বাংলাদেশে বিদ্যমান একটি সামাজিক নীতি হলো জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১।
পরিকল্পনা বলতে কোনো লক্ষ্য অর্জনে গৃহীত সুশৃঙ্খল পদক্ষেপকে বোঝায়।
ব্যাপক অর্থে পরিকল্পনা বলতে কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য অর্জনে সুসংহতভাবে বিস্তারিত ধারাবাহিক কার্যাবলির রূপরেখা অঙ্কন এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বাস্তবায়নযোগ্য সর্বোত্তম বিকল্পসমূহ চিহ্নিত করাকে বোঝায়। এইচ. বি. ট্রেকারের মতে, পরিকল্পনা হলো সচেতন ও সুচিন্তিত নির্দেশনা যাতে সম্মিলিত উদ্দেশ্য অর্জনের যৌক্তিক ভিত্তি সৃষ্টি করা হয়। পরিকল্পনার ধারণা মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে বিকশিত হতে থাকে।
ক' নামক রাষ্ট্রটিতে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে সরকার প্রথমে জনসংখ্যা নীতি গ্রহণ করতে পারে।
জনসংখ্যা সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিবর্তন, উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত সরকারি সামাজিক নীতিই জনসংখ্যা নীতি। দেশের আয়তন ও সম্পদের সাথে সামঞ্জস্য রেখে জনসংখ্যাকে কাঙ্ক্ষিত স্তরে নিয়ন্ত্রিত রাখাই এ নীতির মূল উদ্দেশ্য। দেশের জনসংখ্যা সমস্যা মোকাবিলায় জনসংখ্যা নীতি কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্রটি সদ্য স্বাধীনতা অর্জন করেছে। দেশটি পুনর্গঠনের কাজে হাত দিয়ে সরকার বেশকিছু সমস্যার সম্মুখীন হয়। দেশটির জনসংখ্যার ঘনত্ব অন্যান্য রাষ্ট্রের তুলনায় অনেক বেশি। দেশের জনগণের মৌল মানবিক চাহিদা পূরণেও সরকার হিমশিম খাচ্ছে। এর ফলে অন্যান্য উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না। এক্ষেত্রে 'ক' রাষ্ট্রের সরকারকে প্রথমেই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য জনসংখ্যা নীতি প্রণয়ন করতে - হবে। কারণ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে মানুষের মৌল মানবিক চাহিদা পূরণ ও দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।
'ক' রাষ্ট্রে উক্ত নীতি অর্থাৎ জনসংখ্যা নীতির সঠিক বাস্তবায়ন না ঘটলে তা ভয়াবহ বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে বলে আমি মনে করি।
জনসংখ্যা নীতির মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহারে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা হয়। এর ফলে প্রজনন হার অনেকাংশে হ্রাস পায়। এ কর্মসূচি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এ নীতির আওতায় কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা, প্রজনন স্বাস্থ্য, এইডস বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও কাউন্সেলিং সেবা দেওয়া হয়। এর ফলে তারা এ সব বিষয়ে সচেতন হয়ে ওঠে। কিন্তু 'ক' রাষ্ট্রে যদি এ কর্মসূচিটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত না হয় তাহলে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না।
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে 'ক' দেশটিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধিজনিত সমস্যা দেখা দেবে। দেশটি মানুষের মৌল মানবিক চাহিদা যেমন খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ইত্যাদি পূরণে ব্যর্থ হবে। দেশটিতে দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, বেকারত্ব, পুষ্টিহীনতা, মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে দেশটি ভয়াবহ অবস্থার সম্মুখীন হবে।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় যে, 'ক' দেশটিতে জনসংখ্যা নীতির বাস্তবায়ন না ঘটলে দেশটিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
Related Question
View AllMDG-র পূর্ণরূপ Millennium Development Goals |
জনসংখ্যা সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত সরকারি নীতিই জনসংখ্যা নীতি।
যে কোনো দেশের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো সে দেশের জনসংখ্যা। অর্থাৎ দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সম্পদের সাথে জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষা, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা আবশ্যক। সঠিকভাবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে শিক্ষিত ও দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে গৃহীত নীতিকেই জনসংখ্যা নতি বলা হয়।
শীলার কর্মকান্ডের সাথে বিখ্যাত সমাজ সংস্কারক বেগম রোকেয়ার মিল রয়েছে।
বেগম রোকেয়া ছিলেন বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত। তিনি মুসলিম নারীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলার জন্য তাদের সংগঠিত করতে চেষ্টা করেন। তিনি মুসলিম নারীদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, শিক্ষার প্রসার নেতৃত্বের গুণাবলির বিকাশ এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯১৬ সালে 'আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম' বা মুসলিম মহিলা সমিতি' নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। এ সংগঠনের মাধ্যমে তিনি দরিদ্র বালিকাদের শিক্ষাদান, বিধবা ও আশ্রয়হীন মহিলাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করতেন। উদ্দীপকের শীলার কর্মকাণ্ডেও এ বিষয়গুলো পরিলক্ষিত হয়।
শীলা উচ্চ শিক্ষা শেষ করে গ্রামে ফিরে যান। তিনি তার এলাকার অধিকার বঞ্চিত নারীদের সংগঠিত, শিক্ষাদান করে তাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং অধিকার নিশ্চিত করতে একটি মহিলা সমিতি ও নারী শিক্ষাকেন্দ্র চালু করেছেন। তার এই কর্মকাণ্ড উপরে বর্ণিত বেগম রোকেয়ার কর্মকাণ্ডের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শীলার কাজের সাথে বেগম রোকেয়ার কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে।
রূপপুর গ্রামের চেয়ারম্যান নারীদের উন্নয়নে সরকারের জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিয়েছেন যার কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য রয়েছে।
নারীর সার্বিক উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ সরকার জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ প্রণয়ন করেছে। জাতীয় জীবনের সব ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা, নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, তাদের শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা, দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে রক্ষা, সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করা প্রভৃতি জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ এর প্রধান উদ্দেশ্য। এর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও পারিবারিক জীবন সব ক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে তাদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অন্যান্য কারণে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের পুনর্বাসন, অভিভাবকহীন, বিধবা, অসহায় নারীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা প্রভৃতির উদ্দেশ্যও এ নীতির লক্ষ হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।
উদ্দীপকের রূপপুর গ্রামের নারীরা পুরুষের সমান পরিশ্রম করেও তাদের সমান মজুরি পায় না। শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো অধিকার থেকেও তারা বঞ্চিত। নারী-পুরুষের এই বৈষম্য দূরীকরণ ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সরকার জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ প্রণয়ন করেছে। আর রূপপুর গ্রামের চেয়ারম্যান তার গ্রামের নারীদের উন্নয়নের জন্য এ নীতি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, রূপপুর গ্রামের চেয়ারম্যান তার গ্রামের নারীদের উন্নয়নে সরকার প্রণীত জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ বাস্তবায়নে কাজ করছেন। আর এ নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো নারীর সার্বিক উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা
নয়টি দেশের সমাজকর্ম বিশেষজ্ঞদের নিয়ে 'Study Group' গঠন করা হয়।
সমাজের অবহেলিত ও পশ্চাৎপদ শ্রেণির স্বার্থ সংরক্ষণে সমাজকর্মীর গুরুত্ব অপরিসীম।
সমাজকর্ম পেশায় নিয়োজিত সমাজকর্মীরা সমাজের অবহেলিত ও পশ্চাৎপদ শ্রেণির স্বার্থ সংরক্ষণ এবং তাদের সেবায় বিশেষভাবে নিয়োজিত থাকে। অবহেলিত বঞ্চিত ও শোষিত শ্রেণির অধিকার রক্ষা এবং সর্বোপরি সমাজে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণে পেশাদার সমাজকর্মীর ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ববহ। বিশেষ করে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও পুনরুদ্ধারে সমাজকর্মীরা বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!