"কোনো কোনো সময় মানুষের ইন্দ্রিয় অস্বাভাবিক তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে"- '১৯৭১' উপন্যাসে কথাটি সফদরউল্লাহকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে। '১৯৭১' উপন্যাসে পাকিস্তানি মিলিটারি যখন নীলগঞ্জ গ্রামে আক্রমণ করে তখন নীলগঞ্জ গ্রামের মানুষের বিশ্বাস ছিল যে, পাকিস্তানিরা মুসলমানদের কোনো ক্ষতি করবে না। কিন্তু তাদের বিশ্বাস ছিল ভিত্তিহীন। পাকিস্তানি সুবাদার সফদরউল্লাহর বাড়িতে গিয়ে তার অনুপস্থিতিতে বাড়ির মেয়েদের ওপর নির্যাতন চালায়। এটা জানার পর সফদরউল্লাহ একটা দা হাতে মাঠে নেমে পড়ে। সে সুবাদারকে খুন করবে। সে কোনো রকম শব্দ না করে হাঁটে।
চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। সে যেভাবে হাঁটে তাতে মনে হয় অন্ধকারেও সে সব দেখছে। এরকম অন্ধকারে সফদরউল্লাহর নির্বিঘ্নে চলাচলের কারণেই লেখক প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
Related Question
View All'১৯৭১' উপন্যাসে লেখক প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাকিস্তানি মিলিটারি কর্তৃক আক্রমণের শিকার হওয়ার চিত্র তুলে ধরেছেন। গ্রামে এসেই মেজর এজাজ ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। সে গ্রামের ইমাম ও আজিজ মাস্টারকে স্কুলে বন্দি করে রাখে। তারা বাঙালির ওপর যে নির্যাতন চালিয়ে আনন্দবোধ করত তা এজাজের নানা কথায় বোঝা যায়।
উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র হলো বদিউজ্জামান। তার উপর এজাজ প্রত্যক্ষ নির্যাতন না চালালেও সে যেন হানাদারদের অত্যাচারের শিকার হওয়া লোকদের প্রতিভূ। উপন্যাসে বদিউজ্জামান একজন মনিহারি দোকানদার। মধুবন বাজারে তার একটি মনিহারি দোকান আছে। বদিউজ্জামানের সাংসারিক অবস্থা মোটামুটি ভালো। গ্রামে মিলিটারি আসার পরে সে ভীষণ ভয় পেয়ে যায়। তাই সে মধুবন বাজারে যেতে চায় না। এদিকে তার মধুবন বাজারে যাওয়াও খুব প্রয়োজন ছিল। তাই সে বুকে সাহস সঞ্চার করে বাজারের দিকে যেতে থাকে। যাওয়ার পথে যখন সে দ্বিতীয়বারের মতো মিলিটারি দেখে তখন ভয় পেয়ে যায়। তারপর সে জঙ্গলা মাঠের দিকে যায়। ইতোমধ্যে গুলির আওয়াজ পেয়ে সে ভয়ে জঙ্গলের মধ্যে পচা এক ডোবায় গলা পর্যন্ত নিজেকে ডুবিয়ে রাখে।
পচা ডোবায় থাকা অবস্থায় তার মধ্যে বিভিন্ন অনুভূতির প্রকাশ দেখা যায়। পচা পানিতে ডুবে থাকতে তার প্রথমদিকে অনেক কষ্ট হয়। তারপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার অনুভূতি শিথিল হতে থাকে। একটা সময় প্রবল পিপাসায় সে পচা ডোবার পানি পান করে। এদিকে তার মধ্যে নানা ধরনের চিন্তার প্রকাশ দেখা যায়। তার একসময় মনে হয় জ্বর এসেছে। কিন্তু মাথায় হাত দিয়ে সে কোনো উত্তাপ পায় না। একসময় তার মনে হয় শার্টের ভেতর শীতল ও লম্বা কিছু ঢুকছে। পরে দেখে এটা তার মনের ভুল। এরকম নানা ধরনের অনুভূতির বিপর্যয় তার মধ্যে দেখা যায়। সে একসময় নিঃসঙ্গবোধ করলে শেয়ালের উপস্থিতিকে সে সঙ্গী ভাবে।
বদিউজ্জামানের পশুকে সঙ্গী ভাবার বিষয়টির মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, তার অনুভূতি পশুর মতো হয়ে গেছে। আর উপর্যুক্ত আলোচনায় এটাও প্রতীয়মান যে, তার অনুভূতি নষ্ট হয়ে যায়। তাই বলা যায় পাকিস্তানিদের বর্বরতা মানুষকে অনুভূতিশূন্য করে দিয়েছিল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!