নীলমণি রায় হলেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'পথের পাঁচালী'-এর একটি চরিত্র এবং অপু ও দুর্গার বাবা হরিহর রায়ের জ্ঞাতি-ভ্রাতা বা জ্ঞাতি-ভাই।
শিক্ষক মনোরাজ্যের ঐশ্বর্যের সন্ধান দিতে পারেন।
পেশাদারদের মহাভ্রান্তি বলতে সাহিত্যচর্চার সুফল সম্পর্কে মানুষের ভুল ধারণাকে বোঝানো হয়েছে।
লেখকের মতে, আমাদের শিক্ষিত সমাজের লোলুপ দৃষ্টি আজ অর্থের ওপড়েই পড়ে আছে। তারা হাজার খানেক ল-রিপোর্ট কিনলেও একখানা কাব্যগ্রন্থ কিনতে প্রস্তুত নন। কারণ তারা মনে করেন এতে ব্যবসায়ের কোনো লাভ নেই। তারা মনে করেন এই সাহিত্য জজ শুনবেন না, ফলে তার কোনো মূল্য নেই। আর লেখক মনে করেন এটি তাদের মহাভ্রান্তি।
উদ্দীপকের রেবেকার মানসিকতায় 'বই পড়া' প্রবন্ধের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার চিত্রটি ফুটে উঠেছে।
বই পড়ার আসল উদ্দেশ্য হলো জ্ঞানভান্ডারকে সমৃদ্ধ করা, মনের প্রসারণ ঘটিয়ে মনুষ্যত্ব অর্জন করা। কিন্তু আমাদের স্কুল-কলেজের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় এটি মানা হয় না। এখানে অনেকাংশেই শিক্ষার সঙ্গে আনন্দের যোগ নেই। পরীক্ষায় পাশের জন্য নোট মুখস্থ করানো হয়। ফলে শিক্ষার্থীর মানসিক বিকাশ এবং চিন্তাশক্তির পূর্ণ প্রকাশ লক্ষ করা যায় না।
উদ্দীপকের রেবেকা তার আদরের পুত্রকে বড় করতে গিয়ে জোর করে দুধ, ডিম, কলা, মিষ্টি একটার পর একটা খাওয়াতে থাকেন। কিন্তু পুত্রের বয়স পাঁচ বছর হলেও সে হাঁটতে পারে না। অতিরিক্ত খাওয়ানোর কারণে বয়সের তুলনায় মোটা বলে সে হাঁটা শিখতে পারছে না। রেবেকার এমন কর্মকান্ড লেখক 'বই পড়া' প্রবন্ধে তুলে ধরেছেন একটু অন্যভাবে। লেখক আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করতে গিয়ে বলেন সন্তানের কল্যাণের আশায় যেমন একজন মা তার সন্তানকে জোরপূর্বক খাবার খাওয়ানোর ফলে তার ক্ষতি করে বসে, তেমনই শিক্ষাব্যবস্থায়ও একজন শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় বিদ্যা গেলানো হয়। এগুলো সে হজম করতে পারে না, ফলে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হয়।
"উদ্দীপকের ডাক্তারের বক্তব্যের মধ্যেই প্রমথ চৌধুরীর আকাঙ্ক্ষার প্রতিধ্বনি ঘটেছে।" মন্তব্যটি যথার্থ।
শিক্ষা হচ্ছে আনন্দের মধ্যে অর্জিত জ্ঞান, যা মানুষের জীবন ও জগতের কল্যাণ সাধন করে। জোর করে চাপিয়ে মুখস্থ করানো শিক্ষার প্রকৃত পদ্ধতি নয়। তাতে হিতে বিপরীত হয়। তাই যথার্থ শিক্ষিত হতে চাইলে বই পড়ে মনের প্রসারতা বৃদ্ধি করতে হবে। আর এর জন্য প্রয়োজন অধিক পরিমাণে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা। এভাবে লাইব্রেরিতে জ্ঞান অর্জনের ফলে মানুষের আত্মিক ও মানসিক বিকাশ সাধন সম্ভব হবে। উদ্দীপকের রেবেকা তার অনেক সাধনার সন্তানকে বড় করতে গিয়ে দুধ, ডিম, কলা, মিষ্টি প্রভৃতি খাবার অধিক পরিমাণে খাওয়ান। ফলে তার সন্তান অস্বাভাবিক মোটা হয়ে যায় এবং হাঁটতে পারে না। তিনি তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। ডাক্তার তখন বলেন, "বয়স ও রুচি অনুযায়ী যা খেতে চায় এবং যতটুকু খেতে পারে তাই খাওয়াবেন। অতিরিক্ত খাওয়ার কারণে বয়সের তুলনায় মোটা বলে তার হাঁটা শিখতে দেরি হচ্ছে।" ডাক্তারের এই বক্তব্যে 'বই পড়া' প্রবন্ধের লেখক প্রমথ চৌধুরীর আকাঙ্ক্ষার প্রতীকী প্রতিধ্বনি ঘটেছে। 'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার পদ্ধতিকে শিক্ষাগ্রহণের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি ও অসংগত দিকগুলো উল্লেখ করে তিনি স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি মনে করেন মানুষকে স্বেচ্ছায় বই পড়ার সুযোগ করে দিতে হবে। আর এর জন্য তিনি অধিক সংখ্যক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। লাইব্রেরিকে তিনি মনের হাসপাতালের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি মনে করেন স্বেচ্ছায় লাইব্রেরিতে বই পড়ার মাধ্যমে মানুষ স্বশিক্ষিত হতে পারবে। আর স্বশিক্ষিত মানুষ মাত্রই সুশিক্ষিত।
উদ্দীপকের মায়ের মতো যেন শিক্ষাকে গেলানো না হয়। তবেই শিক্ষার্থীরা স্বশিক্ষিত ও সুশিক্ষিত হবে। লেখক উদ্দীপকের ডাক্তারের মতোই সঠিক পদ্ধতির শিক্ষার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন। তাই বলা যায়, প্রদত্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All'পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার'- কথাটির মধ্য দিয়ে লেখক বাষ্প্রতিবন্ধী সুভার বিয়ের বয়স হওয়া সত্ত্বেও বিয়ে দিতে না পারায় পিতা-মাতার হৃদয়ের নীরব কষ্টকে বোঝাতে চেয়েছেন।
সুভা বাণীকন্ঠের ছোট মেয়ে। সে কথা বলতে পারে না। বাণীকণ্ঠ তার বড় দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু বাষ্প্রতিবন্ধী হওয়ায় ছোট মেয়ে সুভাকে বিয়ে দিতে পারেননি। তাই সুভার ভবিষ্যৎ নিয়ে বাণীকণ্ঠ এবং তার স্ত্রী উভয়েই চিন্তিত। সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে তাদের হৃদয়ে নীরব কষ্ট সৃষ্টি হয়। লেখক সেই কষ্টকেই বলেছেন- পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার।
উদ্দীপকের প্রথম অংশের বক্তব্যে কল্যাণী ও সুভার শারীরিক প্রতিবন্ধিতার দিকটির সংগতি দেখানো হয়েছে।
শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে অনেকে সমাজে অবহেলার শিকার হয়। এতে সমাজের মানুষ হীনম্মন্যতার পরিচয় দেয়। প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহানুভূশীল হলে তবেই তারা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে এবং সমাজে সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারবে।
'সুভা' গল্পে সুভা কথা বলতে পারে না। আনন্দের বার্তা নিয়ে পৃথিবীতে এলেও কথা বলতে না পারার বিষয়টি কিছুটা সুভার বাবা- মায়ের মনে নীরব হৃদয়ভারের জন্ম দেয়। উদ্দীপকের কল্যাণীর জন্মও পরিবারে আনন্দ নিয়ে আসে। কিন্তু তার মানসিক প্রতিবন্ধিতার দিকটি সবাইকে চিন্তিত করে তোলে। তার মানসিক বিকাশ কিছুটা কম হয়েছে। 'সুভা' গল্পের সুভাও বাষ্প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার পরিবারের সবার দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে উদ্দীপকের বক্তব্যে কল্যাণী ও সুভার প্রতিবন্ধিতার দিকটি সংগতিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কল্যাণী ও সুভা একই পরিস্থিতির শিকার হলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি ভিন্ন- মন্তব্যটি যথার্থ।
শারীরিক প্রতিবন্ধীরা আমাদের সমাজে বিভিন্নভাবে অবহেলার সম্মুখীন হয়। তারা আমাদের সমাজেরই অংশ, আমাদের মতোই মানুষ। তাই তাদের কল্যাণে এগিয়ে আসা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমাদের সহানুভূতি পেলে তারা জীবনের পূর্ণতা লাভ করবে।
উদ্দীপকে কল্যাণীর মানসিক বিকাশ ঠিকভাবে ঘটেনি। বিয়ের কথাবার্তায় তার বাবা পলাশ বাবু বরপক্ষের কাছে সে সব কথা খুলে বলেন। তারা সব শুনে উদারতার পরিচয় দেন। বরের বাবা সুবোধ বাবু মহত্ত্বের পরিচয় দিয়ে কল্যাণীকে ঘরে নিয়ে যেতে চান। অন্যদিকে 'সুভা' গল্পের সুভা বাষ্প্রতিবন্ধী। সে কথা বলতে পারে না। সবার কাছ থেকে অবহেলা পেলেও সুভা তার বাবার ভালোবাসা পেয়েছে। সুভার সাথে কেউ মেশে না বলে সে পোষা প্রাণীদের মাঝে নিজের একটি বিশাল জগৎ তৈরি করেছে।
উদ্দীপকের কল্যাণী ও 'সুভা' গল্পের সুভা একই পরিস্থিতির শিকার হলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি ভিন্ন। কল্যাণী সুবোধ বাবুর উদারতায় পেয়েছে সুন্দর ভবিষ্যতের সন্ধান। অথচ 'সুভা' গল্পের সুভার পরিণতি এতটা মানবিকতায় সিক্ত হয়নি। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
শঙ্খের মধ্যে যেমন সমুদ্রের শব্দ শুনা যায়, তেমনি এই লাইব্রেরির মধ্যে কি হৃদয়ের উত্থানপতনের শব্দ শুনিতেছ
শঙেখর মাঝে সমুদ্রের শব্দ শোনা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!