উত্তরঃ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৩৬ সালে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি প্রদান করে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

"আমার মাথার দিব্যি রইল, এসব তুমি আর কখনো করো না"—উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'মহেশ' গল্পে জমিদারপুত্র করেছে দরিদ্র কৃষক গফুরকে উদ্দেশ্য করে। মহেশ নামের গরুটি অন্যের ক্ষেতের ফসল নষ্ট করায় জমিদারপুত্র গফুরকে এই সতর্কবাণী শুনিয়েছিল।

এই উক্তির মাধ্যমে জমিদারপুত্র গফুরকে কঠোরভাবে ভর্ৎসনা করে এবং ভবিষ্যতে তার গরুকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ না করলে গুরুতর শাস্তির হুমকি দেয়। 'মাথার দিব্যি' শব্দবন্ধটি এখানে একটি চূড়ান্ত সতর্কীকরণ এবং কড়া শপথের ইঙ্গিত বহন করে, যা জমিদারপুত্র নিজের কর্তৃত্ব প্রদর্শনের জন্য ব্যবহার করেছে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

'মহেশ' গল্পে গফুরের যে জীবনবাস্তবতা চিত্রিত হয়েছে, তার সাথে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বিলাসী' গল্পের মানবজীবনের অসহায়তা, সামাজিক বৈষম্য ও কুসংস্কারের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ। উভয় গল্পেই সমাজ ও অর্থনীতির নির্মম শিকার সাধারণ মানুষের দুর্দশা, শোষণ এবং ন্যায়বিচারের অভাব সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

উদ্দীপকের 'মহেশ' গল্পে গফুর একজন দরিদ্র, শোষিত কৃষক। সে তার প্রিয় গরু মহেশকে ঠিকমতো খাবার দিতে পারে না এবং ফসল নষ্ট করার অভিযোগে জমিদারের শাস্তি ভোগ করে। তৃষ্ণার্ত মহেশ যখন আমিনার মাটির পাত্র ভেঙে ফেলে, তখন রাগান্বিত গফুর লাঙলের ফলা দিয়ে আঘাত করলে মহেশ মারা যায়। এই ঘটনাপ্রবাহ গফুরের চরম দারিদ্র্য, অসহায়ত্ব এবং তৎকালীন সামন্ততান্ত্রিক সমাজের শোষণের চিত্র তুলে ধরে। গো-হত্যার প্রায়শ্চিত করতে তাকে রাতের আঁধারে মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যেতে হয়, যা তার জীবনবাস্তবতার নিদারুণ করুণ দিককে তুলে ধরে।

শরৎচন্দ্রের 'বিলাসী' গল্পেও সমাজের প্রান্তিক মানুষের প্রতি সমাজের উদাসীনতা, মানবিক মূল্যবোধের অভাব এবং কুসংস্কারাচ্ছন্নতার কারণে মানুষের চরম অসহায়ত্ব ফুটে উঠেছে। ন্যাড়ার প্রতি সমাজের নিষ্ঠুর আচরণ, বিলাসী ও ন্যাড়ার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে সামাজিক বিরূপতা এবং সাপুড়েদের প্রতি সমাজের হেয় দৃষ্টি—এই সবকিছুই গফুরের মতো শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের জীবনবাস্তবতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। উভয় গল্পেই তৎকালীন সমাজের জটিল কাঠামোতে সাধারণ মানুষের টিকে থাকার সংগ্রাম ও বঞ্চনার করুণ আলেখ্য উপস্থাপিত হয়েছে, যেখানে মানুষ নিরুপায় হয়ে ভাগ্যকে মেনে নিতে বাধ্য হয় অথবা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের 'গো-হত্যা' এবং বিলাসী গল্পের 'অন্নপাপ' উভয়ই সমাজের শোষণ, দারিদ্র্য ও মানবিক দুর্গতির এক গভীর সম্পর্ককে তুলে ধরে, যা একই সূত্রে গাঁথা। এই দুটি ধারণা প্রান্তিক মানুষের অসহায়ত্ব এবং প্রচলিত সামাজিক কাঠামোর নিষ্ঠুরতাকে প্রতীকীভাবে উপস্থাপন করে।

'মহেশ' গল্পের উদ্দীপকে গফুরের 'গো-হত্যা' নিছক একটি পশুহত্যা নয়, বরং চরম দারিদ্র্য, জমিদারের শোষণ এবং প্রকৃতির নির্মমতার শিকার এক অসহায় মানুষের করুণ পরিণতি। প্রিয় মহেশকে খাবার দিতে না পারা, ফসল নষ্টের জন্য জমিদারের শাস্তি ভোগ, এবং তৃষ্ণার্ত মহেশের পানি পানের জন্য মাটির পাত্র ভাঙা – এসবই গফুরকে মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। রাগের বশে মহেশকে আঘাত করে হত্যা করা গফুরের ইচ্ছাকৃত কাজ ছিল না, বরং তার নিরুপায়ত্বের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। এই হত্যা তার সকল আশা, স্বপ্ন ও টিকে থাকার শেষ অবলম্বন ভেঙে দেয়, যা তাকে রাতের আঁধারে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য করে। এটি সমাজের প্রান্তিক মানুষের উপর চেপে বসা অন্যায় ও শোষণের নির্মম চিত্র।

অন্যদিকে, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বিলাসী' গল্পের 'অন্নপাপ' তৎকালীন হিন্দু সমাজের জাতিভেদ প্রথা ও কুসংস্কারের শিকার মানুষের লাঞ্ছনা ও অপমানের প্রতীক। 'অন্নপাপ' বলতে মূলত বোঝায় ভিন্ন জাতি বা অচ্ছুত শ্রেণির হাতে রান্না করা খাবার গ্রহণ করলে ধর্মীয় ও সামাজিক পদস্খলন ঘটা। মৃত্যুঞ্জয় ব্রাহ্মণ হয়েও সাপের কামড়ে অসুস্থ অবস্থায় নিম্নবর্ণের বিলাসী কর্তৃক সেবাপ্রাপ্ত হয়ে তার হাতেই অন্ন গ্রহণ করায় সমাজ তাকে 'জাতিচ্যুত' ঘোষণা করে। এই 'অন্নপাপ' কেবল খাদ্যগ্রহণের বিষয় নয়, বরং সামাজিক বঞ্চনা, অসহায়ত্ব এবং প্রচলিত প্রথার বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদ। বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের জীবন একদিকে ভালোবাসার জয়, অন্যদিকে অমানবিক সামাজিক ব্যবস্থার নির্মমতার শিকার।

মূলত, 'মহেশ' গল্পের 'গো-হত্যা' এবং 'বিলাসী' গল্পের 'অন্নপাপ' উভয়ই সমাজ কর্তৃক চাপিয়ে দেওয়া চরম দারিদ্র্য, অমানবিক শোষণ এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন প্রথার ফলস্বরূপ সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়কে নির্দেশ করে। গফুর যেমন দারিদ্র্য ও শোষণের শিকার হয়ে নিজের প্রিয় পশুকে হত্যা করতে বাধ্য হয়, যা তার জীবনে চূড়ান্ত বিপর্যয় নিয়ে আসে; তেমনি মৃত্যুঞ্জয়ও সমাজের জাতিভেদ প্রথার শিকার হয়ে 'অন্নপাপ'-এর দায়ে জাতিচ্যুত হয়, যা তাকে সামাজিক বঞ্চনার গভীরে ঠেলে দেয়। উভয় ক্ষেত্রেই মানুষের সম্মান, টিকে থাকার সংগ্রাম এবং মানবিক মূল্যবোধের অবমাননা ঘটেছে। তাই বলা যায়, এই দুটি ঘটনাই সমাজের অবিচার ও মানুষের অসহায়ত্বের একই সুতোয় গাঁথা করুণ আখ্যান।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

বুড়ো রহমান ছলছল চোখে আহ্লাদির দিকে তাকান কারণ আহ্লাদি তার মৃত আদরের নাতনি বুজির স্মৃতিকে জাগিয়ে তোলে। আহ্লাদি যেন বুড়ো রহমানের কাছে তার প্রিয়জন হারানোর বেদনা, বিশেষ করে বুজির প্রতি অসীম ভালোবাসার এক প্রতিচ্ছবি।

"কবর" কবিতার বুড়ো রহমান তার নাতনি আহ্লাদিকে তার মৃত স্বজনদের কবরের কাছে নিয়ে এসে তাদের কথা বলছিলেন। বুজির করুণ পরিণতি এবং তার প্রতি অবর্ণনীয় ভালোবাসার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তার চোখ জলে ভরে ওঠে। আহ্লাদির মাঝে তিনি তার প্রিয় বুজিকে খুঁজে পান, তাই তার চোখ ছলছল করে ওঠে।

Satt AI
Satt AI
1 day ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বর্ণিত বুজির প্রতি নির্যাতন এবং 'মাসিপিসি' গল্পের আহ্লাদির প্রতি নির্যাতন উভয়ই তৎকালীন সমাজের নারী নির্যাতনের এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। উভয় নারীই শ্বশুরবাড়িতে চরম অবহেলা, অনাদর ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিল, যা তাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল।

উদ্দীপকের বুজিকে তার বাবা "পরীর মতন মেয়ে" হওয়া সত্ত্বেও এক কাজিদের বনেদি ঘরে ভালো ভেবে বিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই শ্বশুরবাড়িতে সে আদরের বদলে পেয়েছে শুধু অবহেলা। যদিও তাকে হাত দিয়ে মারা হতো না, তবুও "শত যে মারিত ঠোঁটে" – এই কথার মাধ্যমে বুজির প্রতি তীব্র মানসিক ও বাচনিক নির্যাতনের চিত্র ফুটে উঠেছে। শ্বশুরবাড়ির লোকদের অনাদর, ভর্ৎসনা ও কটু বাক্যই বুজির জন্য শারীরিক মারধরের চেয়ে কম কষ্টদায়ক ছিল না।

অন্যদিকে, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'মাসিপিসি' গল্পের আহ্লাদিও ছিল শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতিত। তার স্বামী বুড়ো রামের ছেলে যৌতুকের লোভে আহ্লাদিকে প্রতিনিয়ত শারীরিক নির্যাতন করত। আহ্লাদির শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাকে প্রায় মেরেই ফেলেছিল এবং তাকে আবার বিয়ে দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। বুজির নির্যাতন ছিল মূলত মানসিক ও বাচনিক, যেখানে আহ্লাদির নির্যাতন ছিল শারীরিক ও মানসিক উভয় প্রকারের। তবে উভয় ক্ষেত্রেই দেখা যায়, নারীর প্রতি সমাজের নির্মমতা, অবহেলা এবং শ্বশুরবাড়িতে তাদের আশ্রয়হীনতা। দুটি ঘটনাই প্রমাণ করে যে, সমাজে নারীরা ভিন্ন আঙ্গিকে হলেও পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয় এবং তাদের সুরক্ষায় সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য।

Satt AI
Satt AI
1 day ago
উত্তরঃ

নারীর প্রতি পুরুষের অমানবিক আচরণ সমাজের এক গুরুতর সমস্যা, যা পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ফল। উদ্দীপক এবং ‘মাসি-পিসি’ গল্প উভয়ই এই মন্তব্যের যথার্থতাকে জোরালোভাবে সমর্থন করে, যেখানে নারীরা পুরুষের দ্বারা বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

উদ্দীপকে আমরা বুজি নামের এক আদরের মেয়ের করুণ পরিণতি দেখতে পাই। কাজিদের বনেদি ঘরে বিয়ে হওয়ার পর বুজি শ্বশুরবাড়িতে ভালোবাসা তো পায়নি, উল্টো তাকে শত যে মারিত ঠোঁটে—অর্থাৎ মানসিক ও ভাষিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। শারীরিক আঘাত না দিলেও কথার আঘাতে তার জীবন বিষিয়ে উঠেছিল। এই নীরব মানসিক নির্যাতন পুরুষের অমানবিক আচরণেরই এক সূক্ষ্ম অথচ গভীর দৃষ্টান্ত, যা নারীর মানসিক স্বাস্থ্য ও আত্মসম্মানকে ধূলিসাৎ করে দেয়।

