উত্তরঃ অনুচ্ছেদে গ্রামে কে নাড়ি দেখতে জানত, সে সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

“মা মরেছে ত যা নিচে নেবে দাঁড়া” অধর রায়ের এরূপ উক্তির মাধ্যমে মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুতে প্রচলিত বিশ্বাস ও অসার প্রথাগুলোর কার্যকারিতা হারানোর কঠোর বাস্তবতাকে বোঝানো হয়েছে। সাপ ধরার মন্ত্র শিখে সাপুড়ে হলেও বিষধর সাপের দংশনে মৃত্যুঞ্জয়কে তাবিজ-কবজ, ঝাড়ফুঁক বা দেব-দেবীর দোহাই দিয়েও বাঁচানো যায়নি। এ উক্তি মৃত্যুঞ্জয়ের প্রতি অসার ঐতিহ্য ও অন্ধ বিশ্বাসের পরাজয়কে নির্দেশ করে।

অধর রায় তার এই উক্তির মাধ্যমে একটি প্রথাগত বা অবলম্বনকারী সত্তার (এখানে মৃত্যুঞ্জয়, যিনি সাপুড়ে হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করতেন) মৃত্যু এবং এর ফলস্বরূপ নতুন বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। উদ্দীপকে যেমন সকল অন্ধ বিশ্বাস মৃত্যুঞ্জয়কে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে, তেমনই এই উক্তিটিও জীবনের নিষ্ঠুর বাস্তবতাকে তুলে ধরে, যেখানে মা (এখানে প্রতীকী অর্থে আশ্রয়, অবলম্বন বা প্রথাগত বিশ্বাস) মারা গেলে শোক বা বৃথা চেষ্টার বদলে সরাসরি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়াতে বলা হয়েছে। এটি অসার প্রথার বিলুপ্তি এবং বাস্তববাদী হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস নামক বিশেষ দিকের প্রতিফলন ঘটেছে। সমাজের নিচুতলার মানুষের মধ্যে বিদ্যমান এই অন্ধবিশ্বাস ও এর ফলস্বরূপ সৃষ্ট করুণ পরিণতি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের একটি অন্যতম প্রধান দিক।

'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে দেখা যায়, দরিদ্র ও অশিক্ষিত সমাজের মানুষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও স্বর্গ-নরকের ধারণাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসে আচ্ছন্ন থাকে। কাঙালি ও তার মা অভাগীও এই অন্ধবিশ্বাসের শিকার। অভাগী বিশ্বাস করত যে ধনী লোকের মতো কাঠের চিতায় পুড়ে মরলে সে স্বর্গে যাবে, যা ছিল একটি প্রবল কুসংস্কার। এই কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে কাঙালি তার মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে, যা তাদের চরম দুর্দশার দিকে ঠেলে দেয়।

উদ্দীপকে দেখা যায়, মৃত্যুঞ্জয় সাপের দংশনে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে বাঁচাতে শ্বশুরমশাইয়ের দেওয়া তাবিজ-কবজ এবং ওঝাদের ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় নেওয়া হয়। কিন্তু এই সমস্ত অন্ধবিশ্বাসমূলক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং মৃত্যুঞ্জয়কে বাঁচানো সম্ভব হয় না। এই ঘটনাটি 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের সেই দিকটিকে তুলে ধরে যেখানে বিজ্ঞানসম্মত জ্ঞান ও বাস্তবতার পরিবর্তে কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের আশ্রয় নিয়ে ব্যর্থ হতে দেখা যায়। উদ্দীপকের ঘটনা প্রমাণ করে যে, বিজ্ঞান ও যুক্তির বিপরীতে কুসংস্কার কেবল অপমৃত্যু ও দুর্দশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যা অভাগীর স্বর্গের মূল বার্তাগুলোর একটি।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের একটি বিশেষ দিকের প্রতিফলন ঘটলেও মূল বিষয়টি অনুপস্থিত - মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকটি মূলত কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের অসারতা তুলে ধরে, যা 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের একটি পার্শ্বদিক মাত্র।

