বকেয়া বলেন, মা পৃথিবীর সেরা শিক্ষক আর পরিবার সেরা বিদ্যালয়। তার এ উক্তিটি অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণ।
শিশুর সুষ্ঠু বিকাশে পরিবারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আর এক্ষেত্রে মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। কারণ শিশুর সাথে মা সবচেয়ে বেশি সময় অতিবাহিত করেন। এ কারণে মায়ের তত্ত্বাবধানই শিশুর সুষ্ঠু বিকাশে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে।
শিশুর বিকাশে পরিবারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর প্রথম পরিবেশই হচ্ছে পরিবার। তাই পরিবারের বন্ধন শিশুর বিকাশ ও ব্যক্তিত্ব গঠনে বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করে। অতি শৈশবে শিশুর সাথে মা-বাবার পারস্পরিক বন্ধনের সূত্রপাত হয় মৌলিক চাহিদা পূরণ ও আদর- স্নেহের মাধ্যমে। বড় হওয়ার সাথে সাথে শিশু পরিবারের মধ্যে মা- বাবাকে আদর্শ হিসেবে মনে করে; তাদের অনুকরণ করে। এ সময় যদি মা-বাবার কাছ থেকে পর্যাপ্ত স্নেহ, ভালোবাসা পায় তাহলে শিশু আত্মবিশ্বাস অর্জন করে। এছাড়া ভাই-বোনও শিশুর আচরণ গঠনে ভূমিকা পালন করে থাকে। একসাথে খেলাধুলা করা, একে অপরকে সাহায্য করার মাধ্যমে তারা সমাজের উপযোগী আচরণ শিখে থাকে। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের আচরণ শিশুর বিকাশকে প্রভাবিত করে। পরিবারের সকল সদস্যদের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্য সমঝোতামূলক নিবিড় সম্পর্ক পারিবারিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করে। এ ধরনের পরিবারের শিশুরা সক্রিয়, উদ্যোগী ও মিশুক হয়। এভাবে পরিবার শিশুর সুষ্ঠু বিকাশে ভূমিকা রাখে। তবে এক্ষেত্রে মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। কারণ অন্যান্য সদস্যদের তুলনায় মায়ের সাথে শিশু বেশি সময় অতিবাহিত করে। এ কারণে মায়ের সঠিক শিক্ষা শিশুর সুষ্ঠু বিকাশ নিশ্চিত করে।
Related Question
View Allনবজাতক শিশুর জীবনে কোনো অভিজ্ঞতা থাকে না।
শিশুকে হ্যাঁ বলার অর্থ হলো তাকে ইতিবাচক ভাবে পরিচালনা করা। শিশুদের নেতিবাচক নির্দেশ দেওয়া উচিত না। তাদের প্রতি যেকোনো আদেশ, নির্দেশ, মন্তব্য ইতিবাচকভাবে বলতে হবে। আমরা সবসময় শিশু সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করি বা নির্দেশ দেই। কিন্তু নির্দেশগুলো হ্যাঁ বোধকভাবে প্রকাশ করতে হবে। যেমন- 'তোমাকে দিয়ে কিছু হবে না' এটা না বলে, 'চেষ্টা করলেই তুমি পারবে' এভাবে বলা।
জাবাবার আচরণ সেজানের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সেজানের পড়ার প্রতি আগ্রহ ও নিজের কাজ নিজে করতে দেখে তার বাবা তাকে ধন্যবাদ জানান। সেজানের বাবা যে কাজটি করলেন তা হলো প্রশংসা করা।
প্রশংসা সেজানের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে। শিশুদের কাছে তাদের ভালো দিকগুলো তুলে ধরলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং তারা অন্যকে প্রশংসা করতে শেখে। প্রশংসার ফলে সেজানের নিজের সম্পর্কে ভালো ধারণা হবে। সেজান বুঝতে পাররে যে সে অনেক কিছু করতে পারে। কারণ প্রশংসা শিশুর দক্ষতাকে বাড়ায় ও এবং সে কাজে সফল হয়। বাবার এ আচরণে সেজান বুঝতে পারবে সে কী পারে এবং তার মধ্যে কী কী গুণ আছে। ফলে পরবর্তীতে সেজান ভালো কাজ করার জন্য উৎসাহী হবে। এভাবেই বাবার আচরণ সেজানের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সেজানের বাবা মা তাকে সঠিকভাবে পরিচালনা করছেন বলে আমি মনে করি।
শিশুকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য কতগুলো নীতি রয়েছে। এগুলো হলো- শিশুর সামনে আদর্শ আচরণ উপস্থাপন, তাদের প্রশংসা করা, শাস্তি না দেওয়া, শিশুর জন্য 'হ্যাঁ' বলা, ভাববিনিময়, তাদের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি এবং মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা পূরণ করা।
প্রশংসা করলে শিশু ভালো কাজ করার জন্য উৎসাহী হয়। সেজানের বাবা তার ভালো কাজের জন্য প্রশংসা করছেন। সেজানের বাবা-মা কারো সাথে উঁচু স্বরে কথা বলেন না বা অন্যের প্রতি অশ্রদ্ধাপূর্ণ আচরণ করেন না। অর্থাৎ তারা শিশু পরিচালনার নীতিগুলো সঠিকভাবে পালন করেন। শিশুর সাথে ভাব বিনিময় করলে তাদের সুবিধা-অসুবিধাগুলো জানা যায়। মা সেজানের বন্ধুদের সাথে ঝগড়ার কারণ সম্পর্কে জেনে পুনরায় তাকে মিলেমিশে থাকার জন্য পরামর্শ দিলেন। যা তাকে সামাজিক হতে সাহায্য করবে। সেজানের সামনে আদর্শ আচরণগুলো করলে সে এগুলো করতে অভ্যস্ত হবে। কারণ শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। সুষ্ঠু পরিচালনার মাধ্যমে শিশুকে উপযুক্ত করে গড়ে তোলা যায়। আর সঠিক তত্ত্বাবধানেই শিশুর মধ্যে ভালো আচরণ গড়ে ওঠে। এ দুটি বিষয়েই সেজানের বাবা-মা বেশ সচেতন।
তাই আমি মনে করি সেজানকে তার বাবা-মা সঠিকভাবেই পরিচালিত করছেন।
শিশুর সুস্থতা ও বেঁচে থাকার জন্য মায়ের বুকের দুধ গুরুত্বপূর্ণ।
শালদুধ শিশুর প্রথম টীকা হিসেবে কাজ করে।
মায়ের বুকের প্রথম দুধকে শালদুধ বা Colostrum বলে। শালদুধ নানা রকম প্রতিরোধমূলক সক্রিয় কোষ, এন্টিবডি ও অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক প্রোটিন সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি শিশুর রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। শালদুধ পরিপাচক অন্ত্রসমূহকে উদ্দীপ্ত করে। ফলে অন্ত্র দ্রুত Meconium (শিশুর প্রথম মল) পরিষ্কার করে ও জন্ডিস প্রতিরোধে সাহায্য করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!