ত্রিপুরাদের ভাষার নাম 'ককবরক'।
ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের আত্মপরিচয় পাওয়া যায় এমন সব বৈশিষ্ট্যকে বলা হয় সংস্কৃতি।
পৃথিবীতে মানুষের মাঝে আছে নানা ধরনের বৈচিত্র্য। পৃথিবীর বিশাল এই জনসমষ্টি আবার অসংখ্য জাতি, গোষ্ঠী, সম্প্রদায় ইত্যাদিতে বিভক্ত। এক একটি জনসমষ্টির আচার-আচরণ, জীবিকার ধরন, শিল্প-সাহিত্য, সামাজিক সম্পর্ক, রীতিনীতি ইত্যাদি একেক রকম। এ বিষয়গুলোর সম্মিলিত নামই সংস্কৃতি, যার মাধ্যমে আমরা নির্দিষ্ট একটি জনগোষ্ঠীর পরিচয় পেয়ে থাকি।
উদ্দীপকের অনুষ্ঠানটি প্রবন্ধে বর্ণিত সাঁওতাল নৃগোষ্ঠীর অনুষ্ঠানের সাথে সাদৃশ্য নির্দেশ করে।
বাংলাদেশে বাঙালি ছাড়াও নানা জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করে। 'বহু জাতিসত্তার দেশ-বাংলাদেশ' প্রবন্ধে বাংলাদেশের প্রধান প্রধান ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর জীবনাচরণ ও সংস্কৃতির সংক্ষিপ্ত পরিচয় বিধৃত হয়েছে। উল্লিখিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে অন্যতম প্রধান সাঁওতাল জনগোষ্ঠী। সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে নৃত্য-গীতের ব্যাপক প্রচলন লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে কোল সম্প্রদায়ের নৃত্যানুষ্ঠানের অবতারণা করা হয়েছে। সেখানে কথক তাদের নাচ দেখে মুগ্ধ হন। কোল মেয়েরা সেখানে হাত ধরাধরি করে মাদলের তালে পা ফেলে নাচছিল। তাদের এই অভিনব নাচ কথককে বিমোহিত করে। একইভাবে আলোচ্য প্রবন্ধের একটি অংশেও সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব 'সোহরাই' উপলক্ষ্যে নারী- পুরুষের সম্মিলিত নাচের কথা বর্ণিত হয়েছে। এক্ষেত্রে সম্প্রদায়গত পার্থক্য ছাড়া আলোচ্য প্রবন্ধের সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর উৎসবের সাথে উদ্দীপকের কোল জনগোষ্ঠীর নাচের উৎসবের সাদৃশ্য পাওয়া যায়।
কোল নৃগোষ্ঠীর নৃত্যানুষ্ঠানের বর্ণনা ছাড়া প্রবন্ধের অন্যান্য বিষয়ের উল্লেখ না থাকায় উদ্দীপকটি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সামগ্রিক পরিচয় তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে।
'বহু জাতিসত্তার দেশ-বাংলাদেশ' প্রবন্ধে বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ও জীবনাচরণ প্রণালির নিখুঁত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে প্রাবন্ধিক এ দেশের প্রধান প্রধান নৃগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র পরিবার কাঠামো, পেশা, ধর্মবিশ্বাস ও উৎসবের বর্ণনা দিয়েছেন।
উদ্দীপকে কোল জনগোষ্ঠীর নাচের উৎসবের বর্ণনা রয়েছে। স্বতন্ত্র জীবনাচারের অধিকারী কোল সম্প্রদায়ের অন্যতম উৎসব নাচ। নারী-পুরুষ সম্মিলিতভাবে এরা নাচে অংশ নেয়। পুরুষদের মাদলের তালে তালে কোল মেয়েরাও নৃত্য পরিবেশন করে। এসময় তারা পরস্পর হাত ধরে অর্ধচন্দ্রাকৃতি রেখার মতো জড়ো হয়ে নাচে। এই নৃত্য আমাদের দেশে প্রচলিত অপরাপর নাচ থেকে স্বতন্ত্র। স্থান পরিবর্তন না করে কেবল পায়ের নড়নচড়নের মধ্য দিয়েই তারা নেচে থাকে।
উদ্দীপকের কথক কেবল কোল জনগোষ্ঠীর লোকাচারের অন্যতম অনুষঙ্গ নাচের অনুষ্ঠানের বর্ণনা তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে প্রবন্ধের রচয়িতা সাঁওতালসহ বাংলাদেশের প্রধান প্রধান ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক জীবনাচারের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়েছেন। এছাড়া আলোচ্য প্রবন্ধে সাঁওতালসহ অপরাপর প্রধান নৃগোষ্ঠীসমূহের ধর্মীয় বিশ্বাস, পেশা, পরিবার কাঠামো, উৎসব প্রভৃতির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা রয়েছে। উদ্দীপকটিতে এসব বিষয়ের উল্লেখ নেই। প্রবন্ধের একটি অংশে সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর নৃত্যানুষ্ঠানের বর্ণনা দিয়েছেন লেখক। উদ্দীপকের কোল সম্প্রদায়ের নাচের উৎসব কেবল এ বিষয়টিরই প্রতিনিধিত্ব করে। সে বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allচাকমারা পহেলা বৈশাখকে 'গ্যাপর্য্যা' বলে আখ্যায়িত করে।'
গ্রামীণ সমাজের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়ায় পঞ্চায়েতের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
পঞ্চায়েত গ্রামীণ স্বায়ত্ত শাসনব্যবস্থার মূল ভিত্তি। পাঁচজন সদস্য নিয়ে যে স্বশাসিত স্বনির্ভর গ্রামীণ পরিষদ গঠিত হয়, তাই পঞ্চায়েত। কয়েকটি গ্রাম নিয়ে প্রশাসনিক, জনকল্যাণমূলক, বিচার বিভাগীয় ও প্রতিনিধিত্বমূলক- এ স্বায়ত্ত শাসনব্যবস্থা গ্রামীণ ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হওয়াতে গ্রামীণ উন্নয়নে এবং গ্রামের যাবতীয় সমস্যা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকের প্রথম স্থানটি রচনার মারমা জাতিসত্তাকে নির্দেশ করে।
বাংলাদেশে বসবাসকারী নানা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে মারমা অন্যতম। রচনায় মারমা জনগোষ্ঠীর জীবন কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে। মারমাদের ভাষা, বর্ণমালা, পোশাক, শাসনব্যবস্থা, পারিবারিক জীবন, খাদ্য, ধর্ম, লোকাচার, উৎসব সম্পর্কে বলা হয়েছে। রচনার এই অংশ থেকে আমরা জানতে পারি, মারমাদের নববর্ষের উৎসবকে সাংগ্রাই বলে। তারা দেব-দেবীর পূজা করে। আলোচ্য রচনার ও উদ্দীপকের এই অংশটি অভিন্ন।
উদ্দীপকের প্রথম অংশে বাহার ও সঞ্জীব যে পার্বত্য অঞ্চলে বেড়াতে যায়, সেখানকার স্থানীয় লোকজন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এবং পিতৃতান্ত্রিক। তারা দেব-দেবীর পূজা করে এবং নববর্ষে 'সাংগ্রাই' উৎসব পালন করে। ঠিক একই রকম বৈশিষ্ট্য আমরা দেখতে পাই 'বহু জাতিসত্তার দেশ-বাংলাদেশ' রচনার মারমা জনগোষ্ঠীর মধ্যে। সে বিবেচনায় উদ্দীপকের প্রথম স্থানটি 'বহু জাতিসত্তার দেশ-বাংলাদেশ' রচনার মারমা জাতিগোষ্ঠীকে নির্দেশ করে।
উদ্দীপকের শেষ স্থানটি বাংলাদেশের চাকমা জাতিসত্তার বৈশিষ্ট্যকে ধারণ করে।
প্রাবন্ধিক 'বহু জাতিসত্তার দেশ-বাংলাদেশ' রচনায় এ দেশের বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সাথে সাথে চাকমাদেরও বৈচিত্র্যময় জীবন ও তাদের জাতিসত্তার বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরেছেন।
উদ্দীপকের শেষ স্থানটি অর্থাৎ বাহার ও তার বন্ধু সঞ্জীব যেখানে বেড়াতে যায় সেখানকার জাতিসত্তার বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছে। সেখানে সমাজের প্রধান হলেন রাজা। গ্রামের প্রধান হলেন কারবারি। সেখানকার পুরুষেরা 'ধুতি' ও মহিলারা 'পিনন' পরিধান করে। পুরুষেরা নিজেদের তৈরি 'সিলুম' বা জামা পরে আর মেয়েরা খাদিকে ওড়না হিসেবে ব্যবহার করে। উদ্দীপকের এই বর্ণনা মূলত চাকমা জাতিসত্তার বৈশিষ্ট্যকে ধারণ করে।
'বহু জাতিসত্তার দেশ-বাংলাদেশ' রচনায় চাকমা জাতিসত্তার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আলোচ্য রচনায় চাকমাদের ভাষা, পারিবারিক কাঠামো, খাদ্য, ঐতিহ্য, আচার-অনুষ্ঠান, ধর্ম, উৎসব সর্বোপরি তাদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়েছে। এখানে আমরা দেখতে পাই, চাকমাদের সমাজের প্রধান হলেন রাজা। গ্রামের প্রধান হলেন কারবারি। সেখানকার পুরুষেরা 'ধুতি' ও মহিলারা 'পিনন' পরিধান করে। পুরুষেরা নিজেদের তাঁতে তৈরি 'সিলুম' বা জামা পরে। প্রাবন্ধিক চাকমাদের সংস্কৃতি ও জীবনাচারের এক অনবদ্য চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন, যার প্রতিচ্ছবি আমরা উদ্দীপকের শেষাংশে দেখতে পাই। এদিক বিবেচনায়, উদ্দীপকের শেষ অংশে বাংলাদেশের যে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরা হয়েছে তা চাকমা জনগোষ্ঠীর।
ত্রিপুরাদের ভাষার নাম 'ককবরক'।
ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের আত্মপরিচয় পাওয়া যায় এমন সব বৈশিষ্ট্যকে বলা হয় সংস্কৃতি।
পৃথিবীতে মানুষের মাঝে আছে নানা ধরনের বৈচিত্র্য। পৃথিবীর বিশাল এই জনসমষ্টি আবার অসংখ্য জাতি, গোষ্ঠী, সম্প্রদায় ইত্যাদিতে বিভক্ত। এক একটি জনসমষ্টির আচার-আচরণ, জীবিকার ধরন, শিল্প-সাহিত্য, সামাজিক সম্পর্ক, রীতিনীতি ইত্যাদি একেক রকম। এ বিষয়গুলোর সম্মিলিত নামই সংস্কৃতি, যার মাধ্যমে আমরা নির্দিষ্ট একটি জনগোষ্ঠীর পরিচয় পেয়ে থাকি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

