যা বিনিময়ের মাধ্যম, মূল্যের পরিমাপক ও সঞ্চয়ের বাহন হিসেবে কাজ করে তাকে অর্থ বলে।
নিকাশ ঘর হলো এমন একটি স্থান, যেখানে একটি নিকাশ পদ্ধতির মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট এলাকা বা অঞ্চলের ব্যাংকসমূহ পরস্পরের মধ্যে দেনা-পাওনা সংক্রান্ত হিসাবের নিষ্পত্তি করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিকাশ ঘর বলতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক বিভিন্ন ব্যাংকের দেনা-পাওনা নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াকে বোঝায়। বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ বিভিন্ন চেক, ড্রাফট, হুন্ডি প্রভৃতি ভাঙানোর মাধ্যমে একে অন্যের নিকট পাওনাদার হয়। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ লেনদেনের 'নিকাশ ঘর' হিসেবে পারস্পরিক দেনা-পাওনার হিসাব পরিশোধ করে।
জাউদ্দীপকের 'ক' প্রতিষ্ঠানটি দ্বারা গ্রামীণ ব্যাংককে নির্দেশ করা হয়েছে।
ব্যাংকটি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গ্রামীণ ব্যাংক হলো এমন একটি ক্ষুদ্র ঋণদানকারী সংস্থা যা ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। গ্রামাঞ্চলের দারিদ্র্য নিরসনের উপায় হিসেবে গরিব ও দুঃস্থ নারী পুরুষের মধ্যে বিনা জামানতে ঋণ সরবরাহ ও তাদের আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধ করার জন্যই এ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা - হয়। স্বল্প সময়ে আয় বাড়ানোর মাধ্যমে ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করা হয় এমন কাজগুলোতে অংশগ্রহণে এ ব্যাংক সাহায্য করে থাকে। অসহায় ও -সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে একটি প্রতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় - সংঘবদ্ধ করা, গ্রামীণ মহাজনদের শোষণ থেকে দারিদ্র্য জনগণকে রক্ষা - করা, ভূমিহীন, ছিন্নমূল ও গরিব পরিবারের মহিলাদের জন্য কাজের ব্যবস্থা করা এই ব্যাংকের প্রধান উদ্দেশ্য। গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল করার জন্য এ ব্যাংক ক্ষুদ্র ব্যবসায় সংক্রান্ত কাজ, গ্রামীণ শিল্প, পশুপালন, মৎস্য, হাঁস-মুরগি পালন, কৃষি ও বনায়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে কোনো জামানত • ছাড়াই ঋণ প্রদান করে থাকে। গ্রামীণ ব্যাংকের উপরিউক্ত কার্যক্রমগুলো বিশ্লেষণের আলোকে বলা যায়, শ ব্যাংকটি দেশের সুবিধা বঞ্চিত হতদরিদ্র মানুষের অবস্থার উন্নয়নে যে - ভূমিকা পালন করে তা অনিস্বীকার্য।
উদ্দীপকের 'খ' প্রতিষ্ঠানটি হলো বাণিজ্যিক ব্যাংক। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ভূমিকা আলোচনা করা হলো-
বাণিজ্যিক ব্যাংক এমন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান যা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অর্থ আমানত হিসেবে জমা রাখে এবং ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী স্বল্প মেয়াদি ঋণ প্রদান করে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাণিজ্যিক ব্যাংক নানাভাবে সাহায্য করছে।
বাণিজ্যিক ব্যাংক নিয়মিত সঞ্চয় সংগ্রহ করে দেশের ব্যবসায়ীদের তা ঋণের মাধ্যমে প্রদান করে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে ব্যাপক অবদান রাখছে। এতে দেশে যেমন জাতীয় আয় বাড়ছে তেমনি দেশের মানুষের ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়া, বাণিজ্যিক ব্যাংক বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন- কৃষি, শিল্প প্রভৃতিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে ঐ ক্ষেত্রসমূহের উন্নতিতে অবদান রাখছে, যা সার্বিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করে। এ ব্যাংক প্রয়োজনীয় তথ্য দানের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ঋণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা ছাড়াও মুদ্রামান সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় সহায়তা করে থাকে। এছাড়াও বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ বিনিময়ের মাধ্যমে (চেক, ব্যাংক ড্রাফট, ভ্রমণকারী চেক, হুন্ডি) সৃষ্টি করে ব্যবসা বাণিজ্যকে গতিশীল করে তুলেছে। আবার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাণিজ্যে অর্থের যোগান, দ্রব্য আদান প্রদান, ক্রেতা বিক্রেতার দেনা পাওনা নিষ্পত্তি ইত্যাদি কার্যক্রম সম্পাদন করে এ ব্যাংক ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটাচ্ছে।
পরিশেষে বলা যায়, আধুনিক জগতের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাংক একটি নির্ভরযোগ্য ও অপরিহার্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে যা অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
Related Question
View Allমানুষের এক দ্রব্যের পরিবর্তে সরাসরি অন্য দ্রব্য বিনিময় করে অভাব পূরণ করার ব্যবস্থাকে বিনিময় প্রথা বলে।
অধিকাংশ দ্রব্যসামগ্রী পচনশীল এবং দীর্ঘকালে সংরক্ষণ উপযোগী না হওয়ায় সঞ্চয়ের বাহন হিসেবে অর্থকেই অধিক উপযুক্ত বলে বিবেচনা করা হয়।
আবার এমন কিছু দ্রব্যসামগ্রী রয়েছে (স্বর্ণ, রূপা) যেগুলো মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হলেও সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে এদের মূল্যমানের পরিবর্তন ঘটে। এমতাবস্থায় সঞ্চিত দ্রব্যের বর্তমান মূল্য ও ভবিষ্যৎ মূল্যের মধ্যে তারতম্য দেখা দিতে পারে। কিন্তু অর্থ দ্বারা সবকিছু ক্রয়-বিক্রয় তথা সহজেই বিনিময় করা যায়। তাছাড়া সময়ের বিবর্তনের সাথে এর বিনিময় মূল্যের সামঞ্জস্যতা বজায় থাকায় সঞ্চয়ের বাহন হিসেবে অর্থকেই অধিকতর নিরাপদ ও সুবিধাজনক বলা যায়। তাই অর্থ সঞ্চয়ের উৎকৃষ্ট বাহন হিসেবে কাজ করে।
রত্না যে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তা কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে পরিচিত।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক হলো একটি দেশের শ্রেষ্ঠতম আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যা সরকারি মালিকানার অধীনে দেশের মুদ্রা বাজারের প্রাণকেন্দ্র রূপে কাজ করে। এটি একটি দেশের সকল ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক, পরিচালক ও অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। এ ব্যাংক নোট ও ধাতব মুদ্রা প্রচলন, সরকার ও অন্যান্য ব্যাংকের ব্যাংকার, বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ কর্তৃক সৃষ্ট ঋণ নিয়ন্ত্রণ, আন্তঃব্যাংকের দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি, অর্থের অভ্যন্তরীণ ও বহির্মুল্যের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সরকারের আর্থিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করে। অন্যান্য ব্যাংকের মতো কেবল মুনাফা অর্জনই এ ব্যাংকের উদ্দেশ্য নয়; বরং দেশের উন্নয়নের স্বার্থে মুদ্রা ও ঋণ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, উন্নয়ন ও জনকল্যাণ সাধনই এর মুখ্য উদ্দেশ্য।
উদ্দীপকের রত্নার কর্মরত প্রতিষ্ঠানটি জনগণকে ঋণ দিতে পারে না, কিন্তু এটি অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিচালনার ক্ষেত্রে পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করে। তার ব্যাংক অন্যান্য ব্যাংকের ঋণ তদারকি করে। অন্যান্য ব্যাংকগুলো তারল্য সমস্যার মুখোমুখি হলে এ ব্যাংক ঋণ আকারে অর্থ প্রদান করে এসব সমস্যা সমাধান করে।
রত্না যে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তা হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক; আর তার বান্ধবী যে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তা হলো একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক।
নিচে এ দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করা হলো-কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশে কাগজি নোট ও ধাতব মুদ্রা প্রচলনকারী একমাত্র আর্থিক প্রতিষ্ঠান; কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংক কাগজি নোট ও ধাতব মুদ্রা বাদে বিনিময়ের অন্যান্য মাধ্যম তথা চেক, ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার ইত্যাদি প্রচলন করতে পারে। প্রত্যেক দেশে একটি মাত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংক থাকে; কিন্তু একটি দেশে অনেক বাণিজ্যিক ব্যাংক থাকতে পারে। জনসেবা ও দেশের সার্বিক কল্যাণ সাধন করাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য; কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জন করা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ সৃষ্টি করে না; কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংক নিজেদের কাছে গচ্ছিত আমানতের বিপরীতে ঋণ সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া, কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান; কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো পরস্পর প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান। তাছাড়া, কেন্দ্রীয় ব্যাংক জনগণের সাথে প্রত্যক্ষ লেনদেন করে না; কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংক জনসাধারণের সাথে আর্থিক লেনদেনের জন্যই সৃষ্ট। এভাবে রত্নার প্রতিষ্ঠানের সাথে তার বান্ধবীর প্রতিষ্ঠানের পার্থক্য বিশ্লেষণ করা যায়। এক্ষেত্রে রত্নার প্রতিষ্ঠান তার বান্ধবীর প্রতিষ্ঠানের পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করে এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক হয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।
যে অর্থ দেশের জনসাধারণ গ্রহণ করতে আইনগতভাবে বাধ্য থাকে তাকে বিহিত অর্থ বলে।
নিকাশ ঘর হলো এমন একটি স্থান বা প্রতিষ্ঠান, যেখানে একটি নিকাশ পদ্ধতির মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট এলাকা বা অঞ্চলের ব্যাংকসমূহ পরস্পরের মধ্যে দেনা-পাওনা সংক্রান্ত হিসাবের নিষ্পত্তি করে। নিকাশ ঘর বলতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক বিভিন্ন ব্যাংকের দেনা-পাওনা নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াকে বোঝায়। বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ বিভিন্ন চেক, ড্রাফট, হুন্ডি প্রভৃতি ভাঙানোর মাধ্যমে একে অন্যের নিকট পাওনাদার হয়। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ লেনদেনের 'নিকাশ ঘর' হিসেবে পারস্পরিক দেনা- পাওনার হিসাব পরিশোধ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!