Natio বা Natus শব্দের অর্থ জন্ম বা বংশ বা রক্তের সম্পর্ক।
জাতীয়তার ভিত্তিতে সৃষ্ট রাষ্ট্রই জাতি রাষ্ট্র। জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ জনসমষ্টি যখন অন্যদের থেকে নিজেদের স্বতন্ত্র মনে করে এবং এজন্য স্বাধীন হতে চায় বা স্বাধীনতা অর্জন করে তখন সেই রাষ্ট্রকেই জাতিরাষ্ট্র বলে। বিপুল জনসংখ্যা ও বিশাল আয়তন হচ্ছে জাতি রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য।
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' রাষ্ট্রে জাতীয়তার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পূর্বাঞ্চলের মানুষ সংগ্রাম করেছিল।
জাতীয়তাকে আধুনিক বিশ্বের প্রধান নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে গণ্য করা হয়। যেসব উপাদান একটি জনসমাজকে জাতীয় জনসমাজে রূপান্তরিত করে সেসব উপাদানকে জাতীয়তার উপাদান বলে।
জাতীয়তার এই উপাদানগুলোর মধ্যে ভৌগলিক ঐক্য, ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ঐক্য, ইতিহাস ও ঐতিহ্য, ধর্মীয় ঐক্য ইত্যাদি উপাদান জাতীয়তা গঠনে মূল উপাদান হিসেবে কাজ করে। কোনো একটি সুনির্দিষ্ট ভূ-খণ্ডে জনসমষ্টি যদি দীর্ঘদিন পাশাপাশি বসবাস করে তাহলে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ স্থাপিত হয় এবং ভাবের আদান প্রদান চলতে থাকে। আর এই যোগাযোগ ঐ জনসমষ্টির মধ্যে জাতীয়তার সৃষ্টি করে। উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্রের জনগণও এ ধরনের ভৌগলিক ঐক্য দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়েছিল এবং তাদের মধ্যে যে জাতীয়তার সৃষ্টি হয়েছিল তাতে উদ্বুদ্ধ হয়ে পূর্বাঞ্চলের মানুষ সংগ্রাম করেছিল। জাতীয়তা গঠনের পেছনে উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' রাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে বংশগত ঐক্য ও অনন্য ভূমিকা পালন করেছিল এবং এই বংশগত ঐক্যের চেতনায় যে জাতীয়তা সৃষ্টি হয়েছিল সে চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পূর্বাঞ্চলের মানুষ সংগ্রাম করেছিল। ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্য দ্বারা সৃষ্ট জাতীয়তা দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে পূর্বাঞ্চলের মানুষ সংগ্রাম করেছিল। সর্বোপরি এ কথা স্পষ্টভাবে বলা হয় যে, উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' রাষ্ট্রের
জনগণ ভাষার দ্বারা সৃষ্ট জাতীয়তার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সংগ্রাম করেছিল।
উদ্দীপকে বর্ণিত জাতীয়তার উপাদান দ্বারা ভাষাকে নির্দেশ করা হয়েছে। কিন্তু এই ভাষা ছাড়াও জাতীয়তার আরও উপাদান রয়েছে।
নিচে জাতীয়তার অন্য উপাদানগুলো আলােচনা করা হলো-
ভৌগোলিক ঐক্য : জাতীয়তার প্রথম ও প্রধান উপাদান হিসেবে ভৌগোলিক ঐক্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো একটি সুনির্দিষ্ট ভূ-খন্ডে একটি জনসমষ্টি যদি দীর্ঘদিন পাশাপাশি বসবাস করে তাহলে তাদেরমধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ স্থাপিত হয় এবং ভাবের আদান-প্রদান চলতে
বংশগত ঐক্য: জাতীয়তা গঠনে বংশগত ঐক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ থাকে। এভাবে ভৌগোলিক ঐক্য জাতীয়তা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেউপাদান হিসেবে কাজ করে। কোনো জনসমাজ যখন বিশ্বাস করে, তাদের শিরা-উপশিরায় একই রক্ত প্রবাহিত এবং তাদের আকৃতিগত বৈশিষ্ট্য অভিন্ন তখন স্বভাবতই তাদের মধ্যে জাতীয়তা গড়ে ওঠে।
ধর্মীয় ঐক্য: ধর্মীয় ঐক্য জাতীয়তা গঠনের অন্যতম একটি উপাদান। একই ধর্ম অর্থাৎ একই উপাসনা পদ্ধতি ঐক্যের বন্ধনকে দৃঢ় করে যা জাতীয়তার জন্যও অন্যতম উপাদান।
অর্থনৈতিক ঐক্য: অর্থনৈতিক ঐক্যও জাতীয়তার গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। অর্থনৈতিক সমস্বার্থ জনসমাজে বিভিন্ন অংশের মধ্যে ঐক্যের বন্ধন সৃষ্টি করে। আর এই ঐক্য জাতীয়তা সৃষ্টি করে।
রাষ্ট্র সংগঠন: রাষ্ট্রীয় সংগঠনও জাতীয়তা গঠনের অন্যতম উপাদান হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে কোনো জনসমষ্টি একই শাসন ব্যবস্থার অধীনে বসবাস করার মাধ্যমে তাদের মধ্যে ভিন্নতা ক্রমান্বয়ে লোপ পায় এবং ঐক্যবোধ সৃষ্টি হয়। আর এই ঐক্যবোধ জাতীয়তা গঠন করে
ইতিহাস ও ঐতিহ্য: ইতিহাস ও ঐতিহ্য জাতীয়তা গঠনের অন্যতম একটি উপাদান। কেননা দীর্ঘদিন একটি ভূ-খন্ডে বসবাস করলে জনসমাজের মধ্যে ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সমন্বয় সাধনের ফলে ঐতিহ্যগত ঐক্য গড়ে ওঠে যা জাতীয়তা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পরিশেষে এ কথা স্পষ্টভাবে বলা যায়, জাতীয়তা গঠনের ক্ষেত্রে ভাষাই একমাত্র উপাদান নয় বরং উপরোক্ত উপাদানগুলোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
Related Question
View AllNationality' শব্দের অর্থ জাতীয়তা।
জাতীয়তাবাদ একটি মহান আদর্শ, যা মূলত এক প্রকার মানসিক অনুভূতি। বিভিন্ন উপাদান থেকে এর উৎপত্তি। কিন্তু এ জাতীয়তাবাদ যদি এমন হয় যে, তা অন্য জাতিকে ঘৃণা করতে শেখায়, নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাবতে শেখায় এবং অন্যকে নিজের অধীন রাখার মতো হীনমানসিকতাকে জাগিয়ে তোলে, তবে তা হবে উগ্র জাতীয়তাবাদ। এটি একটি বিবৃত মানসিকতা যা ব্যক্তিকে অন্ধ দেশপ্রেমে প্রলুব্ধ করে। জার্মানির হিটলার, ইতালির মুসোলিনী এরূপ জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ছিল, যার ফলাফল প্রলয়ঙ্করী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
বাঙালি জাতীয়তাবাদ একটি ঐতিহাসিক বিষয়। এর বিকাশ ঘটেছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে ভিত্তি করে, যা প্রধান শিক্ষক উদ্দীপকে উল্লেখ করেছেন। বাঙালি জাতীয়তাবাদের উদ্ভব ও বিকাশের পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এক মাইলফলক। বাঙালি দামাল ছেলেরা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে নিজেদের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এক ইতিহাস রচনা করে। এ ভিত্তিতেই রচিত হয় বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশ। ৫২'র ভাষা আন্দোলন ছিল স্বাধিকার আদায়ের প্রথম ধাপ। এ আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ৫৪'র নির্বাচন, ৬২'র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬'র ছয় দফা, ৬৯'র গণঅভুত্থান, ৭০'র নির্বাচন এবং ৭১'র স্বাধীনতা অর্জিত হয়। এ দীর্ঘ পথপরিক্রমায় বাঙালির ভাষাভিত্তিক জাতীয়তার ভিত্তি সুদৃঢ় হয়েছে। বাঙালি জাতি এক ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত হয়। স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং বিজয় অর্জনে এটি আমাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
জাতীয়তা একটি বহুমাত্রিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রত্যয়। এটি গড়ে ওঠার পেছনে অনেকগুলো factor কাজ করে থাকে। উদ্দীপকে প্রধান অতিথি যে কথাটি বলেছেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কেননা শুধু ভাষাগত মিল একটি জাতীয়তা নির্মাণের একমাত্র ভিত্তি হতে পারে না। যেমন- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা প্রভৃতি দেশের ভাষা ইংরেজি হলেও তারা প্রত্যেকে আলাদা আলাদা জাতি। বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের লোকজনের ভাষা এক হওয়া সত্ত্বেও এরা আলাদা দুটি জাতি। আবার ভারত বহু ভাষাভাষীর জনগোষ্ঠীর দেশ হলেও তাদের জাতীয়তা এক। এভাবে ভাষাগত সাদৃশ্য বা বৈসাদৃশ্য একরূপ জাতীয়তা সৃষ্টি বা আলাদা করতে ভূমিকা পালন নাও করতে পারে। জাতীয়তা নির্মাণের পথ অত্যন্ত জটিল ধারায় আবর্তিত হয়।
জাতীয়তা নির্ধারণের অন্যান্য যেসব উপাদান রয়েছে তার মধ্যে প্রধান হলো একই ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ধর্ম, সাহিত্য, ভৌগোলিক ঐক্য, মনস্তাত্ত্বিক ঐক্য, রাজনৈতিক ঐক্য, অর্থনৈতিক অভিন্ন উদ্দেশ্য ইত্যাদি। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে, বিভিন্ন ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতির লোক জড়ো হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন বসবাস করছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক ঐক্য তাদেরকে একই সূত্রের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে এবং শক্তিশালী জাতীয়তা নির্মাণে সহায়তা করেছে। তাদের সবার জাতীয়তা নির্ধারিত হয়েছে মার্কিনী। এরূপ কালের পরিক্রমায় দীর্ঘ পরিসরে মানুষের জীবনধারার প্রেক্ষিতে একটি জাতীয়তা গড়ে উঠেছে।
অনুরূপভাবে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী মানুষের মধ্যেও ইতিহাসের বিবর্তন ধারায় গড়ে উঠেছে জাতীয় চেতনা। এ চেতনা থেকেই সৃষ্টি হয়েছে জাতীয়তাবোধ। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই এরূপ লক্ষ করা যায়। Activate
১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করে।
জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ জনসমষ্টির রাষ্ট্রগুলোকে জাতি-রাষ্ট্র বলা হয়। জাতীয়তার উপাদানগুলোর মাধ্যমে সংগঠিত ও স্বাধীন হয়ে এরূপ রাষ্ট্র গঠিত হয়। জাতিরাষ্ট্র ধারণার প্রবক্তা ম্যাকিয়েভেলি। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ইত্যাদি জাতি-রাষ্ট্র।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!