কুরাইশ' শব্দের অর্থ বণিক বা সওদাগর।
জাজিরাতুল আরব বলতে আরব ভূখণ্ডকে বোঝায়।
'জাজিরা' আরবি শব্দ। এর অর্থ উপদ্বীপ। আর আরব একটি ভূখণ্ডের নাম। সুতরাং জাজিরাতুল আরব অর্থ আরব উপদ্বীপ। এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত আরব দেশ বিশ্বের সর্ববৃহৎ উপদ্বীপ। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে এটি একটি বৈচিত্র্যময় দেশ। এর তিন দিকে বিশাল জলরাশি এবং একদিকে বিস্তীর্ণ মরুপ্রান্তর দ্বারা বেষ্টিত। এরূপ ত্রিভুজাকৃতির ভৌগোলিক অবস্থানের জন্যই আরব দেশকে জাজিরাতুল আরব বলা হয়।
উদ্দীপকের মহাপুরুষের অন্যত্র গমনের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত মহাপুরুষ হযরত মুহাম্মদ (স)-এর মাতৃভূমি মক্কা ত্যাগ করে মদিনায় গমন করার সাদৃশ্য রয়েছে।
শান্তি প্রতিষ্ঠার মহান বার্তা নিয়ে মানবতার মুক্তির দূত হযরত মুহাম্মদ (স) ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে পবিত্র মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। ৬১০ খ্রিষ্টাব্দে নবুয়ত লাভের পর তিনি ধীরে ধীরে মক্কায় তাওহিদের (আল্লাহর একত্ববাদ) প্রচার করতে থাকেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মক্কার কুরাইশরা তাঁর ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালাতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা তাঁর জীবননাশের চেষ্টা করলে আল্লাহর নির্দেশে তিনি ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় গমন করেন, যা ইসলামের ইতিহাসে হিজরত নামে পরিচিত। উদ্দীপকে বর্ণিত মহাপুরুষের ক্ষেত্রেও এমনটি পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' অঞ্চলের একজন মহাপুরুষ নতুন ধর্মমত প্রচার করতে গিয়ে পুরাতন ধর্মমত অনুসারীদের অত্যাচর-নির্যাতনের শিকার হন। তাই বাধ্য হয়ে তিনি মাতৃভূমি ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যান, সেখানকার লোকেরা তাকে সাদরে গ্রহণ করে। একইভাবে হযরত মুহাম্মদ (স) মক্কার কুরাইশদের গভীর ষড়যন্ত্রে টিকে থাকতে না পেরে মক্কা ত্যাগ করে মদিনায় স্থানান্তরিত হন তথা হিজরত করেন। সেখানে তিনি সবার কাছে গ্রহণীয় ব্যক্তিতে পরিণত হন। যেমনটি 'ক' অঞ্চলের ক্ষেত্রেও লক্ষ করা যায়।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের মহাপুরুষের সাথে রাসুল (স)-এর মদিনায় হিজরত এবং সেখানে সুশৃঙ্খল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘটনাবলি সাদৃশ্যপূর্ণ।
হ্যাঁ, আমি মনে করি উত্ত মহাপুরুষ অর্থাৎ হযরত মুহাম্মদ (স) ঐতিহাসিক 'মদিনা সনদ' প্রণয়নের মাধ্যমে মদিনায় বসবাসকারী শতধা বিভক্ত জাতিকে একত্র করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
মহানবি (স) ছিলেন সর্বযুগের সকল মানুষের জন্য শ্রেষ্ঠ আদর্শ। মদিনায় হিজরত করে তিনি তাঁর উত্তম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তথা- সাম্য, উদারতা, ন্যায়নিষ্ঠা, সততা, ভ্রাতৃত্ব প্রভৃতি গুণাবলি দ্বারা মদিনাবাসীকে আকৃষ্ট করেন। তিনি তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমে মদিনায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করেন। সকলের ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করে সবাইকে ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ করেন। উদ্দীপকেও যার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। উদ্দীপকের বর্ণনার মাধ্যমে রাসুল (স)-এর হিজরত এবং মদিনা সনদ প্রণয়নের মাধ্যমে মদিনায় আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
মহানবি (স) মক্কা থেকে মদিনা হিজরতের পর উপলব্ধি করেন যে মদিনা ও আশেপাশে বসবাসকারী ইহুদি, খ্রিষ্টান ও পৌত্তলিকদের মধ্যে
সম্প্রীতি স্থাপন করা ছাড়া একটি সুসংহত রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব নয়। মদিনায় অবস্থিত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য মহানবি (স) ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মদিনা সনদ প্রণয়ন করেন।
মদিনায় বসবাসরত ইহুদি, খ্রিষ্টান, পৌত্তলিক, আনসার, মুহাজিরসহ সর্বসাধারণের অধিকার রক্ষায় মদিনা সনদের গুরুত্ব অপরিসীম। মদিনা সনদ মদিনার সকল মানুষের, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষা করে। কেননা মদিনা সনদ মদিনাবাসীর মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে, শতধাবিভক্ত মদিনাবাসী মুসলমান ও অমুসলমান সম্প্রদায়কে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে, হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে বিপদে-আপদে পাশে থাকতে অনুপ্রাণিত করে। মদিনার মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা বিধানে ও ইসলামি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় মদিনা সনদের গুরুত্ব অপরিসীম।
উপর্যুক্ত আলোচনায় এটা প্রমাণিত হয় যে, রাসুল (স) তাঁর ঐক্য ও উদারনীতি বাস্তবায়ন করে শতধাবিভক্ত মদিনাবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।
Related Question
View Allমহানবি (স) ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে ইন্তেকাল করেন।
সততা ও বিশ্বস্ততার ধারক হওয়ায় মহানবি (স)-কে আল-আমিন বলা হয়।
আল আমিন' শব্দের অর্থ বিশ্বাসী। মহানবি (স) ছোটবেলা থেকেই এ গুণটির অধিকারী ছিলেন। তিনি কখনো মিথ্যা কথা বলতেন না। তাই সবাই তাঁকে প্রচণ্ড বিশ্বাস করত এবং তাঁর ওপর আস্থা রাখত। এ মহান গুণের জন্য তাঁকে সবাই 'আল-আমিন' বলে ডাকত।
মহানবি (স)-এর বিদায় হজের ভাষণে দেওয়া দাস-দাসীদের প্রতি সদয় আচরণের উপদেশটি মেনে চললে আশরাফ সাহেব অধীনদের সাথে বিরূপ আচরণ করতে পারতেন না।
১০ম হিজরির ৯ জিলহজ (৬৩২ খ্রিষ্টাব্দ) মহানবি (স) বিশ্বমানবতার জীবন পরিচালনার সার্বিক নির্দেশনাস্বরূপ মক্কার আরাফাতের ময়দানে এক ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন, যা বিদায় হজের ভাষণ নামে খ্যাত। এ ভাষণে তিনি মানবজাতির সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার সার্বিক উপদেশ প্রদান করেন। অধীন বা দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহারও ছিল এ ভাষণের একটি উপদেশ। কিন্তু আশরাফ সাহেব এ নির্দেশ লঙ্ঘন করেছেন।
আশরাফ সাহেব তার অধীন ড্রাইভার, পরিচারিকা, বাবুর্চির সাথে সমতাভিত্তিক আচরণ করেন না। তিনি তাদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা করেন। তাদের চিকিৎসা, পোশাক, বাসস্থানের ব্যাপারেও তিনি উদাসীন। অথচ বিদায় হজের ভাষণে রাসুল (স) বলেছেন, 'দাস-দাসীদের সাথে সদয় ব্যবহার করো। তাদের ওপর কোনোরূপ অত্যাচার করো না। তোমরা যা খাবে, তাদেরও তাই খাওয়াবে, তোমরা যা পরবে, তাদেরও তাই পরাবে- ভুলে যেও না তারাও তোমাদের মতো মানুষ।'
রাসুল (স)-এর এ নির্দেশ মেনে চললে আশরাফ সাহেব তার অধীন কর্মচারীদের প্রতি অন্যায় আচরণ করতে পারতেন না।
উদ্দীপকে নারীর প্রতি যে অবহেলা প্রকাশ পেয়েছে তা মহানবি (স)-এর বিদায় হজের ভাষণের নারীর প্রতি সদ্ব্যবহার সংক্রান্ত নির্দেশনার পরিপন্থি
মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর বিদায় হজের ভাষণ ছিল মানবজাতির জীবন পরিচালনার সার্বিক দিকনির্দেশনা। এ ভাষণে মানবজাতির মুক্তির নির্দেশনা দিতে গিয়ে রাসুল (স) বলেন 'তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সদয় ব্যবহার করবে, তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করবে না। তাদের ওপর তোমাদের যেমন অধিকার রয়েছে তেমনি তোমাদের ওপরও তাদের অধিকার রয়েছে।' কিন্তু জনাব আশরাফ এ নির্দেশ অমান্য করেছেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আশরাফ সাহেব তার স্ত্রীর সাথে দুর্ব্যবহার করেন। পারিবারিক কোনো সিদ্ধান্তে তিনি স্ত্রীর মতামত গ্রহণ করেন না। তার এ কর্মকাণ্ড ইসলাম তথা রাসুল (স)-এর নির্দেশের সম্পূর্ণ পরিপন্থি। কারণ ইসলাম নারীর সবধরনের অধিকারের স্বীকৃতি দিয়েছে। মহান আল্লাহ স্ত্রীদের সাথে উত্তম ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাসুল (স)ও বিদায় হজের ভাষণে স্ত্রীদের প্রতি সদয় আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন।
পরিশেষে বলা যায়, ইসলাম নারীকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করে তাদের সকল প্রকার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই প্রত্যেকের কর্তব্য হলো ইসলামের এ নির্দেশ মেনে চলে নারীর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা করা।
হযরত মুহাম্মদ (স)-এর মাতার নাম আমিনা বেগম।
হিলফুল ফুজুল বলতে কিশোর বয়সে মহানবি (স) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি শান্তিসংঘকে বোঝায়।
মহানবি (স) ছিলেন শান্তির দূত। তাই বালক বয়সে যখন তিনি পাঁচ বছর স্থায়ী 'হারবুল ফুজ্জার' যুদ্ধের (৫৮৪-৫৮৮ খ্রি.) ভয়াবহতা দেখলেন তখন তাঁর অন্তর মানবতার জন্য কেঁদে উঠল। এ প্রেক্ষিতেই তিনি সমমনা কয়েকজন উৎসাহী যুবক ও পিতৃব্য যুবাইরকে নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন 'হিলফুল ফুজুল' নামের শান্তিসংঘটি। সংগঠনটি গোত্রীয় যুদ্ধের অবসানসহ সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করত। এটি প্রায় ৫০ বছর স্থায়ী ছিল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!