পাকিস্তানি শাসনামলে মোট জনসংখ্যার শতকরা প্রায় ৫৬ জন বাংলা ভাষায় কথা বলতো।
আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্র হলো এক ধরনের সীমিত গণতন্ত্র, যাতে কেবল নির্দিষ্টসংখ্যক লোকের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অধিকার ছিল।
জেনারেল আইয়ুব খান ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য এ ধরনের অদ্ভূত ও নতুন নির্বাচন কাঠামো প্রবর্তন করেন। ১৯৫৯ সালে মৌলিক গণতন্ত্রের আদেশ জারি করা হয়। এটি ছিল একটি চারস্তর বিশিষ্ট নির্বাচন ব্যবস্থা।
উদ্দীপকে পাকিস্তানি শাসনামলের অর্থনৈতিক বৈষম্য ফুটে উঠেছে।
পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক ভয়াবহ বৈষম্যের শিকার হয় অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। এ কারণে পূর্ব পাকিস্তান কখনো অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারেনি। প্রাদেশিক সরকারের হাতে মুদ্রাব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। কেন্দ্রের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে থাকায় পূর্ব পাকিস্তানের সব আয় পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যেতো। রপ্তানি বাণিজ্যে পূর্ব পাকিস্তানের অবদান বেশি ছিল। ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত মোট রপ্তানি আয়ে পূর্ব পাকিস্তানের অবদান ছিল ৫৪.৭% কিন্তু রপ্তানি আয়ে এগিয়ে থাকলেও আমদানি ব্যয়ে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ছিল মাত্র ৩১.১%। পূর্ব পাকিস্তানের রাজস্বও পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার হয়ে যেতো। এ ধরনের সীমাহীন বৈষম্যের ফলে ১৯৭১ সালে সব ধরনের বৈষম্য ও অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে বাঙালি জাতি মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
উদ্দীপকের 'খ' প্রদেশটি 'ক' প্রদেশ দ্বারা শাসিত। 'খ' প্রদেশের বিভিন্ন কৃষিপণ্য রপ্তানির মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জিত হয়। তবে অর্জিত অর্থ চলে যায় 'ক' প্রদেশে। ফলে 'খ' প্রদেশের মানুষ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবহেলিত ও বঞ্চিত হয়। উদ্দীপকের 'ক' এবং 'খ' প্রদেশের এই বৈষম্য দ্বারা মূলত পাকিস্তান আমলে পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানে অর্থনৈতিক বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছে।
না, শুধুমাত্র অর্থনৈতিক বৈষম্যই বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেনি। বরং রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভৃতি বৈষম্য মুক্তিযুদ্ধের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পরপরই পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের ক্ষমতার আসল নিয়ন্তা হয়ে ওঠে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। প্রথম থেকেই পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক শোষণ, বঞ্চনা ও নিপীড়নের শিকার হতে থাকে।
১৯৬২ সালে পাকিস্তানের মন্ত্রণালয়গুলোতে শীর্ষস্থানীয় ৯৫৪ জন কর্মকতার মধ্যে বাঙালি ছিল মাত্র ১১৯ জন। ১৯৬৬ সালে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের ৪২০০০ কর্মকর্তার মধ্যে বাঙালি ছিল মাত্র ২৯০০ জন। পাকিস্তান সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের ক্ষেত্রে যে কোটা পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়, তাতে ৬০% পাঞ্জাবি, ৩৫% পাঠান এবং মাত্র ৫% পশ্চিম পাকিস্তানের অন্যান্য অংশ ও পূর্ব পাকিস্তানের জন্য নির্ধারণ করা হয়। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এমনকি বাঙালির মুখের ভাষার ওপরও নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়েছিল।
এছাড়া পাকিস্তান শাসনামলে শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য ছিল চোখে পড়ার মতো। ১৯৫৫ সাল থেকে ১৯৬৭ সালের মধ্যে শিক্ষাখাতে পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ছিল ২০৮৪ মিলিয়ন রুপি, যেখানে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ছিল মাত্র ৭৯৭ মিলিয়ন রুপি।
পরিশেষে বলা যায়, শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রভৃতি ক্ষেত্রে পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানিদের ওপর বৈষম্যমূলক নীতি অনুসরণ করেছে। যার ফলে বাঙালিরা ক্রমাগত শোষণ বঞ্চনা থেকে বাঁচতে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে নিজেদের দেশ স্বাধীন করেছে।
Related Question
View All১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে ফাতেমা জিন্নাহকে COP-এর পক্ষে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী করা হয়।
জেনারেল আইয়ুব খান মৌলিক গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন।
মৌলিক গণতন্ত্র ইউনিয়ন পরিষদ, থানা পরিষদ, তহসিল পরিষদ (পশ্চিম পাকিস্তানে), জেলা পরিষদ, বিভাগীয় পরিষদ এ চারটি স্তরে বিভক্ত ছিল। মৌলিক গণতন্ত্রের আওতায় পাকিস্তানের উভয় অংশে ৪০০০০ করে মোট ৮০০০০ নির্বাচনি ইউনিট নিয়ে দেশের নির্বাচকমণ্ডলী গঠিত হয়। বিডি মেম্বারগণ বা মৌলিক গণতন্ত্রীদের আস্থা ভোটে আইয়ুব খানকে ১৯৬০ সালে পরবর্তী ৫ বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা হয়।
উল্লিখিত ছকে পাকিস্তানি আমলে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের প্রশাসনিক বৈষম্য প্রদর্শন করা হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রশাসনিক ক্ষেত্রে মূল চালিকাশক্তি ছিল সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তাগণ। ১৯৬২ সালে পাকিস্তানের মন্ত্রণালয়গুলোতে শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার ৯৫৪ জনের মধ্যে বাঙালি ছিল মাত্র ১১৯ জন। আর ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের ৪২০০০ কর্মকর্তার মধ্যে বাঙালি ছিল মাত্র ২৯০০ জন।
আর ১৯৪৭ সালে করাচিতে রাজধানী হওয়ায় সকল সরকারি অফিস আদালতে পশ্চিম পাকিস্তানিরা ব্যাপকহারে চাকরি লাভ করে। তাছাড়া ১৯৬৬ সালে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে গেজেটেড কর্মকর্তা ছিল যথাক্রমে ১৩৩৮ ও ৩৭০৮ জন এবং নন-গেজেটেড কর্মকর্তা ছিল যথাক্রমে ২৬৩১০ ও ৮২৯৪৪ জন।
এ বিষয়গুলোতে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের প্রশাসনিক বৈষম্য ফুটে উঠেছে।
ছকে বর্ণিত বৈষম্য তথা প্রশাসনিক বৈষম্য বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের একমাত্র কারণ নয় বলে আমি মনে করি।
প্রশাসনিক বৈষম্য ছাড়াও পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের আরো অনেকগুলো বৈষম্য বিদ্যমান ছিল। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের জন্মের পর থেকেই সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ব পাকিস্তানকে রাজনৈতিকভাবে পঙ্গু করে পশ্চিম পাকিস্তানের মুখাপেক্ষী করে রাখা হয়। লাহোর প্রস্তাবে পূর্ণ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের কথা বলা হলেও পাকিস্তানি শাসকেরা প্রথম থেকেই এ বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করে। তারা ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচিত সরকারকে অন্যায়ভাবে উচ্ছেদ করে এবং ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন জারি করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেয়। এছাড়া সামরিক বাহিনীতে বাঙালিদের প্রতিনিধিত্ব ছিল অতি নগণ্য। ১৯৫৫ সালের এক হিসাবে দেখা যায়, সামরিক বাহিনীর মোট ২২১১ জন কর্মকর্তার মধ্যে বাঙালি ছিল মাত্র ৮২ জন।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কেন্দ্রের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে পূর্ব পাকিস্তানের সকল আয় পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যায়। তাছাড়াও শিক্ষা, সামজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও পশ্চিম পাকিস্তানিরা বাঙালিদের ওপর বৈষম্যের স্টিম রোলার চালিয়েছিল।
এসব বৈষম্যের শিকার হয়েই বাঙালি স্বাধিকার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।
সোভিয়েত প্রধানমন্ত্রী কোসিগিনের মধ্যস্থতায় তাসখন্দ শহরে ভারত ও পাকিস্তানের মাঝে যুদ্ধ-বিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
১৯৬৯ সালের আসাদ হত্যার প্রতিবাদ মিছিলে মতিউর নিহত হয়।
আসাদ হত্যার প্রতিবাদে ১৯৬৯ সালের ২২, ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি তারিখে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। ২৪ জানুয়ারি তারিখে সারা দেশে হরতাল চলাকালে সর্বস্তরের মানুষের ব্যাপক ঢল নামে। আবারও পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র কিশোর মতিউর নিহত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!