সুড়ার গ্রামের নাম চণ্ডীপুর।
"সে ভাষাবিশিষ্ট জীব"- এই কথাটি প্রতাপ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
'সুভা' গল্পে সুভা একটি বোবা মেয়ে। গুটিকতক গৃহপালিত প্রাণীর সাথে সে বন্ধুত্ব করে। গোয়ালের দুটি গাভী তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। মনে মনে তাদের নাম দিয়েছে সর্বশী ও পাঙ্গুলি এই দুই নামে। এগুলো ছাড়াও ছাগল ও বিড়াল শাবককেও সে বন্ধু বানিয়েছে। তবে এগুলো সবই তার মতোই বোবা। উন্নত জীবের মধ্যে তার এক সঙ্গী হলো গোঁসাইদের ছোটো ছেলে প্রতাপ। তবে সে কথা বলতে পারে। তাই তাকে ভাষাবিশিষ্ট জীব বলা হয়েছে।
উদ্দীপকের হোমারের সঙ্গে 'সুভা' গল্পের সুভা চরিত্রের প্রতিবন্ধিতার দিক দিয়ে মিল রয়েছে।
মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। কিন্তু কিছু মানুষ শারীরিক কিংবা মানসিক ত্রুটি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। তারা মূলত সমাজে প্রতিবন্ধী হিসেবে পরিচিত। কিন্তু অনেকে তাদেরকে নিচু চোখে দেখে। অথচ মানুষের সহানুভূতি ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে দেশ ও জাতির জন্য অনেক ভালো কিছু করতে পারে।
উদ্দীপকের মহাকবি হোমার একজন বিশ্ব বরেণ্য ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। বিখ্যাত মহাকাব্য ইলিয়ড ও ওডিসি তাঁরই সৃষ্টি। 'সুভা' গল্পের সুভা বাষ্প্রতিবন্ধী হলেও চারপাশের সবকিছুই বুঝতে পারে। প্রাণিজগতের গাভী, ছাগল, বিড়াল প্রভৃতি প্রাণীর সাথে সে সখ্য গড়ে তোলে। উদ্দীপকের হোমারও একজন প্রতিবন্ধী। তিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। আর 'সুভা' গল্পের সুভা বাষ্প্রতিবন্ধী। এদিক থেকে হোমারের সাথে সুভা চরিত্রের মিল রয়েছে।
উদ্দীপকের বিষয়বস্তু 'সুভা' গল্পের সমগ্র ভাব প্রকাশ করতে সক্ষম হয়নি, বরং আংশিক ভাব প্রকাশিত হয়েছে বলে আমি মনে করি।
কেউ যখন প্রতিবন্ধী হয়ে জন্মগ্রহণ করে তখন সে সমাজে নানা ধরনের লাঞ্ছনা ও বঞ্চনার শিকার হয়। অথচ প্রতিবন্ধী হওয়ার ক্ষেত্রে নিজের কোনো হাত থাকে না। একজন প্রতিবন্ধীও সমাজের সবার কাছ থেকে স্বাভাবিক আচরণ প্রাপ্য। মানুষের ভালোবাসা, আদর-স্নেহ ও সহানুভূতি পেলে সেও সুন্দর ও প্রাণোচ্ছল জীবন কাটাতে পারে।
উদ্দীপকে প্রতিবন্ধীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে যে তারা জীবনের স্বাভাবিক ধারায় অন্যদের মতো সমানতালে এগিয়ে যেতে পারে না। কিন্তু সঠিক মনোযোগ, সহযোগিতা ও সুযোগ-সুবিধা পেলে তারাও দুঃখের অন্ধকার ছেড়ে আলোকিত জীবনের অধিকারী হতে পারে। যেমন- মহাকবি হোমার, তিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়েও বিশ্ব বিখ্যাত মহাকাব্য রচনা করেছেন।
'সুভা' গল্পে সুভাকে মা নিজের একটি ত্রুটি হিসেবে বিবেচনা করেন। বাবা-মায়ের জন্য সে একটি অভিশাপস্বরূপ। ফলে সুভা নিজেকে সব সময় লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করে। তার তেমন বন্ধুও ছিল না। ফলে সে গাভী, ছাগল, বিড়াল, প্রকৃতির সাথে বন্ধুত্ব করে। আবার প্রতাপের সঙ্গে সুভার বন্ধুত্বও গল্পে দেখা যায়। শেষপর্যন্ত বাবা-মা তাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য কলকাতায় চলে যেতে চাইলে সে অনেক কষ্ট পায়। গল্পের এই বিষয়গুলো উদ্দীপকে দেখা যায় না। প্রতিবন্ধী সুভার জীবনের দুঃখময় অধ্যায়টি উদ্দীপকে উঠে আসেনি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে 'সুভা' গল্পের সমগ্র ভাব প্রকাশিত হয়নি।
শিক্ষার সর্বপ্রধান অঙ্গ হলো সাহিত্যচর্চা।