উদ্দীপকে মৃত্যুঞ্জয়ের সাপ ধরার মন্ত্র শেখা, সাপের দংশনে আহত হওয়া এবং তাবিজ-কবজ, ওঝার ঝাড়ফুঁক বা দেব-দেবীর দোহাই দিয়েও তাকে বাঁচাতে না পারার ঘটনা গ্রামীণ সমাজের গভীরে প্রোথিত কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের এক বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভাবে বা অজ্ঞতায় মানুষ কীভাবে অলৌকিক শক্তির উপর ভরসা করে এবং শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়, তা এখানে স্পষ্ট। 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পেও আমরা এমন অনেক কুসংস্কারের চিত্র দেখতে পাই, যেমন - সন্তানের মঙ্গল কামনায় অভাগীর 'সাঁঝবাতি' দেওয়া, পিশাচতত্ত্ব, এবং মৃত্যুর পর স্বর্গপ্রাপ্তির জন্য নির্দিষ্ট লোকাচার পালনের বিশ্বাস। উদ্দীপকটি 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের এই দিকটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণভাবে কুসংস্কারের প্রভাবকে চিত্রিত করেছে।

তবে 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের মূল মর্মবাণী হলো সামাজিক বৈষম্য, শ্রেণি বিভাজন এবং মানুষের মানবিক মর্যাদা ও অধিকারের প্রশ্ন। দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত অভাগীর মৃত্যু এবং তার সৎকারের অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া, উচ্চবিত্ত রসিকলালের মায়ের দম্ভপূর্ণ সৎকার অনুষ্ঠানের বিপরীতে অভাগীর শেষ ইচ্ছা পূরণে কাঙালির হাহাকার - এসবের মধ্য দিয়ে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তৎকালীন সমাজের নির্মম বাস্তবতা ও বৈষম্যকে অত্যন্ত তীক্ষ্ণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। জন্মগতভাবে মানুষে মানুষে যে ভেদাভেদ তৈরি করা হয়, সম্পত্তির জোরে মানুষের যে সামাজিক অবস্থান নির্ধারিত হয়, সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক তীব্র প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়েছে এ গল্পে। কাঙালির মায়ের জন্য এক ফোঁটা আগুন পেতে না পারা এবং রসিকলালের মায়ের শবযাত্রার জাঁকজমকের মধ্যে যে বৈপরীত্য, তা গল্পের মূল বার্তা।

কাজেই, উদ্দীপকে যদিও কুসংস্কারের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে, যা 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের একটি অংশ, কিন্তু গল্পের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় সামাজিক বৈষম্য, মানবিক মূল্যবোধ ও দরিদ্রের লাঞ্ছনা এতে অনুপস্থিত। উদ্দীপকটি কেবল অন্ধবিশ্বাস ও তার অসারতাকে ফুটিয়ে তুলেছে, যা 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের সামগ্রিক গভীরতার তুলনায় একপেশে। এ কারণেই মন্তব্যটি সম্পূর্ণরূপে যথার্থ ও অর্থবহ।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
412

বই পড়া শখটা মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ শখ হলেও আমি কাউকে শখ হিসেবে বই পড়তে পরামর্শ দিতে চাইনে। প্রথমত সে পরামর্শ কেউ গ্রাহ্য করবেন না, কেননা আমরা জাত হিসেবে শৌখিন নই। দ্বিতীয়ত অনেকে তা কুপরামর্শ মনে করবেন কেননা আমাদের এখন ঠিক শখ করবার সময় নয়। আমাদের এই রোগ-শোক, দুঃখ-দারিদ্র্যের দেশে সুন্দর জীবন ধারণ করাই যখন হয়েছে প্রধান সমস্যা, তখন সেই জীবনকেই সুন্দর করা, মহৎ করার প্রস্তাব অনেকের কাছে নিরর্থক এবং নির্মমও ঠেকবে। আমরা সাহিত্যের রস উপভোগ করতে প্রস্তুত নই; কিন্তু শিক্ষার ফল লাভের জন্য আমরা সকলে উদ্‌বাহু। আমাদের বিশ্বাস, শিক্ষা আমাদের গায়ের জ্বালা ও চোখের জল দুই-ই দূর করবে। এ আশা সম্ভবত দুরাশা; কিন্তু তা হলেও আমরা তা ত্যাগ করতে পারি নে কেননা আমাদের উদ্ধারের জন্য কোনো সদুপায় আমরা চোখের সুমুখে দেখতে পাইনে। শিক্ষার মাহাত্ম্যে আমিও বিশ্বাস করি এবং যিনিই যাই বলুন, সাহিত্যচর্চা যে শিক্ষার সর্বপ্রধান অঙ্গ সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। লোকে যে তা সন্দেহ করে, তার কারণ এ শিক্ষার ফল হাতে হাতে পাওয়া যায় না, অর্থাৎ তার কোনো নগদ বাজারদর নেই। এই কারণে ডেমোক্রেসি সাহিত্যের সার্থকতা বোঝে না, বোঝে শুধু অর্থের সার্থকতা। ডেমোক্রেসির গুরুরা চেয়েছিলেন সকলকে সমান করতে কিন্তু তাদের শিষ্যরা তাদের কথা উলটো বুঝে প্রতি জনেই হতে চায় বড়োমানুষ। একটি বিশিষ্ট অভিজাত সভ্যতার উত্তরাধিকারী হয়েও ইংরেজি সভ্যতার সংস্পর্শে এসে আমরা ডেমোক্রেসির গুণগুলো আয়ত্ত করতে না পেরে তার দোষগুলো আত্মসাৎ করেছি। এর কারণও স্পষ্ট। ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়। আমাদের শিক্ষিত সমাজের লোলুপদৃষ্টি আজ অর্থের উপরেই পড়ে রয়েছে। সুতরাং সাহিত্যচর্চার সুফল সম্বন্ধে অনেকেই সন্দিহান । যাঁরা হাজারখানা ল-রিপোর্ট কেনেন, তারা একখানা কাব্যগ্রন্থও কিনতে প্রস্তুত নন; কেননা তাতে ব্যবসার কোনো সুসার নেই। নজির না আউড়ে কবিতা আবৃত্তি করলে মামলা যে হারতে হবে সে তো জানা কথা। কিন্তু যে কথা জজে শোনে না, তার যে কোনো মূল্য নেই, এইটেই হচ্ছে পেশাদারদের মহাভ্রান্তি । জ্ঞানের ভাণ্ডার যে ধনের ভাণ্ডার নয়, এ সত্য তো প্রত্যক্ষ। কিন্তু সমান প্রত্যক্ষ না হলেও সমান সত্য যে,এ যুগে যে জাতির জ্ঞানের ভাণ্ডার শূন্য সে জাতির ধনের ভাঁড়েও ভবানী। তারপর যে জাতি মনে বড়ো নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড়ো নয়; কেননা ধনের সৃষ্টি যেমন জ্ঞানসাপেক্ষ তেমনি জ্ঞানের সৃষ্টি ও মন সাপেক্ষ এবং মানুষের মনকে সরল, সচল, সরাগ ও সমৃদ্ধ করার ভার আজকের দিনে সাহিত্যের উপরও ন্যস্ত হয়েছে। কেননা মানুষের দর্শন, বিজ্ঞান, ধর্মনীতি, অনুরাগ-বিরাগ, আশা-নৈরাশ্য, তার অন্তরের স্বপ্ন ও সত্য, এই সকলের সমবায়ে সাহিত্যের জন্ম। অপরাপর শাস্ত্রের ভিতর যা আছে,সে সব হচ্ছে মানুষের মনের ভগ্নাংশ; তার পুরো মনটার সাক্ষাৎ পাওয়া যায় শুধু সাহিত্যে। দর্শন বিজ্ঞান ইত্যাদি হচ্ছে মনগঙ্গার তোলা জল, তার পূর্ণ স্রোত আবহমানকাল সাহিত্যের ভেতরই সোল্লাসে সবেগে বয়ে চলেছে এবং সেই গঙ্গাতে অবগাহন করেই আমরা আমাদের সকল পাপমুক্ত হব ।
অতএব দাঁড়াল এই যে, আমাদের বই পড়তে হবে, কেননা বই পড়া ছাড়া সাহিত্যচর্চার উপায়ান্তর নেই । ধর্মের চর্চা চাইকি মন্দিরের বাইরেও করা চলে, দর্শনের চর্চা গুহায়, নীতির চর্চা ঘরে এবং বিজ্ঞানের চর্চা জাদুঘরে; কিন্তু সাহিত্যের চর্চার জন্য চাই লাইব্রেরি; ও-চর্চা মানুষে কারখানাতেও করতে পারে না; চিড়িয়াখানাতেও নয় । এইসব কথা যদি সত্য হয়, তাহলে আমাদের মানতেই হবে যে, সাহিত্যের মধ্যেই আমাদের জাত মানুষ হবে। সেইজন্য আমরা যত বেশি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করব, দেশের তত বেশি উপকার হবে।
আমাদের মনে হয়, এ দেশে লাইব্রেরির সার্থকতা হাসপাতালের চাইতে কিছু কম নয় এবং স্কুল কলেজের চাইতে একটু বেশি। একথা শুনে অনেকে চমকে উঠবেন, কেউ কেউ আবার হেসে ও উঠবেন; কিন্তু আমি জানি, আমি রসিকতাও করছি নে, অদ্ভুত কথাও বলছি নে; যদিও এ বিষয়ে লোকমত যে আমার মতের সমরেখায় চলে না, সে বিষয়ে আমি সম্পূর্ণ সচেতন। অতএব আমার কথার আমি কৈফিয়ত দিতে বাধ্য। আমার বক্তব্য আমি আপনাদের কাছে নিবেদন করছি, তার সত্য মিথ্যার-বিচার আপনারা করবেন। সে বিচারে আমার কথা যদি না টেকে, তা হলে রসিকতা হিসেবেই গ্রাহ্য করবেন।
আমার বিশ্বাস, শিক্ষা কেউ কাউকে দিতে পারে না। সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত। আজকের বাজারে বিদ্যার দাতার অভাব নেই। এমনকি, এ ক্ষেত্রে দাতা কর্ণেরও অভাব নেই; এবং আমরা আমাদের ছেলেদের তাদের দ্বারস্থ করেই নিশ্চিত থাকি, এই বিশ্বাসে যে, সেখান থেকে তারা এতটা বিদ্যার ধন লাভ করে ফিরে আসবে, যার সুদে তার বাকি জীবন আরামে কাটিয়ে দিতে পারবে। কিন্তু এ বিশ্বাস নিতান্ত অমূলক। মনোরাজ্যেও দান গ্রহণসাপেক্ষ, অথচ আমরা দাতার মুখ চেয়ে গ্রহীতার কথাটা একেবারেই ভুলে যাই। এ সত্য ভুলে না গেলে আমরা বুঝতুম যে, শিক্ষকের সার্থকতা শিক্ষাদান করায় নয়, কিন্তু ছাত্রকে তা অর্জন করতে সক্ষম করায়। শিক্ষক ছাত্রকে শিক্ষার পথ দেখিয়ে দিতে পারেন, তার কৌতূহল উদ্রেক করতে পারেন, তার বুদ্ধিবৃত্তিকে জাগ্রত করতে পারেন, মনোরাজ্যের ঐশ্বর্যের সন্ধান দিতে পারেন, তার জ্ঞানপিপাসাকে জ্বলন্ত করতে পারেন, এর বেশি আর কিছু পারেন না। যিনি যথার্থ গুরু, তিনি শিষ্যের আত্মাকে উদ্‌বোধিত করেন এবং তার অন্তর্নিহিত সকল প্রচ্ছন্ন শক্তিকে মুক্ত এবং ব্যক্ত করে তোলেন। সেই শক্তির বলে সে নিজের মন নিজে গড়ে তোলে, নিজের অভিমতবিদ্যা নিজে অর্জন করে বিদ্যার সাধনা শিষ্যকে নিজে করতে হয়। গুরু উত্তরসাধক মাত্র ।
আমাদের স্কুল-কলেজের শিক্ষার পদ্ধতি ঠিক উলটো। সেখানে ছেলেদের বিদ্যে গেলানো হয়, তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর নাই পারুক। এর ফলে ছেলেরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণশীর্ণ হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে। একটা জানাশোনা উদাহরণের সাহায্যে ব্যাপারটা পরিষ্কার করা যাক। আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন, যাঁরা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্যরক্ষার ও বলবৃদ্ধির সর্বপ্রধান উপায় মনে করেন। গোদুগ্ধ অবশ্য অতিশয় উপাদেয় পদার্থ, কিন্তু তার উপকারিতা যে ভোক্তার জীর্ণ করবার শক্তির উপর নির্ভর করে এ জ্ঞান ও শ্রেণির মাতৃকুলের নেই । তাঁদের বিশ্বাস ও-বস্তু পেটে গেলেই উপকার হবে। কাজেই শিশু যদি তা গিলতে আপত্তি করে তা হলে সে যে ব্যাদড়া ছেলে, সে বিষয়ে আর বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকে না । অতএব তখন তাকে ধরে-বেঁধে জোর জবরদস্তি করে দুধ খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয় । শেষটায় সে যখন এই দুগ্ধপান ক্রিয়া হতে অব্যাহতি লাভ করবার জন্য মাথা নাড়তে, হাত-পা ছুড়তে শুরু করে, তখন স্নেহময়ী মাতা বলেন ‘আমার মাথা খাও, মরামুখ দেখ, এই ঢোক, আর এক ঢোক, আর এক ঢোক’ ইত্যাদি। মাতার উদ্দেশ্য যে খুব সাধু, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু এ বিষয়েও কোনো সন্দেহ নেই যে, উক্ত বলা কওয়ার ফলে মা শুধু ছেলের যকৃতের মাথা খান এবং ঢোকের পর ঢোকে তার মরামুখ দেখবার সম্ভাবনা বাড়িয়ে চলেন। আমাদের স্কুল-কলেজের শিক্ষা পদ্ধতিটাও ঐ একই ধরনের। এর ফলে কত ছেলের সুস্থ সরল মন যে ইনফ্যান্টাইল লিভারে গতাসু হচ্ছে তা বলা কঠিন । কেননা দেহের মৃত্যুর রেজিস্টারি রাখা হয়, আত্মার মৃত্যুর হয় না ।
আমরা কিন্তু এই আত্মার অপমৃত্যুতে ভীত হওয়া দূরে থাক, উৎফুল্ল হয়ে উঠি। আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে। পাশ করা ও শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয়, এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই। শিক্ষা-শাস্ত্রের একজন জগদ্বিখ্যাত ফরাসি শাস্ত্রী বলেছেন যে, এক সময়ে ফরাসি দেশে শিক্ষা-পদ্ধতি এতই বেয়াড়া ছিল যে, সে যুগে France was saved by her idlers ; অর্থাৎ যারা পাশ করতে পারেনি বা চায় নি তারাই ফ্রান্সকে রক্ষা করেছে । এর কারণ, হয় তাদের মনের বল ছিল বলে কলেজের শিক্ষাকে তারা প্রত্যাখ্যান করেছিল, নয় সে শিক্ষা প্রত্যাখ্যান করেছিল বলেই তাদের মনের বল বজায় ছিল। তাই এই স্কুল-পালানো ছেলেদের দল থেকে সে যুগের ফ্রান্সের যত কৃতকর্মা লোকের আবির্ভাব হয়েছিল।
সে যুগে ফ্রান্সে কী রকম শিক্ষা দেওয়া হতো তা আমার জানা নেই । তবুও আমি জোর করে বলতে পারি যে,এ যুগে আমাদের স্কুল কলেজে শিক্ষার যে রীতি চলছে, তার চাইতে সে শিক্ষাপদ্ধতি কখনোই নিকৃষ্ট ছিল না। সকলেই জানেন যে, বিদ্যালয়ে মাস্টার মহাশয়েরা নোট দেন এবং সেই নোট মুখস্থ করে ছেলেরা হয় পাশ। এর জুড়ি আর একটি ব্যাপারও আমাদের দেশে দেখা যায়। এদেশে একদল বাজিকর আছে, যারা বন্দুকের গুলি থেকে আরম্ভ করে উত্তরোত্তর কামানের গোলা পর্যন্ত গলাধঃকরণ করে। তারপর একে একে সবগুলো উগলে দেয়। এর ভেতর যে অসাধারণ কৌশল আছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এই গেলা আর ওগলানো দর্শকের কাছে তামাশা হলেও বাজিকরের কাছে তা প্রাণান্ত ব্যাপার। ও কারদানি করা তার পক্ষে যেমন কষ্টসাধ্য, তেমনি অপকারী। বলা বাহুল্য, সে বেচারা লোহার গোলাগুলোর এক কণাও জীর্ণ করতে পারে না। আমাদের ছেলেরাও তেমনি নোট নামক গুরুদত্ত নানা আকারের ও নানা প্রকারের গোলাগুলো বিদ্যালয়ে গলাধঃকরণ করে পরীক্ষালয়ে তা উদ্‌গিরণ করে দেয়। এ জন্য সমাজ তাদের বাহবা দেয় দিক, কিন্তু মনে যেন না ভাবে যে, এতে জাতির প্রাণশক্তি বাড়ছে। স্কুল-কলেজে শিক্ষা যে অনেকাংশে ব্যর্থ সে বিষয়ে প্রায় অধিকাংশ লোকই একমত। আমি বলি, শুধু ব্যর্থ নয়, অনেক স্থলে মারাত্মক। কেননা আমাদের স্কুল-কলেজের ছেলেদের স্বশিক্ষিত হবার সে সুযোগ দেয় না, শুধু তাই নয়, স্বশিক্ষিত হবার শক্তি পর্যন্ত নষ্ট করে। আমাদের শিক্ষাযন্ত্রের মধ্যে যে যুবক নিষ্পেষিত হয়ে বেরিয়ে আসে,তার আপনার বলতে আর বেশি কিছু থাকে না, যদি না তার প্রাণ অত্যন্ত কড়া হয়। সৌভাগ্যের বিষয়, এই ক্ষীণপ্রাণ জাতির মধ্যেও জনকতক এমন কঠিন প্রাণের লোক আছে, এহেন শিক্ষাপদ্ধতিও তাদের মনকে জখম করলেও একেবারে বধ করতে পারে না ।
আমি লাইব্রেরিকে স্কুল-কলেজের ওপরে স্থান দিই এই কারণে যে, এ স্থলে লোকে স্বেচ্ছায় স্বচ্ছন্দচিত্তে স্বশিক্ষিত হবার সুযোগ পায়; প্রতিটি লোক তার স্বীয় শক্তি ও রুচি অনুসারে নিজের মনকে নিজের চেষ্টায় আত্মার রাজ্যে জ্ঞানের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। স্কুল কলেজ বর্তমানে আমাদের যে অপকার করছে সে অপকারের প্রতিকারের জন্য শুধু নগরে নগরে নয়, গ্রামে গ্রামে লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠা করা কর্তব্য। আমি পূর্বে বলেছি যে, লাইব্রেরি হাসপাতালের চাইতে কম উপকারী নয়, তার কারণ আমাদের শিক্ষার বর্তমান অবস্থায় লাইব্রেরি হচ্ছে একরকম মনের হাসপাতাল । অতঃপর আপনারা জিজ্ঞাসা করতে পারেন যে, বই পড়ার পক্ষ নিয়ে এ ওকালতি করবার, বিশেষত প্রাচীন নজির দেখাবার কী প্রয়োজন ছিল? বই পড়া যে ভালো, তা কে না মানে? আমার উত্তর- সকলে মুখে মানলেও কাজে মানে না। মুসলমান ধর্মে মানবজাতি দুই ভাগে বিভক্ত। যারা কেতাবি, আর এক যারা তা নয়। বাংলায় শিক্ষিত সমাজ যে পূর্বদলভুক্ত নয়, একথা নির্ভয়ে বলা যায় না; আমাদের শিক্ষিত সম্প্রদায় মোটের ওপর বাধ্য না হলে বই স্পর্শ করেন না। ছেলেরা যে নোট পড়ে এবং ছেলের বাপেরা যে নজির পড়েন, দুই-ই বাধ্য হয়ে, অর্থাৎ পেটের দায়ে। সেইজন্য সাহিত্যচর্চা দেশে একরকম নেই বললেই হয়; কেননা, সাহিত্য সাক্ষাৎভাবে উদরপূর্তির কাজে লাগে না। বাধ্য হয়ে বই পড়ায় আমরা এতটা অভ্যস্ত হয়েছি যে, কেউ স্বেচ্ছায় বই পড়লে আমরা তাকে নিষ্কর্মার দলেই ফেলে দিই; অথচ একথা কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না, যে জিনিস স্বেচ্ছায় না করা যায়, তাতে মানুষের মনের সন্তোষ নেই। একমাত্র উদরপূর্তিতে মানুষের সম্পূর্ণ মনস্তুষ্টি হয় না। একথা আমরা সকলেই জানি যে,উদরের দাবি রক্ষা না করলে মানুষের দেহ বাঁচে না; কিন্তু একথা আমরা সকলে মানিনে যে, মনের দাবি রক্ষা না করলে মানুষের আত্মা বাঁচে না। দেহরক্ষা অবশ্য সকলেরই কর্তব্য কিন্তু আত্মরক্ষাও অকর্তব্য নয়। মানবের ইতিহাসের পাতায় পাতায় লেখা রয়েছে যে মানুষের প্রাণ মনের সম্পর্ক যত হারায় ততই তা দুর্বল হয়ে পড়ে। মনকে সজাগ ও সবল রাখতে না পারলে জাতির প্রাণ যথার্থ স্ফূর্তিলাভ করে না; তারপর যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব। একমাত্র আনন্দের স্পর্শেই মানুষের মনপ্রাণ সজীব, সতেজ ও সরাগ হয়ে ওঠে। সুতরাং সাহিত্যচর্চার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়ার অর্থ হচ্ছে, জাতির জীবনীশক্তির হ্রাস করা । অতএব, কোনো নীতির অনুসারেই তা কর্তব্য হতে পারে না। অর্থনীতিরও নয়, ধর্মনীতিরও নয় ।
কাব্যামৃতে যে আমাদের অরুচি ধরেছে সে অবশ্য আমাদের দোষ নয়, আমাদের শিক্ষার দোষ। যার আনন্দ নেই সে নির্জীব একথা যেমন সত্য, যে নির্জীব তারও আনন্দ নেই, সে কথাও তেমনি সত্য। আমাদের শিক্ষাই আমাদের নির্জীব করেছে। জাতীয় আত্মরক্ষার জন্য এ শিক্ষার উলটো টান যে 

আমাদের টানতে হবে, এ বিষয়ে আমি নিঃসন্দেহ। এই বিশ্বাসের বলেই আমি স্বেচ্ছায় সাহিত্যচর্চার সপক্ষে এত বাক্য ব্যয় করলুম । সে বাক্যে আপনাদের মনোরঞ্জন করতে সক্ষম হয়েছি কিনা জানিনে । সম্ভবত হইনি। কেননা, আমাদের দুরবস্থার কথা যখন স্মরণ করি, তখন খালি কোমল সুরে আলাপ করা আর চলে না; মনের আক্ষেপ প্রকাশ করতে মাঝে মাঝেই কড়ি লাগাতে হয়।

Related Question

View All
উত্তরঃ অনুচ্ছেদে গ্রামে কে নাড়ি দেখতে জানত, সে সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

“মা মরেছে ত যা নিচে নেবে দাঁড়া” অধর রায়ের এরূপ উক্তির মাধ্যমে মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুতে প্রচলিত বিশ্বাস ও অসার প্রথাগুলোর কার্যকারিতা হারানোর কঠোর বাস্তবতাকে বোঝানো হয়েছে। সাপ ধরার মন্ত্র শিখে সাপুড়ে হলেও বিষধর সাপের দংশনে মৃত্যুঞ্জয়কে তাবিজ-কবজ, ঝাড়ফুঁক বা দেব-দেবীর দোহাই দিয়েও বাঁচানো যায়নি। এ উক্তি মৃত্যুঞ্জয়ের প্রতি অসার ঐতিহ্য ও অন্ধ বিশ্বাসের পরাজয়কে নির্দেশ করে।

অধর রায় তার এই উক্তির মাধ্যমে একটি প্রথাগত বা অবলম্বনকারী সত্তার (এখানে মৃত্যুঞ্জয়, যিনি সাপুড়ে হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করতেন) মৃত্যু এবং এর ফলস্বরূপ নতুন বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। উদ্দীপকে যেমন সকল অন্ধ বিশ্বাস মৃত্যুঞ্জয়কে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে, তেমনই এই উক্তিটিও জীবনের নিষ্ঠুর বাস্তবতাকে তুলে ধরে, যেখানে মা (এখানে প্রতীকী অর্থে আশ্রয়, অবলম্বন বা প্রথাগত বিশ্বাস) মারা গেলে শোক বা বৃথা চেষ্টার বদলে সরাসরি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়াতে বলা হয়েছে। এটি অসার প্রথার বিলুপ্তি এবং বাস্তববাদী হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস নামক বিশেষ দিকের প্রতিফলন ঘটেছে। সমাজের নিচুতলার মানুষের মধ্যে বিদ্যমান এই অন্ধবিশ্বাস ও এর ফলস্বরূপ সৃষ্ট করুণ পরিণতি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের একটি অন্যতম প্রধান দিক।

'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে দেখা যায়, দরিদ্র ও অশিক্ষিত সমাজের মানুষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও স্বর্গ-নরকের ধারণাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসে আচ্ছন্ন থাকে। কাঙালি ও তার মা অভাগীও এই অন্ধবিশ্বাসের শিকার। অভাগী বিশ্বাস করত যে ধনী লোকের মতো কাঠের চিতায় পুড়ে মরলে সে স্বর্গে যাবে, যা ছিল একটি প্রবল কুসংস্কার। এই কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে কাঙালি তার মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে, যা তাদের চরম দুর্দশার দিকে ঠেলে দেয়।

উদ্দীপকে দেখা যায়, মৃত্যুঞ্জয় সাপের দংশনে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে বাঁচাতে শ্বশুরমশাইয়ের দেওয়া তাবিজ-কবজ এবং ওঝাদের ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় নেওয়া হয়। কিন্তু এই সমস্ত অন্ধবিশ্বাসমূলক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং মৃত্যুঞ্জয়কে বাঁচানো সম্ভব হয় না। এই ঘটনাটি 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের সেই দিকটিকে তুলে ধরে যেখানে বিজ্ঞানসম্মত জ্ঞান ও বাস্তবতার পরিবর্তে কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের আশ্রয় নিয়ে ব্যর্থ হতে দেখা যায়। উদ্দীপকের ঘটনা প্রমাণ করে যে, বিজ্ঞান ও যুক্তির বিপরীতে কুসংস্কার কেবল অপমৃত্যু ও দুর্দশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যা অভাগীর স্বর্গের মূল বার্তাগুলোর একটি।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের একটি বিশেষ দিকের প্রতিফলন ঘটলেও মূল বিষয়টি অনুপস্থিত - মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকটি মূলত কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের অসারতা তুলে ধরে, যা 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের একটি পার্শ্বদিক মাত্র।

উদ্দীপকে মৃত্যুঞ্জয়ের সাপ ধরার মন্ত্র শেখা, সাপের দংশনে আহত হওয়া এবং তাবিজ-কবজ, ওঝার ঝাড়ফুঁক বা দেব-দেবীর দোহাই দিয়েও তাকে বাঁচাতে না পারার ঘটনা গ্রামীণ সমাজের গভীরে প্রোথিত কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের এক বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভাবে বা অজ্ঞতায় মানুষ কীভাবে অলৌকিক শক্তির উপর ভরসা করে এবং শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়, তা এখানে স্পষ্ট। 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পেও আমরা এমন অনেক কুসংস্কারের চিত্র দেখতে পাই, যেমন - সন্তানের মঙ্গল কামনায় অভাগীর 'সাঁঝবাতি' দেওয়া, পিশাচতত্ত্ব, এবং মৃত্যুর পর স্বর্গপ্রাপ্তির জন্য নির্দিষ্ট লোকাচার পালনের বিশ্বাস। উদ্দীপকটি 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের এই দিকটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণভাবে কুসংস্কারের প্রভাবকে চিত্রিত করেছে।

তবে 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের মূল মর্মবাণী হলো সামাজিক বৈষম্য, শ্রেণি বিভাজন এবং মানুষের মানবিক মর্যাদা ও অধিকারের প্রশ্ন। দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত অভাগীর মৃত্যু এবং তার সৎকারের অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া, উচ্চবিত্ত রসিকলালের মায়ের দম্ভপূর্ণ সৎকার অনুষ্ঠানের বিপরীতে অভাগীর শেষ ইচ্ছা পূরণে কাঙালির হাহাকার - এসবের মধ্য দিয়ে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তৎকালীন সমাজের নির্মম বাস্তবতা ও বৈষম্যকে অত্যন্ত তীক্ষ্ণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। জন্মগতভাবে মানুষে মানুষে যে ভেদাভেদ তৈরি করা হয়, সম্পত্তির জোরে মানুষের যে সামাজিক অবস্থান নির্ধারিত হয়, সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক তীব্র প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়েছে এ গল্পে। কাঙালির মায়ের জন্য এক ফোঁটা আগুন পেতে না পারা এবং রসিকলালের মায়ের শবযাত্রার জাঁকজমকের মধ্যে যে বৈপরীত্য, তা গল্পের মূল বার্তা।

কাজেই, উদ্দীপকে যদিও কুসংস্কারের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে, যা 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের একটি অংশ, কিন্তু গল্পের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় সামাজিক বৈষম্য, মানবিক মূল্যবোধ ও দরিদ্রের লাঞ্ছনা এতে অনুপস্থিত। উদ্দীপকটি কেবল অন্ধবিশ্বাস ও তার অসারতাকে ফুটিয়ে তুলেছে, যা 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের সামগ্রিক গভীরতার তুলনায় একপেশে। এ কারণেই মন্তব্যটি সম্পূর্ণরূপে যথার্থ ও অর্থবহ।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
496
890
638
354
উত্তরঃ অনুচ্ছেদে গ্রামে কে নাড়ি দেখতে জানত, সে সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
Satt AI
Satt AI
1 week ago
1.2k
উত্তরঃ

“মা মরেছে ত যা নিচে নেবে দাঁড়া” অধর রায়ের এরূপ উক্তির মাধ্যমে মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুতে প্রচলিত বিশ্বাস ও অসার প্রথাগুলোর কার্যকারিতা হারানোর কঠোর বাস্তবতাকে বোঝানো হয়েছে। সাপ ধরার মন্ত্র শিখে সাপুড়ে হলেও বিষধর সাপের দংশনে মৃত্যুঞ্জয়কে তাবিজ-কবজ, ঝাড়ফুঁক বা দেব-দেবীর দোহাই দিয়েও বাঁচানো যায়নি। এ উক্তি মৃত্যুঞ্জয়ের প্রতি অসার ঐতিহ্য ও অন্ধ বিশ্বাসের পরাজয়কে নির্দেশ করে।

অধর রায় তার এই উক্তির মাধ্যমে একটি প্রথাগত বা অবলম্বনকারী সত্তার (এখানে মৃত্যুঞ্জয়, যিনি সাপুড়ে হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করতেন) মৃত্যু এবং এর ফলস্বরূপ নতুন বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। উদ্দীপকে যেমন সকল অন্ধ বিশ্বাস মৃত্যুঞ্জয়কে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে, তেমনই এই উক্তিটিও জীবনের নিষ্ঠুর বাস্তবতাকে তুলে ধরে, যেখানে মা (এখানে প্রতীকী অর্থে আশ্রয়, অবলম্বন বা প্রথাগত বিশ্বাস) মারা গেলে শোক বা বৃথা চেষ্টার বদলে সরাসরি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়াতে বলা হয়েছে। এটি অসার প্রথার বিলুপ্তি এবং বাস্তববাদী হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
1.3k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews