কৃষিকাজকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে যে টাকা নেওয়া হয় সেটা হলো কৃষি ঋণ।
কৃষিকাজ সম্পন্ন করতে এবং কৃষি থেকে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে কৃষি সমবায় গড়ে তোলা হয়।
কৃষক হঠাৎ বিপর্যয়ে যেমন- প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হলে কৃষি সমবায় কৃষককে প্রয়োজনীয় মূলধনের যোগান দেয়। এছাড়াও কৃষি সমবায় কৃষককে ঋণ সুবিধা প্রদান করে এবং উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বীজ, সার, ঔষধ, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি উপকরণ সরবরাহ করে থাকে। কৃষি পণ্য গুদামজাতকরণ ও বাজারজাতকরণেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে এই কৃষি সমবায়। ফলে কৃষকেরা ঝুঁকি এড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত ফলন অর্জন করতে পারে। এভাবেই কৃষি সমবায় কৃষককে হঠাৎ বিপর্যয়ে সহনশীলতা যোগায়।
শিক্ষার্থীরা উক্ত সেমিনার থেকে কৃষি সমবায়ের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানতে পারল।
কৃষি সমবায়গুলো সাধারণত এলাকাভিত্তিক বা আঞ্চলিক হয়। প্রত্যেক সমবায়ী কৃষক তার জমি ও পুঁজির আনুপাতিকহারে মুনাফার শরিকানা লাভ করবেন, এটাই সমবায়ের ভিত্তি। আধুনিক কৃষিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় কৃষি বেশ ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। তাছাড়া কৃষক তার উৎপন্ন ফসল ধরে রাখতে পারে না। বাম্পার ফলন হলে ফসলের দাম পড়ে যায়। যদি এলাকায় তাদের নিজস্ব ফসল প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র ও বড় গুদাম থাকতো তাহলে এই আর্থিক ক্ষতি এড়ানো যেত। কোনো একজন কৃষকের পক্ষে (খুব বড় ও ধনী কৃষক না হলে) এই সুবিধাগুলো অর্জন সম্ভব না। পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি অবলম্বনসহ সুচারুভাবে ফসল উৎপাদন, পরিচর্যা, সংগ্রহ, পরিবহন, সংরক্ষণ, বিপণন সকল ক্ষেত্রেই কৃষি সমবায় উচ্চ মাত্রার সফলতা এনে দিতে সক্ষম।
সুতরাং, শিক্ষার্থীরা, উক্ত সেমিনার থেকে কৃষি সমবায়ের উপরিউক্ত উপযোগিতা সম্পর্কে জানতে পারল।
উক্ত সেমিনারের বিষয়বস্তু হলো "কৃষি সমবায়” যা আমাদের দেশের কৃষক ও কৃষির উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কৃষি সমবায়ের মাধ্যমে কৃষকরা যে সুবিধাসমূহ পেয়ে থাকেন সেগুলো হলো-
i. আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ সংগ্রহ ও ব্যবহারে কৃষকেরা সক্ষম হয়।
ii. পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তিসমূহ যেমন- শস্যপর্যায় অবলম্বন, নিবিড় ও সমন্বিত চাষাবাদ পদ্ধতি, সমন্বিত বালাই দমন পদ্ধতি ইত্যাদি ব্যবহার করে ফসলের নিরাপত্তা বিধান, যান্ত্রিক উপায়ে ফসল সংগ্রহ ও সংগ্রহ- উত্তর পরিচর্যা, পরিবহন ও গুদামজাতকরণ এবং বিপণন সকল ক্ষেত্রেই উচ্চমাত্রার সক্ষমতা আসে।
iii. উচ্চ মুনাফা অর্জন নিশ্চিত হয়।
iv. কৃষকরা হঠাৎ বিপর্যয়ে সহনশীলতা পায়।
v. বাম্পার ফলন হলে দামের ক্ষেত্রে যে বিপর্যয় ঘটে তা এড়ানো সম্ভব হয়। অতএব, কৃষি সমবায় প্রতিষ্ঠা কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।
Related Question
View Allকৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহ, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, ফসল উৎপাদন, সংগ্রহ, সংগ্রহোত্তর 'পরিচর্যা, গুদামজাতকরণ, পরিবহন এবং বাজারজাতকরণ সুচারুভাবে সম্পন্ন করার জন্য কৃষকগণ যে সমবায় গড়ে তোলেন তাকে কৃষি সমবায় বলে।
একই উদ্দেশ্যে একজোট হয়ে কাজ করাকে সমবায় বলে।