অন্যদিকে, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মাসি-পিসি’ গল্পে আহ্লাদির জীবন নারীর প্রতি পুরুষের অমানবিকতার এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। আহ্লাদি তার মাতাল স্বামী গিন্নি ও তার পরিবারের সদস্যদের দ্বারা প্রতিনিয়ত শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়। তাকে মারধর করা, অনাহারে রাখা এবং জীবননাশের হুমকি দেওয়া ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। এমনকি সমাজের কিছু পুরুষ, যেমন জাগেন, আহ্লাদির অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করে। এই গল্পে পুরুষের ক্ষমতা ও নির্যাতনের বহুমুখী রূপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যেখানে নারী কেবল ভোগের সামগ্রী বা নিপীড়নের শিকার হিসেবে চিত্রিত।

অতএব, উদ্দীপকের বুজির প্রতি মানসিক নির্যাতন এবং ‘মাসি-পিসি’ গল্পের আহ্লাদির প্রতি শারীরিক ও সামাজিক নিপীড়ন—এ দুটোই নারীর প্রতি পুরুষের অমানবিক আচরণের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে মন্তব্যটির যথার্থতা প্রমাণ করে। এই সাহিত্যকর্মগুলো সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর উপর হওয়া অকথ্য নির্যাতনের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী প্রতিবাদ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

Satt AI
Satt AI
1 day ago
উত্তরঃ

“এগুলো হলো পাকিস্তানের শরীরের কাঁটা” - উক্তিটি দ্বারা তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর কাছে বাঙালি জাতি, তাদের ভাষা, সংস্কৃতি এবং স্বাধিকারের আন্দোলনকে বোঝানো হয়েছে। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকরা বাঙালি জাতিসত্তার এই পৃথক বৈশিষ্ট্য ও ন্যায্য দাবিগুলোকে নিজেদের শাসনব্যবস্থার জন্য বিপত্তি বা কাঁটা হিসেবে গণ্য করত।

তারা মনে করত, বাঙালির স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও অধিকার সচেতনতা পাকিস্তানের কৃত্রিম সংহতি ও তাদের প্রভুত্ববাদী নীতির পরিপন্থী। এই ‘কাঁটা’ অপসারণের জন্য তারা বারবার দমন-পীড়ন চালিয়েছে, যা মনিরদের মতো অসংখ্য বাঙালির ওপর নেমে আসা নির্মম নির্যাতনের কারণ হয়েছিল এবং যা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পরিসমাপ্তি লাভ করে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
664


আমার কর্ণধার আমি। আমার পথ দেখাবে আমার সত্য। আমার যাত্রা শুরুর আগে আমি সালাম জানাচ্ছি— নমস্কার করছি আমার সত্যকে। যে-পথ আমার সত্যের বিরোধী, সে পথ আর কোনো পথই আমার বিপথ নয় । রাজভয়— লোকভয় কোনো ভয়ই আমায় বিপথে নিয়ে যাবে না। আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তাহলে বাইরের কোনো ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না। যার ভিতরে ভয়, সেই বাইরে ভয় পায়। অতএব যে মিথ্যাকে চেনে, সে মিছামিছি তাকে ভয়ও করে না। যার মনে মিথ্যা, সে-ই মিথ্যাকে ভয় করে। নিজকে চিনলে মানুষের মনে আপনা-আপনি এত বড় একটা জোর আসে যে, সে আপন সত্য ছাড়া আর কাউকে কুর্নিশ করে না— অর্থাৎ কেউ তাকে ভয় দেখিয়ে পদানত রাখতে পারে না । এই যে, নিজকে চেনা, আপনার সত্যকে আপনার গুরু, পথপ্রদর্শক কাণ্ডারি বলে জানা, এটা দম্ভ নয়, অহংকার নয় । এটা আত্মকে চেনার সহজ স্বীকারোক্তি । আর যদি এটাকে কেউ ভুল করে অহংকার বলে মনে করেন, তবু এটা মন্দের ভালো— অর্থাৎ মিথ্যা বিনয়ের চেয়ে অনেক বেশি ভালো। অনেক সময় খুব বেশি বিনয় দেখাতে গিয়ে নিজের সত্যকে অস্বীকার করে ফেলা হয় । ওতে মানুষকে ক্রমেই ছোট করে ফেলে, মাথা নিচু করে আনে । ও রকম বিনয়ের চেয়ে অহংকারের পৌরুষ অনেক-অনেক ভালো ।
অতএব এই অভিশাপ-রথের সারথির স্পষ্ট কথা বলাটাকে কেউ যেন অহংকার বা স্পর্ধা বলে ভুল না করেন।
স্পষ্ট কথা বলায় একটা অবিনয় নিশ্চয় থাকে; কিন্তু তাতে কষ্ট পাওয়াটা দুর্বলতা। নিজকে চিনলে, নিজের সত্যকেই নিজের কর্ণধার মনে জানলে নিজের শক্তির ওপর অটুট বিশ্বাস আসে। এই স্বাবলম্বন, এই নিজের ওপর অটুট বিশ্বাস করতেই শেখাচ্ছিলেন মহাত্মা গান্ধীজি। কিন্তু আমরা তাঁর কথা বুঝলাম না, “আমি আছি” এই কথা না বলে সবাই বলতে লাগলাম “গান্ধীজি আছেন” । এই পরাবলম্বনই আমাদের নিষ্ক্রিয় করে ফেললে । একেই বলে সবচেয়ে বড় দাসত্ব। অন্তরে যাদের এত গোলামির ভাব, তারা বাইরের গোলামি থেকে রেহাই পাবে কী করে? আত্মাকে চিনলেই আত্মনির্ভরতা আসে। এই আত্মনির্ভরতা যেদিন সত্যি সত্যিই আমাদের আসবে, সেই দিনই আমরা স্বাধীন হব, তার আগে কিছুতেই নয়। নিজে নিষ্ক্রিয় থেকে অন্য একজন মহাপুরুষকে প্রাণপণে ভক্তি করলেই যদি দেশ উদ্ধার হয়ে যেত, তাহলে এই দেশ এতদিন পরাধীন থাকত না। আত্মকে চেনা নিজের সত্যকে বড় মনে করার দম্ভ— আর যাই হোক ভণ্ডামি নয়। এ-দম্ভ শির উঁচু করে, পুরুষ করে, মনে একটা ‘ডোন্ট কেয়ার’-ভাব আনে । আর যাদের এই তথাকথিত দম্ভ আছে, শুধু তারাই অসাধ্য সাধন করতে পারবে।
যার ভিত্তি পচে গেছে, তাকে একদম উপড়ে ফেলে নতুন করে ভিত্তি না গাঁথলে তার ওপর ইমারত যতবার খাড়া করা যাবে, ততবারই তা পড়ে যাবে। দেশের যারা শত্রু, দেশের যা-কিছু মিথ্যা, ভণ্ডামি, মেকি তা সব দূর করতে প্রয়োজন হবে আগুনের সম্মার্জনা! আমার এমন গুরু কেউ নেই, যার খাতিরে সে আগুন-সত্যকে অস্বীকার করে কারুর মিথ্যা বা ভণ্ডামিকে প্রশ্রয় দেবে। আমি সে-দাসত্ব হতে সম্পূর্ণ মুক্ত । আমি কোনো দিনই কারুর বাণীকে বেদবাক্য বলে মেনে নেব না, যদি তার সত্যতা প্রাণে তার সাড়া না দেয়। না বুঝে বোঝার ভণ্ডামি করে পাঁচ জনের শ্রদ্ধা আর প্রশংসা পাবার লোভ আমি কোনো দিনই করব না ।
ভুলের মধ্য দিয়ে গিয়েই তবে সত্যকে পাওয়া যায়। কোনো ভুল করছি বুঝতে পারলেই আমি প্রাণ খুলে তা স্বীকার করে নেব। কিন্তু না বুঝেও নয়, ভয়েও নয়। ভুল করছি বা করেছি বুঝেও শুধু জেদের খাতিরে বা গোঁ বজায় রাখবার জন্যে ভুলটাকে ধরে থাকব না। তাহলে আমার আগুন সেই দিনই নিভে যাবে। একমাত্র মিথ্যার জলই এই শিখাকে নিভাতে পারবে। তাছাড়া কেউ নিভাতে পারবে না ।
মানুষ-ধর্মই সবচেয়ে বড় ধর্ম। হিন্দু-মুসলমানের মিলনের অন্তরায় বা ফাঁকি কোনখানে তা দেখিয়ে দিয়ে এর গলদ দূর করা আমার এ পথের অন্যতম উদ্দেশ্য। মানুষে মানুষে যেখানে প্রাণের মিল, আদত সত্যের মিল, সেখানে ধর্মের বৈষম্য, কোনো হিংসার দুশমনির ভাব আনে না । যার নিজের ধর্মে বিশ্বাস আছে, যে নিজের ধর্মের সত্যকে চিনেছে, সে কখনো অন্য ধর্মকে ঘৃণা করতে পারে না। দেশের পক্ষে যা মঙ্গলকর বা সত্য, শুধু তাই লক্ষ্য করে এই আগুনের ঝান্ডা দুলিয়ে পথে বাহির হলাম ।

