এখানকার জমির উর্বরাশক্তি অন্য দেশের চেয়ে অনেক গুণ বেশি। কিন্তু সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রযুক্তির সুষ্ঠু ব্যবহারের অভাবে এদেশের কৃষিকাজে এখনো তেমন পরিবর্তন সাধিত হয়নি। অনুর্বর জমি হওয়া সত্ত্বেও উন্নত দেশসমূহ যেখানে বিজ্ঞানের কল্যাণে অনেক বেশি ফসল উৎপাদন করতে পারছে, সেখানে আমাদের দেশের কৃষকরা এখনো লাঙল-জোয়াল আর গোরু-মহিষের ওপর নির্ভরশীল হয়ে আছে। বাংলাদেশে শতকরা ৮০ ভাগ কৃষক এখনো সচেতনতা, শিক্ষা ও মূলধনের অভাবে প্রচুর শ্রম দিয়েও কাঙ্ক্ষিত ফসল পাচ্ছে না। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কৃষিকাজ না করাই এর অন্যতম কারণ।

কৃষিকাজে বিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা: কৃষিকাজে বিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। বিশেষ করে বাংলাদেশে কৃষিকাজে বিজ্ঞানের ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। এদেশের আবাদি জমির তুলনায় জনসংখ্যা অনেক বেশি। বর্ধিত জনসংখ্যার আবাসনের চাহিদা মেটাতে সেই কৃষিজমিতে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন বাড়িঘর। অভাব দেখা দিচ্ছে খাদ্যশস্যের। এ বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্যের চাহিদা মেটাতে হলে উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই। তাই বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়িয়ে কৃষিকাজে উন্নতি সাধন করা অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে।

কৃষিকাজে বিজ্ঞানের ক্ষতিকর দিক: কৃষিব্যবস্থায় বিজ্ঞানের উৎকর্ষের ফলে উন্নতি যেমন হয়েছে, তেমনি কিছু খারাপ প্রভাবও লক্ষ করা যাচ্ছে। অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক প্রয়োগের ফলে জমির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে, বৃষ্টির পানির সাথে মিশে পুকুরের মাছ চাষে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। সার ও কীটনাশকের রাসায়নিক পদার্থ বাতাসের সাথে মিশে বায়ুদূষণ ঘটাচ্ছে। ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশ তার ভারসাম্য হারাচ্ছে এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে। তাই বিজ্ঞানের সচেতন ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষিকাজে উন্নতির প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

উপসংহার: বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। এদেশের খাদ্যের চাহিদা পূরণ হয় কৃষিক্ষেত্র থেকে। এজন্য এ ক্ষেত্রকে আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে ঢেলে সাজাতে হবে। নতুন নতুন উদ্ভাবনকে কৃষিকাজে ব্যবহারের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বাড়াতে হবে। বিজ্ঞানের উৎকর্ষের সাথে কৃষিকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা গেলে উন্নত দেশের মতো এদেশের কৃষিব্যবস্থা থেকে সর্বোচ্চ সফলতা পাওয়া সম্ভব হবে। তাই কৃষিকাজে বিজ্ঞানের সঠিক প্রয়োগ অত্যাবশ্যকীয়।

