ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (NAP) এর জন্ম হয় ১৯৫৭ সালে।
১৯৫৩ সালে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, একে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়াদী প্রমুখের প্রচেষ্টায় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করা হয়।
নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগকে চরম শিক্ষা দেয়ার জন্য এ অঞ্চলের কয়েকটি সমমনা দল মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে। এটি মূলত চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত হয়। এগুলো হলো-মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ, এ.কে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন কৃষক-শ্রমিক পার্টি, মওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন নেজাম-ই ইসলামী এবং হাজী দানেশের নেতৃত্বাধীন বামপন্থি গণতন্ত্রী দল।
উদ্দীপকের বক্তব্য পাঠ্যবইয়ের মুক্তিযুদ্ধকে ইঙ্গিত করেছে।
১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে তৎকালীন পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। পাকিস্তানি শাসকদের শোষণের হাত থেকে মুক্তি লাভের আশায় পূর্ব বাংলার জনগণ আওয়ামী লীগকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দেয়। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা প্রদানে নানারকম ষড়যন্ত্র শুরু করে। ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। ২ মার্চ এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ভাষণে জনগণকে মুক্তি ও স্বাধীনতা অর্জনের জন্য সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান। ১০ এপ্রিল মুজিব নগর সরকার গঠন এবং স্বাধীনতার সাংবিধানিক ঘোষণাপত্র গ্রহণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ নয় মাস এক রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জিত হয়। ৯৩ হাজার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সদস্য এই দিন আত্মসমর্পণ করে। বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।
উদ্দীপকের 'ক' দেশটি হাজার বছর ধরে পরাধীন ছিল। দেশটি নানা শোষণ ও বঞ্চনার শিকার হতে থাকে। এ থেকে মুক্তির জন্য বহু মানুষ বিভিন্ন সময়ে জীবন দেয়, কিন্তু তারা প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতা আনতে পারেনি। এ সময় এক মহান নেতা স্বাধীনতার ডাক দেন। তার ডাকে জনসাধারণ সাড়া দেয় এবং সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে দেশটি স্বাধীনতা লাভকরে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনাটি মুক্তিযুদ্ধকে ইঙ্গিত করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত নেতা হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমে তিনি স্বাধীনতার ডাক দেন।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়াদী উদ্যান) প্রায় ১০ লক্ষ লোকের উপস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। ভাষণের শুরুতে তিনি বাংলার মানুষের মুক্তির কথা বলেছেন। এ ভাষণে তিনি চারটি দাবি উত্থাপন করেন। সেগুলো হলো সামরিক আইন মার্শাল-ল প্রত্যাহার করতে হবে। সমস্ত সামরিক বাহিনীর লোকদের ব্যারাকে ফেরত যেতে হবে। গণহত্যার তদন্ত করতে হবে এবং জনগণের প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। বঙ্গবন্ধু ছিলেন বিচক্ষণ, দূরদর্শী রাজনীতিবিদ। তিনি তার প্রজ্ঞা দ্বারা স্পষ্ট বুঝতে পেরেছিলেন যুদ্ধ ছাড়া স্বাধীনতা অর্জনের বিকল্প কোন পথ নেই। কৌশলগত কারণে প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলেও তার বক্তব্যের মূল চেতনা ছিল স্বাধীনতার ঘোষণা।
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের মধ্য দিয়ে বাঙালির আন্দোলন সংগ্রামের এক নতুন বাঁক তৈরি হয়, তা হলো 'স্বাধিকার নয় স্বাধীনতা'। মূলত এই ভাষণের সাথে সাথেই বাঙালি স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে থাকে। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনী ছাড়া পূর্ব বাংলার প্রশাসন তার নিয়ন্ত্রণে এসে যায়। তার নির্দেশ অনুসারে পূর্ব বাংলার স্কুল কলেজ, অফিস-আদালত, কলকারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়। খাজনা, ট্যাক্স প্রদান বর্জন করা হয়। ঐতিহাসিক ৭মার্চের ভাষণের মধ্যে তিনি স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামের কথা বলেছিলেন। তিনি বাঙালিদের ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার কথা বলেছিলেন। শত্রুর মোকাবেলা করার কথা বলেছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর এই মহান ঘোষণা মিথ্যা হয়নি। তার এই ঘোষণা স্বাধীনতা সংগ্রাম তথা মুক্তিযুদ্ধে বাঙালিদের সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছে।
Related Question
View Allবাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের দ্বারা অর্থাৎ পরোক্ষ পদ্ধতিতে নির্বাচিত হন।
শাসন বিভাগ বলতে বোঝায় সরকারের সে বিভাগকে যে বিভাগ দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাসনকার্য পরিচালনা করে।
সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে শাসন বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শাসন বিভাগই সরকারের আসল চালিকা শক্তি। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীদের নিয়ে শাসন বিভাগ গঠিত হয়। শাসন বিভাগের কাজ হলো আইনসভা কর্তৃক প্রণীত আইনের বাস্তবায়ন করা।
উদ্দীপকের নির্বাচনের সাথে আমার পঠিত ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সাদৃশ্য বৃয়েছে।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান স্বাধীন হলেও দেশটির জাতীয় পরিষদের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭০ সালের ৭ ও ৮ ডিসেম্বর। উত্ত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানে সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ জাতীয় পরিষদের মোট ৩১৩টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। অন্যদিকে, পশ্চিম পাকিস্তানের ৪টি প্রদেশের মধ্যে পিপিপি মোট ৮৩টি আসন পায়। আওয়ামী লীগের এ বিজয় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতা হারানোর ভীতি ছড়িয়ে দেয়। ফলে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকে তারা নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাদের ষড়যন্ত্র বুঝতে পেরে স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ঘ' রাষ্ট্রের স্বাধীনতার দুই যুগ পর প্রথম সাধারণ নির্বাচনে একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভকরে। কিন্তু সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় বিজয়ী দলের নেতা স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। যা আমার পঠিত ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নির্বাচন অর্থাৎ ১৯৭০ সালের নির্বাচন বস্তুতপক্ষে পাকিস্তান রাষ্ট্রটির রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটায়।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালির স্বতন্ত্র জাতীয়তাবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অভূতপূর্ব বিজয় পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর সুদীর্ঘ ২৫ বছরের অত্যাচার, নিপীড়ন ও শোষণের হাত থেকে বাঙালির স্বাধিকার এবং মুক্তি লাভের দাবিরই বহিঃপ্রকাশ।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে টালবাহানা শুরু করে। জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করেও তা আবার অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়। এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সমগ্র পূর্ব বাংলায় হরতালের ডাক দেন। ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে তার ভাষেেণ তিনি স্বাধীনতার ডাক দেন। ১৯৭১ সালের ২ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানে অসহযোগ আন্দোলন চলে। ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকাসহ অন্যান্য শহরগুলোতে হাজার হাজার নিরীহ, নিরস্ত্র বাঙালিকে নির্মমভাবে হত্যা করে। ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এ ঘোষণার সাথে সাথে বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। উপরের আলোচনা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নির্বাচন অর্থাৎ ১৯৭০ সালের নির্বাচন প্রকৃতই পাকিস্তান রাষ্ট্রের রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটায়।
ছয়দফা হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ঘোষিত বাঙালির অধিকার আদায়ের ৬টি দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি।
যুক্তফ্রন্ট বলতে ১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদের সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী একটি রাজনৈতিক জোটকে বোঝায়।
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাজিত করার লক্ষ্যে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করে। এরই প্রেক্ষিতে ১৯৫৩ সালের নভেম্বর মাসে ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে 'যুক্তফ্রন্ট' জোট গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এ জোট চারটি রাজনৈতিক দল নিয়ে গঠিত হয়। দলগুলো হলো- আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজাম-ই-ইসলামি পার্টি এবং গণতন্ত্রী দল। নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল নৌকা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!