কারো একার পক্ষে যে কাজ সম্ভব নয় তা সমবায়ের মাধ্যমে সকলে মিলে সহজেই করা সম্ভব। জমি ও পুঁজির আনুপাতিক হারে মুনাফার শরিকানা লাভ সমবায়ের মূল ভিত্তি। সমবায় পদ্ধতিতে প্রতিটি কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হয়। তাই অংশীদারকে তার নির্দিষ্ট কাজ সঠিক ও সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে হয়। এভাবে সমবায় ব্যবস্থা অপরকে সক্রিয় হতে শেখায়।
যুব উন্নয়ন কর্মীর পরামর্শে পরিমল বাবু মনিপুর গ্রামের কৃষকদের নিয়ে সমবায় সমিতি গঠন করে কৃষি ঋণ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করেন।
সমবায়ের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনে আগ্রহী কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরিমল বাবু সমিতি গঠনের কার্যক্রম সূচনা করেন। এরপর কৃষি সমবায় সমিতির মূল শর্ত তথা বিধিগুলো আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি স্থানীয় উপজেলা কৃষি, পশু পালন ও মৎস্য কর্মকর্তাদের পরামর্শ এবং সমবায় অধিদপ্তরের সহযোগিতা নেন। সমবায় অধিদপ্তর প্রণীত কৃষি সমবায় প্রণালি অনুসরণ করে তিনি কৃষি সমবায় সমিতি গঠন করেন এবং যথা নিয়মে রেজিস্ট্রি করেন। কেননা সরকারি ও বেসরকারি দাতা সংস্থাগুলো তখনই ঋণ দিতে আগ্রহী হবে যখন ঋণ গ্রহীতার নিবন্ধনকৃত পরিচয়পত্র থাকবে, ঋণ থেকে প্রাপ্ত অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহারের ও পরিশোধের নিশ্চয়তা থাকবে।
অর্থাৎ, পরিমল বাবু কৃষি ঋণ প্রাপ্তির জন্য উল্লিখিত কার্যক্রম সুচারুভাবে সম্পন্ন করেন।
যুব উন্নয়ন কর্মীর পরামর্শে গ্রামের কৃষকগণ গোমেজ বাবুর নেতৃত্বে সমবায়ের মাধ্যমে 'ফুল নার্সারি' স্থাপন করে।
যশোর জেলার মনিপুর গ্রামের কৃষকদের পক্ষে তাদের সামান্য আবাদি জমিতে এককভাবে অধিক উপার্জনের ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। মাঠ ফসল যেমন- ধান, পাট, গম, আলু ইত্যাদির আবাদও ঐ সামান্য জমিতে করে লাভবান হওয়া যায় না।
যশোর জেলার মাটি ও আবহাওয়া ফুল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সমবায়ের মাধ্যমে গোমেজ বাবুর নেতৃত্বে নার্সারি গড়ে ওঠায় ঐ এলাকার কৃষকগণ ফুল উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিপণন কাজে নিয়োজিত হওয়ার সুযোগ পায়। এতে করে তাদের সারা বছর কাজের সংস্থান হয়। কৃষকগণ যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে উৎপাদন করায় আশানুরুপ ফলন পায়। অর্থাৎ, সমবায়ের মাধ্যমে ঐ সামান্য জমিতে ফুল নার্সারি স্থাপন করে কৃষকগণ অল্প সময়ে অধিক মুনাফা অর্জন করতে সমর্থ হয়।
তাই বলা যায়, যশোর অঞ্চলের কৃষকদের আয় বৃদ্ধিতে গোমেজ বাবুর গৃহীত কার্যক্রম ও নেতৃত্ব যথার্থ ছিল।
কৃষিকাজকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে যে টাকা নেওয়া হয় সেটা হলো কৃষি ঋণ।
কৃষিকাজ সম্পন্ন করতে এবং কৃষি থেকে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে কৃষি সমবায় গড়ে তোলা হয়।
কৃষক হঠাৎ বিপর্যয়ে যেমন- প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হলে কৃষি সমবায় কৃষককে প্রয়োজনীয় মূলধনের যোগান দেয়। এছাড়াও কৃষি সমবায় কৃষককে ঋণ সুবিধা প্রদান করে এবং উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বীজ, সার, ঔষধ, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি উপকরণ সরবরাহ করে থাকে। কৃষি পণ্য গুদামজাতকরণ ও বাজারজাতকরণেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে এই কৃষি সমবায়। ফলে কৃষকেরা ঝুঁকি এড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত ফলন অর্জন করতে পারে। এভাবেই কৃষি সমবায় কৃষককে হঠাৎ বিপর্যয়ে সহনশীলতা যোগায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!