মনোবল বজায় রেখে ধৈর্যধারণ করে মানসিক চাপ থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায়।
মানুষের মনের মধ্যে এমন কিছু চাপ মাঝে মধ্যে দেখা দেয় যা স্নায়বিক চাপ সৃষ্টি করে। ফলে মনের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এটাই নেতিবাচক চাপ। এই চাপ আমরা সহজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। আমাদের সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে এ ধরনের নেতিবাচক মানসিক চাপ।
কেয়া দশম শ্রেণির একজন ছাত্রী। এসময় তার মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করা উচিত। কিন্তু তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি তার পারিবারিক আর্থিক অনটনের কারণে।
আর্থিক সংকটের কারণে কেয়াকে ছোট ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রীদের পড়িয়ে সংসারে বাড়তি আয়ের ব্যবস্থা করতে হয়। এরূপ কাজ তার মানসিক চাপের সৃষ্টি করেছে। এছাড়াও তার এ চাপের মূল কারণ হিসেবে যেসব বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করা যায় তার মধ্যে প্রধান কয়েকটি হলো- আর্থিক সংকট বা দারিদ্র্য, দারিদ্র্যজনিত কারণে সৃষ্ট বঞ্চনার ক্ষোভ ও দুঃখ, পরীক্ষায় ভালো করতে না পারার ভয়, নিরাপত্তার অভাব এবং নিজের ইচ্ছা পূরণ না হওয়ার সম্ভাবনা ইত্যাদি। এসব কারণে কেয়ার মধ্যে মানসিক চাপের তৈরি হয়েছে।
আর্থিক অনটন কেয়ার মধ্যে মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছে।
কেয়ার যে কারণে মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়েছে তার জন্য সে নিজে দায়ী নয়। এরূপ প্রেক্ষাপটে যদি সে ভেঙে পড়ে তবে তার অনেক ক্ষতি হবে। তাই তার জন্য প্রয়োজন এ থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজে বের করা। এ লক্ষ্যে কেয়ার অনেক কিছু করণীয় রয়েছে।
প্রথমত কেয়ার মনোবল অটুট রাখতে হবে। কোনোভাবেই ভেঙে পড়লে চলবে না। ধৈর্যধারণ করে তাকে পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হবে। পরিবারের সবার সাথে আলোচনা করে তার করণীয় স্থির করতে হবে। সে যেন পড়াশোনার পর্যাপ্ত সময় এবং সুযোগ পায় তার ব্যবস্থা করতে পরিবারের সদস্যদের সহায়তা প্রয়োজন। ছোট ছেলেমেয়েদের পড়ানোর কাজ এমন সময়ে করবে যাতে পড়াশোনার খুব বেশি ক্ষতি না হয়। যথাযথভাবে সময় পরিকল্পনা করে সে অনুযায়ী তাকে পড়াশোনা, পড়ানো এবং অন্যান্য কার্যাবলি স্থির করতে হবে। মনের সাহস বাড়াতে হবে। ভয় এবং প্রতিকূলতা জয় করে কাজ করে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে কাজ করতে হবে। ভালো ও প্রকৃত বন্ধু নির্বাচন করে তাদের কাছে নিজের সমস্যার কথা জানালেও মানসিক চাপ কিছুটা হ্রাস পাবে।
উল্লিখিত উপায়গুলোর মাধ্যমে কেয়া তার মানসিক চাপ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে পারবে।
Related Question
View Allকোনো সমস্যা যেন উদ্ভব না হয় তার জন্য পূর্বে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তা হলো প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
কৈশোরে বিষণ্ণতাজনিত কারণে খাবারে অনীহা আসে।
কৈশোরে অতিরিক্ত কঠোর শাসন, সমবয়সীদের সাথে সম্পর্কের অবনতি, বাবা-মায়ের কলহ, পড়াশোনায় ব্যর্থতা ইত্যাদি কারণ থেকে যে বিষণ্ণতা আসে তা খাবারে অনাসক্তির অন্যতম কারণ।
ইমন কৈশোরকালে অবস্থান করছে।
ইমন মাঝে মাঝে স্কুল পালায় ও ক্লাসে অমনোযোগী থাকে। তার বয়সী অন্যান্য ছেলেমেয়েরাও এ বয়সে নানা কারণে অপরাধী হয়ে ওঠে। এর কারণগুলো হলো-
১. পরিবারে বাবা-মায়ের দাম্পত্য কলহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ শিশুদের মনে বিষণ্ণতা তৈরি করে তাদের অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে ফেলে।
২. পিতামাতার কঠোর শাসন, অতিরিক্ত ভালোবাসা, অযত্ন, অবহেলা, ইত্যাদি।
৩. পড়াশোনায় ব্যর্থতা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, সমবয়সীদের প্রভাব।
৪. পরিবারে নিয়ম-কানুন ও শৃঙ্খলার অভাব হলে।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায়, পিতামাতার সঠিক পদ্ধতিতে সন্তান পরিচালনা, ভগ্ন পরিবার, পারিবারিক বন্ধনের অভাবই এ বয়সী ছেলেমেয়েদের অপরাধী হয়ে ওঠার অন্যতম কারণ।
ইমন ১৩ বছর বয়সী কিশোর। তার বাবা-মায়ের মধ্যে সুসম্পর্ক না থাকায় তারা দুজন আলাদা বসবাস করেন। ফলে ইমন বাবা-মায়ের অবহেলায় বেড়ে উঠছে। বাবা-মায়ের অনুপস্থিতিতে নিয়ম শৃঙ্খলার অভাবে সে স্কুলে অমনোযোগী হয়ে পড়ে এবং কিশোর অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। নিম্নলিখিত উপায়ে তার অপরাধ প্রতিরোধ করা যেতে পারে। যেমন-
১. ইমনের সাথে তার মা-বাবার বন্ধন দৃঢ় করে।
২. পরিবারের সবার মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক তৈরি করে।
৩. পরিবারের ভাঙ্গন রোধ করে।
৪. ইমনের বাবা-মার মধ্যে সমঝোতার সম্পর্ক গড়ে তুলে।
৫. ইমনের বাবা-মার ইমনের প্রতি আরো যত্নশীল হওয়ার মাধ্যমে।
৬. তার স্কুলে কোনো অসুবিধা হচ্ছে কি না তা খোঁজ নেওয়া ও প্রয়োজনে শিক্ষকের সাথে পরামর্শ করে।
এ সকল বিষয় ছাড়াও ইমনেরও কয়েকটি বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। যেমন- ভালো বন্ধু দল নির্বাচন, নিয়ম ভঙ্গকারীকে খারাপ বন্ধু হিসেবে চিনে নেওয়া ইত্যাদি।
কোনো সমস্যা যেন উদ্ভব না হয় তার জন্য পূর্বে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তা হলো প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
কৈশোরে বিষণ্ণতাজনিত কারণে খাবারে অনীহা আসে।
কৈশোরে অতিরিক্ত কঠোর শাসন, সমবয়সীদের সাথে সম্পর্কের অবনতি, বাবা-মায়ের কলহ, পড়াশোনায় ব্যর্থতা ইত্যাদি কারণ থেকে যে বিষণ্ণতা আসে তা খাবারে অনাসক্তির অন্যতম কারণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!