পরস্পরবিরোধী দুটি বা দুয়ের অধিক প্রেষণা একইসাথে উপস্থিত হলে ব্যক্তির মধ্যে উভয়মুখী যে মানসিক অস্থিরতার সৃষ্টি হয় তাকে দ্বন্দ্ব বলে।
জলে কুমির ডাঙ্গায় বাঘ' এরূপ পরিস্থিতি একইসাথে দুইটি ঋণাত্মক লক্ষ্যবস্তুকে নির্দেশ করে। যার একটি গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক থাকে, তাই একে বিকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্ব বলে।
এক বা একাধিক বিষয়ের প্রতি পরস্পরবিরোধী প্রতিক্রিয়া করার প্রবণতাকে দ্বন্দ্ব বলে। যখন দুইটি অপ্রীতিকর লক্ষ্যবস্তু থাকে এবং ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও একটি গ্রহণ না করে উপায় থাকে না তখন যে দ্বন্দ্বের উদ্ভব ঘটে, তাকে বিকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্ব বলে। এ ধরনের দ্বন্দ্ব সবচেয়ে বেশি হতাশার সৃষ্টি করে। যেমন- জলে কুমির ডাঙ্গায় বাঘ। অর্থাৎ জলে নামলে কুমিরের এবং ডাঙ্গায় থাকলে বাঘের ভয় রয়েছে। কিন্তু একটিকে তবুও গ্রহণ করতে হবে। এ ধরনের পরিস্থিতি বিকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্বের উদ্ভব ঘটায়।
লিলির মধ্যে আকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্বের উদ্ভব হয়েছে।
আকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্বে একটি লক্ষ্যবস্তু থাকে, লক্ষ্যবস্তুটি একদিকে যেমন- আকর্ষণ করে, অন্যদিকে তেমনি বিকর্ষণও করে। অর্থাৎ আকর্ষণীয় ও বর্জনীয় উভয়ই গুণই লক্ষ্যবস্তুতে বর্তমান থাকে। লক্ষ্যবস্তুটির আকর্ষণীয় গুণের কারণে ব্যক্তি এরদিকে অগ্রসর হয়। কিন্তু অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে ঋণাত্মক গুণটি বেশি শক্তিশালী হওয়ায় আবার তাকে অগ্রসর হওয়া থেকে বিরত রাখে। ফলে ব্যক্তি হতাশ হয়ে পড়ে। উদ্দীপকে লিলি ভালো বেতনে একটি চাকরি পেয়েছে। কিন্তু চাকরিস্থল খুবই দুর্গম বনাঞ্চলে। ফলে সে যোগদান করবে কি না তা নিয়ে সংশয়ে আছে। প্রত্যাশিত বেতনের চাকরিটা আকর্ষণীয় যা তাকে কাছে টানে আবার কর্মস্থল দুর্গম বন অঞ্চলে যা বিকর্ষণীয় হওয়ায় তাকে দূরে সরিয়ে দেয়। সুতরাং বলা যায়, লিলির মধ্যে যে দ্বন্দ্বের উদ্ভব হয়েছে তা মূলত আকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্ব।
দীপার মধ্যে সৃষ্টি হওয়া চাপমূলক পরিস্থিতি হলো রোগজনিত সমস্যা এবং আবেগীয় সমস্যা।
মানসিক, চাপ হলো সেই ধরনের পরিস্থিতি যা ব্যক্তির মধ্যে মানসিক অস্বস্তিকর অবস্থা সৃষ্টি করে। মানুষের জীবনে এই পরিস্থিতি বিভিন্ন রকম হতে পারে। যেমন- একাকিত্ব ভীতিজনিত কারণে আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রোগে ভুগি। কিন্তু দীর্ঘসময় যখন আমরা কোনো রোগে ভুগি, তখন হয়তো চিন্তা করি আর আগের মতো ভালো হতে পারবো না। এই ভেবে আমাদের মধ্যে এক ধরনের মানসিক চাপমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। মানসিক চাপমূলক অন্য একটি পরিস্থিতি হলো আবেগীয় সমস্যা। মানসিক চাপ সৃষ্টির ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো আবেগীয় সমস্যা। কারণ বিভিন্ন ধরনের আবেগীয় সমস্যা থেকে ব্যক্তির মধ্যে মানসিক চাপমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এই আবেগীয় সমস্যাগুলোর মধ্যে হতে পারে- প্রেমে ব্যর্থতা, সন্তানের বিদেশযাত্রা ইত্যাদি।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কোভিড-১৯ অতিমারির কারণে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় দীপার নানা ধরনের অসুস্থতা এবং আবেগীয় সমস্যা দেখা দিয়েছে। দীপার এই মানসিক চাপমূলক পরিস্থিতি রোগজনিত সমস্যা ও আবেগীয় সমস্যাকেই নির্দেশ করে।
পরিশেষে বলা যায়, মানসিক চাপ সৃষ্টির ক্ষেত্রে সব ধরনের অসুস্থতা এবং আবেগীয় অসুবিধা অন্যতম দুটি কারণ যেগুলো শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্যতার বিঘ্ন ঘটায়।
Related Question
View Allমানসিক চাপ হলো পারিপার্শ্বিক পরিবেশ বা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সৃষ্ট ব্যক্তির এমন এক ধরনের অবস্থা, যার দ্বারা সে মানসিক যন্ত্রণা বা পীড়নের সম্মুখীন হয়।
ব্যক্তির অসহায়ত্বের ফলে হতাশার মতো নেতিবাচক অনুভূতি সৃষ্টি হয়। তাই অসহায়ত্ব ক্ষতিকর।
মানুষের চাহিদা পূরণের জন্য সার্বিক প্রচেষ্টা কোনো কিছু দ্বারা বাধা পেলে যে উত্তেজনার সৃষ্ট হয় তাকে হতাশা বা অসহায়ত্ব বলে। অসহায়ত্বের অবস্থায় পরিস্থিতি ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে। ফলে ব্যক্তি পরিস্থিতির কাছে আত্মসমর্পণ করে। এরূপ পরিস্থিতিতে ব্যক্তি হতাশ হয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন ধংসাত্মক প্রতিক্রিয়া করে থাকে। তাই অসহায়ত্বকে ক্ষতিকর মানসিক অনভূতি বলা হয়।
দৃশ্যকল্প-১ এ পরিলক্ষিত দ্বন্দ্বটি হলো আকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্ব।
আকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্বে একটি লক্ষ্যবস্তু থাকে, লক্ষ্যবস্তুটি একদিকে যেমন আকর্ষণ করে, অন্যদিকে তেমনি বিকর্ষণও করে। অর্থাৎ আকর্ষণীয় ও বর্জনীয় উভয় গুণই লক্ষ্যবস্তুতে বর্তমান থাকে। লক্ষ্যবস্তুটির আকর্ষণীয় গুণের কারণে ব্যক্তি এর দিকে অগ্রসর হয়। কিন্তু অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে ঋণাত্মক গুণটি বেশি শক্তিশালী হওয়ায় আবার তাকে অগ্রসর হওয়া `থেকে বিরত রাখে। ফলে ব্যক্তি হতাশ হয়ে পড়ে।
উদাহরণস্বরূপ- ভালো বেতনের একটি চাকরি পাওয়া গেছে। তবে চাকরিস্থল খাগড়াছড়ি জেলার শেষপ্রান্তে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে। ভালো বেতন একদিকে আকর্ষণ করছে অপরদিকে, দুর্গম অঞ্চল দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। এরূপ একটি অবস্থাই আকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্ব।
দৃশ্যকল্প-২-এ মানসিক চাপ মোকাবেলার 'অবদমন' ও 'অপব্যাখ্যান বা যুক্তিসিদ্ধকরণ' কৌশলের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে যা ভিন্ন হলেও মূলত একই শ্রেণিভুক্ত।
তীব্র মানসিক চাপের ফলে আমাদের মনের ইচ্ছাগুলো নিজেদের কাছেই গ্রহণযোগ্য হয় না বা তৃপ্তি সাধন করা সম্ভব হয় না। এ ধরনের অগ্রহণযোগ্য কামনা-বাসনাকে ব্যক্তি স্বভাবতই জোরপূর্বক ভুলে থাকে বা অবচেতন মনে দাবিয়ে রাখে। এভাবে জোরপূর্বক ভুলে থাকা বা দাবিয়ে রাখার কাজটিকে অবদমন বলে। দৃশ্যকল্প-২ এর প্রথমাংশে এরূপ সংগতি বিধানের চরমতম ও নিকৃষ্টতম কৌশলের কথা বলা হয়েছে।
দৃশ্যকল্প-২ এর শেষাংশে নিজের ব্যর্থতাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য উদ্ভট যুক্তি স্থাপনের মাধ্যমে নিজেকে রক্ষা করার কথা বলা হয়েছে। মূলত এটা হলো ব্যর্থতার পীড়াদায়ক গ্লানি থেকে মুক্তি লাভের জন্য অপব্যাখ্যার কৌশল ব্যবহার করা। উদাহরণস্বরূপ- বেশ কিছুদিন ধরে খেলছে এমন একজন খেলোয়াড়কে যদি দলের খেলোয়াড় হিসেবে মনোনীত করা না হয় তাহলে তাকে বলতে শোনা যায় 'আরে ভাই, অনেক বয়স হয়েছে, এখন কি আর ছেলেপেলেদের সাথে খেলা আমার সাজে।' মূলত এসব ক্ষেত্রে আমরা আমাদের অক্ষমতাকে ঢাকবার জন্য দুর্বল যুক্তির আশ্রয় নিয়ে অন্যের চোখে আমাদের আত্মমর্যাদা রক্ষা করার চেষ্টা করে থাকি।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উভয়ই আত্মরক্ষার কৌশল হলেও ভিন্ন। 'অবদমন' ও 'অপব্যাখ্যান
মানসিক চাপ হলো পারিপার্শ্বিক পরিবেশ বা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সৃষ্ট ব্যক্তির এমন এক ধরনের অবস্থা, যার দ্বারা সে মানসিক যন্ত্রণা বা পীড়নের সম্মুখীন হয়।
ব্যক্তির মানসিক চাপ হ্রাসে সামাজিক সহায়তা ও অনুপ্রেরণামূলক পরিবেশ প্রয়োজন।
বিভিন্ন সামাজিক কারণে মানসিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে। যেমন-সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া, সামাজিক বৈষম্য, জাতিগত বিদ্বেষ, বর্ণবৈষম্য প্রভৃতি কারণে সৃষ্ট ব্যর্থতা ও উত্তেজনা। অন্যদিকে সামাজিক সহায়তা চাপ হ্রাস করে। সামাজিক নিরাপত্তা, আশ্বস্ততা ও অনুপ্রেরণা ব্যক্তির বিপর্যস্ত জীবনকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে থাকে।
তাই চাপ হ্রাসে সামাজিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!