Natus' ল্যাটিন শব্দ। যার শাব্দিক অর্থ হচ্ছে Birth বা জন্ম।
জাতি গঠনের একটি অন্যতম উপাদান হচ্ছে রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার ঐক্য। এর মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে সুসংগঠিত জনসমষ্টির মধ্যে একাত্মা তৈরি হতে পারে। তাছাড়া একই ধরনের রাজনৈতিক ঐক্য অধিবাসীদের মধ্যে একাত্মবোধের সৃষ্টি করে। রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার ঐক্য থেকে জনগণের মধ্যে নিজ জাতি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি হয় এবং এ সচেতনতার মাধ্যমেই জাতি গঠিত হয়। এক্ষেত্রে এ জাতি একই ধরনের রাজনৈতিক ধারণা পোষণ করে বিধায় তাদের মধ্যে ব্যাপকভাবে রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকে 'ক'-এর ঘটনায় জাতীয়তাবাদী ধারণার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। কেননা 'ক' একজন তরুণ, মেধাবী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তার মধ্যে জাতীয়তাবোধের ধারণাটি খুবই স্পষ্ট। আর এ জাতীয়তাবাদের মাধ্যমেই তার মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করে। এজন্য জাতীয়তাবাদী চেতনার দ্বারা উদ্বুদ্ধ দেশপ্রেম 'ক' নামক তরুণকে মায়ের বাধা অতিক্রম করে যুদ্ধে যোগ দিয়ে মৃত্যুবরণ বা শহিদ হতে কুণ্ঠাবোধ করে নি। জাতীয়তাবোধ এমন একটি ধারণা বা বিশ্বাস যা থেকে দেশপ্রেমের উন্মেষ ঘটে এবং তা ক্রমেই বিকশিত হতে থাকে। এ বিকাশের ফলেই 'ক' নামক তরুণ যুদ্ধ শুরু হলে কোনোকিছু উপেক্ষা না করে বিহঙ্গের মতো বিক্রমবীর ন্যায় দেশের পক্ষে যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে।
আমি মনে করি, জাতীয়তাবোধ থেকেই উদ্দীপকের উক্ত ধারণাটির সূচনা হয়েছে। কেননা জাতীয়তাবোধ ও দেশপ্রেম উভয়েই এক প্রকার মানসিক ধারণা ও অনুভূতি। জাতীয়তাবাদ থেকে দেশপ্রেমের উন্মেষ ঘটে এবং তা ক্রমেই বিকশিত হতে থাকে এবং জাতীয়তাবাদী চেতনার দ্বারা গড়ে ওঠা দেশপ্রেমের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ মানুষ দেশের জন্য প্রাণ দিতেও কুণ্ঠাবোধ করে না। জাতীয়তা হলো একটি মানসিক ধারণা, মনন ও চিন্তার এক অবস্থা যা কোনো
জনসমষ্টিকে অন্য জনসমষ্টি থেকে আলাদা করে এবং নিজেদের মধ্যে ঐক্যবোধ তৈরি করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জনগণ জাতীয়তাবোধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজ দেশকে অন্য দেশের শাসকদের হাত থেকে মুক্ত করেছে। তাই বলা হয় জাতীয়তাবোেধ ও দেশপ্রেম একইসূত্রে গাঁথা। আর এ জাতীয়তাবোেধ ও দেশপ্রেম একইসূত্রে গাঁথা থাকার মাধ্যমেই উদ্দীপকে তরুণ যুবকটি দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে কোনোকিছু উপেক্ষা না করে বিহঙ্গের মতো বিপ্লবীর ন্যায় দেশের পক্ষে যুদ্ধে
Related Question
View AllNationality' শব্দের অর্থ জাতীয়তা।
জাতীয়তাবাদ একটি মহান আদর্শ, যা মূলত এক প্রকার মানসিক অনুভূতি। বিভিন্ন উপাদান থেকে এর উৎপত্তি। কিন্তু এ জাতীয়তাবাদ যদি এমন হয় যে, তা অন্য জাতিকে ঘৃণা করতে শেখায়, নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাবতে শেখায় এবং অন্যকে নিজের অধীন রাখার মতো হীনমানসিকতাকে জাগিয়ে তোলে, তবে তা হবে উগ্র জাতীয়তাবাদ। এটি একটি বিবৃত মানসিকতা যা ব্যক্তিকে অন্ধ দেশপ্রেমে প্রলুব্ধ করে। জার্মানির হিটলার, ইতালির মুসোলিনী এরূপ জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ছিল, যার ফলাফল প্রলয়ঙ্করী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
বাঙালি জাতীয়তাবাদ একটি ঐতিহাসিক বিষয়। এর বিকাশ ঘটেছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে ভিত্তি করে, যা প্রধান শিক্ষক উদ্দীপকে উল্লেখ করেছেন। বাঙালি জাতীয়তাবাদের উদ্ভব ও বিকাশের পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এক মাইলফলক। বাঙালি দামাল ছেলেরা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে নিজেদের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এক ইতিহাস রচনা করে। এ ভিত্তিতেই রচিত হয় বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশ। ৫২'র ভাষা আন্দোলন ছিল স্বাধিকার আদায়ের প্রথম ধাপ। এ আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ৫৪'র নির্বাচন, ৬২'র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬'র ছয় দফা, ৬৯'র গণঅভুত্থান, ৭০'র নির্বাচন এবং ৭১'র স্বাধীনতা অর্জিত হয়। এ দীর্ঘ পথপরিক্রমায় বাঙালির ভাষাভিত্তিক জাতীয়তার ভিত্তি সুদৃঢ় হয়েছে। বাঙালি জাতি এক ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত হয়। স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং বিজয় অর্জনে এটি আমাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
জাতীয়তা একটি বহুমাত্রিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রত্যয়। এটি গড়ে ওঠার পেছনে অনেকগুলো factor কাজ করে থাকে। উদ্দীপকে প্রধান অতিথি যে কথাটি বলেছেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কেননা শুধু ভাষাগত মিল একটি জাতীয়তা নির্মাণের একমাত্র ভিত্তি হতে পারে না। যেমন- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা প্রভৃতি দেশের ভাষা ইংরেজি হলেও তারা প্রত্যেকে আলাদা আলাদা জাতি। বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের লোকজনের ভাষা এক হওয়া সত্ত্বেও এরা আলাদা দুটি জাতি। আবার ভারত বহু ভাষাভাষীর জনগোষ্ঠীর দেশ হলেও তাদের জাতীয়তা এক। এভাবে ভাষাগত সাদৃশ্য বা বৈসাদৃশ্য একরূপ জাতীয়তা সৃষ্টি বা আলাদা করতে ভূমিকা পালন নাও করতে পারে। জাতীয়তা নির্মাণের পথ অত্যন্ত জটিল ধারায় আবর্তিত হয়।
জাতীয়তা নির্ধারণের অন্যান্য যেসব উপাদান রয়েছে তার মধ্যে প্রধান হলো একই ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ধর্ম, সাহিত্য, ভৌগোলিক ঐক্য, মনস্তাত্ত্বিক ঐক্য, রাজনৈতিক ঐক্য, অর্থনৈতিক অভিন্ন উদ্দেশ্য ইত্যাদি। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে, বিভিন্ন ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতির লোক জড়ো হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন বসবাস করছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক ঐক্য তাদেরকে একই সূত্রের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে এবং শক্তিশালী জাতীয়তা নির্মাণে সহায়তা করেছে। তাদের সবার জাতীয়তা নির্ধারিত হয়েছে মার্কিনী। এরূপ কালের পরিক্রমায় দীর্ঘ পরিসরে মানুষের জীবনধারার প্রেক্ষিতে একটি জাতীয়তা গড়ে উঠেছে।
অনুরূপভাবে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী মানুষের মধ্যেও ইতিহাসের বিবর্তন ধারায় গড়ে উঠেছে জাতীয় চেতনা। এ চেতনা থেকেই সৃষ্টি হয়েছে জাতীয়তাবোধ। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই এরূপ লক্ষ করা যায়। Activate
১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করে।
জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ জনসমষ্টির রাষ্ট্রগুলোকে জাতি-রাষ্ট্র বলা হয়। জাতীয়তার উপাদানগুলোর মাধ্যমে সংগঠিত ও স্বাধীন হয়ে এরূপ রাষ্ট্র গঠিত হয়। জাতিরাষ্ট্র ধারণার প্রবক্তা ম্যাকিয়েভেলি। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ইত্যাদি জাতি-রাষ্ট্র।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!