[সংক্ষেপিত ও পরিমার্জিত]

Related Question

View All
উত্তরঃ

উদ্দীপকে আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের 'রেইনকোট' গল্পের দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মমতা, পাশবিকতা এবং সাধারণ মানুষের প্রতি তাদের সন্দেহপ্রবণ মনোভাবের দিকটি ফুটে উঠেছে।

'রেইনকোট' গল্পে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বর্বরতা ও নির্বিচার গণহত্যার একটি চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পাকিস্তানি সেনারা সাধারণ মানুষদের মুক্তি সন্দেহে ধরে নিয়ে নির্যাতন করত এবং বিনা বিচারে হত্যা করত। তারা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তাদের মধ্যে মুক্তি বাহিনীর প্রতি এক গভীর বিদ্বেষ এবং সন্দেহপ্রবণতা কাজ করত, যা তাদের আরও উন্মত্ত করে তুলত।

উদ্দীপকে দেখা যায়, চকচকে রোদে একজন কিশোর তার গরু নিয়ে মাঠ থেকে ফিরছে। কলিমুদ্দি দফাদার তাকে রাখাল হিসেবে চিনলেও, সৈনিকরা তাকে 'মুক্তি' আখ্যা দিয়ে গুলি করে হত্যা করে। এখানে পাকিস্তানি সৈনিকদের যুক্তিহীন সন্দেহ, নৃশংসতা এবং নিরীহ মানুষকে নির্বিচারে হত্যার প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা 'রেইনকোট' গল্পের মূল ভাবনারই প্রতিচ্ছবি। তারা একটি সাধারণ কিশোরকে সামান্য অজুহাতে হত্যা করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চেয়েছিল, যা ছিল তাদের দখলদারিত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
969
উত্তরঃ ৪৩ বছর বয়সে

কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি। ১৯৪২ সালের দিকে তিনি পিক্‌স ডিজিজ (Pick's disease) নামক এক দুরারোগ্য নিউরোলজিক্যাল ব্যাধিতে আক্রান্ত হন। এই অসুস্থতার কারণে তার সাহিত্য জীবন ৪৩ বছর বয়সেই স্তব্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ৩৫ বছর নির্বাক থাকার পর ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর এই অসুস্থতা দেশের সাহিত্য অঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
431
উত্তরঃ

মানুষ ধর্মকে সবচেয়ে বড় ধর্ম বলা হয়, কারণ এটি সকল প্রকার আনুষ্ঠানিকতা ও বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠানের ঊর্ধ্বে মানবতা, পরোপকার, সহমর্মিতা ও নৈতিক মূল্যবোধকে স্থান দেয়। মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও কল্যাণ করাই এর মূল ভিত্তি।

প্রকৃত ধর্ম মানুষকে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং বিপদে পাশে দাঁড়াতে শেখায়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই হলো মানবধর্মের সারকথা। তাই সব ধর্মীয় ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে মানবসেবাকেই শ্রেষ্ঠ ধর্ম হিসেবে গণ্য করা হয়।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
672
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews