'ক' দেশের সরকার ১০ টাকা 'ফি' এর বিনিময়ে সরকারি হাসপাতাল থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণের ব্যবস্থা করেছে। মি. করিমও নিজস্ব উদ্যোগে আধুনিক চিকিৎসার সকল সুবিধা সংবলিত একটি হাসপাতাল তৈরি করেছেন। অপরদিকে, 'খ' দেশের স্বাস্থ্যখাত থেকে শুরু করে সকল অর্থনৈতিক খাত সরকার কর্তৃক পরিচালিত হয়। 

Updated: 10 months ago
উত্তরঃ

অর্থনীতির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয় বা বিভিন্ন অংশ পৃথক পৃথকভাবে আলোচনা করা হলে তাকে ব্যষ্টিক অর্থনীতি বলে।

উত্তরঃ

মানুষের জীবনে অভাব অসীম, কিন্তু অভাব পূরণের জন্য সম্পদ সীমিত।
ব্যক্তি বা সমাজের ক্ষেত্রে সীমিত সম্পদ দ্বারা সব অভাব পূরণ করা সম্ভব হয় না। আবার, এই অসংখ্য অভাবের মধ্যে সব অভাব সমান গুরুত্বপূর্ণ নয়। এজন্যই নির্ধারণ করতে হয় কোন অভাবগুলো আগে এবং কোনগুলো পরবর্তী সময়ে পূরণ করা হবে। একে নির্বাচন সমস্যা বলা হয়। তাই সম্পদের পরিমাণ অসীম হলে নির্বাচনের সমস্যা থাকত না

উত্তরঃ

উদ্দীপকে 'ক' দেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।

মিশ্র অর্থব্যবস্থায় সম্পদের ব্যক্তিগত ও সরকারি মালিকানা স্বীকৃত। মানুষ নিজ মালিকানায় সম্পদ ভোগ দখল করে। আবার জনগুরুত্বপূর্ণ দ্রব্য ও সেবা উৎপাদনকারী অনেক প্রতিষ্ঠান সরকারি মালিকানায় পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। মিশ্র অর্থনীতিতে ব্যক্তি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায় যে, 'ক' দেশের সরকারি হাসপাতালে জনগণ কম খরচে স্বাস্থ্য সেবা পায়। পাশাপশি দেশটিতে আধুনিক চিকিৎসার সকল সুবিধা সংবলিত বেসরকারি হাসপাতালও তৈরি করা হয়। এখানে সরকারি হাসপাতালের উদ্দেশ্য হলো জনকল্যাণ। অন্যদিকে ব্যক্তি উদ্যোগে স্থাপিত হাসপাতাল পরিচালিত হয় মুনাফার ভিত্তিতে। এসব উপরের আলোচিত মিশ্র অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যে বিদ্যমান। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের 'ক' দেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান রয়েছে।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' দেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা এবং 'খ' দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত। দুটি দেশের মধ্যে 'ক' দেশের তুলনামূলকভাবে শ্রেণিবৈষম্য বেশি বলে আমি মনে করি।
মিশ্র অর্থনীতিতে একদিকে ধনতান্ত্রিক অর্থনীতির ন্যায় ব্যক্তি মালিকানা, উদ্যোগের স্বাধীনতা, মূল্যব্যবস্থা, মুনাফার উপস্থিতি ইত্যাদি স্বীকৃত। অন্যদিকে, সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির ন্যায় এসবের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে। ফলে মিশ্র অর্থব্যবস্থায় শ্রেণিবৈষম্য থাকা স্বাভাবিক উদ্দীপকের 'ক' দেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। অন্যদিকে 'খ' দেশ পরিচালিত হয় সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায়। ক-দেশে সরকার বেসরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানায়। খ-দেশে বেসরকারি উদ্যোগ নেই। এখানে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে সরকার।
মিশ্র অর্থনীতিতে সরকারি উদ্যোগে যে বণ্টনব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তার লক্ষ্য হলো আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা মজবুত করা, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি, জীবনযাত্রার মান সংরক্ষণ, দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, নিয়ন্ত্রিত আয়-বৈষম্য নিশ্চিত করা। কিন্তু বেসরকারি উদ্যোগে যে বণ্টনব্যবস্থা পরিচালিত হয় তা মুনাফাকে কেন্দ্র করেই গ্রহণ করা হয়। সুযোগ পেলেই পুঁজিপতিরা ভোক্তাকে জিম্মি করে মুনাফা লুটে নেয়। ফলে মিশ্র অর্থনীতিতে শ্রেণিবৈষম্য বেশি প্রতীয়মান হয়। মিশ্র অর্থব্যবস্থায় জাতীয় আয়ের অসম বণ্টন লক্ষ করা যায়। স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থার ফলে ছোট ছোট উৎপাদনকারীরা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে শ্রেণিবৈষম্যের উদ্ভব হয়। শ্রেণিসংগ্রাম স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়। সমাজে শক্তিশালী ধনীশ্রেণি উৎপাদনের বেশির ভাগ সুফল ভোগ দখল করে। মধ্যবর্তী ও দরিদ্র শ্রেণির জনগণ ক্রমান্বয়ে এ সুফল কম ভোগ করে। সুতরাং, উপরের আলোচনায় বলা যায় যে, উদ্দীপকে 'ক' দেশে শ্রেণিবৈষম্য বেশি প্রতীয়মান হয়।

70

Related Question

View All
উত্তরঃ

মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সাপেক্ষে বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজন মেটাতে পারে এমন ধরনের পণ্য ও সেবা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বা ইচ্ছাকে অভাব বলে।

345
উত্তরঃ

বিদ্যমান প্রযুক্তি ও নির্দিষ্ট পরিমাণ উপকরণ দ্বারা উৎপাদিত দুটি দ্রব্যের সম্ভাব্য বিভিন্ন সংমিশ্রণ, যে রেখার বিভিন্ন বিন্দুতে নির্দেশ করা হয় তাকে উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা (PPC) বলে।

মনে করি, একটি সমাজ তার সীমাবদ্ধ সম্পদের সাহায্যে ১ লক্ষ বই অথবা ১ কোটি কলম তৈরি করতে পারে। সমাজ ইচ্ছা করলে কলম উৎপাদন হ্রাস করে বই উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারে। আবার একই পরিমাণ সম্পদের সাহায্যে বই ও কলমের বিভিন্ন সংমিশ্রণ উৎপাদন করতে পারে। এভাবে সীমিত সম্পদের সাহায্যে দুটি দ্রব্যের বিভিন্ন সংমিশ্রণ উৎপাদন সম্ভাবনা রেখার (PPC) সাহায্যে দেখানো যায়।

830
উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত তিনটি দেশ A, C ও B-তে যথাক্রমে ধনতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক ও মিশ্র অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে।

যে অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহ ব্যক্তিগত মালিকানায় পরিচালিত হয় তাকে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। অন্যদিকে, সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা হলো এমন এক ধরনের অর্থব্যবস্থা যেখানে সকল অর্থনৈতিক কার্যক্রম কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়। আর এই দুই অর্থব্যবস্থার সমন্বয়ে গড়ে ওঠে মিশ্র অর্থব্যবস্থা যেখানে ব্যক্তি মালিকানার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ সরকারি উদ্যোগে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়।

উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, 'A' দেশে সবকিছু ব্যক্তি উদ্যোগে উৎপাদন ও বিক্রয় হয় ফলে দ্রব্যাদির দাম বেশি। অর্থাৎ সংজ্ঞানুসারে 'A' দেশে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। পক্ষান্তরে, 'C' দেশে সকল সম্পদের মালিক হলো 'কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ বা সরকার'। এখানে সরকারের অধীনে সকল পণ্যসামগ্রী উৎপাদিত হয়। তাই বলা যায়, 'C' দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। অন্যদিকে 'B' দেশে লক্ষ করা যায়, সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেই দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদিত হয়। প্রয়োজনীয় খাতে সরকারি হস্তক্ষেপ লক্ষণীয়। সুতরাং 'B' দেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান।

337
উত্তরঃ

ধনতান্ত্রিক কিংবা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার তুলনায় জনগণের কল্যাণের জন্য মিশ্র অর্থব্যবস্থাই উত্তম। নিচে তা উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো-

ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় শুধু ব্যক্তি মালিকানা বিদ্যমান থাকায় উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও শ্রেণিবৈষম্য সৃষ্টি হয়। আর সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় শ্রেণিবৈষম্য না থাকলেও ভোক্তার স্বাধীনতা থাকে না এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার উদ্ভব হয়। অন্যদিকে, মিশ্র অর্থব্যবস্থায় উক্ত দুটি অর্থব্যবস্থার দোষগুলো পরিহার করে গুণগুলো গ্রহণ করা হয়। এজন্য মিশ্র অর্থব্যবস্থায় জনকল্যাণ সর্বাধিক গুরুত্ব পায়।

উদ্দীপকে দেখা যায়, 'A' দেশে সকল কিছু ব্যক্তি উদ্যোগে উৎপাদিত হওয়ায় ভোক্তাকে উচ্চ মূল্যে দ্রব্য বা সেবা ভোগ করতে হয়। অন্যদিকে উৎপাদনকারী অধিক মুনাফার উদ্দেশ্যে উৎপাদন পরিচালনা করে। এর ফলে জনকল্যাণ প্রাধান্য পায় না। এ অর্থব্যবস্থায় শ্রমিক শোষণ ও শ্রেণিবৈষম্য পরিলক্ষিত হয়। আবার, 'C' দেশে এর বিপরীত অবস্থা পরিলক্ষিত হলেও ব্যক্তি স্বাধীনতা থাকে না। অর্থাৎ, সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তি স্বার্থ বাদ দিয়ে সমাজের স্বার্থ বিবেচনা করা হয়। কিন্তু বাস্তবে তা আদৌ সম্ভব নয়। এজন্য বিশ্বে কোথাও বিশুদ্ধ সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা দেখা যায় না।

আর 'B' দেশে সম্পত্তিতে ব্যক্তিগত মালিকানার পাশাপাশি কিছু কিছু কারখানা সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত হয়। এই অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তি উদ্যোগ স্বীকৃত বলে যেমন অবাধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার হয়, তেমনি সরকার জনকল্যাণের জন্য প্রয়োজনবোধে দামব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এর ফলে জনকল্যাণ সর্বাধিক হয়। তাই একটি দেশের জনগণের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে বলা যায়, 'A' ও 'C' দেশের অর্থব্যবস্থার তুলনায় 'B' দেশের অর্থব্যবস্থা তথা

291
উত্তরঃ

উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা হচ্ছে এমন একটি রেখা যার বিভিন্ন বিন্দুতে সীমিত সম্পদ ও চলতি প্রযুক্তি সাপেক্ষে দুটো উৎপাদিত দ্রব্যের সম্ভাবনাময় বিভিন্ন সংমিশ্রণ প্রকাশ পায়।

678
উত্তরঃ

অভাবের তুলনায় সম্পদ সীমিত হওয়া অর্থনীতিতে সকল অভাব একসাথে পূরণ করা সম্ভব হয় না।

অসীম অভাব পূরণের জন্য মানুষের প্রয়োজনীয় সম্পদ সীমিত। সৃষ্টির আদিকাল থেকে আজ পর্যন্ত সমাজের প্রতিটি মানুষ অভাবের সাথে সংগ্রাম করে আসছে। একটি অভাব পূরণ হলে আর একটি অভাব নতুনরূপে দেখা দেয়। মানুষ এসব নতুন অভাব সম্পদের সাহায্যে পূরণ করে। কিন্তু অসীম অভাব পূরণের জন্য প্রাপ্ত সম্পদের পরিমাণ সীমিত। সীমিত এ সম্পদ দিয়ে মানুষ তার অসংখ্য অভাবের সামান্যই মেটাতে পারে। এজন্য মানুষের পক্ষে সব অভাব একসাথে পূরণ করা সম্ভবপর হয় না।

835
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews