উত্তরঃ

'বিলাসী' গল্পে মৃত্যুঞ্জয় এম.এ. ক্লাসে পড়ত।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

উদ্ধৃত বাক্যটিতে স্বদেশের কল্যাণের জন্য সমস্ত কষ্ট ও প্রতিকূলতা বিনা দ্বিধায় সহ্য করার দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ পেয়েছে। এটি নিজের জন্মভূমির উন্নতি ও মঙ্গলের জন্য আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠার গভীর ইঙ্গিত বহন করে।

এখানে 'হিড়হিড় করিয়া টানিয়া লইয়া চলিলাম' উক্তিটির মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, দেশের মঙ্গল সাধনের পথটি সহজ ছিল না; বরং তা ছিল অত্যন্ত কঠিন ও বাধা-বিঘ্নপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে সমস্ত বাধা অতিক্রম করে জোরপূর্বক বা দৃঢ় সংকল্পের সাথে লক্ষ্য অর্জনের দিকে এগিয়ে চলার দুর্বার আকাঙ্ক্ষা ও অবিচল চেষ্টা এই উক্তিটিতে প্রতিফলিত হয়েছে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের ভৃত্যের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বিলাসী' গল্পের বিলাসী চরিত্রের মিল পাওয়া যায়।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বিলাসী' গল্পে বিলাসী সমাজের সকল বাধা ও কুসংস্কার উপেক্ষা করে তার স্বামী মৃত্যুঞ্জয়ের প্রতি গভীর প্রেম ও সেবার পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছিল। মৃত্যুঞ্জয় সাপের কামড়ে গুরুতর অসুস্থ হলে বিলাসী নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, লোকনিন্দা উপেক্ষা করে দিনরাত তার সেবা করে তাকে সুস্থ করে তোলে। তার এই সেবা ছিল সম্পূর্ণরূপে স্বার্থহীন ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এক মহৎ দৃষ্টান্ত।

উদ্দীপকের ভৃত্য অসুস্থ কর্তার মুখে জল দিয়ে, কুশল জিজ্ঞাসা করে, মাথায় হাত রেখে এবং নিজের ঘুম ও খাবার ত্যাগ করে যে অবিচল সেবার মানসিকতা দেখিয়েছে, তা বিলাসীর আত্মত্যাগেরই প্রতিচ্ছবি। এমনকি, কর্তা সুস্থ হয়ে ওঠার পর ভৃত্যের জ্বরে আক্রান্ত হওয়া এবং কর্তার কালব্যাধিভার নিজের দেহে বরণের মাধ্যমে যে চরম আত্মত্যাগ প্রকাশ পেয়েছে, তা বিলাসী চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। বিলাসীও মৃত্যুঞ্জয়ের জীবন বাঁচাতে নিজের আরাম, সম্মান এবং জীবনের মায়া ত্যাগ করে পরম সেবা করেছে, যা উদ্দীপকের ভৃত্যের নিঃস্বার্থ ও আত্মবলিদানের মানসিকতার সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের পরিণতি আত্মত্যাগের এক করুণ উদাহরণ হলেও 'বিলাসী' গল্পের পরিণতি আরও ভয়াবহ, কারণ এটি কেবল ব্যক্তিগত দুঃখ-কষ্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং সামাজিক অবিচার ও কুসংস্কারের নিষ্ঠুরতাকেও উন্মোচন করেছে। উদ্দীপকে একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে সুস্থ করার জন্য অপর একজন তার কালব্যাধি নিজের দেহে বরণ করে নিয়েছে, যা চরম আত্মত্যাগ ও ভালোবাসার দৃষ্টান্ত। এখানে অসুস্থতা ও তার পরিণতির ভয়াবহতা ব্যক্তিগত স্তরের।

অন্যদিকে, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বিলাসী' গল্পে মৃত্যুঞ্জয়ের কঠিন রোগ কালাজ্বর নিরাময়ে বিলাসী যে সেবা ও শুশ্রূষা করে, তা উদ্দীপকের আত্মত্যাগের মতোই মহৎ। কিন্তু বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের জীবন কেবল রোগমুক্তি বা রোগ ভোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। সমাজ তাদের এই প্রেম ও সেবা মেনে নিতে পারেনি। জাতিভেদ প্রথার নির্মমতার শিকার হয়ে তাদের সমাজচ্যুত হতে হয়, যা তাদের ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডিকে আরও গভীর করে তোলে।

