জার্মানির একত্রীকরণ সম্পন্ন হয় ১৯৯০ সালে ।
গর্বাচেভ শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করে বেশকিছু সংস্কার কর্মসূচি হাতে নেন। তার পেরেস্ত্রোইকা (পুনর্গঠন) ও গ্লাসনস্ত (খোলামেলা) নীতিতে অনুপ্রাণিত হয়ে ঐ বছরের নভেম্বর মাসে সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠনকারী বাল্টিক প্রজাতন্ত্রসমূহের মধ্যে এস্তোনিয়া সর্বপ্রথম স্বাধীনতা এ ঘোষণা করে। এরপর লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া, জর্জিয়া ও আর্মেনিয়া এই পাঁচটি প্রজাতন্ত্র স্বাধীনতা ঘোষণা করে। এসব পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে গর্বাচেভের বক্তব্য ছিল, "শান্তির কোনো বিকল্প নেই।" সোভিয়েত কমিউনিস্ট রাষ্ট্রের স্বাধীনতাকে বলপূর্বক দমন করেনি। পার্টির ২৭তম কংগ্রেস অধিবেশনে তিনি বলেন, "বর্তমান দুনিয়া হচ্ছে জটিল, বিচিত্র প্রতিযোগিতামূলক প্রবণতা ও স্ববিরোধিতা দ্বারা। এবং গতিশীল ও বিভক্ত।” গর্বাচেভের এসব উদারনীতি সোভিয়েত ইউনিয়নের এ ভাঙনকে ত্বরান্বিত করে।
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ের সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্তির ঘটনার মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
বিংশ শতাব্দীর দিকে লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক, বিপ্লবের মাধ্যমে সোভিয়েত ইউনিয়নের সমাজতন্ত্র বা কমিউনিজমের উত্থান আধুনিক বিশ্বের ইতিহাসে একটি আলোচিত বিষয়। আবার, বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিজমের বিলুপ্তি একটি আলোচিত ও বিস্ময়কর ঘটনা। কমিউনিজমের পতনের মধ্য দিয়ে বিশ্বে মতাদর্শগত দ্বন্দ্বের অবসান ঘটে। লেনিনের নেতৃত্বে কার্ল - মার্কসের মতবাদে ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দের বিপ্লবের পর ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়নের আত্মপ্রকাশ ঘটে। সোভিয়েত ইউনিয়নকে রাশিয়া নামে চিনলেও আসলে রাশিয়া ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের ১৫টি অঙ্গরাজ্যের একটি। স্ট্যালিনের শাসনামল (১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে) পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের যৌবনকাল বিদ্যমান ছিল। এরপর ক্রুশ্চেভ ও ব্রেজনেভের শাসনামল থেকেই সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিজম পতনের দিকে ধাবিত হয় এবং গর্বাচেভের শাসনামলের পতন ঘটে।
হ্যাঁ, আমি মনে করি উল্লিখিত ঘটনা বিশ্ব শক্তির ভারসাম্যকে নষ্ট করেছে।
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলে পুরো পৃথিবীর চিত্র পাল্টে যায় এবং যার প্রভাব এখনও ক্রিয়াশীল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাশিয়া বিশ্বের দুই ক্ষমতাধর পরাশক্তির একটিতে পরিণত হয়। তখনকার বিশ্বকে দ্বিমাত্রিক বিশ্ব (Biopolar world) বলা হতো। স্নায়ুযুদ্ধের শেষে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনে বিশ্বের শক্তিসাম্য নষ্ট হয় এবং পৃথিবী যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক এককেন্দ্রিক বিশ্বে (Unipolar world) পরিণত হয়। রাশিয়ার বিলুপ্তিতে বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে বেশি আনন্দিত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ গর্বিতভাবে ঘোষণা করেন, "ঈশ্বরের করুণায় আমেরিকা ঠান্ডা লড়াইয়ে বিজয় লাভকরেছে।" সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির ফলে আমেরিকা এককভাবে সমগ্র বিশ্বে ব্যবসায়-বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে যাচ্ছে। মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করছে। ইরাকে মার্কিন আগ্রাসন, কুয়েতে আমেরিকা নীতি, মধ্যপ্রাচ্য মার্কিন ঘাঁটি, আফগানিস্তানে আমেরিকা আক্রমণ প্রভৃতি সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্তির প্রত্যক্ষ ফল। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ছিল বিশ শতকে বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক দুর্যোগ।
Related Question
View Allরাজাই হলো রাষ্ট্র" উক্তিটি চতুর্দশ লুইয়ের।
লিজিয়ন অব অনার' হচ্ছে এক ধরনের উপাধি, যা ১৮০২ সালের ১৯ মে নেপোলিয়ন বোনাপার্ট প্রবর্তন করেন। এটি ফ্রান্সের সর্বোচ্চ সম্মাননা। লিজিয়ন অব অনার পাঁচ ভাগে বিভক্ত। যথা- ১. নাইট, ২. অফিসার, ৩. কমান্ডার, ৪. গ্র্যান্ড অফিসার এবং ৫. গ্র্যান্ড ক্রস।
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের বার্লিন প্রাচীর মিল পাওয়া যায়।
উদ্দীপকে পাঠ্যবইয়ে আলোচিত ঐতিহাসিক বার্লিন প্রাচীরের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। উদ্দীপকে উল্লিখিত রহিম ও করিম দুই ভাই। বাবার মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি ভাগাভাগি করে নেয়। ঝামেলা শুরু হয় ভাইয়ের বিয়ের পর। একপর্যায়ে তারা আলাদা হয়ে যায় এবং তাদের বাড়ির মাঝখান দিয়ে প্রাচীর নির্মাণ করে। কিন্তু পরবর্তীতে তারা তাদের ভুল বুঝতে পেরে প্রাচীর ভেঙ্গে দিয়ে একত্রে বসবাস শুরু করে। অনুরূপ ঘটনা জার্মানির বার্লিন প্রাচীরকে নিয়ে ঘটেছিল। বার্লিন প্রাচীরকে সরকারিভাবে বলা হয় ফ্যাসিবাদবিরোধী দুর্গ। ১৯৬১ সালে পূর্ব জার্মানির জার্মান ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক সরকার এ প্রাচীর নির্মাণ করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বার্লিন প্রাচীর হয়ে ওঠে সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্রের বিভেদ চিহ্ন। ১৯৮৯ সালে পূর্ব ইউরোপে সমাজতন্ত্রের পতন ঘটলে আবার পশ্চিম জার্মানি ও পূর্ব জার্মানির একত্রীকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। দুই জার্মানির ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণের অংশ হিসেবে পূর্ব জার্মান সরকার ১৯৮৯ সালের ৯ নভেম্বর ঘোষণা করেন, GDR-এর সকল নাগরিক পশ্চিম জার্মানি ও পূর্ব জার্মানি ভ্রমণ করতে পারবে। পরবর্তী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই জনতা বার্লিন প্রাচীরের কতকাংশ স্বউদ্যোগে ভেঙে ফেলে। ১৩ জুন ১৯৯০ সাল থেকে পূর্ব জার্মান সেনাবাহিনী বার্লিন প্রাচীর সরকারিভাবে ভেঙে ফেলতে শুরু করে। ১৯৯০ সালের ৩ অক্টোবর দুই জার্মানি আনুষ্ঠানিকভাবে একত্রিত হয় এবং ১৯৯১ সালের শেষ নাগাদ এ প্রাচীর ভাঙার কাজও সমাপ্ত হয়।
সুতরা বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনার সাথে বার্লিন প্রাচীরের মিল হয়েছে।
এ উক্ত ঘটনা অর্থাৎ বার্লিন প্রাচীর উন্মুক্ত করার পরিপ্রেক্ষিতে দেশ দুটির একত্রিত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর হয় উক্তিটি যথার্থ।
উক্ত ঘটনা অর্থাৎ বার্লিন প্রাচীর উন্মুক্ত করার পরিপ্রেক্ষিতে দেশ দুটির একত্রিত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর হয় উক্তিটি যথার্থ।
১৯৬১ সালে পূর্ব জার্মানির জার্মান ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক সরকার এ প্রাচীর নির্মাণ করে। ১৯৮৯ সালে পূর্ব ইউরোপে সমাজতন্ত্রের পতন ঘটলে আবার পশ্চিম জার্মানি ও পূর্ব জার্মানি একত্রিত হওয়ার সিদ্ধান্ত * গ্রহণ করে। বার্লিন প্রাচীর উন্মুক্ত করার মধ্য দিয়েই শুরু হয় দুই জার্মানির একত্রীকরণ প্রক্রিয়া। দুই জার্মানির ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণের অংশ হিসেবে পূর্ব জার্মান সরকার ১৯৮৯ সালের ৯ নভেম্বর ঘোষণা করেন, GDR-এর সকল 'নাগরিক পশ্চিম জার্মানি ও পূর্ব জার্মানি ভ্রমণ করতে পারবে। এর ফলে দলে দলে লোক বার্লিন প্রাচীর টপকে পশ্চিম জার্মানিতে গমন করে। পশ্চিম জার্মানির জনগণ তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জ্ঞাপন করে। পরবর্তী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই জনতা বার্লিন প্রাচীরের কতকাংশ স্বউদ্যোগে ভেঙে ফেলে। ১৩ জুন ১৯৯০ থেকে পূর্ব জার্মান সেনাবাহিনী বার্লিন প্রাচীর সরকারিভাবে ভেঙে ফেলতে শুরু করে। ১৯৯১ সালের শেষ নাগাদ এ প্রাচীর ভাঙার কাজও সমাপ্ত হয়। ১৯৮৯ সালের ৯ নভেম্বর বার্লিন প্রাচীর উন্মুক্ত করার মধ্য দিয়েই শুরু হয় দু জার্মানির একত্রীকরণ প্রক্রিয়া।
নিকোলাই চসেঙ্কু রোমানিয়া শাসন করতেন।
হাঙ্গেরিতে কমিউনিস্ট শাসনের পতন ঘটেছিল পর্যায়ক্রমিকভাবে। হাঙ্গেরির অর্থনৈতিক অধঃপতন কাটিয়ে উঠার কোনো প্রত্যাশিত সমাধান কাদার সরকার দিতে পারেনি। ফলে তার প্রতিপক্ষ ক্যারোলি দেশের ক্ষমতা গ্রহণ করেন। কিন্তু তারাও এ অবস্থার তেমন কোনো উন্নতি সাধন করতে পারেনি। ১৮৮৯ সালে অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় গোলটেবিল বৈঠকে ক্ষমতা, হস্তান্তর ও একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার পদ্ধতি কী হবে তা নির্ধারণ করার চেষ্টা করা হয়। কিছুদিন পূর্ব থেকেই নতুন শাসনতন্ত্র রচনার কাজ আইন মন্ত্রণালয়ে চলে আসছিল। অবশেষে ২৩ অক্টোবর অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট মার্টিয়াস জুরোস হাঙ্গেরিতে দীর্ঘদিন চলতে থাকা সমাজতন্ত্রের স্থলে শুধু 'প্রজাতন্ত্র' বলে সরকারিভাবে ঘোষণা করেন। এভাবেই হাঙ্গেরিতে কমিউনিস্ট শাসনের অবসান হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!