সুভা শব্দহীন এবং সঙ্গীহীন নির্জন দ্বিপ্রহরের মতো।
সুভা নির্জন দ্বিপ্রহরের মতো শব্দহীন এবং সঙ্গীহীন।
সুভা নির্জন দ্বিপ্রহরের মতো শব্দহীন এবং সঙ্গীহীন
সুভার কথা বলতে না পারার বেদনা ভুলতে পারে না বলে পিতা-মাতার মনে সে সর্বদাই জাগরুক ছিল।
সুভা বাষ্প্রতিবন্ধী। জন্ম থেকেই সে কথা বলতে পারে না। এই ত্রুটির কারণে সবাই তার সামনেই দুশ্চিন্তা প্রকাশ করত। ফলে সে নিজেকে বিধাতার অভিশাপ মনে করত এবং সবার কাছ থেকে নিজেকে আড়াল করতে চাইত। কিন্তু তার কথা বলতে না পারার ব্যাপারটা পিতা-মাতার বেদনার কারণ ছিল। আর বেদনা কেউ কখনো ভুলে যেতে পারে না। তাই সে সর্বদাই পিতা-মাতার মনে জাগরূক ছিল।
সুভার প্রতি অবহেলাই তার সাথে উদ্দীপকের সাবিনার বৈসাদৃশ্য সৃষ্টি করেছে।
প্রতিবন্ধিতা কোনো অভিশাপ নয়। এই ত্রুটির উপর মানুষের কোনো হাত থাকে না। তাই কারও মধ্যে এই ত্রুটি দেখা দিলে তাকে অবহেলা বা অবজ্ঞা করা উচিত নয়। বরং তার প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া প্রয়োজন।
উদ্দীপকে বর্ণিত সাবিনা সড়ক দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছে। কিন্তু এতে তার জীবন থেমে থাকেনি। বাবা-মা তাকে প্রতিবন্ধী স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলে সে পড়াশোনা করে আত্মনির্ভরশীল হতে পেরেছে। সাবিনার জীবনের এই ঘটনা 'সুভা' গল্পের সুভার সঙ্গে মেলে না। সুভা জন্ম থেকেই কথা বলতে পারে না। তাই সে সবার কাছে উপেক্ষিত হয়েছে। তার জীবনটাকে সুন্দরভাবে পরিচালিত করার কোনো পথ তাকে কেউ বাতলে দেয়নি। তার মা-বাবাও নয়। বরং সবার কাছে সে অবহেলা পেয়েছে। আর এখানেই উদ্দীপকের সাবিনার সঙ্গে তার বৈসাদৃশ্য।
""সুভা' গল্পে সুভার বাবা-মা যদি উদ্দীপকের সাবিনার বাবা-মায়ের মতো হতো তাহলে সুভাকে গ্রাম ছেড়ে কলকাতায় যেতে হতো না।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
প্রতিবন্ধীরা সমাজেরই অংশ। তাদেরও এ সমাজে ভালোভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। তবে এদেরকে সুন্দর জীবনের পথে এগিয়ে দিতে পরিবার ও পারিপার্শ্বের মানুষের সহযোগিতাই সর্বাগ্রে প্রয়োজন। সবার সহানুভূতি ও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাবই এ ধরনের মানুষকে সুন্দর জীবন উপহার দিতে পারে।
উদ্দীপকে সড়ক দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারানো সাবিনার সফল জীবনের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। দৃষ্টি হারিয়ে সাবিনাকে থেমে থাকতে হয়নি। বাবা-মায়ের সহযোগিতায় সে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। সে সমাজের বোঝা হয়ে থাকেনি।
'সুভা' গল্পে জন্ম থেকেই কথা বলতে না পারা সুভাকে পরিবার ও সমাজের অনেক অবজ্ঞা, অবহেলা ও যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে। তার বাবা-মা তাকে সহযোগিতা করেনি। তারা যদি তার প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে তার পড়াশোনার ব্যবস্থা করত অথবা অন্য উপায়ে তাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করত, তবে তার জীবন অন্য রকম হতো। সমাজের বোঝা হয়ে তাকে এতটা যন্ত্রণা সহ্য করতে হতো না। যে নির্বাক প্রকৃতিকে সে তার পরম বন্ধু ভেবেছিল, তাকে ছেড়েও শেষ পর্যন্ত তাকে চলে যেতে হতো না। তাই সুভার জীবনের এই করুণ পরিণতির দায় তার পরিবার ও সমাজকেও দিতে হয়। তাই মন্তব্যটিকে যথার্থ বলা যায়।
তথাকথিত ছোটলোক সম্প্রদায়ের কাজ করতে না পারার কারণ অভিজাত বড়োলোক সম্প্রদায়ের অত্যাচার
Related Question
View All'পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার'- কথাটির মধ্য দিয়ে লেখক বাষ্প্রতিবন্ধী সুভার বিয়ের বয়স হওয়া সত্ত্বেও বিয়ে দিতে না পারায় পিতা-মাতার হৃদয়ের নীরব কষ্টকে বোঝাতে চেয়েছেন।
সুভা বাণীকন্ঠের ছোট মেয়ে। সে কথা বলতে পারে না। বাণীকণ্ঠ তার বড় দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু বাষ্প্রতিবন্ধী হওয়ায় ছোট মেয়ে সুভাকে বিয়ে দিতে পারেননি। তাই সুভার ভবিষ্যৎ নিয়ে বাণীকণ্ঠ এবং তার স্ত্রী উভয়েই চিন্তিত। সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে তাদের হৃদয়ে নীরব কষ্ট সৃষ্টি হয়। লেখক সেই কষ্টকেই বলেছেন- পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার।
উদ্দীপকের প্রথম অংশের বক্তব্যে কল্যাণী ও সুভার শারীরিক প্রতিবন্ধিতার দিকটির সংগতি দেখানো হয়েছে।
শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে অনেকে সমাজে অবহেলার শিকার হয়। এতে সমাজের মানুষ হীনম্মন্যতার পরিচয় দেয়। প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহানুভূশীল হলে তবেই তারা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে এবং সমাজে সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারবে।
'সুভা' গল্পে সুভা কথা বলতে পারে না। আনন্দের বার্তা নিয়ে পৃথিবীতে এলেও কথা বলতে না পারার বিষয়টি কিছুটা সুভার বাবা- মায়ের মনে নীরব হৃদয়ভারের জন্ম দেয়। উদ্দীপকের কল্যাণীর জন্মও পরিবারে আনন্দ নিয়ে আসে। কিন্তু তার মানসিক প্রতিবন্ধিতার দিকটি সবাইকে চিন্তিত করে তোলে। তার মানসিক বিকাশ কিছুটা কম হয়েছে। 'সুভা' গল্পের সুভাও বাষ্প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার পরিবারের সবার দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে উদ্দীপকের বক্তব্যে কল্যাণী ও সুভার প্রতিবন্ধিতার দিকটি সংগতিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কল্যাণী ও সুভা একই পরিস্থিতির শিকার হলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি ভিন্ন- মন্তব্যটি যথার্থ।
শারীরিক প্রতিবন্ধীরা আমাদের সমাজে বিভিন্নভাবে অবহেলার সম্মুখীন হয়। তারা আমাদের সমাজেরই অংশ, আমাদের মতোই মানুষ। তাই তাদের কল্যাণে এগিয়ে আসা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমাদের সহানুভূতি পেলে তারা জীবনের পূর্ণতা লাভ করবে।
উদ্দীপকে কল্যাণীর মানসিক বিকাশ ঠিকভাবে ঘটেনি। বিয়ের কথাবার্তায় তার বাবা পলাশ বাবু বরপক্ষের কাছে সে সব কথা খুলে বলেন। তারা সব শুনে উদারতার পরিচয় দেন। বরের বাবা সুবোধ বাবু মহত্ত্বের পরিচয় দিয়ে কল্যাণীকে ঘরে নিয়ে যেতে চান। অন্যদিকে 'সুভা' গল্পের সুভা বাষ্প্রতিবন্ধী। সে কথা বলতে পারে না। সবার কাছ থেকে অবহেলা পেলেও সুভা তার বাবার ভালোবাসা পেয়েছে। সুভার সাথে কেউ মেশে না বলে সে পোষা প্রাণীদের মাঝে নিজের একটি বিশাল জগৎ তৈরি করেছে।
উদ্দীপকের কল্যাণী ও 'সুভা' গল্পের সুভা একই পরিস্থিতির শিকার হলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি ভিন্ন। কল্যাণী সুবোধ বাবুর উদারতায় পেয়েছে সুন্দর ভবিষ্যতের সন্ধান। অথচ 'সুভা' গল্পের সুভার পরিণতি এতটা মানবিকতায় সিক্ত হয়নি। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
শঙ্খের মধ্যে যেমন সমুদ্রের শব্দ শুনা যায়, তেমনি এই লাইব্রেরির মধ্যে কি হৃদয়ের উত্থানপতনের শব্দ শুনিতেছ
শঙেখর মাঝে সমুদ্রের শব্দ শোনা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!