উদ্দীপকের ঘটনায় সেবাদানকারী ব্যক্তির মৃত্যুজনিত শোক ব্যক্তিগত পরিসরে সীমাবদ্ধ থাকলেও, 'বিলাসী' গল্পে বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের পরিণতি তাদের ব্যক্তিগত বিপর্যয়ের পাশাপাশি সমাজ দ্বারা আরোপিত অমানবিকতার ফলস্বরূপ। তাদের আশ্রয়হীনতা, সমাজের চোখে হেয় প্রতিপন্ন হওয়া এবং সবশেষে বিলাসীর সর্পদংশনে আকস্মিক মৃত্যু (যা সামাজিক বঞ্চনার এক করুণ পরিণতি) এবং তারপর মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যু—এসব মিলে এক ভয়াবহ সামাজিক ও মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরে। উদ্দীপকের পরিণতি শারীরিক অসুস্থতা স্থানান্তরের বেদনাদায়ক দিকটি প্রকাশ করলেও, 'বিলাসী' গল্পে শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি সামাজিক উৎপীড়ন এবং জীবনের সকল আশা-ভরসা হারানোর যে বেদনা ও করুণ পরিণতি চিত্রিত হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে অধিক ভয়াবহ ও মর্মস্পর্শী।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

কর্ণধার শব্দটির অর্থ যিনি নৌকা বা জাহাজের হাল ধরে পথ দেখান; প্রধান পরিচালক বা নেতা।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

প্রবন্ধকার পরাবলম্বনকে সবচেয়ে বড় দাসত্ব বলেছেন কারণ এটি মানুষকে তার স্বকীয়তা, স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদা থেকে বঞ্চিত করে। পরাধীন ব্যক্তি নিজের ইচ্ছামতো জীবনযাপন করতে পারে না এবং অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে তার দাসত্ব মেনে নিতে বাধ্য হয়, যা আত্মপ্রতিষ্ঠার পথে সবচেয়ে বড় বাধা।

আত্মমর্যাদাশীল ও স্বাধীন জীবন যাপনের জন্য আত্মনির্ভরশীলতা অত্যাবশ্যক। যে ব্যক্তি নিজের যোগ্যতা ও প্রচেষ্টার ওপর আস্থা না রেখে অন্যের সাহায্য বা সমর্থনের উপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করে, সে কার্যত নিজের স্বাধীনতাকে বিসর্জন দেয়। এই পরমুখাপেক্ষিতা মানুষের ভেতরের সম্ভাবনাকে দমন করে এবং তাকে অন্যের ইচ্ছার অধীন করে তোলে, যা দাসত্বেরই নামান্তর।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে কাজী নজরুল ইসলামের 'আমার পথ' প্রবন্ধের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় আত্মবিশ্বাস, নির্ভীকতা ও নিজস্ব পথে অবিচল থাকার বিষয়টি মূর্ত হয়ে উঠেছে।

কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর 'আমার পথ' প্রবন্ধে মানুষের ভেতরের সত্য ও বিবেককে চেনার কথা বলেছেন এবং সেই সত্যের ওপর দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে নিজের পথ তৈরি করে নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। পরাধীনতা ও মিথ্যাচার থেকে মুক্তি পেতে আত্মবিশ্বাসী ও নির্ভীক হয়ে স্বীয় সত্তার উন্মোচনই তাঁর প্রবন্ধের মূল সুর। তাঁর মতে, আত্মসত্যকে চিনে নিজের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করতে পারলেই মানুষ সকল বাধা অতিক্রম করে সফল হতে পারে।

উদ্দীপকের শুরুতেই বলা হয়েছে, "সোনার চামচ মুখে দিয়ে জন্মায় আর কটি লোক। শতকরা প্রায় নিরানব্বই জন মানুষকেই চেষ্টা করতে হয়, জয় করে নিতে হয় জগৎকে।" এই কথাগুলো 'আমার পথ' প্রবন্ধের সেই আত্মনির্ভরশীলতার ধারণাকে সমর্থন করে, যেখানে নিজস্ব প্রচেষ্টা ও সংগ্রামের মাধ্যমে জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, "চেষ্টা ছাড়া আত্মপ্রতিষ্ঠা অসম্ভব" এবং "নির্ভীক সত্য সাধক, দৃঢ় আত্মবিশ্বাসী এবং পরমতসহিষ্ণু ব্যক্তিমাত্রই চেষ্টার মাধ্যমে তৈরি করে নিতে পারে নিজের পথ" - এই উক্তিগুলো নজরুলের প্রবন্ধে বর্ণিত আত্মবিশ্বাসী ও সত্যনিষ্ঠ হয়ে নিজেদের পথ তৈরি করে নেওয়ার ধারণাকেই স্পষ্ট করে তোলে। উদ্দীপকটি মূলত নিজস্ব প্রচেষ্টা, সাহস ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে আত্মপ্রতিষ্ঠা এবং জীবন সংগ্রামে জয়ী হওয়ার পথ নির্দেশ করে, যা 'আমার পথ' প্রবন্ধের কেন্দ্রীয় আদর্শ।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

‘আমার পথ’ প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলাম সত্যের জয়গান গেয়েছেন, যেখানে ব্যক্তি তার আত্মবিশ্বাস ও নির্ভীকতাকে সম্বল করে নিজের পথ নিজে তৈরি করবে এবং মিথ্যার সকল আবরণ ছিন্ন করে এগিয়ে যাবে। উদ্দীপকটি জীবনের প্রতিকূলতার সঙ্গে সংগ্রাম করে আত্মপ্রতিষ্ঠা লাভের ওপর জোর দিয়েছে, যা 'আমার পথ' প্রবন্ধের আত্মনির্ভরশীলতার ধারণার সাথে আংশিকভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।

উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, শতকরা নিরানব্বই জন মানুষকেই চেষ্টা ও সংগ্রামের মাধ্যমে জগৎ জয় করতে হয়। এটি ব্যক্তি মানুষের কর্মঠ মনোভাব, আত্মবিশ্বাস এবং নিজস্ব প্রচেষ্টায় পথ তৈরির গুরুত্ব তুলে ধরেছে। 'ঈশ্বর তাকেই সাহায্য করেন যে নিজেকে সাহায্য করে' - এই প্রবাদবাক্যটি উদ্দীপকের মূল সুর। নির্ভীক সত্য সাধক, দৃঢ় আত্মবিশ্বাসী এবং পরমতসহিষ্ণু ব্যক্তিকে চেষ্টার মাধ্যমে নিজের পথ তৈরি করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। এই অংশটুকু 'আমার পথ' প্রবন্ধের 'আমার কর্ণধার আমি' এবং 'আমার পথ দেখাবে আমার সত্য' - এই মৌলিক ধারণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তবে, উদ্দীপকটি 'আমার পথ' প্রবন্ধের সামগ্রিক ভাব ধারণ করতে পারেনি। 'আমার পথ' প্রবন্ধে নজরুল যে ভয়মুক্ত, সত্যাশ্রয়ী, নির্ভীক ও পরাধীনতামুক্ত চেতনার কথা বলেছেন, যেখানে মিথ্যার সকল বাধা ভেঙে সত্যকে প্রতিষ্ঠা করাই প্রধান উদ্দেশ্য, উদ্দীপকে তার গভীর দার্শনিক দিকটি অনুপস্থিত। উদ্দীপক মূলত ব্যক্তিগত চেষ্টা, সংগ্রাম ও আত্মপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জাগতিক সুখ অর্জনের কথা বলে, যা প্রবন্ধের বিপ্লবী চেতনা ও সমাজ পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার চেয়ে ভিন্ন। 'আমার পথ' কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং মিথ্যার দেউল ভেঙে মানবমুক্তির জয়গান গায়। প্রবন্ধে লেখক বিশেষভাবে মিথ্যা, ভন্ডামি ও অন্ধ অনুকরণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন, যার পূর্ণ প্রতিফলন উদ্দীপকে নেই।

সুতরাং, উদ্দীপকটি 'আমার পথ' প্রবন্ধের আত্মবিশ্বাস, নির্ভীকতা এবং স্বাবলম্বনের মতো কিছু মৌলিক ধারণাকে ধারণ করলেও, প্রবন্ধের গভীরতর বিপ্লবী চেতনা, মিথ্যার বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম এবং সত্যকে একমাত্র পথ হিসেবে গ্রহণ করার সামগ্রিক ভাবটি এতে সম্পূর্ণরূপে প্রতিফলিত হয়নি।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখে ফরিদপুরে শোভাযাত্রা চলেছিল।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

"মানুষের যখন পতন আসে তখন পদে পদে ভুল হতে থাকে" - এই উক্তিটি দ্বারা বোঝানো হয় যে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর যখন অধঃপতন শুরু হয়, তখন তাদের বিচারবুদ্ধি লোপ পায় এবং তারা একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত নিতে থাকে। এই ভুলগুলো তাদের পতনকে আরও ত্বরান্বিত করে এবং বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়।

ক্ষমতা বা নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয়ে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ে এবং সঠিক-ভুল বিচার করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এর ফলে তারা এমন সব কাজ করে বসে যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে এবং শেষ পর্যন্ত তাদের চূড়ান্ত পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আলজেরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামে ফরাসি ঔপনিবেশিক শক্তির নির্মম দমন-পীড়ন ও গণহত্যা তাদের নৈতিক স্খলন ও পতনেরই ইঙ্গিত দেয়, যা তাদের ভুল পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা ছিল।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় বাঙালি তরুণদের রক্তদানের মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপ প্রকাশ পেয়েছে। ১৯৫২ সালে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী যখন বাঙালির মাতৃভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্র করে, তখন ছাত্র-জনতা এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। মাতৃভাষার সম্মান রক্ষার্থে তারা জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমে আসে এবং অকাতরে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে।

উদ্দীপকে বর্ণিত আলজেরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামে কিশোরী ফাতিমা বেদার ফরাসি পুলিশের গুলিতে নিহত হয়ে যেভাবে আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দিয়েছিলেন, তেমনি 'বায়ান্নর দিনগুলো'তে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারের মতো বাঙালি তরুণরাও ভাষার দাবিতে প্রাণ উৎসর্গ করে আন্দোলনকে অপ্রতিরোধ্য করে তোলে। উভয় ক্ষেত্রেই শাসকের নির্মম দমন-পীড়ন ও রক্তপাত পরাধীন জাতির স্বাধিকারের আকাঙ্ক্ষাকে আরও শক্তিশালী করে। আলজেরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামীরা ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের শৃঙ্খল ভাঙতে যেমন জীবন দিয়েছিল, তেমনি বাঙালি তরুণরাও মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানি শোষকদের বিরুদ্ধে প্রাণপণ সংগ্রাম করে।

সুতরাং, ফাতিমা বেদার ও 'বায়ান্নর দিনগুলো'র বাঙালি তরুণদের রক্তদান উভয়ই পরাধীনতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। নিজ জাতির অধিকার, ভাষা ও স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের মাধ্যমে তারা ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন এবং পরবর্তী প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। এই রক্তদানের ফলেই আলজেরিয়া ফরাসি শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজও অঙ্কুরিত হয়েছিল, যা পরবর্তীতে স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

“প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপক এবং ‘বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় মূলত দখলদার শাসক শ্রেণির নির্মম দমন-নিপীড়নের ইতিহাসই বর্ণিত হয়েছে”—মন্তব্যটি অত্যন্ত যৌক্তিক ও যথার্থ। দখলদার শাসকেরা সবসময়ই নিজেদের ক্ষমতা ও আধিপত্য টিকিয়ে রাখার জন্য নির্মম দমন-পীড়নের আশ্রয় নেয়, যার চূড়ান্ত চিত্র উদ্দীপক ও 'বায়ান্নর দিনগুলো' উভয় রচনাতেই পরিস্ফুট হয়েছে।

উদ্দীপকে আমরা আলজেরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপট দেখতে পাই, যেখানে ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠী আলজেরীয় প্রতিবাদকারীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। রাজপথে প্রতিবাদকারীদের ওপর ফরাসি পুলিশের ঝাঁপিয়ে পড়া, নির্মম গণহত্যা চালানো, জঙ্গলে, নদীতে, খালেবিলে প্রতিবাদকারীদের লাশ পাওয়া—এগুলো ছিল দখলদার ফরাসিদের বর্বর দমন-পীড়নেরই চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত। পনের বছরের কিশোরী ফাতিমা বেদারকে হত্যা করা হয়, যা আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তোলে। এই ঘটনাগুলো স্পষ্টতই দখলদার ফরাসি শাসকগোষ্ঠীর হিংস্র চরিত্রকে তুলে ধরে, যারা নিজেদের শাসন টিকিয়ে রাখতে কোনো পাশবিকতা থেকে পিছপা হয়নি।

অন্যদিকে, শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনীমূলক রচনা 'বায়ান্নর দিনগুলো'তে আমরা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের উপর পশ্চিম পাকিস্তানি দখলদার শাসকগোষ্ঠীর নির্মম দমন-পীড়নের চিত্র দেখতে পাই। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানি শাসকচক্র বাংলা ভাষার অধিকার আদায়ের দাবিতে সোচ্চার বাঙালিদের ওপর একইভাবে নির্যাতন চালায়। নির্বিচারে গুলি চালিয়ে রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ অসংখ্য ভাষাপ্রেমী মানুষকে হত্যা করা হয়, যা ছিল তাদের দমন-পীড়নের এক জঘন্য উদাহরণ। উদ্দীপকে বর্ণিত ফরাসি পুলিশের গণহত্যার মতোই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীও শান্তিপূর্ণ মিছিলের ওপর গুলি চালিয়ে রক্তপাত ঘটিয়েছিল। উভয় ক্ষেত্রেই শাসকেরা নিজেদের ভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও শোষণমূলক শাসন চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল এবং এর বিরুদ্ধে জনবিক্ষোভকে দমন করতে চেয়েছিল।

সুতরাং, বলা যায় যে, ভৌগোলিক অবস্থান ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপক এবং ‘বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় একটি সাধারণ সূত্র রয়েছে, যা হলো দখলদার শাসক শ্রেণির আগ্রাসী মনোভাব ও তাদের নির্মম দমন-পীড়নের ইতিহাস। উভয় ক্ষেত্রেই পরাধীন জাতির স্বাধীনতা ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে রক্তক্ষয়ী পথে নিবৃত করতে চেয়েছিল দখলদার শক্তি। তাই মন্তব্যটি সর্বাংশে নির্ভুল ও বিশ্লেষণধর্মী।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের 'রেইনকোট' গল্পের নুরুল হুদা মিন্টুর রেইনকোট পরার পর পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মানসিক শক্তি অর্জন করে। এ সময় বৃষ্টি তার নিজের গায়ে পড়ছে বলে মনে না হয়ে, বরং মিন্টুর রেইনকোটের ওপর পড়ছে বলে তার মনে হয়। এটি নুরুল হুদার ভীতু শিক্ষক সত্তার ভেতরে মিন্টুর অদম্য সাহস ও মুক্তিযোদ্ধা সত্তার উন্মেষকে প্রতীকীভাবে প্রকাশ করে।

উক্তিটির মাধ্যমে একজন সাধারণ মানুষের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রস্ফুটন দেখানো হয়েছে। রেইনকোট পরিধানের পর নুরুল হুদা শুধু বাহ্যিকভাবে বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পায় না, বরং মানসিকভাবেও এক ধরনের অপরাজেয় শক্তি অনুভব করে। বৃষ্টি তার ভেতরের ভীরুতাকে ধুয়ে ফেলে তাকে আরও বেশি ইস্পাতকঠিন ও নির্ভীক করে তোলে, যা মুক্তিযুদ্ধের সময় সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ ও আত্মত্যাগের প্রতিচ্ছবি।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

'রেইনকোট' গল্পের নুরুল হুদা ছিলেন একজন ভীতু ও আত্মকেন্দ্রিক অধ্যাপক, যিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকে সরাসরি এর সাথে যুক্ত হতে চাননি। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অত্যাচারে যখন দেশের পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল, তখনও তিনি নিজের শিক্ষকতার গণ্ডির বাইরে গিয়ে কোনো সাহসী পদক্ষেপ নিতে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন। তার মধ্যে এক ধরনের ভীরুতা এবং সংঘাত এড়িয়ে চলার প্রবণতা লক্ষণীয় ছিল।

উদ্দীপকের গাজী রহমানও ১৯৭১ সালের ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে নিজেকে বাঁচাতে আত্মগোপনে চলে যান। প্রবীণ স্কুলশিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও তিনি প্রথমে বাস্তবতার কঠিন দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছিলেন এবং পলাতক জীবনে তিনি নিজেকে অপরিচিত ও বিব্রত মনে করতেন। এই দিক থেকে তার প্রাথমিক ভীরুতা এবং পরিস্থিতি থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখার প্রবণতা 'রেইনকোট' গল্পের নুরুল হুদার প্রাথমিক অবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

তবে দেড় মাসের পলাতক জীবনে কয়েকজন অসীম সাহসী মুক্তিযোদ্ধার সান্নিধ্যে এসে গাজী রহমান অনুপ্রাণিত হন এবং নির্ভীকচিত্তে বাস্তবের কঠিন কর্তব্যভূমিতে পা রাখেন। একইভাবে, নুরুল হুদাও তার ভীতু মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে রেইনকোটের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে পরোক্ষভাবে যুক্ত হন এবং সাহস সঞ্চয় করেন। উভয় চরিত্রই প্রাথমিকভাবে ভীতু এবং যুদ্ধবিমুখ হলেও, শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সাহসিকতার সাথে নিজেদের ভূমিকা পালন করেছেন, যা তাদের মধ্যে প্রধান সাদৃশ্য।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

‘রেইনকোট’ গল্পে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অত্যাচার ও বাঙালি জাতির প্রতিরোধের প্রেক্ষাপটে একজন ভীতু ও সাধারণ মানুষের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। উদ্দীপকে শওকত ওসমানের ‘জাহান্নাম হইতে বিদায়’ উপন্যাসের প্রবীণ স্কুলশিক্ষক গাজী রহমানের চরিত্র ও তার উপলব্ধির মধ্য দিয়ে ‘রেইনকোট’ গল্পের এই মূল বিষয়বস্তুর প্রতিফলন ঘটেছে। অর্থাৎ, উদ্দীপকে ‘রেইনকোট’ গল্পের বিষয়বস্তু যথেষ্ট পরিমাণে প্রতিফলিত হয়েছে।

‘রেইনকোট’ গল্পে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহ পরিস্থিতি, পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মমতা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের গোপন তৎপরতা বর্ণিত হয়েছে। গল্পের প্রধান চরিত্র নুরুল হুদা initially একজন ভীতু, আত্মকেন্দ্রিক কেরানি। কিন্তু তার দেশপ্রেমিক ভাই এবং ভাগ্নেদের প্রভাবে, বিশেষত ভাইয়ের রক্তমাখা রেইনকোটটি গায়ে দেওয়ার পর সে এক অভূতপূর্ব সাহস ও দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধ হয়। তার এই পরিবর্তন কেবল ব্যক্তিগত নয়, এটি ছিল সেসময়ের সাধারণ বাঙালির জাগরণেরই প্রতীক। উদ্দীপকের গাজী রহমানও মুক্তিযুদ্ধের বিভীষিকাময় পরিবেশে নিজের প্রাণ বাঁচাতে আত্মগোপনে যান এবং পলাতক জীবনে নিজেকে অচেনা অনুভব করেন। ঠিক যেমন নুরুল হুদা প্রাথমিকভাবে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিল, তেমনি গাজী রহমানও ছিলেন ভীত ও বিচ্ছিন্ন।

উদ্দীপকে দেখা যায়, দেড় মাসের পলাতক জীবনে গাজী রহমান কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সংস্পর্শে আসেন। অসীম সাহসী এই মানুষদের সংস্পর্শে এসে তিনি অনুপ্রাণিত হন এবং নির্ভীকচিত্তে বাস্তবের কঠিন কর্তব্যভূমিতে পা রাখেন। এই যে ভীতি ও নিষ্ক্রিয়তা থেকে অনুপ্রেরণা পেয়ে দেশপ্রেম ও সক্রিয়তায় ফিরে আসা, এটিই ‘রেইনকোট’ গল্পের মূল সুর। উদ্দীপকের গাজী রহমানের চরিত্রটিতে ‘রেইনকোট’ গল্পের নুরুল হুদার সেই মানসিক রূপান্তর, ভয় কাটিয়ে প্রতিরোধের চেতনায় উদ্দীপ্ত হওয়ার চিত্রটি সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। উভয়ক্ষেত্রেই ব্যক্তিজীবন ছাপিয়ে জাতীয়তাবাদী চেতনা ও সাহসের জাগরণ মুখ্য হয়ে উঠেছে।

সুতরাং, উদ্দীপকের ঘটনাপ্রবাহ ‘রেইনকোট’ গল্পের মূল বিষয়বস্তুকে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে ধারণ করে। ভীতি ও নিষ্ক্রিয়তা থেকে দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের প্রেরণায় উজ্জীবিত হওয়ার মধ্য দিয়ে উদ্দীপকটি ‘রেইনকোট’ গল্পের মূল বার্তা, অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের সময় সাধারণ মানুষের মনে দেশপ্রেমের উন্মোচন এবং প্রতিরোধের আকাঙ্ক্ষাকে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ‘রেইনকোট’ গল্পের বিষয়বস্তু পূর্ণরূপে প্রতিফলিত হয়েছে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
364


আমার কর্ণধার আমি। আমার পথ দেখাবে আমার সত্য। আমার যাত্রা শুরুর আগে আমি সালাম জানাচ্ছি— নমস্কার করছি আমার সত্যকে। যে-পথ আমার সত্যের বিরোধী, সে পথ আর কোনো পথই আমার বিপথ নয় । রাজভয়— লোকভয় কোনো ভয়ই আমায় বিপথে নিয়ে যাবে না। আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তাহলে বাইরের কোনো ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না। যার ভিতরে ভয়, সেই বাইরে ভয় পায়। অতএব যে মিথ্যাকে চেনে, সে মিছামিছি তাকে ভয়ও করে না। যার মনে মিথ্যা, সে-ই মিথ্যাকে ভয় করে। নিজকে চিনলে মানুষের মনে আপনা-আপনি এত বড় একটা জোর আসে যে, সে আপন সত্য ছাড়া আর কাউকে কুর্নিশ করে না— অর্থাৎ কেউ তাকে ভয় দেখিয়ে পদানত রাখতে পারে না । এই যে, নিজকে চেনা, আপনার সত্যকে আপনার গুরু, পথপ্রদর্শক কাণ্ডারি বলে জানা, এটা দম্ভ নয়, অহংকার নয় । এটা আত্মকে চেনার সহজ স্বীকারোক্তি । আর যদি এটাকে কেউ ভুল করে অহংকার বলে মনে করেন, তবু এটা মন্দের ভালো— অর্থাৎ মিথ্যা বিনয়ের চেয়ে অনেক বেশি ভালো। অনেক সময় খুব বেশি বিনয় দেখাতে গিয়ে নিজের সত্যকে অস্বীকার করে ফেলা হয় । ওতে মানুষকে ক্রমেই ছোট করে ফেলে, মাথা নিচু করে আনে । ও রকম বিনয়ের চেয়ে অহংকারের পৌরুষ অনেক-অনেক ভালো ।
অতএব এই অভিশাপ-রথের সারথির স্পষ্ট কথা বলাটাকে কেউ যেন অহংকার বা স্পর্ধা বলে ভুল না করেন।
স্পষ্ট কথা বলায় একটা অবিনয় নিশ্চয় থাকে; কিন্তু তাতে কষ্ট পাওয়াটা দুর্বলতা। নিজকে চিনলে, নিজের সত্যকেই নিজের কর্ণধার মনে জানলে নিজের শক্তির ওপর অটুট বিশ্বাস আসে। এই স্বাবলম্বন, এই নিজের ওপর অটুট বিশ্বাস করতেই শেখাচ্ছিলেন মহাত্মা গান্ধীজি। কিন্তু আমরা তাঁর কথা বুঝলাম না, “আমি আছি” এই কথা না বলে সবাই বলতে লাগলাম “গান্ধীজি আছেন” । এই পরাবলম্বনই আমাদের নিষ্ক্রিয় করে ফেললে । একেই বলে সবচেয়ে বড় দাসত্ব। অন্তরে যাদের এত গোলামির ভাব, তারা বাইরের গোলামি থেকে রেহাই পাবে কী করে? আত্মাকে চিনলেই আত্মনির্ভরতা আসে। এই আত্মনির্ভরতা যেদিন সত্যি সত্যিই আমাদের আসবে, সেই দিনই আমরা স্বাধীন হব, তার আগে কিছুতেই নয়। নিজে নিষ্ক্রিয় থেকে অন্য একজন মহাপুরুষকে প্রাণপণে ভক্তি করলেই যদি দেশ উদ্ধার হয়ে যেত, তাহলে এই দেশ এতদিন পরাধীন থাকত না। আত্মকে চেনা নিজের সত্যকে বড় মনে করার দম্ভ— আর যাই হোক ভণ্ডামি নয়। এ-দম্ভ শির উঁচু করে, পুরুষ করে, মনে একটা ‘ডোন্ট কেয়ার’-ভাব আনে । আর যাদের এই তথাকথিত দম্ভ আছে, শুধু তারাই অসাধ্য সাধন করতে পারবে।
যার ভিত্তি পচে গেছে, তাকে একদম উপড়ে ফেলে নতুন করে ভিত্তি না গাঁথলে তার ওপর ইমারত যতবার খাড়া করা যাবে, ততবারই তা পড়ে যাবে। দেশের যারা শত্রু, দেশের যা-কিছু মিথ্যা, ভণ্ডামি, মেকি তা সব দূর করতে প্রয়োজন হবে আগুনের সম্মার্জনা! আমার এমন গুরু কেউ নেই, যার খাতিরে সে আগুন-সত্যকে অস্বীকার করে কারুর মিথ্যা বা ভণ্ডামিকে প্রশ্রয় দেবে। আমি সে-দাসত্ব হতে সম্পূর্ণ মুক্ত । আমি কোনো দিনই কারুর বাণীকে বেদবাক্য বলে মেনে নেব না, যদি তার সত্যতা প্রাণে তার সাড়া না দেয়। না বুঝে বোঝার ভণ্ডামি করে পাঁচ জনের শ্রদ্ধা আর প্রশংসা পাবার লোভ আমি কোনো দিনই করব না ।
ভুলের মধ্য দিয়ে গিয়েই তবে সত্যকে পাওয়া যায়। কোনো ভুল করছি বুঝতে পারলেই আমি প্রাণ খুলে তা স্বীকার করে নেব। কিন্তু না বুঝেও নয়, ভয়েও নয়। ভুল করছি বা করেছি বুঝেও শুধু জেদের খাতিরে বা গোঁ বজায় রাখবার জন্যে ভুলটাকে ধরে থাকব না। তাহলে আমার আগুন সেই দিনই নিভে যাবে। একমাত্র মিথ্যার জলই এই শিখাকে নিভাতে পারবে। তাছাড়া কেউ নিভাতে পারবে না ।
মানুষ-ধর্মই সবচেয়ে বড় ধর্ম। হিন্দু-মুসলমানের মিলনের অন্তরায় বা ফাঁকি কোনখানে তা দেখিয়ে দিয়ে এর গলদ দূর করা আমার এ পথের অন্যতম উদ্দেশ্য। মানুষে মানুষে যেখানে প্রাণের মিল, আদত সত্যের মিল, সেখানে ধর্মের বৈষম্য, কোনো হিংসার দুশমনির ভাব আনে না । যার নিজের ধর্মে বিশ্বাস আছে, যে নিজের ধর্মের সত্যকে চিনেছে, সে কখনো অন্য ধর্মকে ঘৃণা করতে পারে না। দেশের পক্ষে যা মঙ্গলকর বা সত্য, শুধু তাই লক্ষ্য করে এই আগুনের ঝান্ডা দুলিয়ে পথে বাহির হলাম ।

[সংক্ষেপিত ও পরিমার্জিত]

Related Question

View All
উত্তরঃ

‘বায়ান্নর দিনগুলো’ প্রবন্ধটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে সংকলিত।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
406
উত্তরঃ

"মানুষের যখন পতন আসে তখন পদে পদে ভুল হতে থাকে" - এই উক্তিটির মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, যখন কোনো ব্যক্তি বা ব্যবস্থার অধঃপতন বা খারাপ সময় শুরু হয়, তখন তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং একের পর এক ভুল কাজ সংঘটিত হতে থাকে। এই ভুলগুলো তার পতনের ধারাকে আরও ত্বরান্বিত করে।

মূলত, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মানুষের মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায় এবং আত্মবিশ্বাস কমে যায়। ফলে বিচারবুদ্ধি লোপ পায় এবং সঠিক পথে চালিত হওয়ার পরিবর্তে ভুল পথে ধাবিত হয়। এই ভুলগুলো আপাতদৃষ্টিতে ছোট মনে হলেও, সামগ্রিকভাবে তা পতনের কারণ হিসেবে কাজ করে এবং চূড়ান্ত বিপর্যয় ডেকে আনে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
514
উত্তরঃ

উদ্দীপকের শেষ বাক্যে দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকে ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। 'বায়ান্নর দিনগুলো' প্রবন্ধে ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শেখ মুজিবুর রহমান নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছেন, যা উদ্দীপকের এই ভাবেরই প্রতিচ্ছবি।

'বায়ান্নর দিনগুলো' প্রবন্ধে শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময়কার ঘটনা ও নিজের কারাজীবনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। তিনি তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অন্যায়ের প্রতিবাদে এবং বাংলা ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কারাবরণ করেন। কারাবাসে থাকাকালীন তিনি দীর্ঘ অনশন ধর্মঘট পালন করেন, যা তার শারীরিক ও মানসিক কষ্টের কারণ হয়েছিল। তার এই আত্মত্যাগই দেশের প্রতি ভালোবাসা ও ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

উদ্দীপকের শেষ বাক্যটিতে "এই দেশকে ভালোবেসে এদেশের প্রতিবাদী মানুষ ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়েছেন" বলা হয়েছে। 'বায়ান্নর দিনগুলো' প্রবন্ধে শেখ মুজিবুর রহমানের অনশন ধর্মঘট পালনের ঘটনাটি এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি মুক্তির জন্য নয়, বরং ভাষা আন্দোলনের কর্মীদের মুক্তি ও বাংলা ভাষার মর্যাদার জন্য অনশন চালিয়ে যান। এমনকি তিনি যখন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ডাক্তাররা তাকে স্যালাইন দিতে চান, তখনো তিনি প্রতিবাদস্বরূপ তা প্রত্যাখ্যান করেন। এই ঘটনা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, তিনি নিজের জীবন বিপন্ন করে ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও শারীরিক আরাম বিসর্জন দিয়েছিলেন শুধু দেশের মানুষের অধিকার আদায় এবং মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
521
উত্তরঃ

“বায়ান্নর দিনগুলো” রচনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নিজের কারাভোগের অভিজ্ঞতা, ভাষার জন্য বাঙালির সংগ্রাম এবং তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন। উদ্দীপকটিতে একজন বিজয়ী বীরের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও জন-উল্লাসের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা “বায়ান্নর দিনগুলো” রচনার মূল বক্তব্যের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়, তবে পরোক্ষভাবে তার সংগ্রামের ফসল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

উদ্দীপকের প্রথম কয়েকটি চরণ – “সেইদিন আজো জ্বলজ্বলে স্মৃতি, যেদিন মহান বিজয়ী বীর দূর দেশে থেকে স্বদেশে এলেন ফিরে। শুনেছি সেদিন জয়ঢাক আর জন-উল্লাস; পথে-প্রান্তরে তাঁরই কীর্তন, তিনিই মুক্তিদূত” – পঙ্‌ক্তিগুলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের স্মৃতিকে স্মরণ করিয়ে দেয়। দীর্ঘ কারাবাস শেষে স্বাধীন দেশে তাঁর ফিরে আসা ছিল বাঙালি জাতির জন্য এক অবিস্মরণীয় আনন্দঘন মুহূর্ত, যেখানে তিনি 'বিজয়ী বীর' ও 'মুক্তিদূত' হিসেবে বরণীয় হয়েছিলেন।

তবে, "বায়ান্নর দিনগুলো" রচনার মূল প্রতিপাদ্য হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, কারাগারে বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, ভাষাসৈনিকদের আত্মত্যাগ, এবং রাষ্ট্রভাষা বাংলার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। এই রচনায় কারাবন্দী অবস্থায় লেখকের দিনলিপি, তাঁর অনশন ধর্মঘট, এবং আন্দোলনের বিস্তারিত ঘটনাপ্রবাহ প্রধান্য পেয়েছে। উদ্দীপকের আনন্দঘন বিজয় ও প্রত্যাবর্তনের চিত্রটি ভাষা আন্দোলনের সংগ্রামময় সময়ের সাথে সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, বরং তা ভাষা আন্দোলনের মতো দীর্ঘ সংগ্রামের সফল পরিণতির ইঙ্গিত বহন করে।

সুতরাং, উদ্দীপকটিতে বর্ণিত "বিজয়ী বীরের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন" ও "জন-উল্লাস" ভাষা আন্দোলনের সরাসরি বক্তব্য প্রতিফলিত করে না। বরং এটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের সফল পরিণতি হিসেবে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম এবং তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, যা “বায়ান্নর দিনগুলো” রচনার মূল ঘটনাপ্রবাহের পরবর্তী অধ্যায়। তাই, উদ্দীপকটি “বায়ান্নর দিনগুলো”র বক্তব্যকে সরাসরি প্রতিফলিত করে না, বরং এর প্রেক্ষাপট সৃষ্টিকারী সংগ্রামের চূড়ান্ত ফলকে তুলে ধরে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
290
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews