বুদ্ধিমত্তা অর্জনের সবচেয়ে বড়ো উপায় হলো শিক্ষা লাভ করে জ্ঞান অর্জন করা।
সুনাগরিকের পক্ষেই দেশের আর্থসামাজিক সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানে ভূমিকা পালন করা সম্ভব বলে আর্থসামাজিক উন্নয়নে সুনাগরিক গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়নশীল বা স্বল্পোন্নত দেশে বিভিন্ন ধরনের আর্থসামাজিক সমস্যা রয়েছে। একজন সুনাগরিক সহজেই আর্থসামাজিক সমস্যাগুলো বুঝতে পারে এবং তাদের বুদ্ধিমত্তা, দক্ষতা, বিবেক-বিচারবোধ ইত্যাদির সাহায্যে এসব সমস্যা সমাধানে প্রত্যাশিত ভূমিকা ও দায়িত্ব পালন করতে পারে।
UNO সাহেবের মধ্যে সুনাগরিকের আত্মসংযম গুণের অভাব রয়েছে।
সুনাগরিক হওয়ার জন্য নাগরিকের মধ্যে কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকা জরুরি। একজন নাগরিকের মধ্যে তিনটি মৌলিক গুণ অর্থাৎ বুদ্ধি, বিবেক-বিচার ও আত্মসংযম থাকলে তাকে সুনাগরিক বলা যাবে। এর মধ্যে আত্মসংযম গুণটি নাগরিককে যেকোনো অসৎ কাজ (যেমন-দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, স্বার্থপরতা, পক্ষপাতিত্ব ইত্যাদি) থেকে বিরত রাখে। উদ্দীপকের UNO সাহেব সরকারি কোনো, কাজই ঘুস ছাড়া করেন না। এক্ষেত্রে তিনি নিজ স্বার্থ উদ্ধারের জন্য দুর্নীতি করছেন। অর্থাৎ তার মধ্যে সুনাগরিকের অন্যতম গুণ আত্মসংযমের অভাব আছে।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, অধ্যাপক কামাল এর চরিত্রে সুনাগরিকের প্রতিবন্ধকতাসমূহ বিদ্যমান নয়।
সুনাগরিকতা অর্জনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। যেমন-বিলিপ্ততা, ব্যক্তি স্বার্থপরায়ণতা, দলীয় মনোভাব, অজ্ঞতা ও নিরক্ষরতা, ধর্মান্ধতা, দাম্ভিকতা, সাম্প্রদায়িকতা ইত্যাদি। একজন নির্লিপ্ত নাগরিক তার দায়িত্ব ও কর্তব্যের প্রতি উদাসীন থাকে। অন্যদিকে ব্যক্তি স্বার্থপর মনোভাবের হলে সে নিজের স্বার্থকে দেশের স্বার্থের চেয়ে বড় করে দেখে। যে কারণে তার পক্ষে নিজের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হয় না।
আমাদের দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নাগরিক নিরক্ষর, যা সুনাগরিকতার পথে একটি বড় বাধা। আবার ধর্মান্ধতা ব্যক্তিকে অন্য ধর্মের প্রতি বিদ্বেষী করে তোলে। দাম্ভিকতার ফলে ব্যক্তি নিজেকে অন্যের চেয়ে বড়ো করে দেখে, অন্যের মতামতের গুরুত্ব দেয় না। উদ্দীপকের অধ্যাপক কামাল দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেন। তিনি সকল ধর্ম-বর্ণের শিক্ষার্থীদের সমান চোখে দেখেন এবং অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তার আচরণে সুনাগরিকতার প্রতিবন্ধকতাগুলো প্রকাশ পায়নি।
সার্বিক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, অধ্যাপক কামালের চরিত্রে সুনাগরিকের প্রতিবন্ধকতাসমূহ বিদ্যমান নয়।
Related Question
View Allজনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে অষ্টম।
সাম্প্রদায়িকতা সুনাগরিকত্ব অর্জনের পথে একটি বড় বাধা হিসেবে কাজ করে।
সাম্প্রদায়িকতার কারণে দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে অনেক সময় বিভেদ ও অশান্তি বিরাজ করে। এতে পারস্পরিক সম্প্রীতি নষ্ট হয় এবং সমাজে সংকীর্ণ ও বিদ্বেষপূর্ণ মানসিকতার উদ্ভব হয়। এর চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে বিভিন্ন ধর্ম এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে দাঙ্গা ও হানাহানি সংঘটিত হয়। এ জন্যই সুনাগরিক হওয়ার পথে অন্যতম অন্তরায় হিসেবে সাম্প্রদায়িকতাকে চিহ্নিত করা হয়।
উদ্দীপকের রিকশাওয়ালার মাঝে সুনাগরিকের 'আত্মসংযম' গুণটি প্রকাশ পেয়েছে।
আত্মসংযম হচ্ছে নাগরিকের এমন গুণ, যা তাকে বিভিন্ন অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখে। এ গুণ ব্যক্তিকে দেশ এবং সমাজের স্বার্থে কাজ করতে ও নিয়ম মেনে চলতে অনুপ্রাণিত করে। আত্মসংযমী নাগরিক রাষ্ট্রের নিয়ম-কানুন মেনে চলে, অন্যের মতামতকে শ্রদ্ধা করে, দেশের স্বার্থকে নিজের স্বার্থের চেয়ে বড়ো করে দেখে এবং অন্যায় কাজ ও দলীয় স্বার্থপরতা থেকে বিরত থাকে, মোট কথা একজন সুনাগরিক তার আত্মসংযমের কারণেই সব ধরনের খারাপ কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে সক্ষম হয়।
উদ্দীপকের দুই বান্ধবীর কথোপকথন থেকে জানা যায়, একজন রিকশাওয়ালা তার রিকশায় ওঠা জনৈক যাত্রীর এক লক্ষ টাকার একটি ব্যাগ পেয়েও নেননি, বরং ঠিকানা খুঁজে টাকাটা যাত্রীকে ফেরত দিয়েছেন। এখানে রিকশাওয়ালার মধ্যে আত্মসংযম কাজ করায় তিনি টাকা আত্মসাৎ করেননি। এ গুণের কারণেই তিনি অনৈতিক কাজ থেকে দূরে থেকেছেন এবং নিজেকে সুনাগরিক হিসেবে প্রমাণ করেছেন।
আমার মতে সুনাগরিক হতে হলে রিকশাওয়ালার উক্ত গুণ তথা 'আত্মসংযম' যথেষ্ট নয়।
সুনাগরিকের তিনটি মৌলিক গুণ থাকা জরুরি। যথা- বুদ্ধি, আত্মসংযম এবং বিবেক। একজন ব্যক্তিকে সুনাগরিক হতে হলে এই তিনটি গুণেরই অধিকারী হতে হবে। কেননা একজন আত্মসংযমী ব্যক্তির পাশাপাশি বুদ্ধিমান ও বিবেকবোধসম্পন্ন নাগরিকও যেকোনো রাষ্ট্রের মূল্যবান সম্পদ।
একজন আত্মসংযমী নাগরিক যেমন অসৎ কাজ থেকে বিরত থেকে দেশ এবং জাতির উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করেন, ঠিক তেমনি বুদ্ধিমান ব্যক্তি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা ধরনের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন। অন্যদিকে বিবেকবান নাগরিক রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকার ভোগের পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রতি যথাযথভাবে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন এবং ন্যায়ের পক্ষে থাকেন। উদ্দীপকের রিকশাওয়ালা একজন আত্মসংযমী নাগরিক। এ কারণেই তিনি অন্যের টাকা আত্মসাৎ করেননি। তবে তার মধ্যে নাগরিকের মৌলিক গুণাবলির কেবল একটি গুণ লক্ষ করা যায়।
সামগ্রিক আলোচনার পরিয়মাপ্তিতে বলা যায়, সুনাগরিক হতে হলে আত্মসংযমী হওয়ার পাশাপাশি বুদ্ধিমান ও বিবেকবান হওয়া জরুরি।
বুদ্ধিমান নাগরিক রাষ্ট্রের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।
সুনাগরিক হওয়ার ক্ষেত্রে নির্লিপ্ততা অন্যতম বাধা হিসেবে কাজ করে।
কাজের প্রতি নাগরিকদের উদাসীনতাকে নির্লিপ্ততা বলে। বিভিন্ন কারণে নাগরিকদের মধ্যে নির্লিপ্ততা তৈরি হয়। যেমন-নিরক্ষরতা, উপযুক্ত শিক্ষার অভাব, অলসতা, দারিদ্র্য ও কাজে অনীহা। এর কারণে নাগরিক রাষ্ট্রের সামাজিক ও রাজনৈতিক কাজে অংশগ্রহণ করতে চায় না। এমনকি নাগরিক হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব-কর্তব্যও পালন করে না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!