ইসলামি রাষ্ট্রের মৌলিক উপাদান হলো- ১. আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ২. নির্দিষ্ট ও স্বাধীন ভূ-খণ্ড ৩. জনসমষ্টি এবং ৪. ইসলামি সরকার।
রাসুল (স) মদিনায় হিজরতের পর সেখানে বসবাসরত মুসলিম-অমুসলিম সব সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মীয় সহিষ্ণুতার ভিত্তিতে সৌহার্দ ও সম্প্রীতির মনোভাব গড়ে তোলার লক্ষ্যে যে লিখিত সনদ দেন তাই 'মদিনা সনদ' নামে খ্যাত।
মদিনা সনদ পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম লিখিত সংবিধান। আল্লাহর নির্দেশে রাসুল (স) ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন। সেখানকার খ্রিষ্টান, ইহুদি, পৌত্তলিক সবাই বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত এবং পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ ও হানাহানিতে লিপ্ত ছিল। তাই তিনি সব নাগরিকের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ প্রতিষ্ঠা এবং মদিনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সেখানে বসবাসকারী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সর্বসম্মত কয়েকটি নীতিমালার ভিত্তিতে ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পাদন করেন, যা 'মদিনা সনদ' নামে পরিচিত।
পৌরমেয়র 'খ' এর কার্যাবলি ইসলামি রাষ্ট্রের মজলিশে শুরার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মজলিশ মানে সভা, সংস্থা আর শুরা অর্থ পরামর্শ। সুতরাং মজলিশে শুরা মানে পরামর্শসভা বা পার্লামেন্ট। এটি ইসলামি রাষ্ট্র পরিচালনায় পরামর্শভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান। রাসুল (স) সর্বপ্রথম রাষ্ট্রীয় কাজে এ ধারার প্রবর্তন করেন। পরবর্তীতে প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা)ও পরামর্শভিত্তিক শাসন পদ্ধতি চালু রাখেন। এরপর দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর (রা) এর সাংগঠনিক রূপ দেন। রাসুল (স)-এর ঘনিষ্ঠ সাহাবা এবং মদিনার বয়োজ্যেষ্ঠ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এ পরামর্শসভার সদস্য ছিলেন। দৈনন্দিন শাসনকাজ পরিচালনায় এ সভা সাধারণ মানুষের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করত। তারা নির্বাচিত হতেন রাষ্ট্রের জনগণের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভোটের মাধ্যমে। এর সদস্যরা ইসলামের সুনির্দিষ্ট বিধান সামনে রেখে সব ব্যাপারে নিজ নিজ মতামত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতেন এবং সবার সাথে পরামর্শ করে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। পৌরমেয়রের কাজে উল্লিখিত সংগঠনের কার্যক্রমের প্রতিফলন লক্ষণীয়।
উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে, পৌরমেয়র 'খ' কাউন্সিলরদের সাথে পরামর্শ করে কবরস্থান ও পার্ক নির্মাণ এবং পুকুর খননসহ পৌরবাসীর বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করেন। তার এ কাজের সাথে মজলিশে শুরার কার্যক্রমের সাদৃশ্য রয়েছে।
'ক' পৌর এলাকার জনগণের প্রাপ্য সুবিধাগুলো তাদের মৌলিক মানবিক অধিকার। মানুষের মৌলিক মানবিক অধিকারগুলো হলো- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বিনোদন। রাষ্ট্র তার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নাগরিকদের এসব অধিকার পূরণ করবে। এসব অধিকার ছাড়া নাগরিকের পক্ষে সুস্থভাবে বেঁচে থাকা এবং তাদের ব্যক্তিত্ব বিকাশ সম্ভব নয়। তাই রাষ্ট্র নাগরিকদের এসব অধিকার পূরণের মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নয়ন করে।
উদ্দীপকের 'ক' পৌরসভার জনগণ পৌরকরসহ যাবতীয় পাওনাদি সঠিকভাবে পরিশোধ করেও পানি, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্যসেবাসহ সব সুযোগ-সুবিধা নিয়মিত পায় না। অর্থাৎ এ এলাকার নাগরিকরা তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করে কিন্তু পৌরসভা নাগরিকদের প্রাপ্য অধিকার যথাযথভাবে পূরণ করে না। রাষ্ট্রের কাছে নাগরিকদের যেমন অধিকার রয়েছে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতিও তাদের কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। যেমন- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করা, আইন মেনে চলা এবং কর দেওয়া নাগরিকদের কর্তব্য। যথাযথভাবে কর্তব্য পালনের বিনিময়ে তারা রাষ্ট্রের কাছ থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকারী। যেমন- পানি, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্যসেবা অধুনিক নগর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এসব সুযোগ-সুবিধা ছাড়া নাগরিকদের পক্ষে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। তাই নাগরিকদের এসব অধিকার পূরণ করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
Related Question
View Allদুঃখ-কষ্ট ও বিপদে-আপদে বিচলিত না হয়ে আল্লাহর ওপর ভ ভরসা রেখে দৃঢ়তার সাথে তা সহ্য করাকে সবর বলা হয়।
যারা রাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করে, রাষ্ট্রপ্রদত্ত সুযোগ- সুবিধা ভোগ করে এবং রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে তারাই নাগরিক। উৎপত্তিগত অর্থে নগরের অধিবাসীদেরই নাগরিক বলা হয়। কিন্তু আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে নাগরিক হতে হলে রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকার ভোগের পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন ও কর্তব্য পালন করাও অত্যাবশ্যক।
রিয়াজ সাহেবের মধ্যে তাওয়াক্কুলের অভাব লক্ষণীয়। তাওয়াক্কুল শব্দের অর্থ ভরসা বা নির্ভর করা। কোনোকিছু অর্জনের জন্য চেষ্টা বা সাধনা করার পর সফলতার জন্য মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা বা নির্ভর করাকে তাওয়াক্কুল বলে। আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, বান্দা আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট। কিন্তু রিয়াজ সাহেবের ক্ষেত্রে তাওয়াক্কুলের অভাব লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকের রিয়াজ সাহেবের ছেলে অসুস্থ হলে তিনি বিচলিত হয়ে পড়েন। এক্ষেত্রে তার আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ধৈর্যধারণ করা উচিত ছিল। কিন্তু তিনি তা না করে বলেন, ডাক্তার ছাড়া তার আর কোনো উপায় নেই। রিয়াজ সাহেবের ছেলেকে ভালো করার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর। যা ডাক্তার সাহেবের কথায় প্রমাণিত হয়েছে। খাঁটি মুমিন হতে হলে জীবনের সবক্ষেত্রে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করতে হবে। যারা আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন। তাওয়াক্কুল করলে আল্লাহর সাহায্য পাওয়া যায়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট' (সুরা আত-তালাক: ৩)। রোগ হলে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে এবং ওষুধ খেতে হবে। আর আল্লাহর কাছে ভালো হওয়ার জন্য প্রার্থনা করতে হবে, ধৈর্যধারণ করতে হবে এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করতে হবে। কিন্তু রিয়াজ সাহেব তা করেননি। তাই বলা যায়, তার মধ্যে তাওয়াক্কুলের অভাব রয়েছে।
ডাক্তার সাহেবের উক্তিতে ইসলামি রাষ্ট্রে একজন নাগরিকের অধিকারের বিষয়টি যথাযথভাবে ফুটে উঠেছে। ইসলামি রাষ্ট্রের নাগরিকরা যেকোনো বিষয়ে একমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা করবে এবং তাঁর কাছে সাহায্য চাইবে। উদ্দীপকে রিয়াজ সাহেব তার অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে বিচলিত হয়ে পড়লে ডাক্তার সাহেব তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল বা ভরসা করুন। আমরা উসিলা মাত্র। আর একজন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেক ব্যক্তিরই সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপনের অধিকার আছে। আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করছি মাত্র। এখানে ডাক্তার সাহেব একজন মুমিন ব্যক্তি হিসেবে প্রমাণিত হন। তিনি তার বক্তব্যে আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা করা এবং রিয়াজ সাহেবকে বিচলিত না হওয়ার পরামর্শ দেন। ইসলামি রাষ্ট্রের একজন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের সুন্দর ও সুস্থভাবে জীবনযাপনের অধিকার আছে। আর এই সুন্দর সুস্থ জীবনযাপনের ক্ষেত্রে তিনি তার দায়িত্ব পালন করছেন। কেননা ডাক্তার হিসেবে তার দায়িত্ব রোগীকে সঠিক চিকিৎসা সেবা দেওয়ার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করা। সুস্থ করার মালিক একমাত্র আল্লাহ। এক্ষেত্রে তার মধ্যে কর্তব্যপরায়ণতার দিকটিও ফুটে ওঠে। তিনি নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ইসলামি রাষ্ট্রে প্রত্যেক নাগরিকের সুষ্ঠু, সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। আর এ অধিকার পূরণে রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিক নিজ নিজ অবস্থান থেকে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করবে। ডাক্তার সাহেবের বক্তব্যে এ বিষয়টির প্রতিফলন ঘটেছে।
অমুসলিম নাগরিকদের অধিকার বলতে ইসলামি রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধাকে বোঝায়। ইসলামি রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকদের জান-মাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা থাকবে। রাষ্ট্র তাদের স্বাধীনভাবে ধর্মকর্ম পালনের সুযোগ-সুবিধা দেবে। ধর্মের ব্যাপারে কোনো জোর-জবরদস্তি করা যাবে না। অমুসলিম নাগরিক যাতে তাদের মৌলিক প্রয়োজন যেমন- অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা এগুলো নিশ্চিত করতে পারে সে ব্যবস্থা নিতে হবে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদ ছাড়া ইসলামি রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকদের চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!