বাংলাদেশে সর্বশেষ ২০১১ সালে জাতীয় শিশুনীতি প্রণয়ন করা হয়।
সামাজিক পরিবর্তন বলতে সামাজিক ব্যবস্থার স্থায়ী ও অপরিহার্য অংশের পরিবর্তনকে বোঝায়।।
সামাজিক পরিবর্তনের ফলে সমাজ কাঠামোয় পরিবর্তন হয়। এর ফলে সমাজের একটি অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তর ঘটে। সমাজের বৃহত্তর কল্যাণে সামাজিক পরিবর্তন একটি অবশ্যম্ভাবী বিষয়।
উদ্দীপকের 'ক' নামক রাষ্ট্রে প্রণীত নীতির সাথে বাংলাদেশে প্রণীত বাংলাদেশ জনসংখ্যানীতি-২০১২ সামাজিক নীতির মিল রয়েছে।
সাধারণত জনসংখ্যা সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিবর্তন, উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত সরকারি সামাজিক নীতিই জনসংখ্যানীতি। জনসংখ্যা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে পরিকল্পিতভাবে দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে জনসংখ্যানীতি-২০১২ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ নীতির প্রধান উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণ, প্রজনন স্বাস্থ্য, মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস, নারী পুরুষের সমতা, জনসম্পদ সৃষ্টি অন্যতম। উক্ত বিষয়গুলো উদ্দীপকে নির্দেশিত নীতির ক্ষেত্রেও দেখা যায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' নামক রাষ্ট্রে ২০১২ সালে প্রণীত একটি নীতির উদ্দেশ্য পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণ, নারী-পুরুষের সমতা, মানুষকে সম্পদে পরিণতকরণ ইত্যাদি। এ নীতিতে বাংলাদেশ জনসংখ্যানীতি-২০১২ এর প্রতিফলন ঘটেছে। বাংলাদেশে প্রণীত জনসংখ্যানীতিতে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির ব্যবস্থার ৭২% এ উন্নীত করে মোট প্রজনন হার ২.১-এ হ্রাস করার কথা বলা হয়েছে। এ নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস এবং নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিতকরণ, নারী-পুরুষের সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নকে জোরদার করা। জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে অধিক গুরুত্ব দেয়ার বিষয় উল্লেখ রয়েছে। উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের প্রণীত নীতিতেও এ বিষয়গুলোই দেখা যায়। তাই বলা যায়, 'ক' রাষ্ট্রের প্রণীত নীতি এবং বাংলাদেশ জনসংখ্যানীতি-২০১২ সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত অর্থাৎ বাংলাদেশ জনসংখ্যানীতি-২০১২ নীতিটি জাতীয় উন্নয়নে অতীব গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় জনসংখ্যা নীতিতে মানুষকে উন্নয়নের মূল উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মানুষের স্বাস্থ্যকর ও উৎপাদনশীল জীবনের অধিকারকে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা জোরদারকরণ, পরিবার-পরিকল্পনা সেবার মান বৃদ্ধি, পরিকল্পিত নগরায়ন
সামাজিক বনায়ন, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদির প্রতি জনসংখ্যানীতিতে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। যা জাতীয় উন্নয়নে আবশ্যক।উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত নীতিটি বাংলাদেশ জনসংখ্যানীতি-২০১২ নীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। জাতীয় উন্নয়নে ও নীতির বাস্তবায়ন অনস্বীকার্য। বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম জনবহুল দেশ। এদেশের জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানে জনসংখ্যা নীতি অনুসরণীয়। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণও জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে বাংলাদেশ সরকার এ নীতি গ্রহণ করেছে। পরিবার-পরিকল্পনা কর্মসূচির প্রসার এবং মা ও শিশুস্বাস্থ্যসহ প্রজনন নীতির উদ্দেশ্যগুলো - বাস্তবায়ন হলো দেশের সার্বিক উন্নয়ন সাধন হবে। অন্যথায়, দেশ জনসংখ্যা সমস্যা নামক মারাত্মক বিপর্যয়ের সম্মুখীণ হবে।
সুতরাং বলা যায়, জাতীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশ জনসংখ্যানীতি-২০১২ এর বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
Related Question
View AllMDG-র পূর্ণরূপ Millennium Development Goals |
জনসংখ্যা সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত সরকারি নীতিই জনসংখ্যা নীতি।
যে কোনো দেশের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো সে দেশের জনসংখ্যা। অর্থাৎ দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সম্পদের সাথে জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষা, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা আবশ্যক। সঠিকভাবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে শিক্ষিত ও দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে গৃহীত নীতিকেই জনসংখ্যা নতি বলা হয়।
শীলার কর্মকান্ডের সাথে বিখ্যাত সমাজ সংস্কারক বেগম রোকেয়ার মিল রয়েছে।
বেগম রোকেয়া ছিলেন বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত। তিনি মুসলিম নারীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলার জন্য তাদের সংগঠিত করতে চেষ্টা করেন। তিনি মুসলিম নারীদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, শিক্ষার প্রসার নেতৃত্বের গুণাবলির বিকাশ এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯১৬ সালে 'আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম' বা মুসলিম মহিলা সমিতি' নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। এ সংগঠনের মাধ্যমে তিনি দরিদ্র বালিকাদের শিক্ষাদান, বিধবা ও আশ্রয়হীন মহিলাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করতেন। উদ্দীপকের শীলার কর্মকাণ্ডেও এ বিষয়গুলো পরিলক্ষিত হয়।
শীলা উচ্চ শিক্ষা শেষ করে গ্রামে ফিরে যান। তিনি তার এলাকার অধিকার বঞ্চিত নারীদের সংগঠিত, শিক্ষাদান করে তাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং অধিকার নিশ্চিত করতে একটি মহিলা সমিতি ও নারী শিক্ষাকেন্দ্র চালু করেছেন। তার এই কর্মকাণ্ড উপরে বর্ণিত বেগম রোকেয়ার কর্মকাণ্ডের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শীলার কাজের সাথে বেগম রোকেয়ার কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে।
রূপপুর গ্রামের চেয়ারম্যান নারীদের উন্নয়নে সরকারের জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিয়েছেন যার কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য রয়েছে।
নারীর সার্বিক উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ সরকার জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ প্রণয়ন করেছে। জাতীয় জীবনের সব ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা, নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, তাদের শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা, দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে রক্ষা, সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করা প্রভৃতি জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ এর প্রধান উদ্দেশ্য। এর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও পারিবারিক জীবন সব ক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে তাদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অন্যান্য কারণে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের পুনর্বাসন, অভিভাবকহীন, বিধবা, অসহায় নারীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা প্রভৃতির উদ্দেশ্যও এ নীতির লক্ষ হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।
উদ্দীপকের রূপপুর গ্রামের নারীরা পুরুষের সমান পরিশ্রম করেও তাদের সমান মজুরি পায় না। শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো অধিকার থেকেও তারা বঞ্চিত। নারী-পুরুষের এই বৈষম্য দূরীকরণ ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সরকার জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ প্রণয়ন করেছে। আর রূপপুর গ্রামের চেয়ারম্যান তার গ্রামের নারীদের উন্নয়নের জন্য এ নীতি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, রূপপুর গ্রামের চেয়ারম্যান তার গ্রামের নারীদের উন্নয়নে সরকার প্রণীত জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ বাস্তবায়নে কাজ করছেন। আর এ নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো নারীর সার্বিক উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা
নয়টি দেশের সমাজকর্ম বিশেষজ্ঞদের নিয়ে 'Study Group' গঠন করা হয়।
সমাজের অবহেলিত ও পশ্চাৎপদ শ্রেণির স্বার্থ সংরক্ষণে সমাজকর্মীর গুরুত্ব অপরিসীম।
সমাজকর্ম পেশায় নিয়োজিত সমাজকর্মীরা সমাজের অবহেলিত ও পশ্চাৎপদ শ্রেণির স্বার্থ সংরক্ষণ এবং তাদের সেবায় বিশেষভাবে নিয়োজিত থাকে। অবহেলিত বঞ্চিত ও শোষিত শ্রেণির অধিকার রক্ষা এবং সর্বোপরি সমাজে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণে পেশাদার সমাজকর্মীর ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ববহ। বিশেষ করে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও পুনরুদ্ধারে সমাজকর্মীরা বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!