শিলেপেষা অর্থ হলো শিল-পাটায় বাটা।
বিধবা আম্বিয়া বেগম অবসরের সমস্ত টাকা ব্যয় করে দুই পুত্র ও এক কন্যাকে লেখাপড়া শিখিয়ে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেরা পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকে। তাদের সুখের কথা চিন্তা করে তিনি খুব আনন্দ পান, যদিও তাঁর দেখাশোনার মত কেউ নেই। পুত্রদের সংবাদ দিলেও চাকরি নিয়ে ব্যস্ত থাকায় আসতে পারে না। এক সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন আম্বিয়া বেগম। অবস্থা খারাপ হলে প্রতিবেশী দিনমজুর জবেদ আলির ছেলে আশিক তাকে দেখতে আসে। সবকথা শুনে আশিক তাঁর অনেক প্রশংসা করে। সে বলে “আপনার মতো মা ঘরে ঘরে দরকার।”
যে কথা জজে শোনে না, তার যে কোনো মূল্য নেই, এটাই হচ্ছে পেশাদারদের মহাভ্রান্তি।
সাহিত্যচর্চার সুফল হাতে হাতে পাওয়া যায় না বলে এটার সুফল সম্বন্ধে অনেকেই সন্দিহান।
আমাদের শিক্ষিত সমাজের লোলুপ দৃষ্টি আজ অর্থের ওপরেই পড়ে রয়েছে। তাই তারা সাহিত্যসাধনা না করে অর্থসাধনা করে। কেননা সাহিত্যের কোনো নগদ বাজারদর নেই। এটার ফল হাতে হাতে পাওয়া যায় না এবং তা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করার সুযোগ নেই। ফলে সাহিত্যচর্চার সুফল সম্বন্দ্বে অনেকেই সন্দিহান।
উদ্দীপকের মামুন মোল্যার মনোভাব 'বই পড়া' প্রবন্ধে উল্লিখিত প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষিত হওয়ার দিকটিকে নির্দেশ করে।
পাঠ্যবই পড়ে কেবল সার্টিফিকেট অর্জন করা যায়, যথার্থ জ্ঞান অর্জন করা যায় না। তাই পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বইও পড়া দরকার। তবেই প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া যাবে।
উদ্দীপকে মামুন মোল্যা তার ছেলেকে লাইব্রেরিতে যেতে নিষেধ করেন। সার্টিফিকেট লাভ করাটাই তাঁর কাছে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। জ্ঞান অর্জনের প্রতি তার কোনো ভুক্ষেপ নেই। এ ধরনের মানসিকতা প্রসঙ্গে 'বই পড়া' প্রবন্ধের লেখক পাশ করা ও শিক্ষিত হওয়া যে এক বস্তু নয় সেই বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। অনেকেরই ধারণা, দেশে যত ছেলে পাশ করছে ততই শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে। অথচ শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য পাশ করে সার্টিফিকেট অর্জন নয়; জ্ঞান অর্জন করা, যা বেশি বেশি বই পড়ার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হতে পারে। সুতরাং উদ্দীপকের মামুন মোল্যার মনোভাব 'বই পড়া' প্রবন্ধের তথাকথিত শিক্ষিত হওয়ার দিকটিকে নির্দেশ করে।
কাশেম মিয়া লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করে সবার মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলে, যার উদ্যোগের মধ্যে প্রমথ চৌধুরীর আকাঙ্ক্ষার যথার্থ প্রতিফলন ঘটেছে।
জ্ঞান অর্জনে বেশি বেশি বই পড়া দরকার। সাহিত্যচর্চা করা দরকার। আর এর জন্য প্রয়োজন লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা। কেননা লাইব্রেরিতে গিয়েই মানুষ স্বেচ্ছায় চাহিদা ও পছন্দ অনুযায়ী বই পড়ার সুযোগ পায়।
উদ্দীপকের কাশেম মিয়া নিজ উদ্যোগে একটি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করে। সেখানে সব ধরনের বইয়ের সমাহার আছে। তার লাইব্রেরিতে গিয়ে ছোট-বড় সবাই জ্ঞানচর্চা করে। এভাবে সবার মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে। এমন আকাঙ্ক্ষা 'বই পড়া' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের মধ্যেও দেখতে পাওয়া যায়। 'বই পড়া' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক বই পড়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ঘাটতি দূর করার জন্য ব্যাপকভাবে বই পড়তে বলেছেন। তিনি বই পড়ার অভ্যাস বাড়ানোর জন্য লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন। কেননা লাইব্রেরিতে গিয়ে স্বেচ্ছায় নিজের পছন্দ অনুযায়ী বই পড়ে শিক্ষিত হওয়া যায়।
লেখকের এই আকাঙ্ক্ষার যথার্থ প্রতিফলন ঘটেছে উদ্দীপকের কাশেম মিয়ার উদ্যোগের মধ্যে। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All'পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার'- কথাটির মধ্য দিয়ে লেখক বাষ্প্রতিবন্ধী সুভার বিয়ের বয়স হওয়া সত্ত্বেও বিয়ে দিতে না পারায় পিতা-মাতার হৃদয়ের নীরব কষ্টকে বোঝাতে চেয়েছেন।
সুভা বাণীকন্ঠের ছোট মেয়ে। সে কথা বলতে পারে না। বাণীকণ্ঠ তার বড় দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু বাষ্প্রতিবন্ধী হওয়ায় ছোট মেয়ে সুভাকে বিয়ে দিতে পারেননি। তাই সুভার ভবিষ্যৎ নিয়ে বাণীকণ্ঠ এবং তার স্ত্রী উভয়েই চিন্তিত। সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে তাদের হৃদয়ে নীরব কষ্ট সৃষ্টি হয়। লেখক সেই কষ্টকেই বলেছেন- পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার।
উদ্দীপকের প্রথম অংশের বক্তব্যে কল্যাণী ও সুভার শারীরিক প্রতিবন্ধিতার দিকটির সংগতি দেখানো হয়েছে।
শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে অনেকে সমাজে অবহেলার শিকার হয়। এতে সমাজের মানুষ হীনম্মন্যতার পরিচয় দেয়। প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহানুভূশীল হলে তবেই তারা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে এবং সমাজে সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারবে।
'সুভা' গল্পে সুভা কথা বলতে পারে না। আনন্দের বার্তা নিয়ে পৃথিবীতে এলেও কথা বলতে না পারার বিষয়টি কিছুটা সুভার বাবা- মায়ের মনে নীরব হৃদয়ভারের জন্ম দেয়। উদ্দীপকের কল্যাণীর জন্মও পরিবারে আনন্দ নিয়ে আসে। কিন্তু তার মানসিক প্রতিবন্ধিতার দিকটি সবাইকে চিন্তিত করে তোলে। তার মানসিক বিকাশ কিছুটা কম হয়েছে। 'সুভা' গল্পের সুভাও বাষ্প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার পরিবারের সবার দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে উদ্দীপকের বক্তব্যে কল্যাণী ও সুভার প্রতিবন্ধিতার দিকটি সংগতিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কল্যাণী ও সুভা একই পরিস্থিতির শিকার হলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি ভিন্ন- মন্তব্যটি যথার্থ।
শারীরিক প্রতিবন্ধীরা আমাদের সমাজে বিভিন্নভাবে অবহেলার সম্মুখীন হয়। তারা আমাদের সমাজেরই অংশ, আমাদের মতোই মানুষ। তাই তাদের কল্যাণে এগিয়ে আসা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমাদের সহানুভূতি পেলে তারা জীবনের পূর্ণতা লাভ করবে।
উদ্দীপকে কল্যাণীর মানসিক বিকাশ ঠিকভাবে ঘটেনি। বিয়ের কথাবার্তায় তার বাবা পলাশ বাবু বরপক্ষের কাছে সে সব কথা খুলে বলেন। তারা সব শুনে উদারতার পরিচয় দেন। বরের বাবা সুবোধ বাবু মহত্ত্বের পরিচয় দিয়ে কল্যাণীকে ঘরে নিয়ে যেতে চান। অন্যদিকে 'সুভা' গল্পের সুভা বাষ্প্রতিবন্ধী। সে কথা বলতে পারে না। সবার কাছ থেকে অবহেলা পেলেও সুভা তার বাবার ভালোবাসা পেয়েছে। সুভার সাথে কেউ মেশে না বলে সে পোষা প্রাণীদের মাঝে নিজের একটি বিশাল জগৎ তৈরি করেছে।
উদ্দীপকের কল্যাণী ও 'সুভা' গল্পের সুভা একই পরিস্থিতির শিকার হলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি ভিন্ন। কল্যাণী সুবোধ বাবুর উদারতায় পেয়েছে সুন্দর ভবিষ্যতের সন্ধান। অথচ 'সুভা' গল্পের সুভার পরিণতি এতটা মানবিকতায় সিক্ত হয়নি। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
শঙ্খের মধ্যে যেমন সমুদ্রের শব্দ শুনা যায়, তেমনি এই লাইব্রেরির মধ্যে কি হৃদয়ের উত্থানপতনের শব্দ শুনিতেছ
শঙেখর মাঝে সমুদ্রের শব্দ শোনা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!