ধর্মপালনের মধ্য দিয়ে নৈতিক শিক্ষা অর্জন করা যায়। এ পুস্তকের পঠিত অধ্যায়সমূহ থেকে আমরা জেনেছি, নৈতিকতা গঠনে ধর্ম খুবই সহায়ক। এ ছাড়া ত্যাগ-তিতিক্ষা ও দয়ার মতো নৈতিক গুণের দৃষ্টান্তমূলক ধর্মীয় উপাখ্যানের সঙ্গেও পরিচিত হয়েছি। এ অধ্যায়ে আমরা উদারতা, পরোপকার, সেবা, সৎসাহস ও পরমতসহিষ্ণুতা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধসমূহ এবং এগুলো অর্জনের গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত হব। নৈতিকতার পাশাপাশি মাদকাসক্তির মতো একটি অনৈতিক কাজ এবং তা থেকে বিরত থাকার উপায় সম্পর্কে জেনে এ কাজকে আমরা ঘৃণা করব।
এ অধ্যায় শেষে আমরা-
- ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার পারস্পরিক সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে পারব
- উদারতা, পরোপকার, সেবা, সৎসাহস, পরমতসহিষ্ণুতা এ নৈতিক মূল্যবোধগুলো হিন্দুধর্মের আলোকে ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে এ নৈতিক মূল্যবোধগুলো অনুশীলনের গুরুত্ব ও গঠনের উপায় বর্ণনা করতে পারব
- মাদক ও মাদকাসক্তির ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব
- মাদক সেবন অনৈতিক কাজ- ব্যাখ্যা করতে পারব
- মাদক গ্রহণ থেকে বিরত থাকার উপায় বর্ণনা করতে পারব
- সামাজিক জীবনে নৈতিক আচরণ করতে উদ্বুদ্ধ হব।
Related Question
View Allধর্মের দশটি লক্ষণ রয়েছে।
ধর্মশিক্ষার মধ্য দিয়ে আমরা যে জ্ঞানলাভ করি তা জীবন ও সমাজে প্রয়োগ করি। এটি হচ্ছে ধর্মের নৈতিক শিক্ষা। ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহন করলাম এবং এর মধ্যে থেমে থাকলাম; এতে কোনো লাভনেই। যদি আমি জীবের মধ্যে আত্মারূপে ঈশ্বর আছেন জেনে জীবকে ঈশ্বর জ্ঞানে শ্রদ্ধা করি এবং জীবের সেবা করি তাহলেই ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন সার্থক হবে। তাই বলা যায়, ধর্ম হচ্ছে নৈতিক শিক্ষার একটি উপায়।
পূরবী দত্তের চরিত্রে উদারতার নৈতিক গুণটি ফুটে উঠেছে।
উদারতা হচ্ছে মহত্ত্ব বা সাধুতা। উদ্দীপকের পূরবী দত্ত সেরকম একজন নারী। তার স্বামী প্রবাসে চাকরি করেন। সেজন্য পূরবী সংসারে সকলের দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তিনি সদস্যদের মতামতকে প্রাধান্য দেন। এটি তার উদারতারই বহিঃপ্রকাশ। উদার ব্যক্তির পরিচয় দিতে গিয়ে বলা হয়েছে উদারচরিতানাং তু বসুধৈব কুটুম্বকম অর্থাৎ উদার চরিত্রের ব্যক্তিদের কাছে পৃথিবীর সকলেই ইষ্টিকুটুম (আত্মীয়)।
নৈতিক মূল্যবোধ একজন ব্যক্তিকে ধার্মিকে পরিণত করে। এজন্য উদ্দীপকের পূরবী দত্তকে ধার্মিক বলতে পারি।
পরিবার ও সমাজে শৃঙ্খলা আনয়নের ক্ষেত্রে উদারতার যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। যারা উদার তারা সকলের মতামতকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে থাকে। উদারতা ব্যক্তির চরিত্রকে উন্নত করে। সে নিজেকে কখনও বঞ্চিত বোধ করেন না। পাওয়াতে নয় দেওয়াতেই তার আনন্দ। ব্যক্তি স্বার্থচিন্তা মানুষের মনকে সংকীর্ণ করে তোলে। তখন মানুষ পরিবারস্থ ও সমাজের অন্যান্যদের স্বার্থের কথা, সুখের কথা এবং সমাজের কথা ভুলে যায়। এতে সমাজেরও উন্নতি ও অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়। আমরা আমাদের আচরণে উদারতার পরিচয় দেব। অপরের সুখে সুখী হব, অপরের দুঃখে দুঃখী হব। এতে পরিবার ও সমাজে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং সমাজেরও মঙ্গল হবে।
'?' চিহ্নিত স্থানে আমরা লিখতে পারি নৈতিক গুণাবলি।
নিজের বিপদ জেনেও কল্যাণকর কোনো কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ার যে প্রবৃত্তি তার নাম 'সৎসাহস'। সৎসাহস মানুষের মনোবল বৃদ্ধি করে এবং নির্ভিকতার মুখে প্রতিকূল পরিবেশের মুখোমুখি দাঁড়াতে শেখায়। সবল যখন দুর্বলের ওপর অত্যাচার করে তখন সৎসাহসী দুর্বলের পক্ষে দাঁড়ান। সৎসাহস তাই ধর্মের অঙ্গ এবং একটি নৈতিক গুণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!