ক্ষমতা মানুষকে অন্ধ করে দেয়। মানুষ যখন প্রয়োজনের বেশি ক্ষমতা পায়, তখন সেটা কিনে নেয় মনুষ্যত্বের দাম দিয়ে। ধীরে ধীরে প্রকাশ পায় হিংস্রতার প্রতিমূর্তি। জগতের সবকিছুকে নিজের অধীন মনে করে। চাবুকের আঘাতে গরিব প্রজার পিঠকে করে রক্তাক্ত। দরিদ্রের ঘাম আর রক্তের রং দিয়ে মসনদের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। এটা হলো বর্তমান সময়ের ক্ষমতাধরদের কথা। অথচ ইসলামের শাসকদের কথাও আমাদের অজানা নেই। দীনহীন সেই শাসকদের কুটিরে সন্ধ্যার প্রদীপ জ্বলত না। তথাপি তাঁরা প্রজার হক দ্বারে দ্বারে গিয়ে পৌছে দিতেন। নিজেকে সমগ্র দেশের জনগণের প্রতিনিধি মনে করতেন।

Updated: 10 months ago
উত্তরঃ

জেরুজালেমের কেল্লা বীর মুসলিম সেনাদল অবরোধ করে আছে।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
উত্তরঃ

"এইবার আমি যাই উষ্ট্রের রশি ধরিয়া অগ্রে"- পঙ্ক্তিটি হজরত উমর (রা) তাঁর ভৃত্যকে বলেছেন। কারণ জেরুজালেম গমন পথে তাঁরা দুজনেই পালাক্রমে উটের পিঠে আরোহণ করেছিলেন।

রাষ্ট্রীয় কাজে হজরত উমর ফারুক (রা) তাঁর ভৃত্যকে নিয়ে উটে চড়ে জেরুজালেমে যাচ্ছিলেন। মনিব উটের পিঠে থাকবেন এবং ভৃত্য রশি ধরে সামনে হাঁটবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু হজরত উমর ফারুক (রা) ছিলেন প্রকৃত মানবতাবাদী। তিনি উটের পিঠ থেকে নেমে তাঁর ভৃত্যকে উঠের পিঠে উঠিয়ে রশি ধরে হেঁটে চললেন। তাঁর মতে, সব মানুষই সমান। মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই। এভাবে তিনি ও তাঁর ভৃত্য নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর উটের পিঠে আরোহণ করেছেন। প্রশ্নোক্ত লাইনটি এ ঘটনাকেই নির্দেশ করে।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
উত্তরঃ

'উমর ফারুক' কবিতায় হজরত উমর ফারুক (রা)-এর চরিত্রের সঙ্গে আদর্শগত দিক থেকে উদ্দীপকের বৈসাদৃশ্য রয়েছে।

ক্ষমতা ও লোভ মানুষকে অন্ধ করে দেয়। নিজের জঘন্য ইচ্ছা চরিতার্থ করতে গিয়ে অনেকে অন্যের অধিকার কেড়ে নেয়। গরিব প্রজাকে নির্মম আঘাত করে সে নিজের সিংহাসনের জৌলুস বৃদ্ধি করে, যা অত্যন্ত হীন কাজ।

হজরত উমর ফারুক (রা) ছিলেন একজন আদর্শ শাসক। তিনি ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা। তাঁর রাজ্য ছিল অর্ধপৃথিবীব্যাপী বিস্তৃত। অর্থাৎ তিনি প্রবল ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। তাঁর শাসনব্যবস্থা সাধারণ মানুষের কল্যাণে নিবেদিত ছিল। সত্য প্রতিষ্ঠা আর জনগণের প্রাপ্য সঠিকভাবে বণ্টন করাই তাঁর ছিল একমাত্র উদ্দেশ্য। খেজুরপাতা নির্মিত কুঁড়েঘরে বসেই তিনি পৃথিবী শাসন করতেন, যা সামান্য মরুঝড়েই হেলে পড়ত। শত ঐশ্বর্যের হাতছানি তাঁকে কখনো সামান্যতম আদর্শচ্যুত করেনি। অন্যায়ের কাছে তিনি কখনই মাথা নত করেননি। এভাবে উদ্দীপকের বর্তমান-ক্ষমতাধরদের সঙ্গে 'উমর ফারুক' কবিতার হজরত উমর ফারুক (রা)-এর চরিত্রের বৈসাদৃশ্য রয়েছে।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
উত্তরঃ

