করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল।
কবি প্রবহমান নদী বলতে চলমান ইতিহাসের কথা বোঝাতে চেয়েছেন।
প্রবহমান নদীর আক্ষরিক অর্থ চলমান নদী। তবে কবি এখানে প্রবহমান নদী বলতে চলমান ইতিহাসের কথা বুঝিয়েছেন। কবিকে কবির মা বলেছেন যে সাঁতার জানে না প্রবহমান নদী তাকেও ভাসিয়ে রাখে কিন্তু যে মানুষ কবিতা শুনতে জানে না সে নদীতে ভাসতে পারে না। এখানে মূলত বোঝানো হয়েছে যে, যে মানুষ সত্যকে নিজের ভিতরে ধারণ করতে পারে না সেই মানুষ ইতিহাসের অংশ হতে পারে না। এমনকি যে মানুষ প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার যোগ্য নয় সেও নিজের ভিতরে থাকা সত্যের বলে ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠতে পারে কিন্তু কবিতা তথা সত্য বিবর্জিত মানুষ চলমান ইতিহাসের অংশ হওয়ার বদলে কালের গর্ভে হারিয়ে যায়।
উদ্দীপকের মানুষ এবং 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বর্ণিত পূর্বপুরুষ উভয়েই অন্ত্যজশ্রেণির শ্রমজীবী মানুষ।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতাটিতে যে পূর্বপুরুষের কথা বলা হয়েছে সেই পূর্বপুরুষ শ্রমজীবী, ভূমিজীবী অনার্য ক্রীতদাস। যার পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল। পায়ের নিচে পলিমাটির সৌরভ ছিল এবং যে পতিত জমি আবাদের কথা বলত। কবিতার পূর্বপুরুষ টিকে ছিল প্রতিকূলতার মধ্যে যার কাছে নিজের ফলানো শস্যদানাকে কবিতা মনে হতো। কবিতার পূর্বপুরুষ সাহসী ছিল তারা সূর্যকে হৃদয়ে ধারণ করত. এবং যুদ্ধে যেতে ভয় পেত না।
উদ্দীপকের মানুষ সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ। এই মানুষদের কেউ কারখানার কর্মী, কেউ লাঙল চালায়, কেউ নাবিক, কেউ মাল্লা, কামার, কুমোর এবং তাঁতি। এরা সবাই পরিশ্রমী। যারা পরিশ্রম করে সমস্ত কিছু নিয়ন্ত্রণ করে। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার পূর্বপুরুষও শ্রমজীবী তবে তারা ছিল ভূমিজীবী ক্রীতদাস। তা সত্ত্বেও তারা ছিল সাহসী এবং লড়াকু। উদ্দীপকের মানুষ এবং কবিতার পূর্বপুরুষ উভয়েই শ্রমজীবী ও পরিশ্রমী যারা প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও টিকে থাকতে সক্ষম।
উদ্দীপকটি 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার মূলবক্তব্যেরই ধারক।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতাটিতে ঐতিহ্য সচেতন শিকড় সন্ধানী, মানুষের মুক্তির দৃপ্ত ঘোষণা প্রকাশ পেয়েছে। যারা হাজার বছর ধরে সংগ্রাম করে টিকে আছে। এই অনার্য ক্রীতদাস, শ্রেণির মানুষ লড়াই করে চলে নিরন্তর মুক্তির আকাঙ্ক্ষায়, যারা যুদ্ধে যাওয়ার সময় সূর্যকে হৃদয়ে ধারণ করে বিজয়ী হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকে সমস্ত শ্রমজীবী মানুষকে একত্রিত হতে দেখা যাচ্ছে। যারা নিজের পরিশ্রমে কারখানার রাজা হয়ে ওঠে, বৈঠা হাতে উত্তাল সমুদ্রকে নিয়ন্ত্রণ করে। যারা সবাই পরিশ্রম করে বেঁচে থাকাতেই বিশ্বাসী। যারা এমনকি নিজের রক্তপ্রবাহকেও নিয়ন্ত্রণ করে সাহসী ও পরিশ্রমী মনোভাব দ্বারা।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতাটি হাজার বছরের অন্ত্যজ শ্রেণির বাঙালির লড়াই করে টিকে থাকার কবিতা। মুক্তির জন্য সকল-শক্তির উৎস সূর্যকে হৃৎপিন্ডে 'ধারণ করার কবিতা। উদ্দীপকেও কবিতার মতোই শ্রমজীবী বাঙালির লড়াকু চেহারা দেখা যায়। তাই বলা যায়, প্রশ্নোত্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!