বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নৌ সেক্টর ছিল ১০ নম্বর সেক্টরটি।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধে আঞ্চলিক বাহিনীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল), আফসার ব্যাটালিয়ন (ভালুকা-ময়মনসিংহ), বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল), হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ-বরিশাল), হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ), আকবর বাহিনী (মাগুরা) ও জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)। এসব গেরিলা বাহিনীর কর্মকাণ্ড ছিল স্বেচ্ছাসেবামূলক। এদের কাজ ছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর যতদূর সম্ভব ক্ষতি করা, জনগণকে তাদের হামলা থেকে রক্ষার চেষ্টা করা, জনগণের মনোবল অটুট রাখা ইত্যাদি।
জাউদ্দীপকে মি. থমাস জনসনের কার্যক্রম মুজিবনগর সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে মুজিবনগর সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা এক সোনালি অধ্যায়। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ মিশন স্থাপন, কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রতিনিধি প্রেরণ করে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সমর্থন লাভের চেষ্টা, বিদেশে তহবিল সংগ্রহ এসব ছিল বহির্বিশ্বে তৎপরতার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মুজিবনগর সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বিশেষ দূত নিয়োগ করে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে বহির্বিশ্বের সমর্থন ও জনমত আদায়ের চেষ্টা করেন। এছাড়া বাংলাদেশের নাগরিক এবং সহানুভূতিশীল ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, সুইডেন, জাপান ও অন্যান্য কতিপয় শক্তিশালী দেশের সমর্থন লাভে ঐকান্তিক প্রচেষ্টা চালানো হয়। ১৯৭১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনে যোগদানের জন্য জেনেভায় আসেন। এরপর হতে দেশ স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত তিনি দেশে ফিরে আসেননি।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' দেশে গণহত্যা শুরু হলে দেশটির থমাস জনসন নামের একজন ব্যক্তি জাতিসংঘসহ পৃথিবীর বড় বড় দেশে এই গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালান এবং দেশটির স্বাধীনতার জন্য বিশ্বজনমত সৃষ্টি - করার চেষ্টা করেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে মি. থমাস জনসনের কার্যক্রম মুজিবনগর সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতাকেই তুলে ধরে।
উদ্দীপকে আলোচিত মুজিবনগর সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতার ফলাফল ইতিবাচক ছিল।
রণাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের পাশাপাশি মুজিবনগর সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তদানীন্তন উপাচার্য বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর ভূমিকা ছিল অনন্য। হল্যান্ড, ইংল্যান্ড, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড প্রভৃতি দেশে মুজিবনগর সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হয়। এ তৎপরতা চালানোর ফলে বহির্বিশ্বের মানুষ হানাদার বাহিনীর ঘৃণ্য হত্যাযজ্ঞ সম্পর্কে জানতে পারে। ফলে তারা পাক হানাদার বাহিনীর ঘৃণ্য তৎপরতার বিরুদ্ধে তাদের মতামত ব্যক্ত করে। তাছাড়া তারা পাকিস্তান সরকারের ওপর চাপ দিতে থাকে এ সকল হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করার জন্য। সোভিয়েত ইউনিয়ন সরকার বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ব্যাপক সমর্থন দান করে। তারা প্রচুর খাদ্য ও ত্রাণ সামগ্রী মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রেরণ করে। ভারত সরকার প্রায় ১ কোটি শরণার্থী আশ্রয় দেয়। ভারত পাকিস্তানের ওপর ব্যাপক ভাবে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। এমনকি একপর্যায়ে ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে
Related Question
View Allমুক্তিবাহিনী সরকারি পর্যায়ে ২ ভাগে বিভক্ত ছিল।
নিয়মিত বাহিনী গঠিত হওয়ার পর নিয়মিত বাহিনীর অংশ হিসেবে স্থল বা সেনাবাহিনী গঠিত হয়।
১৯৭১ সালের ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ সরকার ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার জলঢাকায় এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ অনষ্ঠানে আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজের মাধ্যমে ৬১ তরুণ মুক্তিযোদ্ধাকে দ্বিতীয় লেফটেন্যান্ট পদে কমিশন দেয়। এভাবে শুরু হয় বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর যাত্রা। এসব অফিসার পরবর্তীকালে বিভিন্ন সেক্টরে যোগ দেওয়ায় মুক্তিযুদ্ধে গতি সঞ্চার হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যক্তিরা মূলত ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের অনিয়মিত বাহিনী হিসেবে পরিচিত ছিল।
অনিয়মিত বাহিনী গঠিত হয় যুবক, ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক ও সকল পর্যায়ের মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে বিভিন্ন সেক্টরের অধীনে। এ বাহিনীর সরকারি নামকরণ ছিল গণবাহিনী বা এফএফ (ফ্রিডম ফাইটার বা মুক্তিযোদ্ধা)। এ বাহিনীর সদস্যদের দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণের পর একজন কমান্ডারের অধীনে তাদের নিজ নিজ এলাকায় গেরিলা পদ্ধতিতে যুদ্ধ করার জন্য প্রেরণ করা হতো। এ বাহিনীর জন্য কোনো সামরিক আইন কার্যকর ছিল না। গেরিলা বাহিনীর সদস্যদের কোনো বেতনভাতা দেওয়া হতো না। অনিয়মিত বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার। এছাড়া উল্লিখিত বাহিনীর বাইরে আরও কয়েকটি অনিয়মিত বাহিনী ছিল। মূলত স্থানীয় ভিত্তিতে ও রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে এসব গেরিলা বাহিনী গঠিত ছিল। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে শেখ ফজলুল হক মণির নিয়ন্ত্রণাধীনে গঠিত হয়, মুজিব বাহিনী। এ বাহিনীর সদস্যদের সকলে ছাত্রলীগের সদস্য। তন্মধ্যে আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, সিরাজুল আলম খান, আ.স.ম. আব্দুর রব, শাহজাহান সিরাজ, নূরে আলম সিদ্দিকী প্রমুখ যথেষ্ট ভূমিকা পালন করেন। মুজিব বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল ৬,০০০। এছাড়া ন্যাপ (মোজাফফর), কমিউনিস্ট পার্টির নিজস্ব দলীয় বাহিনী ছিল।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত বাহিনী অর্থাৎ নিয়মিত বাহিনীর কার্যক্রম ছিল মূলত পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করা।
এ ধরনের সাধারণ লোকজন ছাড়া মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয় ছিল অসম্ভব- উক্তিটি যথার্থ।
১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধকালীন সেই বিভীষিকাময় সময়ে বজঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে সাধারণ মানুষ দেশের স্বাধীনতা অর্জনে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল। বাংলাদেশের যুবক, ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক এবং সকল পর্যায়ের মানুষের সার্বিক অংশগ্রহণে গঠিত হয়েছিল অনিয়মিত বাহিনী। এ বাহিনীর সদস্যদের দুই সপ্তাহ প্রশিক্ষণের পর একজন কমান্ডারের অধীনে নিজ এলাকায় গেরিলা পদ্ধতিতে যুদ্ধ করার জন্য প্রেরণ করা হতো। মূলত স্থানীয় ভিত্তিতে ও রাজনৈতিক মতাদর্শে এসব গেরিলা বাহিনী গঠিত ছিল বলে গেরিলা বাহিনী কখনো তাদের নীতি থেকে চ্যুত হয়নি। এছাড়া আঞ্চলিক পর্যায়ে অর্থাৎ সেক্টর এলাকার বাইরে কিছু বাহিনী গড়ে উঠেছিল। এ সকল বাহিনীর বেতনভাতা না থাকলেও তারা তাদের দায়িত্বে কখনো অবহেলা করেনি।
গেরিলা বাহিনীর কর্মকাণ্ড ছিল ছেচ্ছাসেবা ও তারা ছিল স্বল্প প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।
দেশের অভ্যন্তরে জনগণের মনোবল অটুট রাখা, পাকিস্তানি ও তাদের দোসরদের অতর্কিত আক্রমণে পরাস্ত করা ও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু যেমন-যোগাযোগ ও বিদ্যুৎব্যবস্থা ধ্বংস করা, যুদ্ধের জন্য লোকবল সংগ্রহ ও তাদের ট্রেনিং প্রদান ছিল এসব বাহিনীর প্রধান কাজ। কাগজে-কলমে গেরিলারা সেক্টর কমান্ডার দ্বারা পরিচালিত হলেও বাস্তবে এরা এলাকাভিত্তিক নিয়ন্ত্রিত হতো। বিভিন্ন এলাকাভিত্তিক বাহিনীর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গেরিলা ছিল লক্ষাধিক। এছাড়া এর কয়েকগুণ ছিল স্বেচ্ছাসেবক।
পরিশেষে বলা যায়, অনিয়মিত বা সাধারণ লোকজন ছাড়া মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয় অসম্ভব ছিল।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন ৬নং সেক্টরের বিস্তৃতি ছিল রংপুর, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও পর্যন্ত।
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের আঞ্চলিক সুবিধা চিন্তা করে যে প্রশাসনিক পরিষদ গঠন করা হয়, তা জোনাল কাউন্সিল নামে পরিচিত।
বেসামরিক প্রশাসনকে অধিক গণতান্ত্রিক করার জন্য বাংলাদেশের আঞ্চলিক সুবিধা চিন্তা করে সমগ্র বাংলাদেশকে ১৯৭১ সালে প্রথমে ৯টি ও পরে ১১টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়। সেপ্টেম্বর নাগাদ অঞ্চলগুলোর বিন্যাস হয়েছিল আঞ্চলিক প্রশাসনিক পরিষদ গঠনের মাধ্যমে। সংশ্লিষ্ট এলাকার জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ সদস্যদের প্রশাসনিক পরিষদের সদস্য করে তাদের ভোটে নির্বাচিত একজন করে চেয়ারম্যানকে পরিষদের প্রধান করা হয়। চেয়ারম্যানের অধীনে একজন করে সচিব নিযুক্ত করা হয়। একই সাথে প্রতিটি জোনে সরকার হতে ৭ জন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়, যা জোনাল কাউন্সিল নামে পরিচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!