কৃষি কর্মকর্তা হেলালকে বলেন- "সূর্যালোক ছাড়াও আরও কিছু উপাদান আছে যা বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে প্রভাব বিস্তার করে।" কৃষি কর্মকর্তা ফসল উৎপাদনে আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলোর প্রভাব সম্পর্কে হেলালকে বোঝাতে গিয়ে উক্তিটি করেছেন।
তাপ, বৃষ্টিপাত, বায়ু প্রবাহ, বায়ুর আর্দ্রতা, শিশিরপাত ও কুয়াশা ফসল উৎপাদনে বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তার করে। উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈবিক কার্যাদি যেমন- সালোকসংশ্লেষণ, প্রস্বেদন, ফুলের পরাগায়ন ইত্যাদি বায়ু প্রবাহ দ্বারা বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। যেকোনো ফসলের প্রাথমিক বৃদ্ধি পর্যায়ে বায়ুর আর্দ্রতা অনেক বেশি দরকার। কখনো কখনো শিশিরপাত ও কুয়াশা বায়ুর আর্দ্রতা বাড়িয়ে ফসলে রোগ বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে।
অতএব, সফলভাবে ফসল উৎপাদনে সূর্যালোক ছাড়াও আবহাওয়া ও জলবায়ুর অন্য উপাদানসমূহেরও প্রভাব বিদ্যমান।
Related Question
View Allফসলের মৌসুম বলতে কোনো ফসলের বীজ বপন থেকে শুরু করে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত সময়কে বোঝায়।
বেঁচে থাকার জন্য সকল উদ্ভিদে একটি সর্বনিম্ন, সর্বোত্তম এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রয়েছে, একে কার্ডিনাল তাপমাত্রা বলে। আলুর উৎপাদনের জন্য সর্বনিম্ন ০-৫° সে., সর্বোত্তম ২৫-৩১° সে. এবং সর্বোচ্চ সে. তাপমাত্রার প্রয়োজন। তাই আলুকে কার্ডিনাল তাপমাত্রার সবজি বলা হয়।
সাদিকের বাড়িটি কম বৃষ্টিপাত প্রবণ অঞ্চলে হলেও প্রচুর শাক-সবজি জন্মে। কৃষি পরিবেশ অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায় সাদিকের বাড়ি কৃষি পরিবেশ অঞ্চল-৩ ও ৪-এ অবস্থিত (রংপুর ও বগুড়ার অংশবিশেষ)।
এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কম হয়, কিন্তু গরম ও শীতের তীব্রতা খুব বেশি। রবি মৌসুমে শীতের প্রকোপ অন্য অঞ্চলের চেয়ে বেশি থাকে। রবি মৌসুমে এ অঞ্চলে বিভিন্ন ঠাণ্ডা সহিষ্ণু ফসল যেমন: টমেটো, মুলা, গাজর, লাউ, শিম, - ওলকপি, ব্রোকলি, শালগম, পালংশাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি ইত্যাদি চাষ করা হয়। খরিপ-১ মৌসুমে মাঝারি সেচের প্রয়োজন হয় এমন ফসল যেমন: করলা, ঝিঙ্গা, পেঁপে, পাট প্রভৃতি ভালো জন্মে। খরিপ-২ মৌসুমে 'সেচের তেমন প্রয়োজন হয় না এমন ফসল যেমন: আমন ধান, ঢেঁড়স, কুমড়া, তুলা, ভুট্টা ইত্যাদি চাষ করা হয়।
অর্থাৎ, সাদিকের কৃষি অঞ্চলে বিভিন্ন মৌসুমে বৈচিত্র্যময় ফসল জন্মে
অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে সাদিকের মামাবাড়ি চট্টগ্রামের টিলাতলাতে অবস্থিত, যা কৃষি পরিবেশ অঞ্চল-২৩ এর অন্তর্ভুক্ত।
সাদিকের বাড়ির কৃষি পরিবেশ অঞ্চলে শীত ও গরম উভয় ঋতুর তীব্রতা অনেক বেশি। ঝড়-বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। গ্রীষ্মকালে এখানে খরা হয়। এ অঞ্চলের আবহাওয়ার আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এখানে বর্ষাকালেও তেমন বৃষ্টিপাত হয় না। শীতকালে তুলনামূলকভাবে কুয়াশা বেশি থাকে। সাদিকের মামাবাড়ি কৃষি পরিবেশ অঞ্চল একদিকে যেমন পাহাড়ের পাদদেশের অঞ্চল তেমনি এটি উপকূলীয় অঞ্চল। এখানকার আবহাওয়ার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এখানে শীত ও গরমের তীব্রতা কম, কিন্তু বৃষ্টিপাত বেশি। ঝড়বৃষ্টিও খুব বেশি হয়। হঠাৎ করে আকাশ ঘনকালো মেঘে ঢেকে যায় ও ঝড়ো বাতাস বইতে শুরু করে। শীতকালে কুয়াশা খুব কম থাকে।
অতএব বলা যায় যে, সাদিকের মামা বাড়ির আবহাওয়া ও তার বাড়ির আবহাওয়া ভিন্ন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন।
আবহাওয়া ও জলবায়ুর ভিত্তিতে বাংলাদেশকে ৩০টি কৃষি পরিবেশ অঞ্চলে ভাগ করা হয়।
কখনো কখনো শীতকালে শিশিরপাত, কুয়াশা বেড়ে যায় ও বায়ুর আর্দ্রতা বেশি থাকে। যা রোগ বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে।
তখন ফসল খুব সহজে রোগে আক্রান্ত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
