ক্যামব্রিজের মাঠগুলো অনন্ত বৈচিত্র্য আর অপরূপ সৌন্দর্যে চোখ ও মনের তৃষ্ণা জুড়িয়ে দেয়।
'বিলাতের প্রকৃতি' রচনায় ক্যামব্রিজের দিগন্ত প্রসারি মাঠগুলোর দু'পাশের গাছপালা, ফুলের বৈচিত্র্য আর লতাপাতার ঘন নীলিমা অপরূপ। মাঠগুলো খাড়া-উঁচু, সোজা-নিচু বা একটানা সমতল নয়। তাতে কোথাও বাজরার খেত। কোথাও সরিষা ফুলের মতো সারা মাঠে ছড়ানো ফিকে আর গাঢ় হলুদের বিছানা পাতা। তার পাশে গোচারণভূমি। তার নিচে বহু বিচিত্র শস্যখেত।
মূলত ক্যামব্রিজের মাঠগুলো অপরূপ শ্যামলে-সবুজে, বেগুনে-হলুদে, নীলে-লালে আর বিচিত্র আভায়-প্রভায় গায়ে গায়ে লেগে থেকে সৌন্দর্যের প্লাবন বইয়ে দেয়।
Related Question
View Allস্বদেশের প্রতি স্মৃতিকাতরতায় ধোঁয়া আর মেঘে ঢাকা লন্ডন লেখকের বুকে পাথরের মতো চেপে বসেছিল।
'বিলাতের প্রকৃতি' রচনার লেখক মুহম্মদ আবদুল হাই লন্ডনে অবস্থান করছিলেন। লন্ডনে থাকাকালীন এক বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যায় জানালার বাইরে তাকিয়ে লেখক বিষণ্ণ হয়ে যান। চারপাশের বিভিন্ন বাড়ির চিমনি দিয়ে বের হওয়া ধোঁয়া আর মেঘে ঢাকা লন্ডনের আকাশ দেখে লেখকের মনে পড়ে বাংলাদেশের কথা। তিনি স্মৃতি আর কল্পনায় ফিরে যান আট হাজার মাইল দূরে তাঁর রাজশাহীর বাসায়। সেখানে তাঁর পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজনের স্মৃতি মনে পড়ে তাঁর। সেখানকার বৃষ্টির মোহনীয় শব্দ তাঁর কানে বাজে সহস্র মাইল দূরে বসে। তাঁর কাছে বৃষ্টির সেই শব্দ গানের অনুরণনের মতো, যা সবাইকে নিদ্রাতুর করে দেয়। মা, মাতৃভাষা আর মাতৃভূমির প্রতি তাঁর ভালোবাসা আরও গাঢ় হয়ে ওঠে। তিনি আরও গভীরভাবে দেশপ্রেম অনুভব করেন। লন্ডনের বৃষ্টি তাঁকে স্বদেশে নিয়ে যায় কল্পনায়। ভাবালু হতে গিয়ে লেখক স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন। তখন লন্ডনের মেঘাচ্ছন্ন সন্ধ্যা তাঁকে বিষাদগ্রস্ত করে দেয়।
ফলে দেখা যায়, স্বদেশ আর স্বজনের স্মৃতি প্রতিবেশীর চিমনির ধোঁয়া আর মেঘে ঢাকা লন্ডনের আকাশে মিশে লেখকের বুকে পাথরের মতো চেপে বসেছিল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!