উত্তরঃ সুভার প্রকৃত নাম সুভাষিণী।
Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

সুভার মা সুভাকে গর্ভের কলঙ্ক জ্ঞান করতেন কারণ সুভা জন্ম থেকেই বাকপ্রতিবন্ধী ছিল। সমাজে এটি তাদের জন্য একটি বোঝা ও অপমানের কারণ বলে তিনি মনে করতেন, যা পরিবারের সম্মানহানির কারণ হতে পারে।

তৎকালীন সমাজে একজন বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ের বিয়ে দেওয়া ও সামাজিক প্রতিষ্ঠা নিয়ে নানা দুশ্চিন্তা ছিল। সুভার মা এই সামাজিক চাপ ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবেই সুভাকে গর্ভের কলঙ্ক হিসেবে দেখতেন এবং তার প্রতি সহানুভূতি দেখাতে পারতেন না।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বর্ণিত 'অন্ধবধূ' এবং 'সুভা' গল্পে বর্ণিত সুভা—উভয় চরিত্রই দৈহিক সীমাবদ্ধতা বা ব্যতিক্রমী হওয়ার কারণে সমাজ থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্নতার শিকার। উদ্দীপকের অন্ধবধূ যেমন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, তেমনি 'সুভা' গল্পের সুভা বাকপ্রতিবন্ধী। এই দৈহিক সীমাবদ্ধতাই তাদের জীবনের অন্যতম প্রধান সাদৃশ্যপূর্ণ দিক, যা তাদের জগৎকে অন্যদের থেকে আলাদা করে দেয়।

তাদের এই সীমাবদ্ধতার কারণে উভয়েরই অনুভবের জগৎ অত্যন্ত সমৃদ্ধ। উদ্দীপকে যেমন বলা হয়েছে, অন্ধবধূ অনুভবশক্তি দিয়ে জগৎ ও জীবনকে উপলব্ধি করে, ঋতু ও প্রকৃতির পরিবর্তনও সে বুঝতে পারে, ঠিক তেমনি 'সুভা' গল্পের সুভা বাকহীন হলেও তার মনের ভাব প্রকাশ করে প্রাণীর সঙ্গে সখ্য স্থাপন করে এবং প্রকৃতির নৈকট্যে শান্তি খুঁজে পায়। সুভা যেমন তার পোষা প্রাণীদের কাছে নিজেকে প্রকাশ করতে পারত, তেমনি অন্ধবধূও তার ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞানের মাধ্যমে প্রকৃতির সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলে।

উভয় চরিত্রই আত্মমর্যাদাবোধে সচেতন এবং সংবেদনশীল। অন্ধবধূ যেমন দীঘিরঘাটে পড়ে ডুবে মরার ভয় করে এবং ভাবে যে, এতে তার অন্ধত্বের অভিশাপ ঘুচত, যা তার মনের ভেতরের কষ্ট ও সংবেদনশীলতাকে প্রকাশ করে। একইভাবে সুভাও সমাজের কাছে তার অক্ষমতার কারণে অবহেলিত হয়ে নীরবে কষ্ট পায় এবং নিজের একাকীত্বকে প্রকৃতির মাঝে মেলাতে চেষ্টা করে। উভয়ই সমাজের মূলস্রোত থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজস্ব এক নিভৃত জগৎ তৈরি করে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের অন্ধবধূ এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সুভা' গল্পের সুভা উভয়েরই নিজস্ব এক অনুভবময় জগৎ রয়েছে এবং উভয়ই সমাজে খানিকটা প্রান্তিক জীবনযাপন করে। শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও তাদের সংবেদনশীলতা প্রবল। কিন্তু তাদের জীবনের চূড়ান্ত পরিণতি সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে মোড় নিয়েছে, যা তাদের জীবনযাত্রার গভীর পার্থক্য নির্দেশ করে।

উদ্দীপকের অন্ধবধূ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হলেও তার অনুভবের জগৎ অত্যন্ত সমৃদ্ধ। সে স্পর্শ, গন্ধ ও শব্দ দিয়ে প্রকৃতি ও ঋতু পরিবর্তন উপলব্ধি করতে পারে। তার মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধও প্রবল। দীঘির পিছল সিঁড়িতে পা পিছলে জলে পড়ে যাওয়ার ভয় যেমন তার আছে, তেমনি সে অন্ধত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ডুবে মরার কথাও ভাবে। এখানে তার জীবন সম্পর্কে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন এবং নিজ ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের এক ধরনের আকাঙ্ক্ষা বা অন্তত তার পরিণতি নিয়ে নিজস্ব চিন্তা ফুটে উঠেছে। সে তার নিজস্ব কষ্টের জগতে একাকী সংগ্রাম করছে।

অন্যদিকে, 'সুভা' গল্পের সুভা ছিল বাকপ্রতিবন্ধী। সেও সমাজের মূলস্রোত থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন ছিল এবং তার নিজের এক নিঃশব্দ জগত ছিল, যেখানে তার আশ্রয় ছিল প্রকৃতি ও প্রাণীরা (যেমন তার পোষা গাভী সর্বশী ও পাঙ্গুলি)। সুভার পরিবারের সদস্যরা, বিশেষ করে তার মা, তাকে বোঝা মনে করতেন। তার বাবা যদিও সুভাকে ভালোবাসতেন, তবুও সামাজিক চাপের কারণে তাকে বিবাহ দিতে উদ্বিগ্ন ছিলেন। সুভার জীবনে কোনো নিজস্ব সিদ্ধান্ত বা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন দেখা যায় না। তার জীবন অন্যদের দ্বারা চালিত হয়।

এভাবেই দেখা যায়, সাদৃশ্য থাকলেও অন্ধবধূ ও সুভার পরিণতি ভিন্ন। অন্ধবধূ তার অন্ধত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তির জন্য মৃত্যুচিন্তা করে, যা তার আত্মসচেতনতা এবং পরিস্থিতি থেকে মুক্তির এক ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ। এর মাধ্যমে সে নিজের ভাগ্যের উপর এক ধরণের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। কিন্তু সুভার পরিণতি ছিল তার ওপর চাপানো। তাকে তার প্রিয় গ্রাম, প্রকৃতি ও সাথীদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই বিচ্ছিন্নতা এবং জোরপূর্বক নতুন পরিবেশে নিয়ে যাওয়া সুভার আত্মপরিচয় ও সত্তাকে চূর্ণ করে দেয়। সুভা হয়ে ওঠে সমাজের আরোপিত সিদ্ধান্তের শিকার, যেখানে তার নিজস্ব কোনো ইচ্ছার মূল্য থাকে না, যা উদ্দীপকের অন্ধবধূর মানসিক সংগ্রাম থেকে একেবারেই আলাদা।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
477

মেয়েটির নাম যখন সুভাষিণী রাখা হইয়াছিল তখন কে জানিত সে বোবা হইবে। তাহার দুটি বড়ো বোনকে সুকেশিনী ও সুহাসিনী নাম দেওয়া হইয়াছিল, তাই মিলের অনুরোধে তাহার বাপ ছোটো মেয়েটির নাম সুভাষিণী রাখে । এখন সকলে তাহাকে সংক্ষেপে সুভা বলে ।
দস্তুরমত অনুসন্ধান ও অর্থব্যয়ে বড়ো দুটি মেয়ের বিবাহ হইয়া গেছে, এখন ছোটোটি পিতামাতার নীরব হৃদয়ভারের মতো বিরাজ করিতেছে।
যে কথা কয় না সে যে অনুভব করে ইহা সকলের মনে হয় না, এইজন্য তাহার সাক্ষাতেই সকলে তাহার ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করিত। সে যে বিধাতার অভিশাপস্বরূপে তাহার পিতৃগৃহে আসিয়া জন্মগ্রহণ করিয়াছে এ কথা সে শিশুকাল হইতে বুঝিয়া লইয়াছিল। তাহার ফল এই হইয়াছিল, সাধারণের দৃষ্টিপথ হইতে সে আপনাকে গোপন করিয়া রাখিতে সর্বদাই চেষ্টা করিত। মনে করিত, আমাকে সবাই ভুলিলে বাঁচি । কিন্তু, বেদনা কি কেহ কখনো ভোলে? পিতামাতার মনে সে সর্বদাই জাগরূক ছিল ।
বিশেষত, তাহার মা তাহাকে নিজের একটা ত্রুটিস্বরূপ দেখিতেন; কেননা, মাতা পুত্র অপেক্ষা কন্যাকে নিজের অংশরূপে দেখেন— কন্যার কোনো অসম্পূর্ণতা দেখিলে সেটা যেন বিশেষরূপে নিজের লজ্জার কারণ বলিয়া মনে করেন। বরঞ্চ, কন্যার পিতা বাণীকণ্ঠ সুভাকে তাঁহার অন্য মেয়েদের অপেক্ষা যেন একটু বেশি ভালোবাসিতেন; কিন্তু মাতা তাহাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক জ্ঞান করিয়া তাহার প্রতি বড়ো বিরক্ত ছিলেন। সুভার কথা ছিল না, কিন্তু তাহার সুদীর্ঘপল্লববিশিষ্ট বড়ো বড়ো দুটি কালো চোখ ছিল এবং তাহার ওষ্ঠাধর ভাবের আভাসমাত্রে কচি কিশলয়ের মতো কাঁপিয়া উঠিত।
কথায় আমরা যেভাব প্রকাশ করি সেটা আমাদিগকে অনেকটা নিজের চেষ্টায় গড়িয়া লইতে হয়, কতকটা তর্জমা করার মতো; সকল সময়ে ঠিক হয় না, ক্ষমতার অভাবে অনেক সময়ে ভুলও হয়। কিন্তু কালো চোখকে কিছু তর্জমা করিতে হয় না- মন আপনি তাহার উপরে ছায়া ফেলে; ভাব আপনি তাহার উপরে কখনো প্রসারিত কখনো মুদিত হয়, কখনো উজ্জ্বলভাবে জ্বলিয়া উঠে, কখনো ম্লানভাবে নিবিয়া আসে, কখনো অস্তমান চন্দ্রের মতো অনিমেষভাবে চাহিয়া থাকে, কখনো দ্রুত চঞ্চল বিদ্যুতের মতো দিগ্‌বদিকে ঠিকরিয়া উঠে। মুখের ভাব বৈ আজন্মকাল যাহার অন্য ভাষা নাই তাহার চোখের ভাষা অসীম উদার এবং অতলস্পর্শ গভীর— অনেকটা স্বচ্ছ আকাশের মতো, উদয়াস্ত এবং ছায়ালোকের নিস্তব্ধ রঙ্গভূমি। এই বাক্যহীন মনুষ্যের মধ্যে বৃহৎ প্রকৃতির মতো একটা বিজন মহত্ত্ব আছে। এইজন্য সাধারণ বালকবালিকারা তাহাকে একপ্রকার ভয় করিত, তাহার সহিত খেলা করিত না। সে নির্জন দ্বিপ্রহরের মতো শব্দহীন এবং সঙ্গীহীন ।
গ্রামের নাম চণ্ডীপুর। নদীটি বাংলাদেশের একটি ছোটো নদী, গৃহস্থঘরের মেয়েটির মতো, বহুদূর পর্যন্ত তাহার প্রসার নহে; নিরলসা তন্বী নদীটি আপন কূল রক্ষা করিয়া কাজ করিয়া যায়; দুই ধারের গ্রামের সকলেরই সঙ্গে তাহার যেন একটা-না-একটা সম্পর্ক আছে । দুই ধারে লোকালয় এবং তরুচ্ছায়াঘন উচ্চ তট; নিম্নতল দিয়া গ্রামলক্ষ্মী স্রোতস্বিনী আত্মবিস্মৃত দ্রুত পদক্ষেপে প্রফুল্ল হৃদয়ে আপনার অসংখ্য কল্যাণকার্যে চলিয়াছে ।
বাণীকণ্ঠের ঘর নদীর একেবারে উপরেই। তাহার বাঁখারির বেড়া, আটচালা, গোয়ালঘর, ঢেঁকিশালা, খড়ের স্তূপ, তেঁতুলতলা, আম কাঁঠাল এবং কলার বাগান নৌকাবাহী-মাত্রেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এই গার্হস্থ্য সচ্ছলতার মধ্যে বোবা মেয়েটি কাহারও নজরে পড়ে কি না জানি না, কিন্তু কাজকর্মে যখনই অবসর পায় তখনই সে এই নদীতীরে আসিয়া বসে।
প্রকৃতি যেন তাহার ভাষার অভাব পূরণ করিয়া দেয়। যেন তাহার হইয়া কথা কয়। নদীর কলধ্বনি, লোকের কোলাহল, মাঝির গান, পাখির ডাক, তরুর মর্মর— সমস্ত মিশিয়ে চারিদিকের চলাফেরা- আন্দোলন-কম্পনের সহিত এক হইয়া সমুদ্রের তরঙ্গরাশির ন্যায় বালিকার চিরনিস্তব্ধ হৃদয়- উপকূলের নিকটে আসিয়া ভাঙিয়া ভাঙিয়া পড়ে। প্রকৃতির এই বিবিধ শব্দ এবং বিচিত্র গতি, ইহাও বোবার ভাষা – বড়ো বড়ো চক্ষুপল্লববিশিষ্ট সুভার যেভাষা তাহারই একটা বিশ্বব্যাপী বিস্তার; ঝিল্লিরবপূর্ণ তৃণভূমি হইতে শব্দাতীত নক্ষত্রলোক পর্যন্ত কেবল ইঙ্গিত, ভঙ্গি, সংগীত, ক্রন্দন এবং দীর্ঘনিশ্বাস ।
এবং মধ্যাহ্নে যখন মাঝিরা জেলেরা খাইতে যাইত, গৃহস্থেরা ঘুমাইত, পাখিরা ডাকিত না, খেয়া-নৌকা বন্ধ থাকিত, সজন জগৎ সমস্ত কাজকর্মের মাঝখানে সহসা থামিয়া গিয়া ভয়ানক বিজনমূর্তি ধারণ করিত, তখন রুদ্র মহাকাশের তলে কেবল একটি বোবা প্রকৃতি এবং একটি বোবা মেয়ে মুখামুখি চুপ করিয়া বসিয়া থাকিত— একজন সুবিস্তীর্ণ রৌদ্রে, আর-একজন ক্ষুদ্র তরুচ্ছায়ায় ।

সুভার যে গুটিকতক অন্তরঙ্গ বন্ধুর দল ছিল না তাহা নহে। গোয়ালের দুটি গাভী, তাহাদের নাম সর্বশী ও পাঙ্গুলি। সে নাম বালিকার মুখে তাহারা কখনো শুনে নাই, কিন্তু তাহার পদশব্দ তাহারা চিনিত— তাহার কথাহীন একটা করুণ সুর ছিল, তাহার মর্ম তাহারা ভাষার অপেক্ষা সহজে বুঝিত । সুভা কখন তাহাদের আদর করিতেছে, কখন ভর্ৎসনা করিতেছে, কখন মিনতি করিতেছে, তাহা তাহারা মানুষের অপেক্ষা ভালো বুঝিতে পারিত ৷
সুভা গোয়ালে ঢুকিয়া দুই বাহুর দ্বারা সর্বশীর গ্রীবা বেষ্টন করিয়া তাহার কানের কাছে আপনার গণ্ডদেশ ঘর্ষণ করিত এবং পাঙ্গুলি স্নিগ্ধদৃষ্টিতে তাহার প্রতি নিরীক্ষণ করিয়া তাহার গা চাটিত। বালিকা দিনের মধ্যে নিয়মিত তিনবার করিয়া গোয়ালঘরে যাইত, তাহা ছাড়া অনিয়মিত আগমনও ছিল; গৃহে যেদিন কোনো কঠিন কথা শুনিত সেদিন সে অসময়ে তাহার এই মূক বন্ধু দুটির কাছে আসিত- তাহার সহিষ্ণুতাপরিপূর্ণ বিষাদশান্ত দৃষ্টিপাত হইতে তাহারা কী একটা অন্ধ অনুমানশক্তির দ্বারা বালিকার মর্মবেদনা যেন বুঝিতে পারিত, এবং সুভার গা ঘেঁষিয়া আসিয়া অল্পে অল্পে তাহার বাহুতে শিং ঘষিয়া ঘষিয়া তাহাকে নির্বাক ব্যাকুলতার সহিত সান্ত্বনা দিতে চেষ্টা করিত।
ইহারা ছাড়া ছাগল এবং বিড়ালশাবকও ছিল; কিন্তু তাহাদের সহিত সুভার এরূপ সমকক্ষভাবে মৈত্রী ছিল না, তথাপি তাহারা যথেষ্ট আনুগত্য প্রকাশ করিত। বিড়ালশিশুটি দিনে এবং রাত্রে যখন- তখন সুভার গরম কোলটি নিঃসংকোচে অধিকার করিয়া সুখনিদ্রার আয়োজন করিত এবং সুভা তাহার গ্রীবা ও পৃষ্ঠে কোমল অঙ্গুলি বুলাইয়া দিলে যে তাহার নিদ্রাকর্ষণের বিশেষ সহায়তা হয়, ইঙ্গিতে এরূপ অভিপ্রায়ও প্রকাশ করিত ৷
উন্নত শ্রেণির জীবের মধ্যে সুভার আরো একটি সঙ্গী জুটিয়াছিল। কিন্তু তাহার সহিত বালিকার ঠিক কিরূপ সম্পর্ক ছিল তাহা নির্ণয় করা কঠিন, কারণ, সে ভাষাবিশিষ্ট জীব; সুতরাং উভয়ের মধ্যে সমভাষা ছিল না ।
গোঁসাইদের ছোটো ছেলেটি— তাহার নাম প্রতাপ । লোকটি নিতান্ত অকর্মণ্য। সে যে কাজকর্ম করিয়া সংসারের উন্নতি করিতে যত্ন করিবে, বহু চেষ্টার পর বাপ-মা সে আশা ত্যাগ করিয়াছেন । অকর্মণ্য লোকের একটা সুবিধা এই যে, আত্মীয় লোকেরা তাহাদের উপর বিরক্ত হয় বটে, কিন্তু প্ৰায় তাহারা নিঃসম্পর্ক লোকদের প্রিয়পাত্র হয়— কারণ, কোনো কার্যে আবন্ধ না থাকাতে তাহারা সরকারি সম্পত্তি হইয়া দাঁড়ায়। শহরের যেমন এক-আধটা গৃহসম্পর্কহীন সরকারি বাগান থাকা আবশ্যক তেমনি গ্রামে দুই-চারিটা অকর্মণ্য সরকারি লোক থাকার বিশেষ প্রয়োজন। কাজে-কর্মে আমোদে অবসরে যেখানে একটা লোক কম পড়ে সেখানেই তাহাদিগকে হাতের কাছে পাওয়া যায় ।
প্রতাপের প্রধান শখ- ছিপ ফেলিয়া মাছ ধরা। ইহাতে অনেক সময় সহজে কাটানো যায়। অপরাহ্ণে নদীতীরে ইহাকে প্রায় এই কাজে নিযুক্ত দেখা যাইত । এবং এই উপলক্ষে সুভার সহিত তাহার প্রায় সাক্ষাৎ হইত । যে-কোনো কাজেই নিযুক্ত থাক, একটা সঙ্গী পাইলে প্রতাপ থাকে ভালো । মাছ ধরার সময় বাক্যহীন সঙ্গীই সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ— এইজন্য প্রতাপ সুভার মর্যাদা বুঝিত । এইজন্য, সকলেই সুভাকে সুভা বলিত, প্রতাপ আর-একটু অতিরিক্ত আদর সংযোগ করিয়া সুভাকে ‘সু’ বলিয়া ডাকিত ।

সুভা তেঁতুলতলায় বসিয়া থাকিত এবং প্রতাপ অনতিদূরে ছিপ ফেলিয়া জলের দিকে চাহিয়া থাকিত। প্রতাপের জন্য একটি করিয়া পান বরাদ্দ ছিল, সুভা তাহা নিজে সাজিয়া আনিত। এবং বোধ করি অনেকক্ষণ বসিয়া বসিয়া চাহিয়া ইচ্ছা করিত, প্রতাপের কোনো-একটা বিশেষ সাহায্য করিতে, একটা-কোনো কাজে লাগিতে, কোনোমতে জানাইয়া দিতে যে এই পৃথিবীতে সেও একজন কম প্রয়োজনীয় লোক নহে। কিন্তু কিছুই করিবার ছিল না। তখন সে মনে মনে বিধাতার কাছে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করিত— মন্ত্রবলে সহসা এমন একটা আশ্চর্য কাণ্ড ঘটাইতে ইচ্ছা করিত যাহা দেখিয়া প্রতাপ আশ্চর্য হইয়া যাইত, বলিত, ‘তাই তো, আমাদের সুভির যে এত ক্ষমতা তাহা তো জানিতাম না ।'
মনে করো, সুভা যদি জলকুমারী হইত; আস্তে আস্তে জল হইতে উঠিয়া একটা সাপের মাথার মণি ঘাটে রাখিয়া যাইত; প্রতাপ তাহার তুচ্ছ মাছধরা রাখিয়া সেই মানিক লইয়া জলে ডুব মারিত; এবং পাতালে গিয়া দেখিত, রুপার অট্টালিকায় সোনার পালঙ্কে—কে বসিয়া? – আমাদের বাণীকণ্ঠের ঘরের সেই বোবা মেয়ে সু— আমাদের সু সেই মণিদীপ্ত গভীর নিস্তব্ধ পাতালপুরীর একমাত্র রাজকন্যা। তাহা কি হইতে পারিত না, তাহা কি এতই অসম্ভব। আসলে কিছুই অসম্ভব নয়, কিন্তু তবুও সু প্রজাশূন্য পাতালের রাজবংশে না জন্মিয়া বাণীকণ্ঠের ঘরে আসিয়া জন্মিয়াছে এবং গোঁসাইদের ছেলে প্রতাপকে কিছুতেই আশ্চর্য করিতে পারিতেছে না ।
সুভার বয়স ক্রমেই বাড়িয়া উঠিতেছে। ক্রমে সে যেন আপনাকে আপনি অনুভব করিতে পারিতেছে। যেন কোনো একটা পূর্ণিমাতিথিতে কোনো-একটা সমুদ্র হইতে একটা জোয়ারের স্রোত আসিয়া তাহার অন্তরাত্মাকে এক নূতন অনির্বচনীয় চেতনাশক্তিতে পরিপূর্ণ করিয়া তুলিতেছে । সে আপনাকে আপনি দেখিতেছে,ভাবিতেছে, প্রশ্ন করিতেছে, এবং বুঝিতে পারিতেছে না ।
গভীর পূর্ণিমারাত্রে সে এক-একদিন ধীরে শয়নগৃহের দ্বার খুলিয়া ভয়ে ভয়ে মুখ বাড়াইয়া বাহিরের দিকে চাহিয়া দেখে পূর্ণিমাপ্রকৃতিও সুভার মতো একাকিনী সুপ্ত জগতের উপর জাগিয়া বসিয়া— যৌবনের রহস্যে পুলকে বিষাদে অসীম নির্জনতার একেবারে শেষ সীমা পর্যন্ত, এমন— কি, তাহা অতিক্রম করিয়াও ধমথম করিতেছে, একটি কথা কহিতে পারিতেছে না। এই নিস্তব্ধ ব্যাকুল প্রকৃতির প্রান্তে একটি নিস্তব্ধ ব্যাকুল বালিকা দাঁড়াইয়া ।
এ দিকে কন্যাভারগ্রস্ত পিতামাতা চিন্তিত হইয়া উঠিয়াছেন। লোকেও নিন্দা আরম্ভ করিয়াছে । এমন-কি, এক-ঘরে করিবে এমন জনরবও শুনা যায়। বাণীকণ্ঠের সচ্ছল অবস্থা, দুই বেলাই মাছভাত খায়, এজন্য তাহার শত্রু ছিল।
স্ত্রীপুরুষে বিস্তর পরামর্শ হইল । কিছুদিনের মতো বাণী বিদেশে গেল । অবশেষে ফিরিয়া আসিয়া কহিল, “চলো, কলিকাতায় চলো।”

বিদেশযাত্রার উদ্‌যোগ হইতে লাগিল। কুয়াশা-ঢাকা প্রভাতের মতো সুভার সমস্ত হৃদয় অশ্রুবাষ্পে একেবারে ভরিয়া গেল। একটা অনির্দিষ্ট আশঙ্কা বশে সে কিছুদিন হইতে ক্রমাগত নির্বাক জন্তুর মতো তাহার বাপ-মায়ের সঙ্গে সঙ্গে ফিরিত- ডাগর চক্ষু মেলিয়া তাঁহাদের মুখের দিকে চাহিয়া কী— একটা বুঝিতে চেষ্টা করিত, কিন্তু তাঁহারা কিছু বুঝাইয়া বলিতেন না ।
ইতিমধ্যে একদিন অপরাহ্ণে ছিপ ফেলিয়া প্রতাপ হাসিয়া কহিল, “কী রে সু, তোর নাকি বর পাওয়া গেছে, তুই বিয়ে করতে যাচ্ছিস? দেখিস আমাদের ভুলিস নে।” বলিয়া আবার মাছের দিকে মনোযোগ করিল ।
মর্মবিদ্ধ হরিণী ব্যাধের দিকে যেমন করিয়া তাকায়, নীরবে বলিতে থাকে ‘আমি তোমার কাছে কী দোষ করিয়াছিলাম', সুভা তেমনি করিয়া প্রতাপের দিকে চাহিল; সেদিন গাছের তলায় আর বসিল না; বাণীকণ্ঠ নিদ্রা হইতে উঠিয়া শয়নগৃহে তামাক খাইতেছিলেন, সুভা তাঁহার পায়ের কাছে বসিয়া তাঁহার মুখের দিকে চাহিয়া কাঁদিতে লাগিল । অবশেষে তাহাকে সান্ত্বনা দিতে গিয়া বাণীকণ্ঠের শুষ্ক কপোলে অশ্রু গড়াইয়া পড়িল ।
কাল কলিকাতায় যাইবার দিন স্থির হইয়াছে। সুভা গোয়ালঘরে তাহার বাল্য-সখীদের কাছে বিদায় লইতে গেল, তাহাদিগকে স্বহস্তে খাওয়াইয়া, গলা ধরিয়া একবার দুই চোখে যত পারে কথা ভরিয়া তাহাদের মুখের দিকে চাহিল— দুই নেত্রপল্লব হইতে টপ টপ করিয়া অশ্রুজল পড়তে লাগিল ।
সেদিন শুক্লাদ্বাদশীর রাত্রি। সুভা শয়নগৃহ হইতে বাহির হইয়া তাহার সেই চিরপরিচিত নদীতটে শষ্পশয্যায় লুটাইয়া পড়িল— যেন ধরণীকে, এই প্রকাণ্ড মূক মানবতাকে দুই বাহুতে ধরিয়া বলিতে চাহে, ‘তুমি আমাকে যাইতে দিয়ো না মা, আমার মতো দুটি বাহু বাড়াইয়া তুমিও আমাকে ধরিয়া রাখো।' [সংক্ষেপিত]

Related Question

View All
উত্তরঃ অনুচ্ছেদে গ্রামে কে নাড়ি দেখতে জানত, সে সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

“মা মরেছে ত যা নিচে নেবে দাঁড়া” অধর রায়ের এরূপ উক্তির মাধ্যমে মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুতে প্রচলিত বিশ্বাস ও অসার প্রথাগুলোর কার্যকারিতা হারানোর কঠোর বাস্তবতাকে বোঝানো হয়েছে। সাপ ধরার মন্ত্র শিখে সাপুড়ে হলেও বিষধর সাপের দংশনে মৃত্যুঞ্জয়কে তাবিজ-কবজ, ঝাড়ফুঁক বা দেব-দেবীর দোহাই দিয়েও বাঁচানো যায়নি। এ উক্তি মৃত্যুঞ্জয়ের প্রতি অসার ঐতিহ্য ও অন্ধ বিশ্বাসের পরাজয়কে নির্দেশ করে।

অধর রায় তার এই উক্তির মাধ্যমে একটি প্রথাগত বা অবলম্বনকারী সত্তার (এখানে মৃত্যুঞ্জয়, যিনি সাপুড়ে হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করতেন) মৃত্যু এবং এর ফলস্বরূপ নতুন বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। উদ্দীপকে যেমন সকল অন্ধ বিশ্বাস মৃত্যুঞ্জয়কে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে, তেমনই এই উক্তিটিও জীবনের নিষ্ঠুর বাস্তবতাকে তুলে ধরে, যেখানে মা (এখানে প্রতীকী অর্থে আশ্রয়, অবলম্বন বা প্রথাগত বিশ্বাস) মারা গেলে শোক বা বৃথা চেষ্টার বদলে সরাসরি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়াতে বলা হয়েছে। এটি অসার প্রথার বিলুপ্তি এবং বাস্তববাদী হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস নামক বিশেষ দিকের প্রতিফলন ঘটেছে। সমাজের নিচুতলার মানুষের মধ্যে বিদ্যমান এই অন্ধবিশ্বাস ও এর ফলস্বরূপ সৃষ্ট করুণ পরিণতি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের একটি অন্যতম প্রধান দিক।

'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে দেখা যায়, দরিদ্র ও অশিক্ষিত সমাজের মানুষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও স্বর্গ-নরকের ধারণাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসে আচ্ছন্ন থাকে। কাঙালি ও তার মা অভাগীও এই অন্ধবিশ্বাসের শিকার। অভাগী বিশ্বাস করত যে ধনী লোকের মতো কাঠের চিতায় পুড়ে মরলে সে স্বর্গে যাবে, যা ছিল একটি প্রবল কুসংস্কার। এই কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে কাঙালি তার মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে, যা তাদের চরম দুর্দশার দিকে ঠেলে দেয়।

উদ্দীপকে দেখা যায়, মৃত্যুঞ্জয় সাপের দংশনে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে বাঁচাতে শ্বশুরমশাইয়ের দেওয়া তাবিজ-কবজ এবং ওঝাদের ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় নেওয়া হয়। কিন্তু এই সমস্ত অন্ধবিশ্বাসমূলক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং মৃত্যুঞ্জয়কে বাঁচানো সম্ভব হয় না। এই ঘটনাটি 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের সেই দিকটিকে তুলে ধরে যেখানে বিজ্ঞানসম্মত জ্ঞান ও বাস্তবতার পরিবর্তে কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের আশ্রয় নিয়ে ব্যর্থ হতে দেখা যায়। উদ্দীপকের ঘটনা প্রমাণ করে যে, বিজ্ঞান ও যুক্তির বিপরীতে কুসংস্কার কেবল অপমৃত্যু ও দুর্দশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যা অভাগীর স্বর্গের মূল বার্তাগুলোর একটি।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের একটি বিশেষ দিকের প্রতিফলন ঘটলেও মূল বিষয়টি অনুপস্থিত - মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকটি মূলত কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের অসারতা তুলে ধরে, যা 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের একটি পার্শ্বদিক মাত্র।

উদ্দীপকে মৃত্যুঞ্জয়ের সাপ ধরার মন্ত্র শেখা, সাপের দংশনে আহত হওয়া এবং তাবিজ-কবজ, ওঝার ঝাড়ফুঁক বা দেব-দেবীর দোহাই দিয়েও তাকে বাঁচাতে না পারার ঘটনা গ্রামীণ সমাজের গভীরে প্রোথিত কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের এক বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভাবে বা অজ্ঞতায় মানুষ কীভাবে অলৌকিক শক্তির উপর ভরসা করে এবং শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়, তা এখানে স্পষ্ট। 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পেও আমরা এমন অনেক কুসংস্কারের চিত্র দেখতে পাই, যেমন - সন্তানের মঙ্গল কামনায় অভাগীর 'সাঁঝবাতি' দেওয়া, পিশাচতত্ত্ব, এবং মৃত্যুর পর স্বর্গপ্রাপ্তির জন্য নির্দিষ্ট লোকাচার পালনের বিশ্বাস। উদ্দীপকটি 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের এই দিকটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণভাবে কুসংস্কারের প্রভাবকে চিত্রিত করেছে।

তবে 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের মূল মর্মবাণী হলো সামাজিক বৈষম্য, শ্রেণি বিভাজন এবং মানুষের মানবিক মর্যাদা ও অধিকারের প্রশ্ন। দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত অভাগীর মৃত্যু এবং তার সৎকারের অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া, উচ্চবিত্ত রসিকলালের মায়ের দম্ভপূর্ণ সৎকার অনুষ্ঠানের বিপরীতে অভাগীর শেষ ইচ্ছা পূরণে কাঙালির হাহাকার - এসবের মধ্য দিয়ে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তৎকালীন সমাজের নির্মম বাস্তবতা ও বৈষম্যকে অত্যন্ত তীক্ষ্ণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। জন্মগতভাবে মানুষে মানুষে যে ভেদাভেদ তৈরি করা হয়, সম্পত্তির জোরে মানুষের যে সামাজিক অবস্থান নির্ধারিত হয়, সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক তীব্র প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়েছে এ গল্পে। কাঙালির মায়ের জন্য এক ফোঁটা আগুন পেতে না পারা এবং রসিকলালের মায়ের শবযাত্রার জাঁকজমকের মধ্যে যে বৈপরীত্য, তা গল্পের মূল বার্তা।

কাজেই, উদ্দীপকে যদিও কুসংস্কারের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে, যা 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের একটি অংশ, কিন্তু গল্পের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় সামাজিক বৈষম্য, মানবিক মূল্যবোধ ও দরিদ্রের লাঞ্ছনা এতে অনুপস্থিত। উদ্দীপকটি কেবল অন্ধবিশ্বাস ও তার অসারতাকে ফুটিয়ে তুলেছে, যা 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের সামগ্রিক গভীরতার তুলনায় একপেশে। এ কারণেই মন্তব্যটি সম্পূর্ণরূপে যথার্থ ও অর্থবহ।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
495
638
উত্তরঃ অনুচ্ছেদে গ্রামে কে নাড়ি দেখতে জানত, সে সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
Satt AI
Satt AI
1 week ago
1.2k
উত্তরঃ

“মা মরেছে ত যা নিচে নেবে দাঁড়া” অধর রায়ের এরূপ উক্তির মাধ্যমে মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুতে প্রচলিত বিশ্বাস ও অসার প্রথাগুলোর কার্যকারিতা হারানোর কঠোর বাস্তবতাকে বোঝানো হয়েছে। সাপ ধরার মন্ত্র শিখে সাপুড়ে হলেও বিষধর সাপের দংশনে মৃত্যুঞ্জয়কে তাবিজ-কবজ, ঝাড়ফুঁক বা দেব-দেবীর দোহাই দিয়েও বাঁচানো যায়নি। এ উক্তি মৃত্যুঞ্জয়ের প্রতি অসার ঐতিহ্য ও অন্ধ বিশ্বাসের পরাজয়কে নির্দেশ করে।

অধর রায় তার এই উক্তির মাধ্যমে একটি প্রথাগত বা অবলম্বনকারী সত্তার (এখানে মৃত্যুঞ্জয়, যিনি সাপুড়ে হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করতেন) মৃত্যু এবং এর ফলস্বরূপ নতুন বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। উদ্দীপকে যেমন সকল অন্ধ বিশ্বাস মৃত্যুঞ্জয়কে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে, তেমনই এই উক্তিটিও জীবনের নিষ্ঠুর বাস্তবতাকে তুলে ধরে, যেখানে মা (এখানে প্রতীকী অর্থে আশ্রয়, অবলম্বন বা প্রথাগত বিশ্বাস) মারা গেলে শোক বা বৃথা চেষ্টার বদলে সরাসরি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়াতে বলা হয়েছে। এটি অসার প্রথার বিলুপ্তি এবং বাস্তববাদী হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
1.3k
উত্তরঃ

উদ্দীপকে 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস নামক বিশেষ দিকের প্রতিফলন ঘটেছে। সমাজের নিচুতলার মানুষের মধ্যে বিদ্যমান এই অন্ধবিশ্বাস ও এর ফলস্বরূপ সৃষ্ট করুণ পরিণতি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের একটি অন্যতম প্রধান দিক।

'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে দেখা যায়, দরিদ্র ও অশিক্ষিত সমাজের মানুষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও স্বর্গ-নরকের ধারণাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসে আচ্ছন্ন থাকে। কাঙালি ও তার মা অভাগীও এই অন্ধবিশ্বাসের শিকার। অভাগী বিশ্বাস করত যে ধনী লোকের মতো কাঠের চিতায় পুড়ে মরলে সে স্বর্গে যাবে, যা ছিল একটি প্রবল কুসংস্কার। এই কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে কাঙালি তার মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে, যা তাদের চরম দুর্দশার দিকে ঠেলে দেয়।

উদ্দীপকে দেখা যায়, মৃত্যুঞ্জয় সাপের দংশনে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে বাঁচাতে শ্বশুরমশাইয়ের দেওয়া তাবিজ-কবজ এবং ওঝাদের ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় নেওয়া হয়। কিন্তু এই সমস্ত অন্ধবিশ্বাসমূলক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং মৃত্যুঞ্জয়কে বাঁচানো সম্ভব হয় না। এই ঘটনাটি 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের সেই দিকটিকে তুলে ধরে যেখানে বিজ্ঞানসম্মত জ্ঞান ও বাস্তবতার পরিবর্তে কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের আশ্রয় নিয়ে ব্যর্থ হতে দেখা যায়। উদ্দীপকের ঘটনা প্রমাণ করে যে, বিজ্ঞান ও যুক্তির বিপরীতে কুসংস্কার কেবল অপমৃত্যু ও দুর্দশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যা অভাগীর স্বর্গের মূল বার্তাগুলোর একটি।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
846
উত্তরঃ

উদ্দীপকে 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের একটি বিশেষ দিকের প্রতিফলন ঘটলেও মূল বিষয়টি অনুপস্থিত - মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকটি মূলত কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের অসারতা তুলে ধরে, যা 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের একটি পার্শ্বদিক মাত্র।

উদ্দীপকে মৃত্যুঞ্জয়ের সাপ ধরার মন্ত্র শেখা, সাপের দংশনে আহত হওয়া এবং তাবিজ-কবজ, ওঝার ঝাড়ফুঁক বা দেব-দেবীর দোহাই দিয়েও তাকে বাঁচাতে না পারার ঘটনা গ্রামীণ সমাজের গভীরে প্রোথিত কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের এক বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভাবে বা অজ্ঞতায় মানুষ কীভাবে অলৌকিক শক্তির উপর ভরসা করে এবং শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়, তা এখানে স্পষ্ট। 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পেও আমরা এমন অনেক কুসংস্কারের চিত্র দেখতে পাই, যেমন - সন্তানের মঙ্গল কামনায় অভাগীর 'সাঁঝবাতি' দেওয়া, পিশাচতত্ত্ব, এবং মৃত্যুর পর স্বর্গপ্রাপ্তির জন্য নির্দিষ্ট লোকাচার পালনের বিশ্বাস। উদ্দীপকটি 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের এই দিকটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণভাবে কুসংস্কারের প্রভাবকে চিত্রিত করেছে।

তবে 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের মূল মর্মবাণী হলো সামাজিক বৈষম্য, শ্রেণি বিভাজন এবং মানুষের মানবিক মর্যাদা ও অধিকারের প্রশ্ন। দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত অভাগীর মৃত্যু এবং তার সৎকারের অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া, উচ্চবিত্ত রসিকলালের মায়ের দম্ভপূর্ণ সৎকার অনুষ্ঠানের বিপরীতে অভাগীর শেষ ইচ্ছা পূরণে কাঙালির হাহাকার - এসবের মধ্য দিয়ে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তৎকালীন সমাজের নির্মম বাস্তবতা ও বৈষম্যকে অত্যন্ত তীক্ষ্ণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। জন্মগতভাবে মানুষে মানুষে যে ভেদাভেদ তৈরি করা হয়, সম্পত্তির জোরে মানুষের যে সামাজিক অবস্থান নির্ধারিত হয়, সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক তীব্র প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়েছে এ গল্পে। কাঙালির মায়ের জন্য এক ফোঁটা আগুন পেতে না পারা এবং রসিকলালের মায়ের শবযাত্রার জাঁকজমকের মধ্যে যে বৈপরীত্য, তা গল্পের মূল বার্তা।

কাজেই, উদ্দীপকে যদিও কুসংস্কারের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে, যা 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের একটি অংশ, কিন্তু গল্পের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় সামাজিক বৈষম্য, মানবিক মূল্যবোধ ও দরিদ্রের লাঞ্ছনা এতে অনুপস্থিত। উদ্দীপকটি কেবল অন্ধবিশ্বাস ও তার অসারতাকে ফুটিয়ে তুলেছে, যা 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের সামগ্রিক গভীরতার তুলনায় একপেশে। এ কারণেই মন্তব্যটি সম্পূর্ণরূপে যথার্থ ও অর্থবহ।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
733
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews