পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৫৬ শতাংশের ভাষা ছিল বাংলা।
ছয় দফা আন্দোলন দমন করার জন্য আগরতলা মামলা দায়ের করা
আইয়ুব খান সরকারের দমননীতি, শোষণ, নিপীড়ন ও নির্যাতন পূর্ব পাকিস্তানিদের বিক্ষুদ্ধ করে তুলেছিল। সেজন্য বাঙালিদের অন্যতম দাবি ছিল স্বায়ত্তশাসন। ছয় দফার মধ্যে বাঙালি তাদের এ দাবির পূর্ণরূপ দেখতে পায়। কিন্তু আইয়ুব খান অস্ত্রের ভাষায় ছয় দফা মোকাবিলা করার ঘোষণা দেন এবং এ আন্দোলন দমন করার জন্য আগরতলা মামলা দায়ের করে ছয় দফার রূপকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করেন। ১৯৬৮ সালের ১৮ জানুয়ারি ষড়যন্ত্রে পরিকল্পনা ও পরিচালনার অভিযোগ এনে বক্ত্যবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'ক' অঞ্চলের মহান নেতার উত্থাপিত কর্মসূচির সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছয়দফা কর্মসূচির মিল আছে।
১৯৬৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লাহোরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ঐতিহাসিক 'ছয় দফা' কর্মসূচি ঘোষণা করেন। মূলত এই 'ছয়দফা' ছিল স্বায়ত্তশাসনের দাবি ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। পশ্চিম পাকিস্তানের অন্যায় অত্যাচারের প্রতি পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিবাদ ছিল এই ছয় দফা।
ছয়দফার ধারা বিশ্লেষণে দেখা যায় এ প্রস্তাবে একটি শাসনতান্ত্রিক কাঠামো প্রণয়নের কথা বলা হয়, যা হবে ফেডারেশনভিত্তিক। কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি অঙ্গরাষ্ট্রগুলোর ক্ষমতা বৃদ্ধি, পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পৃথক ব্যাংকিং রিজার্ভ রাখা, অঙ্গরাষ্ট্রগুলোর সবরকম কর আদায় করার ক্ষমতা আঞ্চলিক বাহিনী গঠনের ক্ষমতার কথাও ছিল 'ছয় দফা' প্রস্তাবে। পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের অধিকার ও আশা-আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রস্তাবিত এই দাবিতে। তিনি নিজে ছয়দফাকে 'আমাদের বাঁচার দাবি' বলে উল্লেখ করেছেন
উদ্দীপকে বিবৃত কর্মসূচির চেয়ে ছয়দফা কর্মসূচিকে আমি উত্তম মনে করি, কারণ ছয়দফা কর্মসূচিতে উদ্দীপকে আলোচিত বিষয়বস্তু ছাড়া অন্যান্য বিষয়বস্তুও রয়েছে।
প্রথমত, পাকিস্তানের দুটি অঞ্চলের জন্য দুটো আলাদা অথচ সহজে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা থাকবে। মুদ্রার সহজ হিসাব রাখার জন্য দুটি স্টেট ব্যাংক স্থাপন করতে হবে। মুদ্রা ও ব্যাংক ব্যবস্থার ক্ষমতা থাকবে প্রাদেশিক সরকারের হাতে।
দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রীয় সরকারের তত্ত্বাবধানে দুই অঞ্চলে দুই মুদ্রা থাকবে। পূর্ব পাকিস্তান থেকে মুদ্রা পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার হতে পারবে না। একটি ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক এবং দুটি আঞ্চলিক রিজার্ভ ব্যাংক থাকবে।
তৃতীয়ত, সকল প্রকার কর ও শুল্ক ধার্য এবং তা আদায়ের ক্ষমতা থাকবে প্রাদেশিক সরকারে হাতে। আদায়কৃত রাজস্বের নির্ধারিত অংশ ফেডারেল তহবিলে জমা হবে।
চতুর্থত, দু'অঞ্চলের বৈদেশিক মুদ্রা ও বৈদেশিক বাণিজ্য সম্পূর্ণভাবে প্রদেশগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকবে। বৈদেশিক বাণিজ্য ও সাহায্যের ব্যাপারে প্রদেশগুলো যুক্তিযুক্তহারে ফেডারেল সরকারের জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা মেটাবে। হাঁক PIOT হয় সেক
পঞ্চমত, পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিরক্ষার জন্য নিজস্ব গণবাহিনী বা আধা সামরিক বাহিনী গঠন করার ক্ষমতা থাকবে।
Related Question
View Allএকুশ' নিয়ে প্রথম গানটির গীতিকার আব্দুল গাফফার চৌধুরী।
বাংলা ভাষা যখন জাতীয় সীমানার গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে তখন তাকে বাংলাভাষার আন্তর্জাতিকীকরণ বলে।
ভাষার দাবিতে জীবন বিসর্জন বিশ্ব ইতিহাসে নজিরবিহীন কিন্তু বাঙালি ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার সমুন্নত রাখার দাবিতে জীবন দিয়েছিল। তাই বাঙালির এই বৃহৎ ত্যাগকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার জন্য জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা UNESCO ১৯৯৯ সালে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
উদ্দীপকে মিলন চৌধুরীর নেতৃত্বে জোট গঠন আমাদেরকে ১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে দেয়।
১৯৫৪ সালের নির্বাচন ও যুক্তফ্রন্ট গঠন ছিল বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মূলত পূর্ব বাংলায় ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের শাসনের চরম ব্যর্থতার ফলে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি, নেজাম-ই-ইসলাম মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বরে। তারা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য ২১ দফা নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ৩০৯টি আসনের মধ্যে ২২৩টি আসন লাভ করে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভকরে। আর ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি আসন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সফিপুরের জাতীয় নির্বাচনে মিলন চৌধুরীর নেতৃত্বে ছোট ছোট বিভিন্ন উপদল জোট গঠন করে নির্বাচনে অংশ নেয়। নির্বাচনে ঐ জোট ব্যালট বিপ্লব ঘটিয়ে জয়লাভ করে। উদ্দীপকের এই নির্বাচন এবং উপরে আলোচিত নির্বাচনের প্রতি দৃষ্টি নিবন্ধ করলে একবাক্যে বলা যাবে উদ্দীপকের নির্বাচনটি ১৯৫৪ সালের নির্বাচন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের নির্বাচনের সাথে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের মিল রয়েছে।
উক্ত নির্বাচনে অর্থাৎ ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের জোটের নেতৃত্বদানকারী দলের সৃষ্টি ছিল এক ঐতিহাসিক ঘটনা। কেননা এই নির্বাচনে ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে বাঙালি সম্মিলিতভাবে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসনের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করেছিল এবং জাতীয়তাবাদী চেতনায় উজ্জীবিত হয়েছিল।
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিম লীগ প্রভাবশালী ও ক্ষমতাসীন দল হওয়া সত্ত্বেও জয়ী হতে পারেনি। মূলত ১৯৫৪ সালের নির্বাচন ছিল মুসলিম লীগের অন্যায় বৈষম্যমূলক, ব্যর্থ শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ। বাঙালি জাতি এ নির্বাচনের মাধ্যমে মুসলিম লীগকে বুঝিয়ে দেয় যে, তারা পূর্ব বাংলার মুসলিম লীগকে আর চায় না। তারা যুক্তফ্রন্টের তরুণ নেতৃত্বের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। তারা ক্ষমতাসীন অত্যাচারীদের প্রতি ধিক্কার জানিয়েছিল তাদের ভোটের মাধ্যমে। বাঙালি ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী মুসলিম লীগের ন্যাক্কারজনক শাসনের বিরুদ্ধে তাদের বিপ্লব ঘটিয়েছিল এই নির্বাচনের মাধ্যমে। ফলে এ নির্বাচনের মাধ্যমে মুসলিম লীগ ও অবাঙালি নেতৃত্বের প্রতি বাঙালিদের মনে ব্যাপক অনাস্থা জন্মায়। তারা বুঝতে পারে পশ্চিম পাকিস্তানি ও তাদের এ দেশীয় দোসরদের দ্বারা বাঙালির প্রকৃত মুক্তি সম্ভব নয়। ফলে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আদর্শের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলার জনগণ স্বায়ত্তশাসনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে।
ভাষা আন্দোলনের সময় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞা।
২২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ও ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে খুলনায় হরতাল ও প্রতিবাদ সভা ছিল খুলনা অঞ্চলের বৃহত্তর কর্মসূচি।
খুলনা অঞ্চলে ১১ সদস্য বিশিষ্ট ভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ২৭ফেব্রুয়ারি দৌলতপুর বাজারে জনসভা ও অপর এক জনসভা মিউনিসিপ্যাল পার্কে অনুষ্ঠিত হয়। যাতে যোগদান করে প্রায় দশ হাজার লোক। ৫ মার্চ কেন্দ্রীয় নির্দেশ অনুসারে খুলনা শহর ও গ্রামাঞ্চলে ভাষা দিবস পালনের কর্মসূচি নেওয়া হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!