আইন হচ্ছে সেসব নিয়মকানুনের সমষ্টি, যা রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও সমর্থিত এবং অনুমোদিত; যার কাজ হচ্ছে মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা এবং যা ভঙ্গ করলে শাস্তি পেতে হয়।
মূল্যবোধ বলতে তুলনামূলক অর্থমূল্য বা অন্তর্নিহিত গুণাবলিকে বোঝানো হয়। আর সমাজে প্রচলিত মূল্যবোধ বলতে বোঝানো হয় এমন রীতিনীতি, আদর্শ ও লক্ষ্য যা সামাজিকভাবে অনুমোদিত এবং সমর্থিত। সমাজের বৃহত্তর অংশ দ্বারা মূল্যবোধ সমর্থিত হতে হবে। এটি কোনো স্থির বিষয় নয়। সমাজ-স্থান-কাল-পাত্রভেদে মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল।
'ক' রাষ্ট্রের জনগণ অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ভোগ করছেন।
স্বাধীনতা অর্থ স্বেচ্ছাচারিতা নয়। স্বাধীনতা বলতে বোঝায় অপরের কাজে বাধা সৃষ্টি না করে নিজের ইচ্ছানুযায়ী কাজ সম্পাদন করার অধিকার। স্বাধীনতার আবার কয়েকটি শ্রেণিবিভাগ রয়েছে। এর মধ্যে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা একটি। উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' রাষ্ট্রের জনগণ জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান, ন্যায্য মজুরি প্রদান ও বেকারত্ব দূরীকরণ ইত্যাদি সুযোগ-সুবিধা লাভের অধিকার সংরক্ষণ করেন। এগুলো সবই অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত। অর্থনৈতিক জীবনে মানুষের স্বাধীন থাকার অধিকার হলো অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। অভাব-অনটন, বেকারত্ব এবং ছাঁটাইয়ের ভয় থেকে মুক্ত থাকা অর্থনৈতিক স্বাধীনতার উদাহরণ। অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং উপযুক্ত মজুরি পাওয়ার নিশ্চয়তা অর্থনৈতিক স্বাধীনতাকে সুদৃঢ় করে। রুজভেল্টের মতে, "অভাব থেকে মুক্তিই হলো অর্থনৈতিক স্বাধীনতা।" জনগণের যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী জীবিকা নির্বাহের উপযুক্ত পরিবেশ প্রাপ্তি ও অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণের নিশ্চয়তাই হলো অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। এ স্বাধীনতা ব্যতীত মানুষ সচ্ছলভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে না।
উদ্দীপকে বর্ণিত অর্থনৈতিক স্বাধীনতা রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলে।
স্বাধীনতা বলতে আমরা সেই অবস্থাকে বোঝাতে পারি, যা বিভিন্ন অনুকূল সুযোগ-সুবিধা ও কল্যাণমূলক কার্যাবলির মাধ্যমে ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এবং অনুরূপ কার্যাবলি সম্পাদন অন্যের ওপর কোনো প্রতিবন্ধকতা চাপিয়ে দেয় না। স্বাধীনতার বেশ কয়েকটি প্রকারভেদ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ধরন হলো রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্রের জনগণ যে ধরনের স্বাধীনতা ভোগ করছে দেখা যায় সেগুলো হলো অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। মানুষের সচ্ছলভাবে জীবিকা নির্বাহের জন্য এ স্বাধীনতা থাকা অপরিহার্য। আর রাষ্ট্রের শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করার স্বাধীনতাকে বলা হয় রাজনৈতিক স্বাধীনতা। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ব্যতীত মানুষের ব্যক্তিত্ব বিকাশ সম্ভব নয়। আবার অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ব্যতীত রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন হয়ে পড়ে। কেননা অর্থনৈতিক স্বাধীনতা না থাকলে মানুষ রাজনৈতিক স্বাধীনতা ভোগে আনন্দ পায় না। অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা না থাকলে ভোটদান, মতামত প্রকাশ, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া কিংবা সরকারি চাকরি লাভের মতো রাজনৈতিক অধিকারগুলো অর্থহীন হয়ে পড়ে। এ কারণেই বলা হয় যে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলে।
Related Question
View Allআইন হলো- সার্বভৌম শাসকের আদেশ"- কথাটি বলেছেন জন অস্টিন।
সুশাসনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো আইনের শাসন।
আইনের শাসন বলতে মূলত বোঝানো হয় রাষ্ট্রীয় জীবনে নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মানবাধিকারের সংরক্ষণকে। সংখ্যালঘু ও রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এর শর্ত। স্বাধীন নিরপেক্ষ এবং দুর্নীতিমুক্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচার বিভাগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। এটি জনগণের অধিকার রক্ষার রক্ষাকবচ।
আইনের শাসন গণতন্ত্রের ভিত্তি। মমতাজ সাহেব গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় লেখনী ধারণ করেন।
তিনি আইনের শাসনকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় মূল্যবোধের বিকাশের মূল হিসেবে দেখেছেন। যথাযথ আইনের শাসনের মাধ্যমে সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়। জনগণের জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তির নিশ্চয়তা লাভ করে। আইনের শাসনের মাধ্যমে 'সকল নাগরিক সমান' এ নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়। নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগে সমান সুযোগের ভিত্তিতে সবাই বিচার লাভ করবে। দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে সবাই নিরাপত্তা লাভ করবে। আইনের শাসনের এ বিষয়গুলো মূলত গণতন্ত্রের সাথে খুব ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রধানত সংখ্যাগুরুর মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত শাসনব্যবস্থা। এতে সংখ্যালঘুরাও সমান সুযোগ পাবে, মত প্রকাশের সমান অধিকার থাকবে। আইনের শাসন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে, গণতন্ত্র চর্চাকে পরিশীলিত করে এবং সুশাসন নিশ্চিত করে।
প্রচলিত সাধারণ অর্থানুসারে আইন হলো কতকগুলো বিবিবিধান যা মানুষ সামাজিক প্রাণী হিসেবে মানতে বাধ্য থাকে। অন্যদিকে, স্বাধীনতা বলতে যা খুশি তাই করার ক্ষমতাকে বোঝায়। আপাতদৃষ্টিতে আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী দুটি বিষয়। কিন্তু মমতাজ সাহেবের উত্থাপিত বিষয়টি আমাদেরকে বলতে চাচ্ছে যে, আইন স্বাধীনতার সহায়ক।
বস্তুত আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত। আইন স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক। আইন না থাকলে স্বাধীনতা থাকতে পারে না। আইন আছে বলেই স্বাধীনতার স্বাদ উপভোগ করা যায়। আইন স্বাধীনতাকে সম্প্রসারিত করে। উইলোবি এজন্যই বলেছেন যে, "আইন আছে বলেই স্বাধীনতা রক্ষা পায়।" অন্যদিকে, স্বাধীনতা না থাকলে আইন অর্থহীন হয়ে যায়। কেননা পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকলে আইনের প্রয়োগ সম্ভব হয় না। আইন আছে বলেই কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আইনের বলেই স্বাধীন বাংলার মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার ফিরে পেয়েছে। আইন না থাকলে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার অর্থহীন হয়ে যায়। আইনের মাধ্যমে প্রাপ্ত অধিকার দ্বারাই জনগণ সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে স্বাধীনতা লাভ করে। আইন না থাকলে দুর্বলের স্বাধীনতা রক্ষা করা কতটা সম্ভব হতো তা প্রশ্ন সাপেক্ষ ব্যাপার। এজন্যই বলা যায়, সাংবাদিক মমতাজ সাহেবের উত্থাপিত বিষয়টি যথার্থ।
আব্রাহাম লিংকন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট।
মূল্যবোধ বলতে তুলনামূলক অর্থমূল্য বা অন্তর্নিহিত গুণাবলিকে বোঝানো হয়। আর সমাজে প্রচলিত মূল্যবোধ বলতে বোঝানো হয় এমন রীতিনীতি, আদর্শ ও লক্ষ্য যা সামাজিকভাবে অনুমোদিত এবং সমর্থিত। সমাজের বৃহত্তর অংশ দ্বারা মূল্যবোধ সমর্থিত হতে হবে। এটি কোনো স্থির বিষয় নয়। সমাজ-স্থান-কাল-পাত্রভেদে মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!