মনের হাসপাতাল বলতে লেখক লাইব্রেরিকে বুঝিয়েছেন।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক মনে করেন বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা আমাদেরকে বিভিন্ন দিক থেকে অনেক ক্ষতি করেছে। স্কুল-কলেজের বর্তমান শিক্ষাপদ্ধতিতে নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রমে শিক্ষার্থীরা সংকীর্ণ পরিসরে মুখস্থবিদ্যা চর্চা করতে করতে শিক্ষার উদ্দেশ্য ও আনন্দ থেকে বঞ্চিত থাকে। অন্যদিকে তারা লাইব্রেরি তথা গ্রন্থাগারে নিজ নিজ রুচি, পছন্দ ও চাহিদা অনুযায়ী গল্প, কবিতা, উপন্যাস, নাটক অনুশীলন করতে পারে। ফলে অসুস্থতা নামক অজ্ঞতা, ক্ষুদ্রতা, জড়তা কাটিয়ে উঠে তাদের মন-প্রাণ সরস, সজীব, সতেজ হয়ে আনন্দ-রসে পূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই মনের হাসপাতাল বলতে লাইব্রেরিকেই বোঝায়।
উদ্দীপকের মূলভাব 'বই পড়া' প্রবন্ধের সাহিত্যচর্চার বিষয়টির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞানার্জনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো বই পড়া। বই পড়ে জ্ঞান অর্জন করা অনেক সহজ ও কার্যকর একটি পন্থা। পাঠ্যবইয়ের বাইরে কবিতা, উপন্যাস, গল্প ইত্যাদি বই পড়ার মাধ্যমে মানুষের জ্ঞানের জগৎ অনেক বিস্তৃত ও প্রসারিত হয়।
উদ্দীপকের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী যোবায়েরের বই পড়ার প্রতি প্রবল ঝোঁক। পাঠ্যবইয়ের বাইরে সে বিভিন্ন ধরনের বই পড়ে। তার বাবাও তাকে বই পড়তে ও বই কিনতে উৎসাহিত করেন। পড়ার আগ্রহ দেখে বাবা তাকে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরিতে ভর্তি করিয়ে দেন। একদিন সে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সদস্য হয়। এখানে যোবায়ের ও তার বাবার মধ্যে সাহিত্যচর্চার প্রতি আগ্রহ লক্ষ করা যায়। 'বই পড়া' প্রবন্ধেও লেখক এই সাহিত্যচর্চার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি মনে করেন সাহিত্যচর্চা হলো শিক্ষার প্রধান অঙ্গ, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আর এই সাহিত্যচর্চা করতে যেতে হবে লাইব্রেরিতে, যা উদ্দীপকের মূলভাবে ফুটে উঠেছে।
"উদ্দীপকের বিষয়বস্তু 'বই পড়া' প্রবন্ধের অংশবিশেষ বর্ণনা মাত্র।"- উক্তিটি যথার্থ।
শিক্ষা হচ্ছে জীবন ও জগতের কল্যাণ সাধনে আনন্দের মধ্য দিয়ে প্রাপ্ত ব্যবহারযোগ্য জ্ঞান। অথচ প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় এটি মানা হয় না। সেখানে শিক্ষার্থীদেরকে জোরপূর্বক অধিক পরিমাণে বিদ্যা গেলানো হয় যা তারা হজম করতে পারে না। ফলে হিতে বিপরীত হয়। তাই এর পরিবর্তে শিক্ষার্থীর মধ্যে পাঠ্যবই বহির্ভূত সাহিত্যচর্চার সুযোগ দেওয়া জরুরি, যাতে তারা স্বশিক্ষিত হতে পারে।
উদ্দীপকের যোবায়েরের বই পড়ার প্রতি প্রবল ঝোঁক দেখা যায়। পাঠ্যবইয়ের বাইরে সে কবিতা, উপন্যাস, সাইন্স ফিকশন, গোয়েন্দা কাহিনি ইত্যাদি বিষয়ে জানতে আগ্রহী। তার এই আগ্রহকে তার বাবাও সমর্থন করে তাকে এই ব্যাপারে সহায়তা করেন। 'বই পড়া' প্রবন্ধেও লেখক এই সাহিত্যচর্চার বিষয়টির প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। তবে এটি প্রবন্ধের একটি খণ্ডিত অংশ মাত্র। এই বিষয়টি ছাড়াও প্রবন্ধে আরও অনেক বিষয় প্রতিফলিত হতে দেখা যায়। 'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থাকে সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা বিদ্যা অর্জনের পরিবর্তে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি, অসংগতি, অপূর্ণতা, অতীতের শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষাগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা উল্লেখ করে তিনি বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। আর সেই জন্য তিনি বেশি করে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। পাশাপাশি প্রগতিশীল জগতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য সাহিত্যচর্চার প্রয়োজনীয়তা, জাতির মানসিক বিকাশ ও সমৃদ্ধিতে বই পড়ার গুরুত্বও তুলে ধরেছেন, যা উদ্দীপকে নেই। তাই বলা যায়, প্রশ্নে প্রদত্ত উক্তিটি যথার্থ।
Related Question
View All'পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার'- কথাটির মধ্য দিয়ে লেখক বাষ্প্রতিবন্ধী সুভার বিয়ের বয়স হওয়া সত্ত্বেও বিয়ে দিতে না পারায় পিতা-মাতার হৃদয়ের নীরব কষ্টকে বোঝাতে চেয়েছেন।
সুভা বাণীকন্ঠের ছোট মেয়ে। সে কথা বলতে পারে না। বাণীকণ্ঠ তার বড় দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু বাষ্প্রতিবন্ধী হওয়ায় ছোট মেয়ে সুভাকে বিয়ে দিতে পারেননি। তাই সুভার ভবিষ্যৎ নিয়ে বাণীকণ্ঠ এবং তার স্ত্রী উভয়েই চিন্তিত। সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে তাদের হৃদয়ে নীরব কষ্ট সৃষ্টি হয়। লেখক সেই কষ্টকেই বলেছেন- পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার।
উদ্দীপকের প্রথম অংশের বক্তব্যে কল্যাণী ও সুভার শারীরিক প্রতিবন্ধিতার দিকটির সংগতি দেখানো হয়েছে।
শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে অনেকে সমাজে অবহেলার শিকার হয়। এতে সমাজের মানুষ হীনম্মন্যতার পরিচয় দেয়। প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহানুভূশীল হলে তবেই তারা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে এবং সমাজে সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারবে।
'সুভা' গল্পে সুভা কথা বলতে পারে না। আনন্দের বার্তা নিয়ে পৃথিবীতে এলেও কথা বলতে না পারার বিষয়টি কিছুটা সুভার বাবা- মায়ের মনে নীরব হৃদয়ভারের জন্ম দেয়। উদ্দীপকের কল্যাণীর জন্মও পরিবারে আনন্দ নিয়ে আসে। কিন্তু তার মানসিক প্রতিবন্ধিতার দিকটি সবাইকে চিন্তিত করে তোলে। তার মানসিক বিকাশ কিছুটা কম হয়েছে। 'সুভা' গল্পের সুভাও বাষ্প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার পরিবারের সবার দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে উদ্দীপকের বক্তব্যে কল্যাণী ও সুভার প্রতিবন্ধিতার দিকটি সংগতিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কল্যাণী ও সুভা একই পরিস্থিতির শিকার হলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি ভিন্ন- মন্তব্যটি যথার্থ।
শারীরিক প্রতিবন্ধীরা আমাদের সমাজে বিভিন্নভাবে অবহেলার সম্মুখীন হয়। তারা আমাদের সমাজেরই অংশ, আমাদের মতোই মানুষ। তাই তাদের কল্যাণে এগিয়ে আসা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমাদের সহানুভূতি পেলে তারা জীবনের পূর্ণতা লাভ করবে।
উদ্দীপকে কল্যাণীর মানসিক বিকাশ ঠিকভাবে ঘটেনি। বিয়ের কথাবার্তায় তার বাবা পলাশ বাবু বরপক্ষের কাছে সে সব কথা খুলে বলেন। তারা সব শুনে উদারতার পরিচয় দেন। বরের বাবা সুবোধ বাবু মহত্ত্বের পরিচয় দিয়ে কল্যাণীকে ঘরে নিয়ে যেতে চান। অন্যদিকে 'সুভা' গল্পের সুভা বাষ্প্রতিবন্ধী। সে কথা বলতে পারে না। সবার কাছ থেকে অবহেলা পেলেও সুভা তার বাবার ভালোবাসা পেয়েছে। সুভার সাথে কেউ মেশে না বলে সে পোষা প্রাণীদের মাঝে নিজের একটি বিশাল জগৎ তৈরি করেছে।
উদ্দীপকের কল্যাণী ও 'সুভা' গল্পের সুভা একই পরিস্থিতির শিকার হলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি ভিন্ন। কল্যাণী সুবোধ বাবুর উদারতায় পেয়েছে সুন্দর ভবিষ্যতের সন্ধান। অথচ 'সুভা' গল্পের সুভার পরিণতি এতটা মানবিকতায় সিক্ত হয়নি। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
শঙ্খের মধ্যে যেমন সমুদ্রের শব্দ শুনা যায়, তেমনি এই লাইব্রেরির মধ্যে কি হৃদয়ের উত্থানপতনের শব্দ শুনিতেছ
শঙেখর মাঝে সমুদ্রের শব্দ শোনা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!