মতানৈক্য দূর করার জন্য।
বিভ্রান্তি এড়িয়ে সঠিক পথে থাকার জন্য রাসুল (স)-এর উম্মতকে ইজমা করার অধিকার দেওয়া হয়েছে। রাসুল (স) বলেছেন- 'আমার উম্মত বিভ্রান্তির ওপর এক হবে না।' পৃথিবী পরিবর্তনশীল। এই পৃথিবীতে নতুন নতুন সমস্যা সৃষ্টি হয়। এ সমস্যা নিয়ে যাতে কোনো বিভ্রান্তি না হয়, তাই জ্ঞানসমৃদ্ধ আলেম ও উম্মাহকে ইজমা করার অধিকার দেওয়া হয়েছে।
খ' চিহ্নিত বক্সে প্রশ্নবোধক চিহ্ন দ্বারা ইজমার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। শরিয়তে এর গুরুত্ব ও ভূমিকা অপরিসীম। ইসলামি শরিয়তের দুইটি প্রধান উৎস হলো কুরআন ও হাদিস। এছাড়াও আরো দুটি উৎস রয়েছে। এর একটি ইজমা অপরটি কিয়াস। কুরআন ও হাদিসে যেসব মূলনীতি রয়েছে তার আলোকে নতুন নতুন সমস্যার সমাধান ইজমা ও কিয়াসের মাধ্যমে করা হয়। উদ্দীপকে 'খ' চিহ্নিত বক্সে প্রশ্নবোধক চিহ্ন দ্বারা ইজমার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। কেননা শরিয়তের প্রধান চারটি মূলনীতির মধ্যে হাদিসের পরেই ইজমার স্থান। শরিয়তে ইজমার গুরুত্ব অপরিসীম। মানবজীবন গতিশীল। তাই প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সমস্যা উদ্ভবের সাথে সাথে ইজমার ভূমিকাও দিন দিন বাড়ছে। কুরআন ও হাদিসে নবোদ্ভাবিত সমস্যার সমাধান পাওয়া যায় না বরং এতে রয়েছে মূলনীতি। এই মূলনীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ সমস্যা সমাধান করার ক্ষেত্রে মুমিনদের ইজমা বিশেষ প্রয়োজন।বাস্তব অবস্থানগত দিক থেকে তৃতীয় পর্যায়ের দলিল হলেও প্রয়োগগত বাস্তব দিক বিবেচনা করলে ইজমাকেই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ উৎস মনে হয়। কেননা কুরআন ও হাদিসের যথাযথ বাস্তবায়ন ইজমার ওপরই বহুলাংশে নির্ভর করে। সুতরাং বলা যায়, শরিয়তের উৎস হিসেবে ইজমার ভূমিকা অনস্বীকার্য।
'ক' চিহ্নিত বক্সের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তি তথা মুনাফিকের 'পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। অন্তরে কুফরি লালন করে মুখে ইমানের দাবি করা হলো নিফাক। যাদের মধ্যে নিফাক রয়েছে তারা মুনাফিক। ইসলামের জন্য কাফির মুশরিকের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর হলো মুনাফিকরা।
উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত বক্সে বর্ণিত বৈশিষ্ট্যগুলো দ্বারা মুনাফিকের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। কেননা মহানবি (স) মুনাফিকদের শনাক্ত করার জন্য তিনটি বিশেষ নিদর্শনের কথা বলেছেন। আর তা হলো মিথ্যা বলা, ওয়াদা ভঙ্গ করা ও আমানতের খিয়ানত করা। মুনাফিকের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্থানে অবস্থান করবে, সেদিন তারা তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী খুঁজে পাবে না' (সুরা আন-নিসা: ১৫৫) আল্লাহ তায়ালা মুনাফিক ও কাফেরদের অভিশাপ দিয়ে বলেন, 'আল্লাহ ওয়াদা করেছেন- মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারীদের এবং কাফেরদের জন্য রয়েছে দোজখের আগুন। তাতে তারা চিরদিন থাকবে। সেটাই তাদের জন্য যথেষ্ট। আর আল্লাহ তাদের প্রতি অভিশাপ করেছেন এবং তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী আজাব' (সুরা আত-তাওবা:৬৮)।
পরিশেষে বলা যায় যে, মুনাফিকরা ইসলামের চরম শত্রু। পরকালে তাদের জন্য চিরস্থায়ী স্থান হলো জাহান্নাম। সকলের উচিত মুনাফিকের চরিত্র থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা।
Related Question
View All'নিফাক' অর্থ- কপটতা, ভণ্ডামি ইত্যাদি।
'হুরুফে মুকাত্তায়াত' বলতে কুরআনে সংযোজিত বিচ্ছিন্ন বর্ণসমূহকে বোঝায়। কুরআন মাজিদের মোট ২৯টি সুরার শুরুতে হুরুফে মুকাত্তায়াত রয়েছে। প্রত্যেক গ্রন্থেই কিছু গোপন বিষয় থাকে, আর আল- কুরআনের গোপন বিষয় হলো হরফে মুকাত্তায়াত। তাফসিরকারগণের মতে যেসব বর্ণের প্রকৃত অর্থ ও যথার্থ মর্ম আল্লাহ ছাড়া আর কেউ অবহিত নয় তাকেই 'হুরুফে মুকাত্তায়াত' বলে। যেমন- এর অর্থ আল্লাহ ছাড়া আর কেউ অবগত নয়।
মিথ্যাচার করা মুনাফিকের স্বভাব। মুনাফিক বলতে তাদেরকে বোঝায়, যারা মৌখিকভাবে ইমানের ঘোষণা দেয়, নামাজ, রোজাও পালন করে, কিন্তু অন্তরে কুফরি পোষণ করে। এদের মুখের ভাষা এক রকম কিন্তু অন্তর অন্যরকম। উদ্দীপকের দৃশ্যপট-১ এ দেখা যায় রাইয়্যান এ স্বভাবের অধিকারী।
উদ্দীপকের রাইয়্যান মিথ্যাচারের মাধ্যমে মুনাফিকি করে। সুরা আল বাকারায় দ্বিতীয় রুকুতে আল্লাহ তায়ালা মুনাফিকদের করুণ পরিণতির কথা তুলে ধরেছেন। মুনাফিকরা ইমান আনার কথা বলে আল্লাহ ও মুমিনদের ঠকাতে চায়। কিন্তু তাদের এ কাজের কারণে নিজেরাই ঠকে। তাদের এরূপ কাজের কারণে দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রকৃতপক্ষেই মুনাফিকদের অন্তরে থাকে নিফাক, কুফর, শিরকের ব্যাধি। তাদের এসব স্বভাবের কারণে পাপপ্রবণতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলে তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত থেকে বঞ্চিত হয়। তারা পৃথিবীতে অসম্মান ও অবিশ্বাসের পাত্রে পরিণত হয়। তাছাড়া পরকালীন জীবনেও তাদের কল্পনাতীত শাস্তি পেতে হবে। হাদিসেও নবি (স) মুনাফিকদের শাস্তির কথা বর্ণনা করেছেন। তাছাড়া মুনাফিকদের তিনটি গুণের মধ্যে মিথ্যাচার একটি। মিথ্যাচারকে মহানবি (স) সব পাপের মূল হিসেবে অবহিত করেছেন।
ওপরের আলোচনার আলোকে বলতে পারি, রাইয়্যান মিথ্যাচার করার মাধ্যমে মুনাফিকির স্বভাব পোষণ করছে। যার জন্য পরকালে তাকে কঠোর শাস্তি পেতে হবে।
উম্মাহর ঐকমত্যের জন্য বর্তমানে ইজমার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। ইজমা হচ্ছে সমকালীন বিজ্ঞ আলেমদের কোনো বিষয়ের ওপর ঐকমত্য। ধর্মীয় বা পার্থিব যেকোনো বিষয়ের বিধান উদ্ভাবন, প্রবর্তন বা নির্ধারণের ক্ষেত্রে যেকোনো যুগের মুসলিম মুজতাহিদ আলেমদের ঐকমত্যের মাধ্যমেই ইজমা হয়ে থাকে।
উদ্দীপকের দৃশ্যপট-২ এ রফিক ইসলামিক স্টাডিজ নিয়ে অধ্যয়ন করার কারণে ইজমার ব্যাপারে জানতে পারে। সে মুসলিম উম্মাহর ঐকমত্যের জন্য উদগ্রীব। বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন বৈপরীত্য মাসয়ালার সুন্দর সমাধানে ইজমার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। ইসলামি আইনের উৎসসমূহের মধ্যে কুরআন ও হাদিসের পরেই এর অবস্থান হওয়াতে এর দ্বারা শরিয়তের বিভিন্ন মাসয়ালা প্রণয়নে এর প্রয়োজন পড়ে। কুরআন ও হাদিসে যে পরিমাণ সমস্যার সমাধান পেশ করা হয়েছে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অনেকগুণ বেশি বিষয়ে কোনো সমাধান দেওয়া হয়নি। এক্ষেত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিধান প্রবর্তন করতে ইজমার বিকল্প নেই। নবোদ্ভাবিত সব সমস্যার সমাধানে ইজমা অনিবার্য। তাছাড়া মহানবি (স) বলেছেন- 'আমার উম্মত বিভ্রান্তির ওপর এক হবে না।' রাসুল (স) এর এ বাণীর মধ্যেই ইজমার গুরুত্ব বিদ্যমান। কেননা রাসুল (স) নিজেই ইজমার প্রতি ইঙ্গিত করে আলেমদের ঐকমত্যে পৌঁছানোর উপদেশ দিয়েছেন।
ওপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলতে পারি, বর্তমান বিশ্বে নতুন নতুন যেসব ধর্মীয় বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে তা ইজমার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।
রুখসাত অর্থ অবকাশ, ঐচ্ছিক বা হালকা।
যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিরাই ইজমা করতে পারবে। ইজমা সম্পাদনে যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের 'আহলুল ইজমা' বলা হয়। রাসুল (স)-এর ইন্তেকালের পর সাহাবিরা ছিলেন ইজমার আহল। কেননা রাসুলের পর তারাই ছিলেন ইসলামি শরিয়ত সম্পর্কে অভিজ্ঞ, রাসুল (স)-এর পছন্দনীয় এবং সমাজে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। সাহাবিদের যুগের পরে অভিজ্ঞ আলিমগণ ইজমা প্রদান করতে পারবেন। এভাবে শরিয়ত সম্পর্কে অভিজ্ঞ এবং সর্বজন গ্রহণযোগ্য মানুষ, যারা ইজমা প্রদান করলে তা শরিয়তের বিধানে পরিণত হবে সে ধরনের ব্যক্তি বা মানুষদের আহলুল ইজমা বা ইজমার আহল বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!