বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন মীর নিসার আলী তিতুমীর।
১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ সংগঠিত হবার পেছনে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সামরিক বৈষম্য দায়ী ছিল।
পলাশির যুগের পর থেকে ইংরেজরা শাসনাকর্মে হস্তক্ষেপ করার মাধ্যমে এদেশের জনগণকে সামরিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয়, সামরিক নানা দিক দিয়ে শোষণ করতে থাকে। যার ফলশ্রুতিতে দেশের জনগণ বিদ্রোহী হয়ে ওঠে ও ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। তবে বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ ছিল সামরিক বাহিনীতে 'এনফিল্ড রাইফেলের' ব্যবহার
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাংলায় ক্ষমতা গ্রহণ উদ্দীপকের সাথে পরিপূর্ণভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
১৭৬৫ সালে দেওয়ানি সনদের মাধ্যমে লর্ড ক্লাইভ বাংলার সম্পদ লুণ্ঠনের একচেটিয়া অধিকার প্রাপ্ত হন। আবার, নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করার জন্য ক্লাইভ এ দেশে একটি অভিনব শাসনব্যবস্থা চালু করেন, যা দ্বৈত শাসনব্যবস্থা নামে পরিচিত। এতে দেওয়ানি ও দেশ রক্ষা ব্যবস্থা থাকে কোম্পানির হাতে এবং বিচার ও শাসনভার থাকে নবাবের হাতে। উদ্দীপকেও ক্ষমতা ও দায়িত্ব ভাগাভাগির এ দৃষ্টান্ত পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকেও লক্ষ্যণীয় যে, ক অঞ্চলের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণকারী যুদ্ধে বিদেশি শক্তি উক্ত অঞ্চলের স্থানীয় অমর্ত্যদের সহায়তায় ও প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের অনুপ্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে শাসকে পরাজিত করে এবং প্রত্যক্ষভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ না করে পরোক্ষভাবে শাসন করতে থাকে যা ইতিহাসের দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলার শাসনের অধিকার দুটি পৃথক সংস্থার হাত চলে যায়। কোম্পানি দেওয়ানি পেলেও রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব দেয় নায়েবে নাজিম রেজা খানের হাতে এবং নবাবের নিয়মিত ক্ষমতা থাকলেও তা প্রয়োগে নবাবের কোন ক্ষমতা ছিল না। মূল ক্ষমতা ছিল কোম্পানির হাতেই।
যার ফলশ্রুতিতে বাংলায় পরবর্তীতে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। উদ্দীপকেও আমরা এ ঘটনার প্রতিফলন দেখতে পাই।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্ষমতা গ্রহণ অর্থাৎ দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা-ভারতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।
১৭৬৫ সালে দেওয়ানি সনদের মাধ্যমে লর্ড ক্লাইভ বাংলার সম্পদ লুণ্ঠনের একচেটিয়া অধিকার প্রাপ্ত হন। আবার, নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করার জন্য ক্লাইভ এ দেশে একটি অভিনব শাসনব্যবস্থা চালু করেন, যা দ্বৈত শাসনব্যবস্থা নামে পরিচিত। এতে দেওয়ানি ও দেশ রক্ষা ব্যবস্থা থাকে কোম্পানির হাতে এবং বিচার ও শাসনভার থাকে নবাবের হাতে। উদ্দীপকেও ক্ষমতা ও দায়িত্ব ভাগাভাগির এ দৃষ্টান্ত পরিলক্ষিত হয়।
কোম্পানির দুর্নীতিপরায়ণ কর্মচারীগনের দায়িত্বহীনতার কারণে প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছিল; দ্বৈতশাসন অনুসারে বাংলা বিহার ও উড়িষ্যার অর্থনৈতিক দায়দায়িত্ব কোম্পানির হাতে ন্যস্ত হওয়ায় কোম্পানির কর্মচারি ও বণিকরা রাতারাতি প্রশাসক বনে যায়। এসব তথাকথিত প্রশাসকদের ভারতীয় রাজস্ব রীতিনীতি সম্পর্কে কোনো ধারণা না থাকায় ইংল্যান্ডের রীতিনীতি ভারতে প্রয়োগ করতে থাকেন। এতে প্রশাসনিক জটিলতা মারাত্মক আকার ধারণ করে। পি ই রবার্টস বলেন, বাংলার নবাব এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মদ্যকার প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিল খুবই জটিল এবং দুর্বোধ্য; দ্বৈতশাসনের ফলে রাজনৈতিক ও পরোক্ষভাবে প্রশাসনিক ক্ষমতালাভের সাথে সাথে কোম্পানির কর্মচারীদের অবৈধ ব্যবসায়-বাণিজ্য ব্যাপকভাবে প্রসার লাভ করে। দ্বৈতশাসন বাংলায় কোম্পানির চরম কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। বৈদেশিক নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলার জন্য নবাবকে কোম্পানির সাহায্যের উপর নির্ভরশীল করে রাখা হয়। দেওয়ানি লাভের পর কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার রাজস্ব সরাসরি আদায় করার ক্ষমতা অর্জন করে। তাছাড়া নায়েব সুবাদার নিয়োগ করার ক্ষমতা কোম্পানি সংরক্ষণ করার সুবাদে নিয়ামতের সাধারণ প্রশাসনের উপর কোম্পানির চরম কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়; এবং দ্বৈতশাসনে নবাবের পক্ষে রেজা খান রাজস্ব আদায়ের ব্যাপারে তৎপরতা দেখালেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চরম অবহেলা প্রদর্শন করেন। দেশে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই বৃদ্ধি পেয়ে জনজীবনে চরম অরাজকতা ও নিরাপত্তাহীনতা নেমে আসে। সুতরাং বলা যায় যে, দ্বৈত শাসনের রাজনৈতিক প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী।
Related Question
View Allফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ কলকাতায় অবস্থিত।
১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের পর লর্ড ক্লাইভ বাংলা প্রদেশকে শাসন করার যে নীতি গ্রহণ করে, তা-ই 'দ্বৈত শাসন' নামে পরিচিত।
দ্বৈত শাসন হলো দুইজনের শাসন। এ ব্যবস্থায় বাংলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, ফৌজদারি বিচার, শান্তিরক্ষা, দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনার দায়িত্ব ছিল নবাবের ওপর। অন্যদিকে বাংলার রাজস্ব আদায়, দেওয়ানি সংক্রান্ত বিচার, জমি-জমার বিবাদ সম্পর্কিত বিচার কোম্পানির ওপর ন্যস্ত হয়েছিল। অর্থাৎ এক্ষেত্রে কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা, আর নবাব পান ক্ষমতাহীন দায়িত্ব। লর্ড ক্লাইভের বাংলা শাসনের এ অভিনব নীতিই 'দ্বৈত শাসন' নামে পরিচিত।
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে আমার পাঠ্যপুস্তকে উল্লিখিত ব্রিটিশ শাসনামলের ঐতিহাসিক ঘটনা বঙ্গভঙ্গের মিল রয়েছে।
ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ঔপনিবেশিক শাসনামলে ব্রিটিশ শাসকদের 'ভাগ কর শাসন কর' নীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো বক্তাভঙ্গ। ভারতে নিযুক্ত তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড কার্জন প্রশাসনিক সুবিধার কথা চিন্তা করে ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর তদানীন্তন বা প্রেসিডেন্সিকে দুটি ভাগে ভাগ করেন। উদ্দীপকে বর্ণিত সুদানের জনগণকে দুটি শিবিরে বিভক্ত করার মধ্যে তার এ কর্মকান্ডেরই সুস্পষ্ট প্রতিফলন লক্ষ করা যায়।
দীর্ঘদিন ঔপনিবেশিক শাসনে থাকা সুদানকে শাসন করার জন্য এক সময় ঔপনিবেশিক শাসকেরা এ অঞ্চলের জনগণকে দুটি শিবিরে বিভক্ত করে। একইভাবে লর্ড কার্জন ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় হয়ে এসে বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করেন। কারণ বাংলা প্রদেশ ছিল ব্রিটিশ ভারতের প্রদেশসমূহের মধ্যে সর্ববৃহৎ। এর আয়তন ছিল ১ লক্ষ ৮৯ হাজার বর্গমাইল এবং লোকসংখ্যা প্রায় সাড়ে ৭ কোটি। ফলে প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিত। এছাড়া পূর্ব ও পশ্চিম বাংলায় আর্থ-সামাজিক সুবিধাটি নিশ্চিত করা এবং ব্রিটিশদের Divide and Rule Policy-এর বাস্তবায়ন করার জন্য এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনাকে নস্যাৎ করার জন্য লর্ড কার্জন বাংলা প্রদেশকে বিভক্ত করে দুটি প্রদেশে রূপান্তরিত করেন, যা বজাভা হিসেবেই সমধিক পরিচিত। এ পরিকল্পনা অনুসারে বাংলাকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগ (দার্জিলিং বাদে জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদাহ জেলাসহ) এবং আসাম নিয়ে 'পূর্ব-বাংলা ও আসাম' নামে একটি নতুন প্রদেশ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ঢাকাকে নতুন প্রদেশের রাজধানী করা হয় এবং এর শাসনভার অর্পণ করা হয় স্যার ব্যামফিল্ড ফুলারের ওপর। কলকাতাকে রাজধানী করে অবিভক্ত বাংলার অন্যান্য অংশ নিয়ে 'বজল প্রদেশ' প্রতিষ্ঠা করা হয়। তাই দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকে বর্ণিত সুদানের জনগণকে দুটি শিবিরে ভাগ করার সাথে ব্রিটিশ ভারতের বঙ্গভঙ্গের ঘটনা সাদৃশ্যপূর্ণ।
বঙ্গভঙ্গের ফলে ভারতীয় হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল।
বঙ্গভঙ্গের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। পূর্ব বাংলার জনগণের নিকট বঙ্গভঙ্গ ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বঙ্গভঙ্গের ফলে মুসলমানরা সামাজিক মর্যাদা ফিরে পায় এবং তাদের শিক্ষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি, ধর্ম তথা সার্বিক দিকে প্রগতি নিশ্চিত করার শুভ ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কিন্তু হিন্দু সম্প্রদায় বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করে, যার ফলশ্রুতিতে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়।
ব্রিটিশ ভারতে বাঙ্গ প্রদেশকে পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবরা এই দুই অঞ্চলে বিভন্ত করা হলে উভয় অঞ্চলের জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। মুসলমান সম্প্রদায় ব্যাপকভাবে সমর্থন জানালেও কলকাতাকেন্দ্রিক উচ্চ ও মধ্যবিত্ত হিন্দু সমাজ বকাভকোর বিরুদ্ধে প্রচণ্ড ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া জানাতে থাকে। কারণ বক্তাভলোর ফলে তাদের অর্থনৈতিক ও পেশাগত স্বার্থ ক্ষুন্ন হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাছাড়া কলকাতার বৃদ্ধিজীবী মহল থেকে প্রচার করা হয় যে, বঙ্গভঙ্গের অর্থ হলো 'মাতৃভূমিকে বিভক্ত করা'। তাই বজ্ঞাভজোর প্রতিবাদস্বরূপ তারা ব্রিটিশ পণ্য বর্জনে স্বদেশি আন্দোলন ও সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালাতে থাকে। বঙ্গভজ্ঞজাকে কেন্দ্র করে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটতে থাকে। শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস ও হিন্দুদের প্রচণ্ড বিরোধিতায় ব্রিটিশ সরকার নতি স্বীকার করে। দিল্লির রাজদরবারে ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর তারা বজাভঙ্গ রদ ঘোষণা করে দুই বাংলাকে আবার একত্র করে।
সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বঙ্গভজোর ফলে মুসলমানরা কিছুটা লাভবান হলেও হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কে ফাটল ধরে। উভয়ের মধ্যে সন্দেহ, রেষারেষি মারাত্মক পর্যায়ে রূপ নেয়। এ বৈরী সম্পর্কের রেশ ধরেই এক সময় তারা আলাদা হয়ে যায়।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৬০০ সালে গঠিত হয়।
১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের পর লর্ড ক্লাইভ বাংলা প্রদেশকে শাসন করার যে নীতি গ্রহণ করে, তা-ই 'দ্বৈত শাসন' নামে পরিচিত। দ্বৈত শাসন হলো দুইজনের শাসন। এ ব্যবস্থায় বাংলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, ফৌজদারি বিচার, শান্তিরক্ষা, দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনার দায়িত্ব ছিল নবাবের ওপর। অন্যদিকে বাংলার রাজস্ব আদায়, দেওয়ানি সংক্রান্ত বিচার, জমি-জমার বিবাদ সম্পর্কিত বিচার কোম্পানির ওপর ন্যস্ত হয়েছিল। অর্থাৎ এক্ষেত্রে কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা, আর নবাব পান ক্ষমতাহীন দায়িত্ব। লর্ড ক্লাইভের বাংলা শাসনের এ অভিনব নীতিই 'দ্বৈত শাসন' নামে পরিচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!