জেরুজালেমের কেল্লা বীর মুসলিম সেনাদল অবরোধ করে আছে।
"এইবার আমি যাই উষ্ট্রের রশি ধরিয়া অগ্রে"- পঙ্ক্তিটি হজরত উমর (রা) তাঁর ভৃত্যকে বলেছেন। কারণ জেরুজালেম গমন পথে তাঁরা দুজনেই পালাক্রমে উটের পিঠে আরোহণ করেছিলেন।
রাষ্ট্রীয় কাজে হজরত উমর ফারুক (রা) তাঁর ভৃত্যকে নিয়ে উটে চড়ে জেরুজালেমে যাচ্ছিলেন। মনিব উটের পিঠে থাকবেন এবং ভৃত্য রশি ধরে সামনে হাঁটবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু হজরত উমর ফারুক (রা) ছিলেন প্রকৃত মানবতাবাদী। তিনি উটের পিঠ থেকে নেমে তাঁর ভৃত্যকে উঠের পিঠে উঠিয়ে রশি ধরে হেঁটে চললেন। তাঁর মতে, সব মানুষই সমান। মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই। এভাবে তিনি ও তাঁর ভৃত্য নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর উটের পিঠে আরোহণ করেছেন। প্রশ্নোক্ত লাইনটি এ ঘটনাকেই নির্দেশ করে।
'উমর ফারুক' কবিতায় হজরত উমর ফারুক (রা)-এর চরিত্রের সঙ্গে আদর্শগত দিক থেকে উদ্দীপকের বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
ক্ষমতা ও লোভ মানুষকে অন্ধ করে দেয়। নিজের জঘন্য ইচ্ছা চরিতার্থ করতে গিয়ে অনেকে অন্যের অধিকার কেড়ে নেয়। গরিব প্রজাকে নির্মম আঘাত করে সে নিজের সিংহাসনের জৌলুস বৃদ্ধি করে, যা অত্যন্ত হীন কাজ।
হজরত উমর ফারুক (রা) ছিলেন একজন আদর্শ শাসক। তিনি ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা। তাঁর রাজ্য ছিল অর্ধপৃথিবীব্যাপী বিস্তৃত। অর্থাৎ তিনি প্রবল ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। তাঁর শাসনব্যবস্থা সাধারণ মানুষের কল্যাণে নিবেদিত ছিল। সত্য প্রতিষ্ঠা আর জনগণের প্রাপ্য সঠিকভাবে বণ্টন করাই তাঁর ছিল একমাত্র উদ্দেশ্য। খেজুরপাতা নির্মিত কুঁড়েঘরে বসেই তিনি পৃথিবী শাসন করতেন, যা সামান্য মরুঝড়েই হেলে পড়ত। শত ঐশ্বর্যের হাতছানি তাঁকে কখনো সামান্যতম আদর্শচ্যুত করেনি। অন্যায়ের কাছে তিনি কখনই মাথা নত করেননি। এভাবে উদ্দীপকের বর্তমান-ক্ষমতাধরদের সঙ্গে 'উমর ফারুক' কবিতার হজরত উমর ফারুক (রা)-এর চরিত্রের বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
"উদ্দীপকের আলোচিত বর্তমান ক্ষমতাধরদের চরিত্র পরিবর্তনে 'উমর ফারুক' কবিতার হজরত উমর ফারুক (রা) একজন আদর্শ হতে পারে।"- উক্তিটি যথার্থ।
বর্তমান সময়ের শাসকরা সাধারণত দায়িত্ব গ্রহণ করে ক্ষমতা লাভ করার লোভে। কারণ ক্ষমতার অপব্যবহার করে তারা নিজেদের জঘন্য ইচ্ছা ও লালসা চরিতার্থ করে থাকে। অথচ ইসলামি শাসকদের জীবনব্যবস্থা ও শাসনপদ্ধতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তাঁরা সৎ ও প্রজাবৎসল শাসক ছিলেন।
'উমর ফারুক' কবিতায় হজরত উমর ফারুক (রা)-কে একজন আদর্শ শাসক হিসেবে পাওয়া যায়। তিনি ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা এবং প্রায় অর্ধপৃথিবীব্যাপী বিস্তৃত ছিল তাঁর রাজ্য। সত্যের প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও জনগণের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়াই ছিল তাঁর একমাত্র আদর্শ। শত ঐশ্বর্য তাঁকে কখনো সেই আদর্শচ্যুত করতে পারেনি এবং সঠিক বিচারকাজে তিনি কখনো আবেগের প্রশ্রয় নেননি। এমনকি নিজের ভৃত্য আর নিজের মধ্যে তিনি কোনো প্রভেদ করেননি। উদ্দীপকের ক্ষমতাধরদের বৈশিষ্ট্য এর সম্পূর্ণ বিপরীত।
উদ্দীপকে বর্তমান সময়ের ক্ষমতাধরদের কথা আলোচিত হয়েছে। লোভ মানুষকে মনুষ্যত্ব কেড়ে নিয়ে অন্ধ করে দেয়। বর্তমান সময়ের ক্ষমতাধররা তথা শাসকরা অত্যন্ত লোভী। তারা ক্ষমতার জন্য যেকোনো কাজ অনায়াসে করতে পারে। তারা আত্মসুখের জন্য জগতের সবকিছুকে নিজের অধীন মনে করে। তাদের এই ঘৃণ্য শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে ও লোভী মানসিকতার বিলোপ সাধনে হজরত উমর ফারুক (রা) একজন আদর্শ চরিত্র হতে পারে। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All'উমর ফারুক' কবিতাটি 'জিঞ্জীর' কাব্য থেকে সংকলিত হয়েছে।
হজরত উমর (রা)-কে 'আমিরুল মুমেনিন' বলার কারণ হলো তিনি ছিলেন সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নিরূপণকারী, বিশ্বাসীদের নেতা।
উমর ফারুক কবিতার হজরত উমর ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা। তাঁর জীবনাদর্শ ও সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ছিল সবার কাছে দৃষ্টান্তস্বরূপ। তিনি ছিলেন সবচেয়ে বিশ্বাসী। ন্যায় প্রতিষ্ঠায় তিনি যেমন ছিলেন কঠোর, তেমনই মানুষের প্রতি করুণায় তিনি ছিলেন কোমলপ্রাণ। তিনি কখনই কোনো বিশ্বাস ভঙ্গ করেননি। মূলত তাঁর আদর্শবান ব্যক্তিত্বের কারণেই তাঁকে 'আমিরুল মুমেনিন' বলা হয়েছে।
একজন আদর্শ ন্যায়বান শাসকের চরিত্রের দিক থেকে চেয়ারম্যান আব্বাস আলী হজরত উমরের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
একজন শাসক মানে শুধু অন্যের ওপর কর্তৃত্ব করা নয়। একজন আদর্শ শাসক হতে হলে তাকে অনেক বিষয়ে খেয়াল রাখতে হয়। শাসক যদি শাসিতদের দুঃখে সমান দুঃখী না হন তাহলে তিনি কখনো প্রজাবান্ধব শাসক হতে পারবেন না।
'উমর ফারুক' কবিতায় হজরত উমর (রা)-এর জীবনাদর্শ, চরিত্র-মাহাত্ম্য, মানসিকতা এবং সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পাওয়া যায়। উমর ফারুক ছিলেন একজন আদর্শ শাসক। ন্যায় প্রতিষ্ঠায় তিনি নিজ পুত্রকে শাস্তি দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি। তিনি প্রজাদের দুঃখ-কষ্ট হৃদয় দিয়ে অনুভব করতেন। অন্যদিকে উদ্দীপকের চেয়ারম্যান আব্বাস আলী বন্যায় তার এলাকা দুর্দশাগ্রস্ত হলেও তিনি ঢাকায় অবস্থান করেন। উপরন্তু তার ঘরে বন্যার ত্রাণসামগ্রী চুরি করে রাখতে দেখা যায়। এভাবেই একজন ন্যায়বান ও আদর্শ শাসকের চরিত্রের দিক থেকে চেয়ারম্যান আব্বাস আলী হজরত উমরের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
আব্বাস আলী চেয়ারম্যানকে উমরের মতো আদর্শ মানুষ হতে হলে একজন প্রকৃত শাসকের যেসব গুণ রয়েছে সেগুলো তাকে ধারণ করতে হবে।
শাসক ও শাসিতের মধ্যে যদি সমঝোতার সম্পর্ক না থাকে তাহলে তিনি ভালো শাসক হতে পারেন না। একজন প্রকৃত শাসক সব সময় শাসিতদের দুঃখ-কষ্ট হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেন। শাসিতদের প্রয়োজনকে নিজের প্রয়োজন ভেবে কাজ করে যান।
'উমর ফারুক' কবিতায় কবি হজরত উমরের জীবনাদর্শ, চরিত্র-মাহাত্ম্য, মানবিকতা এবং সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। খলিফা উমর (রা) ছিলেন একজন মহৎ ব্যক্তিত্ব। তাঁর চরিত্রে একাধারে বীরত্ব, কোমলতা, নিষ্ঠা ও সাম্যবাদী আদর্শের অনন্য সমন্বয় ঘটেছিল। বিশাল মুসলিম রাষ্ট্রের সর্বাধিনায়ক হয়েও তিনি অতি সহজ, সরল, অনাড়ম্বর জীবনযাপন করেছেন। প্রজাদের প্রয়োজনে তিনি ছিলেন নিবেদিত। অন্যদিকে উদ্দীপকের আব্বাস আলী চেয়ারম্যানের চরিত্র ভিন্ন। তিনি গ্রামবাসীর বিশেষ প্রয়োজনের সময়ও শুধু নিজের স্বার্থকে বড় করে দেখেছেন।
চেয়ারম্যান আব্বাস আলীকে উমরের মতো হতে হলে তার মধ্যে মানবিক দিক জাগ্রত করতে হবে। তার চরিত্রে হজরত উমরের মতো বীরত্ব, কোমলতা, নিষ্ঠা, সাম্যবাদিতা ও অন্যান্য আদর্শের সমন্বয় ঘটাতে হবে। সর্বোপরি গ্রামবাসীর দুঃখ-কষ্ট হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করলে তবেই আব্বাস আলী চেয়ারম্যান হজরত উমরের মতো আদর্শ মানুষ হতে পারবেন।
'আমির-উল-মুমেনিন' শব্দের অর্থ হলো- বিশ্বাসীদের নেতা।
"সাইমুম-ঝড়ে পড়েছে কুটির, তুমি পড়নি ক'নুয়ে" বলতে কবি খলিফা উমরের ঘর নুয়ে পড়লেও তিনি যে আদর্শচ্যুত হয়ে পড়েননি তা বুঝিয়েছেন।
অর্ধ-পৃথিবীর শাসনকর্তা হজরত উমর (রা) ছিলেন ন্যায়ের প্রতি কুসুম-কোমল আর অন্যায়ের প্রতি বজ্রসম কঠিন। তাঁর দরবার ছিল সাধারণ কুটিরের মতো। মরুভূমির সাইমুম ঝড়ে তা ভূলুণ্ঠিত হলেও তাঁর ব্যক্তিত্ব সামান্য আদর্শচ্যুত কিংবা দুর্বল হয়নি বা নুয়ে পড়েনি। এখানে উমরের দৃঢ়চেতা মানসিকতাকে কবি রূপকাকারে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!