3.8k

প্রবন্ধ হলো প্রকৃষ্টরূপে বন্ধনযুক্ত রচনা। অর্থাৎ অন্যান্য রচনা, যেমন- কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক ইত্যাদির সঙ্গে প্রবন্ধ লেখার রীতি ও কৌশলের পার্থক্য রয়েছে। কবির একান্ত অনুভূতিই কবিতায় প্রকাশ পায়। গল্প হলো মানবজীবনের নির্বাচিত ঘটনার আখ্যান বা কাহিনি। উপন্যাসের পরিসর বড়। সেখানে লেখক গল্পকারের তুলনায় বেশি স্বাধীন। উপন্যাসে সমগ্র জীবন ফুটে ওঠে। নাটকে কেবলই থাকে সংলাপ। বিবরণ বা বর্ণনার সেখানে তেমন স্থান নেই। কিন্তু প্রবন্ধকে হতে হয় যুক্তি ও তথ্যনির্ভর। কাদের জন্য প্রবন্ধ লেখা হচ্ছে সেটা মনে রাখতে হয়। কোন বিষয়ে প্রবন্ধ লেখা হচ্ছে তাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রবন্ধ-রচয়িতার মেধা, জ্ঞান, প্রকাশক্ষমতা প্রবন্ধের গুণগত মান বাড়িয়ে দেয়। প্রবন্ধের ভাষা স্থির করা হয় প্রবন্ধের বিষয় অনুসারে। বিজ্ঞানের কোনো বিষয়ে প্রবন্ধ লিখতে গেলে তাতে বিজ্ঞানের পরিভাষা ব্যবহার করতে হবে। সকল বয়সের পাঠকের জন্য একই ভাষায় প্রবন্ধ লেখা যায় না। শিশুরা যে-ভাষা বুঝবে, তাদের জন্য প্রবন্ধ সেভাবে লিখতে হবে। বিষয় অনুসারে প্রবন্ধের শ্রেণিবিভাগ করা হয়। বিজ্ঞানের বিষয়কে আশ্রয় করে রচিত প্রবন্ধকে আমরা বলি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ। সমাজের সমস্যা, সংকট, অবস্থা যেসব প্রবন্ধের মূল বিষয়, সেগুলোকে বলা হয় সামাজিক প্রবন্ধ। সাহিত্যকর্মের গুণাগুণ বিশ্লেষণ করে যেসব প্রবন্ধ রচিত হয়, সেগুলোকে বলে সমালোচনামূলক প্রবন্ধ। লেখকের অনুভূতিই যখন প্রবন্ধের আকারে তুলে ধরা হয়, তখন তাকে বলে অনুভূতিনির্ভর প্রবন্ধ। এ ছাড়াও প্রবন্ধের আরও শ্রেণি নির্দেশ করা যায়।

প্রবন্ধ-রচনার কৌশল

প্রবন্ধের প্রধানত তিনটি অংশ থাকে- (ক) ভূমিকা (খ) মূল অংশ (গ) উপসংহার।
ক) ভূমিকা: যে-বিষয়ে প্রবন্ধ লেখা হয় সে-বিষয়ে শুরুতেই সংক্ষেপে প্রথম অনুচ্ছেদে একটি ধারণা দেওয়া হয়। এটিই হলো ভূমিকা। এ-অংশ হতে হবে বিষয় অনুযায়ী, আকর্ষণীয় ও সংক্ষিপ্ত।
খ) মূল অংশ: প্রবন্ধের মধ্যভাগ হলো মূল অংশ। এখানে প্রবন্ধের মূল বক্তব্য পরিবেশিত হয়। বিষয় অনুসারে এ অংশ বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বিভক্ত হতে পারে। প্রতিটি অনুচ্ছেদ যেন মূল প্রবন্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। এ-অংশে কোনো উদ্ধৃতি ব্যবহার করা হলে তা যাতে কোনোভাবেই বিকৃত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে অর্থাৎ মূল রচনায়, যেভাবে আছে সেভাবেই তা ব্যবহার করতে হবে।
গ) উপসংহার: অল্প কথায় সমাপ্তিসূচক ভাব প্রকাশ করাই উপসংহার। ব্যক্তিগত মত, সমস্যা সমাধানের প্রত্যাশা এ-অংশে প্রকাশ করা যেতে পারে।

প্রবন্ধ-রচনায় দক্ষতা অর্জনের উপায়

প্রবন্ধ-রচনায় দক্ষতা অর্জন একদিনে হয় না। কিন্তু তা সাধ্যের অতীত কোনো বিষয় নয়। এজন্য করণীয় হলো-

১. প্রবন্ধের বিষয়বস্তু সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা লাভ করা।

২.দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রবন্ধ পড়া। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধ, সংবাদ, প্রতিবেদন, ভাষণ ইত্যাদি নিয়মিত পাঠ করলে নানা প্রসঙ্গে বিষয়গত ধারণা লাভ করা যায়।

৩. প্রবন্ধের বক্তব্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তুলে ধরতে হবে।

৪. প্রবন্ধ-রচনার ভাষা হবে সহজ ও সরল।

৫. প্রবন্ধে কোনো অপ্রয়োজনীয় বিষয় থাকবে না এবং একই কথার পুনরাবৃত্তি ঘটানো যাবে না।

৬. প্রবন্ধে উদ্ধৃতি, উক্তি বা প্রবাদ-প্রবচন ব্যবহার করা যাবে, কিন্তু এসবের ব্যবহার যেন অতিরিক্ত পর্যায়ে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৭.প্রবন্ধ যাতে অতিরিক্ত দীর্ঘ না হয় তা লক্ষ করতে হবে।

শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews