রাষ্ট্রের প্রথম উপাদান হলো জনসমষ্টি।
সরকার বলতে ব্যাপক অর্থে শাসকগোষ্ঠীর সকলকে বোঝায়, যার প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে। অর্থাৎ রাষ্ট্রের ক্ষমতা সরকার কর্তৃক পরিচালিত হয়।
'ক' রাষ্ট্রটিতে রাষ্ট্রের যে উপাদানটি অনুপস্থিত তা হলো সরকার।
রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম উপাদান হলো সরকার। সরকারের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সকল কাজ পরিচালিত হয়। রাষ্ট্রের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সরকার' আইন প্রণয়ন করে এবং আইন অনুযায়ী জনগণকে পরিচালনা করে। সরকারের সকল নিয়মকানুন ও আদেশ-নিষেধ জনগণ মেনে চলে। জনগণ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে। রাষ্ট্র গঠনে চারটি উপাদান রয়েছে। যেকোনো একটি উপাদানের অভাবে রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না। উদ্দীপকেও দেখা যাচ্ছে, 'ক' রাষ্ট্রটিতে রাষ্ট্র গঠনের তিনটি উপাদান উপস্থিত; কিন্তু একটি উপাদান অনুপস্থিত তা হলো 'সরকার'। তাই এ উপাদানটির অভাবে এখনও রাষ্ট্রটি পূর্ণাঙ্গরূপে রাষ্ট্রের মর্যাদা পায়নি।
পরিশেষে বলা যায়, রাষ্ট্র গঠনের জন্য চারটি উপাদানেরই সমান গুরুত্ব রয়েছে। তাই রাষ্ট্র গঠনের চারটি উপাদানের যেকোনো একটি অনুপস্থিত থাকলে সেটি রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচিত হবে না।
বাংলাদেশের নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী, ভূখণ্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব বিদ্যমান রয়েছে বিধায় বাংলাদেশ একটি রাষ্ট্র। বাংলাদেশে একটি বিশাল জনগোষ্ঠী রয়েছে। এর সংখ্যা ১৪ কোটি ৯৭ লক্ষ ৭২ হাজার ৩৬৪ জন (সূত্র: আদমশুমারি-২০১১)। বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী এবং অর্ধেক পুরুষ। বাংলাদেশের একটি নির্দিষ্ট ভূখন্ডে অবস্থিত। এর আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের মধ্য দিয়ে আমরা এ ভূখন্ডের সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছি। তাছাড়া বাংলাদেশের সরকারব্যবস্থা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত। এর নাম 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।' এ সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত। সরকারের সকল নিয়মকানুন ও আদেশ-নিষেধ জনগণ মেনে চলে। সাধারণত বাংলাদেশ রাষ্ট্র সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। এ ক্ষমতা দ্বারা সরকার দেশের সকল জনগোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ করে ও অন্য দেশের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত রেখে দেশ শাসন করে। এ কারণেই অন্য কোনো দেশ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশ রাষ্ট্রের চূড়ান্ত ক্ষমতা। তাই উপরিউক্ত উপাদানগুলোর প্রেক্ষিতে বলা যায়, বাংলাদেশ একটি রাষ্ট্র।
Related Question
View Allনাগরিক রাষ্ট্রের পরিচয়ে নাগরিকত্ব লাভ করে।
একটি রাষ্ট্রে নিজ দেশের অধিবাসী ছাড়াও ভিন্ন দেশের অনেক লোক বাস করে। শিক্ষা, ব্যবসায় বাণিজ্য, চাকরি ইত্যাদি নানা কারণে তারা অবস্থান করে। এরা বিদেশি হিসেবে পরিচিত। তারা এদেশের সরকারের বা রাষ্ট্রের কোনো রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করতে পারে না। তাই রাষ্ট্রে বসবাসকারী সকলেই নাগরিক নয়।
জাকির সাহেব অনুমোদনসূত্রে আমেরিকার নাগরিকত্ব লাভ করেছেন।
অনুমোদনসূত্রে এক দেশের নাগরিককে অন্য দেশের নাগরিক হওয়ার জন্য আবেদন করতে হয়। শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসায় বাণিজ্য ছাড়াও নানা কারণে এক দেশের নাগরিককে অন্য দেশে বসবাস করতে হয়। এরূপ বসবাসকারী ব্যক্তির ওই দেশের নাগরিকত্বের প্রয়োজন হয়। তখন রাষ্ট্রের কাছে ওই ব্যক্তি আবেদন করেন। আবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রাষ্ট্র শর্তসাপেক্ষে স্থায়িভাবে নাগরিকত্ব প্রদান করে।
অনুমোদন সূত্রে নাগরিকত্ব লাভের কিছু শর্ত আছে।
উদ্দীপকে জাকির সাহেব আমেরিকার নাগরিকত্ব লাভ করেছেন কেননা, জাকির সাহেব ওই রাষ্ট্রের সম্পত্তি কিনেছেন, তিনি এবং তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন, তিনি ওই রাষ্ট্রে চাকরিরত আছেন, তিনি ওই দেশের ভাষা জানেন, তিনি ভালো চরিত্রের অধিকারী ও তিনি উন্নততর দক্ষতার অধিকারী হয়েছেন। অনুমোদন সূত্রে নাগরিকত্ব লাভকারী ব্যক্তি উপরের শর্তগুলোর এক বা একাধিক শর্ত পূরণ করলে নাগরিকত্ব লাভ করতে পারেন। আর এভাবেই জাকির সাহেব আমেরিকার নাগরিকত্ব লাভ করেছেন।
উদ্দীপকে জাকির সাহেব অনুমোদনসূত্রে নাগরিকত্ব লাভ করেছে।
অন্যদিকে স্বনন দ্বৈত-নাগরিকত্ব লাভ করেছে। এ দুই নাগরিকতার মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান।
এক দেশের নাগরিককে অন্য দেশের নাগরিক হওয়ার জন্য আবেদন করে ওই রাষ্ট্রের অনুমোদন সাপেক্ষে নাগরিকত্ব লাভকে অনুমোদনসূত্রে নাগরিকত্ব লাভ বলে। আবার একই ব্যক্তি দুটি দেশের নাগরিকত্ব লাভ করলে তাকে দ্বৈত-নাগরিকত্ব বলে।
উদ্দীপক অনুযায়ী জাকির সাহেব অনুমোদনসূত্রে আমেরিকার নাগরিক। আর জাকির সাহেব আমেরিকায় থাকা অবস্থায় স্বনন জন্মলাভ করেছে। সেক্ষেত্রে স্বনন আমেরিকার নাগরিক। আবার মা-বাবা বাংলাদেশি হওয়ায় স্বনন বাংলাদেশেরও নাগরিক। অর্থাৎ সে দ্বৈত-নাগরিকত্ব লাভ করেছে।
জাকির সাহেব অনুমোদনসূত্রে আমেরিকার নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। স্বনন আমেরিকায় জন্মগ্রহণ করেছে বিধায় সে জন্মসূত্রে আমেরিকার নাগরিক। জাকির সাহেব প্রায় ২০ বছর যাবৎ আমেরিকাতে বসবাস করছেন বিধায় তিনি আমেরিকার নাগরিক। প্রাপ্তবয়স্ক হলে স্বনন ইচ্ছা করলে যেকোনো একটি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে পারবে। জাকির সাহেব নিয়মিত আয়কর দেন। দেশের আইনকানুন মেনে চলেন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য একটি তহবিল পরিচালনা করেন। স্বননের নাগরিকত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য তেমন কিছুই করার প্রয়োজন নেই। তরে ইচ্ছা করলে সে দুটি রাষ্ট্রেরই নাগরিকত্ব রাখতে পারে। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের জাকির সাহেব ও তার সন্তান স্বননের
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মেহেরপুরের - মুজিবনগরে বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয়।
একই ব্যক্তি দুটি দেশের নাগরিকত্ব লাভ করলে তাকে দ্বিনাগরিকত্ব বলে। কোনো বাংলাদেশি বাবার সন্তান আমেরিকায় জন্মগ্রহণ করলে সে স্বাভাবিক নিয়মে ওই দেশের নাগরিক হয়। অন্যদিকে মা-বাবা বাংলাদেশি হওয়ায় সে বাংলাদেশেরও নাগরিক। এক্ষেত্রে সে প্রাপ্তবয়স্ক হলে ইচ্ছা করলে যেকোনো একটি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে পারে। তবে ইচ্ছা করলে সে দুটি রাষ্ট্রেরই নাগরিকত্ব রাখতে পারে, এটিই দ্বৈত-নাগরিকত্ব।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!