"উদ্দীপকের আলোচিত বর্তমান ক্ষমতাধরদের চরিত্র পরিবর্তনে 'উমর ফারুক' কবিতার হজরত উমর ফারুক (রা) একজন আদর্শ হতে পারে।"- উক্তিটি যথার্থ।

বর্তমান সময়ের শাসকরা সাধারণত দায়িত্ব গ্রহণ করে ক্ষমতা লাভ করার লোভে। কারণ ক্ষমতার অপব্যবহার করে তারা নিজেদের জঘন্য ইচ্ছা ও লালসা চরিতার্থ করে থাকে। অথচ ইসলামি শাসকদের জীবনব্যবস্থা ও শাসনপদ্ধতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তাঁরা সৎ ও প্রজাবৎসল শাসক ছিলেন।

'উমর ফারুক' কবিতায় হজরত উমর ফারুক (রা)-কে একজন আদর্শ শাসক হিসেবে পাওয়া যায়। তিনি ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা এবং প্রায় অর্ধপৃথিবীব্যাপী বিস্তৃত ছিল তাঁর রাজ্য। সত্যের প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও জনগণের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়াই ছিল তাঁর একমাত্র আদর্শ। শত ঐশ্বর্য তাঁকে কখনো সেই আদর্শচ্যুত করতে পারেনি এবং সঠিক বিচারকাজে তিনি কখনো আবেগের প্রশ্রয় নেননি। এমনকি নিজের ভৃত্য আর নিজের মধ্যে তিনি কোনো প্রভেদ করেননি। উদ্দীপকের ক্ষমতাধরদের বৈশিষ্ট্য এর সম্পূর্ণ বিপরীত।

উদ্দীপকে বর্তমান সময়ের ক্ষমতাধরদের কথা আলোচিত হয়েছে। লোভ মানুষকে মনুষ্যত্ব কেড়ে নিয়ে অন্ধ করে দেয়। বর্তমান সময়ের ক্ষমতাধররা তথা শাসকরা অত্যন্ত লোভী। তারা ক্ষমতার জন্য যেকোনো কাজ অনায়াসে করতে পারে। তারা আত্মসুখের জন্য জগতের সবকিছুকে নিজের অধীন মনে করে। তাদের এই ঘৃণ্য শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে ও লোভী মানসিকতার বিলোপ সাধনে হজরত উমর ফারুক (রা) একজন আদর্শ চরিত্র হতে পারে। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
144

তিমির রাত্রি-‘এশা’র আযান শুনি দূর মসজিদে ।

প্রিয়-হারা কার কান্নার মত এ-বুকে আসিয়া বিঁধে

             আমির-উল-মুমেনিন,

তোমার স্মৃতি যে আযানের ধ্বনি জানে না মুয়াজ্জিন ।

তকবির শুনি, শয্যা ছাড়িয়া চকিতে উঠিয়া বসি,

বাতায়নে চাই-উঠিয়াছে কি-রে গগনে মরুর শশী ?

ও-আযান, ও কি পাপিয়ার ডাক, ও কি চকোরীর গান?

মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে ও কি ও তোমারি সে আহ্বান ?

           আবার লুটায়ে পড়ি।

“সেদিন গিয়াছে”-শিয়রের কাছে কহিছে কালের ঘড়ি।

উমর! ফারুক! আখেরী নবীর ওগো দক্ষিণ-বাহু!

আহ্বান নয় - রূপ ধরে এস - গ্রাসে অন্ধতা - রাহু!

ইসলাম-রবি, জ্যোতি তার আজ দিনে দিনে বিমলিন!

সত্যের আলো নিভিয়া-জ্বলিছে জোনাকির আলো ক্ষীণ!

শুধু আঙ্গুলি হেলনে শাসন করিতে এ জগতের

দিয়াছিলে ফেলি মুহম্মদের চরণে যে-শমশের

ফিরদৌস ছাড়ি নেমে এস তুমি সেই শমশের

ধরি আর একবার লোহিত-সাগরে লালে-লাল হয়ে মরি!

ইসলাম-সে তো পরশ-মানিক তাকে কে পেয়েছে খুঁজি ?

পরশে তাহার সোনা হল যারা তাদেরেই মোরা বুঝি ।

আজ বুঝি—কেন বলিয়াছিলেন শেষ পয়গম্বর-

মোর পরে যদি নবী হত কেউ, হত সে এক উমর।'

************************************************

অর্ধ পৃথিবী করেছ শাসন ধূলার তখতে বসি

খেজুর পাতার প্রাসাদ তোমার বারে বারে গেছে খসি

সাইমুম-ঝড়ে। পড়েছে কুটির, তুমি পড়নি ক‘নুয়ে,

ঊর্ধ্বের যারা-পড়েছে তাহারা, তুমি ছিলে খাড়া ভুয়ে ।


শত প্রলোভন বিলাস বাসনা ঐশ্বর্যের মদ

করেছে সালাম দূর হতে সব ছুঁইতে পারেনি পদ ।

সবারে ঊর্ধ্বে তুলিয়া ধরিয়া তুমি ছিলে সব নিচে,

বুকে করে সবে বেড়া করি পার, আপনি রহিলে পিছে ।
               হেরি পশ্চাতে চাহি-

তুমি চলিয়াছ রোদ্রদগ্ধ দূর মরুপথ বাহি

জেরুজালেমের কিল্লা যথায় আছে অবরোধ করি

বীর মুসলিম সেনাদল তব বহু দিন মাস ধরি।

দুর্গের দ্বার খুলিবে তাহারা বলেছে শত্রু শেষে-

উমর যদি গো সন্ধিপত্রে স্বাক্ষর করে এসে!

হায় রে, আধেক ধরার মালিক আমির-উল-মুমেনিন

শুনে সে খবর একাকী উষ্ট্রে চলেছে বিরামহীন

সাহারা পারায়ে! ঝুলিতে দু খানা শুকনো ‘খবুজ' রুটি

একটি মশকে একটুকু পানি খোমা দু তিন মুঠি ।

প্রহরীবিহীন সম্রাট চলে একা পথে উটে চড়ি

চলেছে একটি মাত্র ভৃত্য উষ্ট্রের রশি ধরি!

মরুর সূর্য ঊর্ধ্ব আকাশে আগুন বৃষ্টি করে,

সে আগুন-তাতে খই সম ফোটে বালুকা মরুর পরে ।

কিছুদুর যেতে উট হতে নামি কহিলে ভৃত্যে, “ভাই

পেরেশান বড় হয়েছ চলিয়া! এইবার আমি যাই

উষ্ট্রের রশি ধরিয়া অগ্রে, তুমি উঠে বস উটে,

তপ্ত বালুতে চলি যে চরণে রক্ত উঠেছে ফুটে।”


                            ..ভৃত্য দস্ত চুমি

কাঁদিয়া কহিল, ‘উমর! কেমনে এ আদেশ কর তুমি?

উষ্ট্রের পিঠে আরাম করিয়া গোলাম রহিবে বসি

আর হেঁটে যাবে খলিফা উমর ধরি সে উটের রশি ?

                 খলিফা হাসিয়া বলে,

“তুমি জিতে গিয়ে বড় হতে চাও, ভাই রে, এমনি ছলে ।

রোজ-কিয়ামতে আল্লাহ যে দিন কহিবে, ‘উমর! ওরে

করে নি খলিফা, মুসলিম-জাঁহা তোর সুখ তরে তোরে।'

উমর ফারুক
কী দিব জওয়াব কী করিয়া মুখ দেখাব রসুলে ভাই ।

আমি তোমাদের প্রতিনিধি শুধু। মোর অধিকার নাই ।

আরাম সুখের, - মানুষ হইয়া নিতে মানুষের সেবা ।

ইসলাম বলে, সকলে সমান, কে বড় ক্ষুদ্র কেবা ।

ভৃত্য চড়িল উটের পৃষ্ঠে উমর ধরিল রশি,

মানুষেরে স্বর্গে তুলিয়া ধরিয়া ধুলায় নামিল শশী ।

জানি না, সেদিন আকাশে পুষ্প বৃষ্টি হইল কিনা,

কী গান গাহিল মানুষে সেদিন বন্দি' বিশ্ববীণা ।

জানি না, সেদিন ফেরেশতা তব করেছে কি না স্তব-

অনাগত কাল গেয়েছিল শুধু, ‘জয় জয় হে মানব ৷'

************************************************

তুমি নিৰ্ভীক, এক খোদা ছাড়া করনি ক' কারে ভয়,

সত্যব্রত তোমায় তাইতে সবে উদ্ধত কয় ।

মানুষ হইয়া মানুষের পূজা মানুষেরি অপমান,

তাই মহাবীর খালেদেরে তুমি পাঠাইলে ফরমান,

সিপাহ-সালারে, ইঙ্গিতে তব করিলে মামুলি সেনা,

বিশ্ব-বিজয়ী বীরেরে শাসিতে এতটুকু টলিলে না ।

************************************************

মানব-প্রেমিক! আজিকে তোমারে স্মরি,

মনে পড়ে তব মহত্ত্ব-কথা-সেদিন সে বিভাবরী

নগর-ভ্রমণে বাহিরিয়া তুমি দেখিতে পাইলে দূরে

মায়েরে ঘিরিয়া ক্ষুধাতুর দুটি শিশু সকরুণ সুরে

কাঁদিতেছে আর দুঃখিনী মাতা ছেলেরে ভুলাতে হায়,

উনানে শূন্য হাঁড়ি চড়াইয়া কাঁদিয়া অকূলে চায় ৷

শুনিয়া সকল-কাঁদিতে কাঁদিতে ছুটে গেলে মদিনাতে

বায়তুল-মাল হইতে লইয়া ঘৃত আটা নিজ হাতে,

বলিলে, ‘এ সব চাপাইয়া দাও আমার পিঠের' পরে,

আমি লয়ে যাব বহিয়া এ-সব দুখিনী মায়ের ঘরে।'

কত লোক আসি আপনি চাহিল বহিতে তোমার বোঝা,

বলিলে, বন্ধু, আমার এ ভার আমিই বহিব সোজা !

রোজ-কিয়ামতে কে বহিবে বল আমার পাপের ভার?

মম অপরাধে ক্ষুধায় শিশুরা কাঁদিয়াছে, আজি তার

প্রায়শ্চিত্ত করিব আপনি'- চলিলে নিশীথ রাতে

পৃষ্ঠে বহিয়া খাদ্যের বোঝা দুখিনীর আঙিনাতে!

                        এত যে কোমল প্ৰাণ,

করুণার বশে তবু গো ন্যায়ের করনি কো অপমান!

মদ্যপানের অপরাধে প্রিয় পুত্রেরে নিজ করে

মেরেছ দোর্রা, মরেছে পুত্র তোমার চোখের পরে

ক্ষমা চাহিয়াছে পুত্র, বলেছ পাষাণে বক্ষ বাঁধি-

‘অপরাধ করে তোরি মত স্বরে কাঁদিয়াছে অপরাধী।'

                      আবু শাহমার গোরে

কাঁদিতে যাইয়া ফিরিয়া আসি গো তোমারে সালাম করে ।

খাস দরবার ভরিয়া গিয়াছে হাজার দেশের লোকে,

‘কোথায় খলিফা’ কেবলি প্রশ্ন ভাসে উৎসুক চোখে,

একটি মাত্র পিরান কাচিয়া শুকায়নি তাহা বলে,

রোদ্রে ধরিয়া বসিয়া আছে গো খলিফা আঙিনা-তলে ।

হে খলিফাতুল-মুসলেমিন! হে চীরধারী সম্রাট!

অপমান তব করিব না আজ করিয়া নান্দী পাঠ,

মানুষেরে তুমি বলেছ বন্ধু, বলিয়াছ ভাই, তাই

তোমারে এমন চোখের পানিতে স্মরি গো সর্বদাই ।

                                                      (সংক্ষেপিত)

Related Question

View All
উত্তরঃ

'উমর ফারুক' কবিতাটি 'জিঞ্জীর' কাব্য থেকে সংকলিত হয়েছে।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
1.2k
উত্তরঃ

হজরত উমর (রা)-কে 'আমিরুল মুমেনিন' বলার কারণ হলো তিনি ছিলেন সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নিরূপণকারী, বিশ্বাসীদের নেতা।

উমর ফারুক কবিতার হজরত উমর ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা। তাঁর জীবনাদর্শ ও সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ছিল সবার কাছে দৃষ্টান্তস্বরূপ। তিনি ছিলেন সবচেয়ে বিশ্বাসী। ন্যায় প্রতিষ্ঠায় তিনি যেমন ছিলেন কঠোর, তেমনই মানুষের প্রতি করুণায় তিনি ছিলেন কোমলপ্রাণ। তিনি কখনই কোনো বিশ্বাস ভঙ্গ করেননি। মূলত তাঁর আদর্শবান ব্যক্তিত্বের কারণেই তাঁকে 'আমিরুল মুমেনিন' বলা হয়েছে।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
735
উত্তরঃ

একজন আদর্শ ন্যায়বান শাসকের চরিত্রের দিক থেকে চেয়ারম্যান আব্বাস আলী হজরত উমরের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।

একজন শাসক মানে শুধু অন্যের ওপর কর্তৃত্ব করা নয়। একজন আদর্শ শাসক হতে হলে তাকে অনেক বিষয়ে খেয়াল রাখতে হয়। শাসক যদি শাসিতদের দুঃখে সমান দুঃখী না হন তাহলে তিনি কখনো প্রজাবান্ধব শাসক হতে পারবেন না।

'উমর ফারুক' কবিতায় হজরত উমর (রা)-এর জীবনাদর্শ, চরিত্র-মাহাত্ম্য, মানসিকতা এবং সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পাওয়া যায়। উমর ফারুক ছিলেন একজন আদর্শ শাসক। ন্যায় প্রতিষ্ঠায় তিনি নিজ পুত্রকে শাস্তি দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি। তিনি প্রজাদের দুঃখ-কষ্ট হৃদয় দিয়ে অনুভব করতেন। অন্যদিকে উদ্দীপকের চেয়ারম্যান আব্বাস আলী বন্যায় তার এলাকা দুর্দশাগ্রস্ত হলেও তিনি ঢাকায় অবস্থান করেন। উপরন্তু তার ঘরে বন্যার ত্রাণসামগ্রী চুরি করে রাখতে দেখা যায়। এভাবেই একজন ন্যায়বান ও আদর্শ শাসকের চরিত্রের দিক থেকে চেয়ারম্যান আব্বাস আলী হজরত উমরের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
436
উত্তরঃ

আব্বাস আলী চেয়ারম্যানকে উমরের মতো আদর্শ মানুষ হতে হলে একজন প্রকৃত শাসকের যেসব গুণ রয়েছে সেগুলো তাকে ধারণ করতে হবে।

শাসক ও শাসিতের মধ্যে যদি সমঝোতার সম্পর্ক না থাকে তাহলে তিনি ভালো শাসক হতে পারেন না। একজন প্রকৃত শাসক সব সময় শাসিতদের দুঃখ-কষ্ট হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেন। শাসিতদের প্রয়োজনকে নিজের প্রয়োজন ভেবে কাজ করে যান।

'উমর ফারুক' কবিতায় কবি হজরত উমরের জীবনাদর্শ, চরিত্র-মাহাত্ম্য, মানবিকতা এবং সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। খলিফা উমর (রা) ছিলেন একজন মহৎ ব্যক্তিত্ব। তাঁর চরিত্রে একাধারে বীরত্ব, কোমলতা, নিষ্ঠা ও সাম্যবাদী আদর্শের অনন্য সমন্বয় ঘটেছিল। বিশাল মুসলিম রাষ্ট্রের সর্বাধিনায়ক হয়েও তিনি অতি সহজ, সরল, অনাড়ম্বর জীবনযাপন করেছেন। প্রজাদের প্রয়োজনে তিনি ছিলেন নিবেদিত। অন্যদিকে উদ্দীপকের আব্বাস আলী চেয়ারম্যানের চরিত্র ভিন্ন। তিনি গ্রামবাসীর বিশেষ প্রয়োজনের সময়ও শুধু নিজের স্বার্থকে বড় করে দেখেছেন।

চেয়ারম্যান আব্বাস আলীকে উমরের মতো হতে হলে তার মধ্যে মানবিক দিক জাগ্রত করতে হবে। তার চরিত্রে হজরত উমরের মতো বীরত্ব, কোমলতা, নিষ্ঠা, সাম্যবাদিতা ও অন্যান্য আদর্শের সমন্বয় ঘটাতে হবে। সর্বোপরি গ্রামবাসীর দুঃখ-কষ্ট হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করলে তবেই আব্বাস আলী চেয়ারম্যান হজরত উমরের মতো আদর্শ মানুষ হতে পারবেন।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
272
উত্তরঃ

'আমির-উল-মুমেনিন' শব্দের অর্থ হলো- বিশ্বাসীদের নেতা।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
382
উত্তরঃ

"সাইমুম-ঝড়ে পড়েছে কুটির, তুমি পড়নি ক'নুয়ে" বলতে কবি খলিফা উমরের ঘর নুয়ে পড়লেও তিনি যে আদর্শচ্যুত হয়ে পড়েননি তা বুঝিয়েছেন।

অর্ধ-পৃথিবীর শাসনকর্তা হজরত উমর (রা) ছিলেন ন্যায়ের প্রতি কুসুম-কোমল আর অন্যায়ের প্রতি বজ্রসম কঠিন। তাঁর দরবার ছিল সাধারণ কুটিরের মতো। মরুভূমির সাইমুম ঝড়ে তা ভূলুণ্ঠিত হলেও তাঁর ব্যক্তিত্ব সামান্য আদর্শচ্যুত কিংবা দুর্বল হয়নি বা নুয়ে পড়েনি। এখানে উমরের দৃঢ়চেতা মানসিকতাকে কবি রূপকাকারে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
443
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews