'ভিস্তি' হলো পানি বহনের জন্য চামড়ার তৈরি এক প্রকার থলি।
রাজ্য থেকে ধুলা অপসারণের জন্য রাজা তার মন্ত্রীকে নির্দেশ দেন এবং বলেন কাজ না হলে কারও রক্ষা নেই। এ শাস্তির ভয়ে পণ্ডিতের মুখ চুন হয়ে যায়।
হবুচন্দ্র রাজা তার মন্ত্রী হবুকে ডেকে বলেন মাটিতে পা দেওয়া মাত্র পা ধুলায় মলিন হয়। রাজা আরও বলেন যে, তোমরা শুধু বেতন নাও, রাজার কাজে কোনো দৃষ্টি নেই। তিনি এর প্রতিকার করার জন্য মন্ত্রীকে নির্দেশ দেন এবং তা না করতে পারলে কারও রক্ষা নেই সে কথা জানিয়ে দেন। এ কথা শুনে ভয়ে মন্ত্রীর ঘুম আসে না; পণ্ডিতের মুখ চুন হয়ে যায়।
উদ্দীপকের মজিদের কর্মকাণ্ডে 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার মুচির রাজার পা চামড়া দিয়ে ঢেকে ধুলা সমস্যা সমাধানের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
জীবন চলার পথে সমস্যা, প্রতিবন্ধকতা আসতেই পারে। তাকে সঠিক পন্থায় মোকাবিলা করতে পারাটাই বুদ্ধির পরিচায়ক। সঠিক সময়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ তাই গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকে কৃষিকর্মকর্তা তার সহকারী মজিদকে ফসলের খেত থেকে টিয়ে পাখি তাড়ানোর উপায় জানতে চান এবং দু-একদিনের মধ্যে তা করতে না পারলে তার পদোন্নতি হবে না বলে জানান। এ সময় মজিদ ভীত হয়ে পড়লেও অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করে একটা অভিনব পদ্ধতি বের করে যাতে পলিথিন দিয়ে ফসলের খেত ঢেকে দেয়। একইভাবে আমরা দেখি 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার রাজার ধুলা সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে মন্ত্রী-পণ্ডিতেরা যখন ব্যর্থ তখন সাধারণ এক মুচি রাজার পা চামড়া দিয়ে ঢেকে ধুলা সমস্যার সমাধান করে ফেলে।
"উদ্দীপকের মজিদের কর্মটির সমাধান ও 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার সমস্যার সমাধান ছিল সাধারণ মানুষের অসাধারণ বুদ্ধির"- উক্তিটির সঙ্গে একমত পোষণ করছি।
আমাদের সমাজে যারা উপেক্ষিত তারাই সভ্যতার প্রকৃত কারিগর। তাদের শ্রম ও কর্মদক্ষতার জন্য সমাজ-সংসার সচল রয়েছে। অথচ অনেক ক্ষেত্রেই তারা অবহেলিত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে, কৃষি কর্মকর্তা মোতালেব সাহেব তাঁর সহকারী মজিদের কাছে ফসলের খেত থেকে টিয়ে পাখি তাড়ানোর জন্য দু-একদিনের মধ্যে এর উপায় জানতে চান, তা না হলে মজিদের পদোন্নতি হবে না। এ সময় মজিদ ভীত হয়ে পড়লেও অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করে একটা চমৎকার পদ্ধতি চালু করে। সেই অনুযায়ী ফসলের খেত সে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেয়। একইভাবে আমরা 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতায় দেখতে পাই, রাজা হবু মন্ত্রী গোবুকে পায়ে যেন ধুলা না লাগে এমন একটা ব্যবস্থা করতে বলেন। কিন্তু মন্ত্রী, সভাসদ, পণ্ডিত কেউ সমস্যার সমাধান করতে পারেন না; উপরন্তু ধুলার বদলে তারা পানি দিয়ে সব কাদা বানিয়ে ফেলেন। এমন সময় রাজ্যের এক সাধারণ মুচি এসে এক চমৎকার বুদ্ধি দেয়। সে চামড়া দিয়ে রাজার পা ঢেকে দেয়। এর ফলে রাজার ধুলা সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান হয়ে যায়।
উদ্দীপকের মজিদের কর্মটির সমাধান ও 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার সমস্যার সমাধান ছিল সাধারণ মানুষের অসাধারণ বুদ্ধির সফল প্রয়েগ। কারণ উদ্দীপকের মজিদ এবং কবিতার চামার কুলপতি অসাধারণ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে সমস্যার সমাধান করেছেন। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!